কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই, ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে আজ সোমবার কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ১০ বছরেও বিচার না হওয়া এ মামলায় নতুন করে আশার আলো দেখছে তনুর পরিবার।
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তবে এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে গিয়ে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব। এখন এর বেশি কিছু মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। সে সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন। মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন নিহতের বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানাপুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা বলেন, মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে স্বাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফলাফল পাইনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন আজ আদালতে থাকতে। আমি আদালতে যাব। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।