বাংলাদেশি
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
ভারতের কলকাতায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর শহরটিতে ভ্রমণরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপ-হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ভ্রমণকারী নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় কলকাতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে জেনে ভ্রমণ করতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যাওয়া রোগীর সফরসঙ্গীদেরও (অ্যাটেনডেন্ট) যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে উপ-হাইকমিশন। একই সঙ্গে হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কলকাতায় গিয়ে আবাসনসংকটে পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে উপ-হাইকমিশন।
৫ দিন আগে
দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতকালে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিনিধিদলটি দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে।
যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীদের অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতি প্রবাসীদের এই অবদান ও ভূমিকা চিরদিন স্মরণ রাখবে।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বিমানবন্দরে হয়রানি, ভোটদানের অধিকারসহ ব্যবসায়িক ও নাগরিক বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের পূর্ণাঙ্গ সেবার ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রবাসী কার্ড চালু হয়েছে।
সরকার প্রবাসীদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। আপনারা দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদেশে তুলে ধরবেন।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশকালে নারী-শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি আটক
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ আট বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতুর কাছ থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মিলন খান (৩০) ও তার স্ত্রী শীমা খানম (২৩), যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাসুয়ালী গ্রামের আহাদ শেখ (৩১) ও তার স্ত্রী রেশমা পারভীন (৩৪), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পোড়লী গ্রামের রিনা খাতুন (৩৮), আমরিল ভাঙ্গা গ্রামের চুমকি খাতুন (৩০) ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ (১২) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর কালনা গ্রামের মিনা খাতুন (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘিলাতৈল ফুলবাড়ি সেতু এলাকা থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ব্যবস্থা শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
৬ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ৬ জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপর নিহতদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
২০ দিন আগে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে হোটেলের কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আটকা পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই তাদের অগ্রাধিকার ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কলকাতার এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ওই আগুন লাগে। পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই ঘটনায় নিহত হন। তারা হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে নামার পথে আগুনের মুখে পড়েন তারা।
২০ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৬টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় বলা হয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এর আগে, গত ৭ আগস্ট ৩৪০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ফেরেন। এর ফলে চলতি মাসে দুই দফায় লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৫১৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন।
২১ দিন আগে
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল (রবিবার) রিয়াদের মুসা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
২৯ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত, ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন হাইকমিশনার
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের নিকটবর্তী সমো টাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং অপরজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সমো টাউনের একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং গুরুতর আহত বাংলাদেশি নাগরিকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।
হাইকমিশন থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফী আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুইন্সটাউনের সমো টাউনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সফরকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি, তদন্তের অগ্রগতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের ইউনিয়ন বক্তাবলীর এবং আরেকজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা। সবাই একে অপরের আত্মীয়।’
তবে এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো বার্তা পাইনি। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি।’
একই তথ্য জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
৪২ দিন আগে
কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরানো বাংলাদেশিদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান
কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নিয়েছে কুয়েত সরকার। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়েত সরকার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে হাসাবিয়া এলাকায় অবস্থিত খাদিজা বিনতে জাবের স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছেন।
দূতাবাসের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে কুয়েত সরকার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দূতাবাস কুয়েতের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দূতাবাস ইতোমধ্যে জরুরি যোগাযোগের নম্বরসহ পৃথক একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৫১ দিন আগে
সিলেটে পৌঁছেছে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ আজ সকালে সিলেটে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরী হয়।
নিহতরা হলেন— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।
বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সময় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্যের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে বোর্ড থেকে আরও তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে গত ২১ জুন সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। ঘটনার দিন ওই পাঁচজন একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। পরে তাদের মরদেহ কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
শ্রম কল্যাণ উইং জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ গতকাল (সোমবার) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৭০ দিন আগে