বাংলাদেশি
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও নাহিদুল ইসলামের (২২) মরদেহ সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। শোকের ছায়া নেমে আসে দুই পরিবারসহ পুরো এলাকারা জুড়ে।
নিহত শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এবং নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাঁদাকাঠি গ্রামে।
এর আগে, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।
স্বজনরা জানান, জীবিকার সন্ধানে মাত্র কয়েক মাস আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ও নাহিদ ইসলাম। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্মমতায় প্রাণ হারাতে হয়েছে তাদের।
এদিকে, দুই প্রবাসীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্না আর শোকে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কফিন দেখেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন নিহত শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন (৩৭)। পরিবারের একমাত্র ভরসা স্বামীকে হারিয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে চলবে সংসার, কেমন করে কাটবে দিন—তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বারবার বিলাপ করে বলছেন, ‘স্বামীহারা স্ত্রী যে কতটা অসহায় অভিভাবকহীন, সেটি বোঝানো যাবে না।’
নিহতদের নিজ বাড়িতে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহদের বাড়িতে সমবেদনা জানাতে আসা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক খালেদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদ ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা ও ৫০ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
১২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর হাবিলদার (আইপি) মো. খায়রুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন— হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. আলিমুল ইসলাম (৪৬) এবং কাদিরসুখা গ্রামের মো. করিম (৩৪)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর বিওপির সীমান্তবর্তী দনগাঁও গ্রামের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন বলে জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে মো. করিম ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা দুজনেই ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হরিপুর বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং কর্মকর্তা মেজর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত, চারজনের অবস্থা গুরুতর: হাইকমিশন
নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে হাইকমিশন এক বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে হাইকমিশন বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই হাইকমিশন ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে নয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মোজাম্বিকের দুজন, লাইবেরিয়ার একজন, নাইজেরিয়ার চারজন এবং উজবেকিস্তানের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের আটজন নাগরিক ছাড়াও নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুজন করে, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিনজন নাগরিক।
সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আহত বাংলাদেশিদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করছে।
আহতদের দ্রুত সুস্থতার স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীদের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।
একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১৫ দিন আগে
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বেনগাজী থেকে আরও ১৭০ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছান।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশটির সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
২৫ দিন আগে
নাইক্ষ্যংছড়ি শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত
মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার ৪২ ও ৪২/১ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়া পাড়া এলাকার সুনিয়ং চাকমার ছেলে লেড়াইয়া (৪১), মৃত নিওমং চাকমার ছেলে অংকে মং (৫০) এবং অইমং চাকমার ছেলে চিংকা অং।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের কৃষিক্ষেত পরিচর্যার জন্য প্রায়ই সেখানে যেতেন ওই তিনজন। আজ দুপুরেও তারা সেখানে গেলে হঠাৎ স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২৬ দিন আগে
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বেনগাজী থেকে ১৭০ জন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনেচ্ছুক বাংলাদেশিকে আজ মঙ্গলবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোর ৫টায় তারা দেশে পৌঁছান।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের বেশিরভাগই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিরে আসা বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।
৩১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর শওকত আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানের ছেলে ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৯ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। তবে তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গতরাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্ততি নিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ হত্যা করে শওকতের মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বিএসএফ।
ওসি মতিউর রহমান বলেন, মরদেহটি অর্ধগলিত থাকায় মৃত্যুর কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন রায় বলেন, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, পা ও বুকের জখম গুরুতর। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
৩৩ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।
মরদেহ দুটি আগরতলার বিজিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একই ঘটনায় বাংলাদেশি একাধিক তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আহত নবীর হোসেনকেও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে তাকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি, রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে যায়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে চণ্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন জানান, আমরা একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
৪১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি বেঁচে নেই, জানালেন ভাই
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর বেঁচে নেই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তবে নাহিদার মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউএসএফ শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবেইহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হিলসবরো কাউন্টির প্রধান ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে প্রাথমিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, মৃত্যুর খবর না দেওয়া, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আজ (শনিবার) সকালে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাউরার বলেন, ‘আমরা নাহিদাকে খুঁজতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’ এ বিষয়ে তিনি জনসাধারণকে যেকোনো কার্যকর তথ্য শেয়ার করার আহ্বান জানান।
শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগকারী ডুবুরি দল ইতোমধ্যে সেতুর কাছাকাছি উপসাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে।
শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা যা আমাদের নাড়া দিয়েছে। জামিল লিমনের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমি জনসাধারণকে জানাতে চাই যে আমাদের গোয়েন্দারা এই বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অক্লান্ত ও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
লিমনের এক আত্মীয় জানান, লিমন ও বৃষ্টি দুজনেরই বয়স ২৭। সম্প্রতি বিয়ের কথা ভাবছিলেন তারা। ১৬ এপ্রিল লিমনকে শেষবারের মত দেখা যায় তার অফ-ক্যাম্পাস অ্যাপার্টমেন্টে, যেখানে তিনি আবুঘারবেইহের সঙ্গে থাকতেন। একই দিনে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসবাসকারী বৃষ্টিকে এক ঘণ্টা পর একটি বিজ্ঞান ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়।
ইউএসএফ পুলিশ জানায়, দুজনের কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু শুক্রবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আবুঘারবেইহের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি জন্মসূত্রে একজন মার্কিন নাগরিক। তবে প্রাথমিক কিছু কথা বলার পর তিনি আর কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারের পর আবুঘারবেইহ আবারও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মাউরার জানান, আবুগারবেইহে ছাড়া তদন্তে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি নেই।
তিনি আরও জানান, লিমনের মৃত্যুর ধরন ও কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, এবং এর ফলাফল শনিবার সকালে পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আবুঘারবেইহ আগে ইউএসএফ-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালে পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং ব্যবস্থাপনায় বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
৫৫ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় খাসিয়াদের ছররা বন্দুকের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে ভারতের প্রায় ১ কিলোমিটার ভেতরে একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সালেহ আহমেদ কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার-সংলগ্ন কারবালার টুক গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শুক্রবার) দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালেহ আহমেদ ও তার আরও দুই সহযোগী মিলে মাদকের চালান আনার উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ‘সুপারি চোর’ সন্দেহে ছররা বন্দুক দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ জয়ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে সালেহর সঙ্গে থাকা নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালার টুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০) তার মরদেহ বহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, ওই তিনজনই এর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
৭০ দিন আগে