রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ২৩ জন। একই সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৩৩। হামের সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪৬ জন।
এদিকে, রামেকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শয্যা না পেয়ে অপেক্ষারত অবস্থায় গত এক মাসে ৯১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৮টি শিশু আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ছয়টি রাখা হয়েছে অন্য রোগীদের জন্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসে শিশু আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন ১১৯ জন এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন ৩৮৬ জন। এদের মধ্যে ৯১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে আইসিইউয়ের চাহিদাও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সঙ্কট নিরসনে হাসপাতাটিতে অতিরিক্ত অক্সিজেন লাইন স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডা. শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, আগে শিশু আইসিইউ শয্যা ছিল ১২টি, যা বাড়িয়ে ১৮টি করা হয়েছে। এছাড়া, এই হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ১৬০ হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, রাজশাহী বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ অঞ্চলে শিশু আইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি শয্যার চাহিদা থাকে। তবে মার্চ মাসে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চাহিদা দৈনিক প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে।