বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, পাটওয়ারী দাবি করেছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না।
এ সময় তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
রাশেদ খান বলেন, ‘তিনি (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) এ কথা বলেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’
সভায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সাত মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে ‘পিকনিক স্টাইলে’ ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে দেওয়া হচ্ছে। ‘একদিকে জামায়াত ও এনসিপি লংমার্চের কর্মসূচি দিচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমে অরাজকতা তৈরি করছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন জানান, বর্তমান বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি ভিন্নমুখী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যাদের একটিকে তিনি ‘হঠকারী’ এবং অন্যটিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মিছিল শেষে বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার নয়—বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাটওয়ারী বলেন, তারা রাজপথে মূল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা রাজপথে রয়েছেন।
ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সুযোগ ও অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে রাজধানীতে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।