কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই নদীর সংযোগ সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া শরমিলা খাতুন (২১) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী-যদুবয়রা এলাকায় গড়াই নদীর সংযোগ সেতু থেকে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন।
উদ্ধার হওয়া শরমিলা খাতুন উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের আশিকুর রহমানের স্ত্রী এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে সেতুর ওপর যান শরমিলা। এর একপর্যায়ে তিনি সেতু থেকে নিচে গড়াই নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনার পর শরমিলার স্বামী আশিকুর রহমান কিছুক্ষণ ঘটনাস্থলে ছিলেন। এরপর তিনি আত্মগোপন করায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শরমিলার দুলাভাই রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর মুলগ্রাম এলাকায় শরমিলাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। খুলনার ডুবুরি দলকেও জানানো হয়। তবে এর মধ্যেই পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই শিক্ষার্থী নদীর স্রোতে ভাসতে ভাসতে কিনারায় এসে পৌঁছেছেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি।
ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, গড়াই সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া কলেজ শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় তার স্বামীর উপস্থিত থাকা এবং পরবর্তীতে তার উধাও হওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, কলেজ শিক্ষার্থীর ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় এবং তার স্বামীর আকস্মিক পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।