নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধোপাদাহ গ্রামে অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প ও পল্লী বিদ্যুতের চোরাই তামার তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযানে ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারপাসিং কেবলের ৯০ কেজি তামার তার, ২৫ কেজি সাদা অ্যালুমিনিয়ামের তার, তামার তারের কালো কাভারের পোড়া ও আধাপোড়া অংশ, তার কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম, একটি শাবল, চোরাই মালামাল দুমড়ে-মুচড়ে ফেলার লোহার যন্ত্র (দুরমুজ), প্রায় ৮৫ কেজি পুরোনো লোহার রডের টুকরা এবং বিদ্যুতের তার সংযোগ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ১৩ কেজি ওজনের একটি লোহার পাত জব্দ করা হয়। এছাড়া চারটি ধারালো রামদাও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধোপাদাহ পূর্বপাড়ার বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী জনি বেগম (৩৫) এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদা রিহাদকে (২০) আটক করা হয়েছে।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প ও পল্লী বিদ্যুতের মূল্যবান ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি তামার তার চুরি করে আসছিল। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে থানা ও জেলা পুলিশকে অবহিত করে অভিযোগ দেয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু করে জেলা ডিবি পুলিশ। বিকেলে অভিযান শেষ হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে লোহাগড়া থানার কাশিপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর কামারপাড়া রেলক্রসিং-সংলগ্ন উত্তম সাহার আবাদি জমিতে বিদ্যুতের খুঁটির গোড়ায় বিভিন্ন ধরনের তার চুরির আলামত পাওয়া যায়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোপাদাহ গ্রামের বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়ার বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পদ্মা রেলওয়ে প্রকল্পের ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারপাসিং কেবলের মূল্যবান তামার তারসহ এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
এদিকে, চোরাই অন্যান্য তামার তার উদ্ধারের লক্ষ্যে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদা রিহাদের ধোপাদাহ মধ্যপাড়ার বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হেফাজতে থাকা খাটের নিচ থেকে বড় আকারের চারটি ধারালো রামদা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।