বাংলাদেশি
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৫ ঘণ্টা আগে
সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন এসএবিসিসিআই, সংঘাত সমাধানের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশিসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘাতে হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এসব কথা বলে এসএবিসিসিআই।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, আমদানি ও রপ্তানি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এসএবিসিসিআই নিবিড়ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অস্থিতিশীলতা শুধু সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় পরিস্থিতির দ্রুত স্বাভাবিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে তারা।
গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এসএবিসিসিআই জানায়, গত কয়েক দিনে ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবগামী ১৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মস্থলে যোগদান ব্যাহত হয়েছে।
এসএবিসিসিআই বলছে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগদান, চাকরির নিশ্চয়তা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় তারা।
এ অবস্থায় সৌদি আরবগামী কর্মীদের কর্মস্থলে যোগদানের অনিশ্চয়তা দূর করতে বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়, কর্মস্থলে যোগদানের বিকল্প ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি মনে করে, পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
৪ দিন আগে
রিয়াদে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে চারজন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, তাদের নিজ নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে বাংলাদেশ মিশন সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মিশনগুলো যোগাযোগ রাখছে, তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশিদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া মানুষদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যুদ্ধ ও হামলা বন্ধ হবে এবং আর কোনো প্রাণহানির খবর আসবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে সাধারণত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থা বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য সরকার পায়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার হুতির চালানো হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতিও দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
৭ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
৩৩ দিন আগে
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
ভারতের কলকাতায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর শহরটিতে ভ্রমণরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপ-হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ভ্রমণকারী নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় কলকাতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে জেনে ভ্রমণ করতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যাওয়া রোগীর সফরসঙ্গীদেরও (অ্যাটেনডেন্ট) যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে উপ-হাইকমিশন। একই সঙ্গে হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কলকাতায় গিয়ে আবাসনসংকটে পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে উপ-হাইকমিশন।
৪৫ দিন আগে
দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।
যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবার ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু হয়েছে।
সরকার প্রবাসীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
৪৫ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশকালে নারী-শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি আটক
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ আট বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতুর কাছ থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মিলন খান (৩০) ও তার স্ত্রী শীমা খানম (২৩), যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাসুয়ালী গ্রামের আহাদ শেখ (৩১) ও তার স্ত্রী রেশমা পারভীন (৩৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পোড়লী গ্রামের রিনা খাতুন (৩৮), আমরিল ভাঙ্গা গ্রামের চুমকি খাতুন (৩০) ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ (১২) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর কালনা গ্রামের মিনা খাতুন (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতু এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
৪৬ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ৬ জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপর নিহতদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
৬০ দিন আগে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে হোটেলের কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আটকা পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই তাদের অগ্রাধিকার ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কলকাতার এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ওই আগুন লাগে। পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই ঘটনায় নিহত হন। তারা হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে নামার পথে আগুনের মুখে পড়েন তারা।
৬০ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৬টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এর আগে, গত ৭ আগস্ট ৩৪০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ফেরেন। এর ফলে চলতি মাসে দুই দফায় লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৫১৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
৬১ দিন আগে