ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটের তফসিল আগামী ৮ এপ্রিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন আর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে একাদশ কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইসি সচিব বলেন, ‘৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোট হবে ১২ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, বাছাই এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় তফসিল ঘোষণার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হবে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি। এছাড়া দলটির শরিক গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে।
অপরদিকে, ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামী বসেছে বিরোধী দলে। ভোটে তাদের জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।
দুই জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে একটি। বাকি ৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ভোটের পরদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে প্রনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট করার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দল ও জোটগতভাবে সংরক্ষিত আসনসংখ্যা চূড়ান্ত করার পর তফসিল হবে।
প্রাথমিক বন্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট ১ টি আসনে পেতে পারে।