নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ৩টি ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়। মহেশপুরে প্রেসক্লাব ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাজার রোডে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় খোকন, ইভন ও জবেদ আলী নামে ৩ বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহত জবেদ আলী কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কালীগঞ্জের পারখিদ্দা গ্রামে সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রাসেলকে মারধর করেছে স্থানীয় মাজেদের লোকজন। অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হন। স্থানীয়রা তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুযারি) রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুর্বৃত্তরা প্রেসক্লাব মহেশপুর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। বিভিন্ন উপজেলায় তার সমর্থকদের মারধর করা হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন পরবর্তী এ সহিংসতায় কালীগঞ্জ উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।