বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাশের দেশ ভারত পানি বন্ধ করে দিবে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করবে, যখনতখন চাল, পেয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেবে—এই দাদাগিরি আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই যে ভারত আমাদের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সহযোগিতা করবে, অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষকে তারা বন্ধু হিসেবে পাবে না।
শনিবার (নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এক ঐতিহাসিক বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাঁচাও পদ্মা, বাঁচাও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ— ‘চলো জি ভাই হাঁরঘে পদ্মা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
মওলানা ভাসানীর পর খালেদা জিয়া ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, পানির হিস্যার আন্দোলন আরও জোরদার রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে হবে, পানির হিস্যা আমাদের ন্যায্য অধিকার, কারো দয়া নয়। আগামী সরকার শক্তিশালী না হলে পদ্মা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দিল্লিতে বসে হাসিনা জ্বালাও-পোড়াওয়ের হুকুম দিচ্ছে। হাসিনাকে কী এদেশে আমরা আর আসতে দেব? তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে, যার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর।
এই রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা চলছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, এই ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন আগামীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে; দেশের মানুষকে হত্যা করতে না পারে; দেশের সম্পদ নষ্ট করতে না পারে; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে যেন ধ্বংস করতে না পারে। এসব দিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্যে করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে ভোট দেবে না, কারণ জামায়াতকে দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এই নির্বাচন যদি না হয়, দেশের মানুষকে যদি আবার বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তারকে রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে তিনি এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। কৃষকদের ফার্মাস কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেবেন। তিনি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে চান। জনগণের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন তিনি তৈরি করবেন।
এর আগে, এদিন দুপরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমতার সম্পর্ক থাকবে, দাদাগিরির সুযোগ নেই। প্রত্যেক দেশ তার নিজের স্বার্থ দেখবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচিত সরকার না থাকলে দাবি আদায় সম্ভব হয় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা-তিস্তার পানি বণ্টনকে গুরুত্ব দেবে। আমরা বিগত দিনে দেখেছি, তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিরা ভারতে গিয়ে দেন দরবার করেছে, কিন্তু দেশের জন্য কেউ ভাবেনি। যে সরকারই আসুক, দেশের জন্য কাজ করতে হবে; দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতে হবে।
পদ্মা বাঁচাও আন্দোলেনের সমন্বয়ক চাঁপাইবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে গণসাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, পদ্মা নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন ও ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে জাতীয় জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালে বন্যা, ভয়াবহ নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে ফসল উৎপাদনে বাধা—এই তিন দুর্যোগই এখন পদ্মাপাড়ের মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি জানিয়ে আসছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ। এ দাবিতে শনিবার ঐতিহাসিক সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।