চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় কাভার্ডভ্যানচালক মো. সজিবকে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের মো. নুরুল আমিন, কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. শাহজাহান ও ফেনী সদর উপজেলার মো. নুরুল আলম টুটুল।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাউসার সাগর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের মধ্যে মো. নুরুল আমিন ও মো. শাহজাহান বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসামি মো. নুরুল আলম টুটুলকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোডের পূর্ব পাশে শিল্প পুলিশের অধিগ্রহণ করা জমির পশ্চিম পাশে সেকান্দরের কৃষিজমি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আঙুলের ছাপ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে মরদেহটি নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা মো. সজিবের বলে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, সজিব পেশায় কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন জেলায় মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ২৭ অক্টোবর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের মাথার পেছনে থেতলানো আঘাত, বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল।
পরবর্তীতে এ মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সজিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
মামলায় ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আইন অনুযায়ী আসামিরা আগামী সাত দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।