অপহরণ
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, অপহৃত ২১ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে জিম্মি ২১ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা উপজেলাধীন সুন্দরবনের আন্দারমানিকের টোটা কেওড়াতলা খাল এবং দাকোপ উপজেলাধীন শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় শিবসা নদীর বড় দুদমুখ এলাকায় কোস্টগার্ডের সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দুটি স্থান থেকে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধার করেন। এ সময় দস্যুদের ব্যবহৃত ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তম বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা মোট ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করেন।
সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে একই সময়ে সেখানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। আভিযানিক দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের নিকট জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা ।
৪ দিন আগে
সুন্দরবনে অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র-গুলিসহ ২ দস্যু গ্রেপ্তার
সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে অপহৃত চার জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ‘ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর দুইজন সদস্যকে আটক করা হয়।
রবিবার (১৭ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলাধীন ঢাংমারী খাল এলাকায় ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে তারা ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করেন এবং অস্ত্র ও গুলিসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। এদের মধ্যে রাজন ‘করিম-শরীফ বাহিনীর’ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
জব্দ করা অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুইটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনের ‘কুখ্যাত ডাকাত’ করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, আটক রাজন-করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও গ্রেপ্তার ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উদ্ধার করা জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
৯ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে গৃহবধূ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর পৌর এলাকার খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুল আহমেদ (৪৭), পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের কালাম ওরফে মাক্কু (৫২) এবং একই গ্রামের রুকু (৫৭)।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, শহরের পাথালিয়া নাওভাঙ্গা চর গ্রামের মো. ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বাসার পাশে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। সে সময় বুলবুল আহমেদ, কালাম ওরফে মাক্কু ও রুকু প্রায়ই তাদের দোকানের সামনে এসে ওই গৃহবধূর দিকে খারাপ নজর ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে বাধা দিলে তারা ওই নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর জের ধরে ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে শাহ জামাল (রহ.) মাজারের সামনে থেকে ভুক্তভোগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করেন আসামিরা। তারা প্রথমে তাকে খুপিবাড়ী গ্রামের বুলবুলের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রুকুর সঙ্গে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করেন। এরপর তিন আসামি মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তারা অটোরিকশায় করে নাওভাঙ্গা চর গ্রামের রুকুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ১৫ মে ওই গৃহবধূ পালিয়ে এসে তার স্বামীকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্বামী ফরহাদ বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা করেন। পরে মামলাটি জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ এ রায় ঘোষণা করলেন।
এ ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক ও এস এম কামরুল হাসান উল্লাস।
৩৩ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
৩৬ দিন আগে
অপহরণের পর শিশুহত্যা: দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড
১৮ বছর আগে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় শফিকুল ইসলাম মিলন (১১) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আরেকজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. আব্দুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ খেলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় মিলন। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এরপর ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
এ ঘটনায় মিলনের বাবা শফিকুল ইসলাম ওরফে শহিদ ওই বছরের ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর তদন্তে নেমে ফোন কলের তালিকা থেকে সূত্র বের করে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া নামের স্থান থেকে মিলনের হাড়, দাঁত এবং রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলায় হত্যার অভিযোগ সংযুক্ত করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৩ মে কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ মোট ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ ১৮ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও ডিএনএ প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
৩৭ দিন আগে
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৩ দিন আগে
বাবার হাতেই অপহরণের শিকার ৮ বছরের শিশু, উদ্ধার করল পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ব্যক্তি তারই সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। তবে পুলিশি অভিযানে সিয়াম (৮) নামের ওই শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের বাবা তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মাঠে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আজিজুল (২৮) এবং তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে ভুক্তভোগীর জীবন রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করেন তার বাবা। শিশুটিকে জিম্মি করে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের মুঠোফোনে ছবি পাঠান তারা। ওই নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৬৯ দিন আগে
দস্যুর ভয়ে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় বন বিভাগ
বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তখন থেকে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল, ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’
তিনি বলেন, দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুই দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে আমাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
৯৬ দিন আগে
খুলনায় অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইল এলাকা থেকে অপহৃত এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব। এ সময় অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেছে বলে জানান র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া উইং) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়া (২৯) সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ছনখাইর এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়েটির পরিবার জানতে পারে, অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন যুবক তাকে খুলনা শহরের খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়ি গেইট বাসস্ট্যান্ড থেকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে খুলনার খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে র্যাবের একটি দল তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র্রী খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
১৩১ দিন আগে