বাস
কুমিল্লায় খাদে বাস, হেলপার নিহত
কুমিল্লার বরুড়ায় বলাকা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে হেলপার নিহত ও পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা।
বাসচালক মনির বলছেন, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি নিজেই গাড়িটির মালিক এবং দুর্ঘটনার সময় তিনিই বাসটি চালাচ্ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত সবুজের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আরও আর্থিক সহযোগিতা এবং আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের দেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানার হেফাজতে রাখা হবে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
‘ছিনতাইকারী’কে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় পুলিশ সদস্যর মৃত্যু
চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে এক যুবককে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় গুরুতর আহত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৫) মারা গেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত আল আমিন সরদার কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত ছিলেন।
আল আমিন ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুরে। তিনি এক সন্তান রেখে গেছেন।
গতকাল (রবিবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্টে সন্দেহজনক তিন যুবককে থামানো হয়। এ সময় তাদের একজন দৌড়ে পালাতে গেলে আল আমিন মোটরসাইকেলে করে তাকে ধাওয়া করেন। তখন একটি বাস পেছন থেকে আল আমিনের মোটোরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আল আমিনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। পরে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, আজ (সোমবার) সকালে আইসিইউতে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় বাসচালক মোশাররফ (৩৮) ও স্টাফ জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আল আমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তার মৃত্যু কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
১৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৭
ময়মনসিংহে বাসচাপায় একই পরিবারের ৪ জনসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। তবে এদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫), মর্জিনার ছেলে মিনান (৫) এবং জামালপুর সদরের বীরগোবিন্দবাড়ি এলাকার আসর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক সুজন আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এতে থাকা চালকসহ সাতজন নিহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করা হয়। পরে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অজ্ঞাত দুইজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
ওসি আরও জানান, পুলিশ বাসটি আটক করেছে, তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যানের চালক ও যাত্রী নিহত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চাপায় পাখিভ্যানের চালক কামরুল ইসলাম ও যাত্রী ভানুমতি (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় ভ্যানে থাকা ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নে আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
নিহত ভানুমতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর গ্রামের হাসেম আলীর স্ত্রী। তিনি নওদা আজমপুরে তার মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। অন্যদিকে কামরুল ইসলাম মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুরের আব্দুল সাত্তারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পাখিভ্যান যাচ্ছিল। পথে ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে আসা মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভ্যানটিকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ভানুমতি মারা যান। এছাড়া যাত্রী হাসিনা ও ভ্যানচালক কামরুল গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ফাঁড়ি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ভানুমতির মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম মারা যান। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ২, আহত অন্তত ১০
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসের চাপায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজির সিমলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস কাজির সিমলা এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাহেন্দ্রকে চাপা দেয়। পরে বাসটি একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে মাহেন্দ্র ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এতে তিনটি পরিবহনের অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩০ দিন আগে
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ৮
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এভার গ্রীন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের কুড়েরপার এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে মহাসড়কের চান্দিনা কুড়েরপার এলাকার একটি ব্রিকফিল্ডের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির বাসটি ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
বাসের যাত্রী আব্দুর রহমান জানান, ‘কক্সবাজার থেকে ছাড়ার পর চট্টগ্রাম অংশেই সাতকানিয়া এলাকায় বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চান্দিনা পৌঁছালে গাড়িটির ব্রেক আবারও অকার্যকর হয়ে পড়ে, যার ফলে চালক আর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফলে বাসটি খাদে পড়ে অন্তত ৮ জন যাত্রী আহত হয়।’
বাসের সুপারভাইজার মাশরাফি জানান, সাতকানিয়া এলাকায় বাসের একটি চাকা পাংচার হয়েছিল। সেখানে চাকা পরিবর্তন করার পর যাত্রা শুরু করলেও কুড়েরপার এলাকায় এসে হঠাৎ ব্রেক ফেল করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরও জানান, বাসটিতে যাত্রী ছিল ২৫ জন।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৩৭ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ব্রিজ-সংলগ্ন খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ১২ জনকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস গেড়াখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা গেছেন। আহতদের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
৪২ দিন আগে
ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেওয়ায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে পুরাতন মুহুরীগঞ্জ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—চট্টগ্রামের কনফুলী এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুর আজিজ (৭০) ও কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়া এলাকার সফি মিয়ার ছেলে বাসচালক আবুল হোসেন (৬২) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের রসুল আহমেদের ছেলে মো. হোসেন (২৮) ও ইউনিক বাসের সুপারভাইজার ঝিনাইদহের শৈলাকুপা এলাকার শামীম হোসেন (৫৫)।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। পরে সেটি সরানোর জন্য একটি লং ভেহিকেলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ইউনিক পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারী এবং ইউনিক বাসের চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম নবী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাভার্ডভ্যানের চালক, সহকারী ও ইউনিক বাসের চালককে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাদীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
ফেনী ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ডভ্যান, ইউনিক বাস এবং লং ভেহিকেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪৪ দিন আগে
বরিশাল থেকে সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ
বরিশালে মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এতে বরিশাল ও কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
আজ (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক ও চালকদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসের শ্রমিকদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলারের মালিক ও শ্রমিকরা প্রভাব বিস্তার করে প্রায় ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
এরপর বরিশাল বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে ফিরে যেতে হয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার অবাধে চলাচলের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থ্রি-হুইলার দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানোয় বাস চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে এসব যান চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
বাস মালিক ও শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী থ্রি-হুইলার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না।
এদিকে, আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বানারীপাড়া থেকে বরিশালগামী যাত্রী মোতালেব মিয়া বলেন, ‘বরিশালে জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু বাস বন্ধ থাকায় পথে আটকে আছি। কখন বাস চলবে, সেটাও জানি না।’
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
৫৫ দিন আগে
হাঙ্গেরিতে বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত
হাঙ্গেরিতে মহাসড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে মেজোকেরেস্তেশ শহরের কাছে এম-৩ মোটরওয়ের পূর্বমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটিতে পোল্যান্ডের একদল পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে হাঙ্গেরি পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের পরিচালক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুইজন চালক ছিলেন। বাসটি উল্টে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী সেটির নিচে আটকা পড়েন।
এদিকে, পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাসিয়েই ভেভিওর পোলিশ সংবাদ সংস্থা পিএপিকে জানান, বাসযাত্রীদের সবাই পোল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন।
এ ঘটনার পর পোল্যান্ডের রেৎসেসৎভ শহরের আঞ্চলিক সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পডকারপাকি অঞ্চলের বাসিন্দারা বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় তীর্থযাত্রা শেষে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাদের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিতার ম্যদিয়ার এক ফেসবুক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
৬৩ দিন আগে