চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি বন্দর ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের সামনে পড়েন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ ও বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের পাহারায় উপদেষ্টার গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে।
টানা ৫ দিনের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনালসহ সব জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ। বহিঃনোঙরে ও জেটিতে পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস ও বন্দরে পণ্যবাহী যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে আন্দোলনকারীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা আজ সকালে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি বন্দরে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নৌ-উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি আটকে দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতায় গাড়িবহর বন্দর ভবনে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নেমে বন্দর ভবনের ভেতরে ঢোকার সময়ও শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে উপদেষ্টাকে দ্রুত লিফটে করে উপরের তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বন্দর ভবনে প্রবেশের পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা চলমান কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের হয়রানি ও বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল (বুধবার) থেকে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে। এর আগে, টানা তিন দিনের কর্মবিরতির পর আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৫ জনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে ২৪ ঘণ্টা এবং পরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।