বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই হামলাকে ‘উগ্র ধর্মান্ধদের হামলা’ বলে মনে করেন এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে গত বছরের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ কর্মীদের জ্বালিয়ে দেওয়া বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সংস্কার করে নির্মিত নতুন ভবন উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি বাউলদের ওপর হামলা এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এটা নিশ্চিত যে বাংলাদেশের যে আবহমান সংস্কৃতি, গ্রামীণ বাংলার সংস্কৃতি, আমাদের বাউল যারা, তারা বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে প্রান্তরে এই বাউল গান গেয়ে বেড়ান। তাদের ওপর হামলা, এটা একটা উগ্র ধর্মান্ধদের হামলা বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসা-প্রতিহিংসার পথ বেছে নেওয়া কারো জন্যই শোভনীয় নয়। আমরা অবশ্যই এটার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করি।
রাজধানীর কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক মানুষের ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকা শহরে অনেক বস্তি আছে, তার মধ্যে কড়াইল বস্তিটা সব থেকে বড়। এখানে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে এবং সবাই দরিদ্র, নিঃস্ব মানুষ।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বাসায় যে মহিলা রান্না করে, তারও বাসা সেখানে। তার বাড়িটিও পুড়ে একদম নিঃশেষ হয়ে গেছে। এটা এই দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য একটা চরম আঘাত। আমি সরকারের কাছে দাবি করব, সরকার যেন এদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমাদের যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকেন, বিশেষ করে গার্মেন্টস অথবা কারখানাগুলোতে, তাদের কিছুটা নেগ্লিজেন্সি (অবহেলা), অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং আইন না মেনে চলা—সবকিছু মিলে এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ঘটে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়, সত্যিকারে অর্থে যদি আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এগুলোকে এড়ানো অনেক সহজ।
কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে বের করে যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যক্তি দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এগুলোকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মনে করি না, বরং আমি মনে করি, আমাদের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন: কলকারখানা, গার্মেন্টস—এসবের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের অবশ্যই অবহেলা রয়েছে। যদি সত্যিকারের আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকে তাহলে খুব সহজেই এসব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
কিছু আসনে এখনো প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই বাকি আসনগুলোতেও মনোনয়ন দেব এবং দেশবাসী তা দেখতে পাবে। আমরা যোগ্য প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেব।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।