ট্রেন
দুর্গাপূজায় চলবে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের অফ ডে প্রত্যাহার
দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই সঙ্গে পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত বিরতির দিন (অফ ডে) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ২০ অক্টোবর চলবে ঢাকা স্পেশাল-৩ ট্রেন। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর চলবে ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ২৪ অক্টোবর চলবে চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪ ট্রেন।
একই সঙ্গে যাত্রীদের চাপ সামলাতে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের অফ ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের অফ ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এছাড়া পূজায় অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ কোচ ও পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়েছে।
ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের নিবিড় তদারকিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছে রেলওয়ে।
রেলপথ ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহলের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পরিচর্যা করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পাঠানোর জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে রিলিফ ট্রেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ প্রধান স্টেশনগুলোতে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি ও রেলওয়ের কর্মচারীদের নজরদারি ও তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সংশ্লিষ্ট সচিব ও দপ্তরপ্রধান, ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
চট্টগ্রামে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি অটোরিকশা লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেন ধাক্কা দিয়েছে। এতে চালকসহ দুজন নিহত হন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব কাঠগড় বিওসির মোড় লেভেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন আবু তাহের (৫০) ও অটোরিকশাচালক আব্দুস শুক্কুর (৪০)।
আবু তাহের কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর মাইঙ্গাপাড়া এলাকার আব্দুল মাবুদ ওরফে কানা মামুদের ছেলে। অন্যদিকে আব্দুস শুক্কুর ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি ট্রেন অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
২৮ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু্র উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রেলমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের (কুষ্টিয়া-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন আসছে এবং ৪২টি খালি রেক ফেরত যাচ্ছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং খালি রেক ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুনের (জামালপুর-৫) আরেকটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বর্তমানে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো হলো—মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ; শেরপুর-রৌমারী রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, রেলওয়ে সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
রবিউল আলম বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে, যাতে দেশের সব জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়।
৩৯ দিন আগে
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর তারিখ শিগগিরই ঘোষণা হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এখন আমরা এরোপ্লেনে যাই, সেটি হচ্ছে একটি আলাদা ক্লাস। সেখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেল দিয়ে যাতায়াত করে। আমি তো রেলমন্ত্রী ছিলাম। রেলমন্ত্রী মানে সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও বলেন, রেল মাঝে যে কারণেই হোক, বন্ধ ছিল। কিন্তু মালবাহী ট্রেন বন্ধ হয়নি। আমি শুনলাম যে অলমোস্ট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেটি খুবই ভালো কথা। তার মানে বাণিজ্য চলছে।
মালবাহী ট্রেনের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে সড়ক, রেল আর জলের এই ট্রেড আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই আমরা একটা ভালো খবর দিতে পারব, মৈত্রী এক্সপ্রেসের।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হচ্ছে, একটি শুভ খবর আসছে। সেটি খুব শিগগিরই আসবে। এ ব্যপারে যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালুর বিষয়ে খুব শিগগিরই আমরা একটা ফিক্সড ডেট দিয়ে দিতে পারব। এ ব্যাপারে মিটিং চলছে।
দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মন্ত্রী মহোদয় একটা কথা বললেন যে, একটি রুটে এখন ছয় ঘণ্টা, সাত ঘণ্টা লাগছে, কীভাবে তিন ঘণ্টা কমানো যায়। এ ব্যাপারে পদ্মা ব্রিজ নিয়ে টেকনিক্যালি কথা হয়েছে।
৪০ দিন আগে
রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, দেড় ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী ৪৬১ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনের কয়েকটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি আলাদা করে ট্রেনটি অন্য লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত পাথরও দেওয়া হয়নি। তাদের ধারণা, লাইনের এমন অবস্থার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম বলেন, ‘রেললাইনের ৩ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান বলেন, মালবাহী ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ ট্রেনটিকে ৩ নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। লাইনটি যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে সেখানে ট্রেন ঢোকানো হলো, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল ৩ নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।’
লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, যে অংশটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটুকু ছাড়া আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
৭১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রলিচালক নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মহানন্দা ট্রেনের ধাক্কায় একটি ছাগলবোঝাই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টার দিকে নাচোল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নাচোল-খলসি সড়কের দেওপাড়া রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। তিনি উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের মহিবুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবুল কালাম আজাদ একটি ট্রলিতে ছাগল নিয়ে দেওপাড়া এলাকা থেকে নিজ বাড়ি বান্দ্রায় ফিরছিলেন। পথে দেওপাড়া রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা ট্রেনের সঙ্গে ট্রলিটির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
৭৩ দিন আগে
ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশ প্লাবিত হয়ে ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত শেষে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের উদ্যোগ নেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জানআলীহাট-ষোলশহর সেকশন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলে।
এর ফলে আজ রবিবার দুপুর দেড়টা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, আজ থেকে ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার-ঢাকা রুটের সব ট্রেন নিয়মিত চলাচল করবে।
আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাত্রীদের রেলযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
৯৮ দিন আগে
রাজধানীতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে বের হয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
রাজধানীর কুড়িলে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় রাকিব (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার চর খলিফা গ্রামে। তার বাবার নাম মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবু রায়হান বলেন, আজ (রবিবার) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট পার হচ্ছিলেন ওই যুবক। এ সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পথচারী আবু রায়হান আরও জানান, এরই মধ্যে যুবকটির মোবাইল ফোনে কল আসলে তার বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়। ফোনের মাধ্যমে যুবকের নাম ও তাদের দেশের বাড়ি ঠিকানা আমি জানতে পারি। পরে তার বাবাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে আসতে বলি। তার বাবার কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি একটি চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৯৮ দিন আগে
ডুবে আছে রেল সড়ক, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের একাংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেনে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ অন্য যাত্রীরা।
বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী সেকশনে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডুবে আছে বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই পথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১১টায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৮০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে বিকেল পৌনে ৩টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা ছিল পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশনের কাছে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আটকে পড়ে ট্রেনটি। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ট্রেনটি আটকে পড়ে। ট্রেনটি প্রথমে মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদরাসার সামনে আটকে থাকলেও পরে সেখান থেকে সরিয়ে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, ‘রেললাইনের ওপর প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে আছে। পানি অন্তত ৬ ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো সম্ভব নয়।’
তবে বাতিল হওয়া এসব ট্রেনের যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই রেলপথে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেললাইন ডুবে যাওয়ায় আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। এখনও রেললাইনে পানি জমে আছে। পানি সরে গেলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
১০২ দিন আগে
কুড়িগ্রামে রেললাইনে উল্টে পড়ল বালুভর্তি ট্রাক, ট্রেন চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়কের পেট্রোল পাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুড়িগ্রাম-তিস্তা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প উপায়ে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা যায়। যাত্রীদের কেউ অটোরিকশায়, কেউ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় তিস্তা স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।’
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের। কিন্তু রেললাইন অবরুদ্ধ থাকায় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। একই কারণে রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি অপসারণ এবং রেলপথ সচল করার কাজ শুরু করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাকটি সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে। তবে ঠিক কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকটি অপসারণের পর রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
১২২ দিন আগে