শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক, আনসার সদস্যসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদরের উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, কর্তব্যরত আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই আল আমিন নামে একজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা আকস্মিকভাবে জরুরি বিভাগে হামলা চালান। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের পরিচয় যাই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।