রংপুর নগরীতে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের তিন ঘণ্টা করে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম দিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আলোচিত ফোর মার্ডার (চার খুন) নিয়ে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে আছি।’
এরপর দ্বিতীয় দিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আলোচিত এই চার খুনের রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জেলগেটে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনো তথ্য সামনে এসেছে কি না এবং তারা এ বিষয়ে মুখ খুলেছে কি না, তা জানা যায়নি।
এর আগে গত সোমবার আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে মেট্রোপলিটন চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলো যাচাই করার জন্য গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। যেকোনো দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ। তবে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় সামনে আসে নতুন মাত্রা। সবশেষ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।