ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নদী তীরবর্তী তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুরে দেড়টা পর্যন্ত মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষুব্ধরা। এতে মহাসড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ পুলশের কর্মকর্তরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভকারীরা আড়াই ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে বলে এ সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারিভাবে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেন্দিপুর বালু উত্তোলনের ইজারা নিলেও মহলটি স্থান পরিবর্তন করে মেঘনা নদীতে আশুগঞ্জের বিভিন্নে এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। ইজারাদাররা প্রতিদিন অর্ধশত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের টাওয়ারসহ নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানালেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
গত বৃহস্পতিবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনের পর প্রভাবশালী মহল থেকে হামলা ও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ অবস্থায় দ্রুত হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও জামাল হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যায়নি। তবে একটি ভলগেট সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।