বাগেরহাটসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচণ্ড তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি ঝরেছে। প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি এলেও পাকা বোরো ধান নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শুরু হয়ে বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় একটানা বৃষ্টি ঝরেছে। বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহরের সাধনার মোড়, শালতলা, রাহাতের মোড়, খারদ্দারসহ শহর ও শরহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বৃষ্টির সঙ্গে মাঝে মধ্যে দমকা বাতাসও বয়ে যায়।
কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি এলেও পাকা বোরো ধান নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বৃষ্টিপাতের কারণে পাকা বোরো ধান ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষিবিভাগ এবং চাষিরা। দমকা বাতাসে বিভিন্ন এলাকায় জমিতে পাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান জমি ঘুরে দেখছেন।
এদিকে, বাগেরহাটের বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর মোংলাসহ দেশের ৪টি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বজায় রাখতে বলেছে। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, আগামী কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আকাশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন। মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। সেই সঙ্গে মাঝে মধ্যে দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আবার আকাশে বিকট শব্দে বিদ্যুৎ চমকাতে শোনা গেছে। মানুষ বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলাচল করছে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব ও দড়াটানাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন, আলমগীর শেখ, হোসনে আরা খাতুন এবং রোমেচা বেগমসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে তারা কষ্ট পাচ্ছিলেন। আজকের বৃষ্টি তাদের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন গরমের তীব্রতা নেই। অনেকটা ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে।
বাগেরহাটের কচুয়া এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের কারণে তাদের জমিতে পাকা বোরো ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে জমিতে কেটে রাখা পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। অনেক জমিতে আবার ধান ঝরে পড়ছে।
বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বৃষ্টিপাত এবং দমকা বাতাসের কারণে পাকা বোরো ধান কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কেটে জমিতে রাখা বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। জেলা সদর, ফকিরহাট এবং মোল্লাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের জমি ঘুরে দেখছেন বলে তিনি জানান।
মোতাহার হোসেন আরও জানান, এ বছর জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটে চাষিরা জমিতেই রেখেছেন। বৃষ্টিপাতের কারণে ওই সব ধানের বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপপরিচালকের তথ্যমতে, বাগেরহাটে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৫ দশমিক ৬ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ফলন প্রতি হেক্টর জমিতে ৭ টন হয়েছে।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর-রশিদ জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরলেও আজ সকালে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এর পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটারে বেগে বয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে বাগেরহাট অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ছিল। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি রের্কড করা হয়। বৃষ্টির পর গরমের তীব্রতা কমে গেছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মোংলাসহ দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত রাখা হয়েছে। আজ মোংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রের্কড করা হয়।
আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বাগেরহাটের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখা গেছে।