নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
তাকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্ক সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গী।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
রুমন জানান, জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
১৩ দিন আগে
নিউইয়র্কের পথে তুরস্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ইউএনবিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্য সফরসঙ্গীদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ (সোমবার) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ইউএনজিএ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৬টা ৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
এরপর তাকে মোটর শোভাযাত্রায় করে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই থাকবেন তিনি।
ইউএনজিএতে তুলনামূলক ছোট ৩৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. মো. সাইমুম পারভেজও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এসব বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন।
সফরকালে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত অভ্যর্থনাতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন তিনি। পরে জলবায়ু ও বৈশ্বিক বৈষম্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তার সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব
সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া মেটা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ড. কালী প্রদীপ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেছেন, সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ অন্যান্য কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
১৪ দিন আগে
ব্যস্ত কর্মসূচি নিয়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে তুলে ধরা হবে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বনেতাদের এ সমাবেশকে কাজে লাগিয়ে সংকটের ব্যাপকতা, এর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান।
১৪ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নিউইয়র্কে স্মারক সংবর্ধনা
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী সরকারের থ্রি-আর কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুসংহত করা।
একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
৬০ দিন আগে
‘ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন ‘ইউএন-কপস’-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনসহ সম্মেলনের বিভিন্ন প্লেনারি সেশনে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এবারের সম্মেলনে ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’ এই তিনটি বিষয়ে প্লেনারি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সম্মেলনের সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্টবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, পিস অপারেশনসবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া, পলিটিক্যাল ও পিস বিল্ডিংবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডিকার্লোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে মন্ত্রী আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সফর শেষে আগামী ১২ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
৯২ দিন আগে
দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অংশগ্রহণ শেষে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ১০ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওঠেন প্রধান উপদেষ্টা ও তার প্রতিনিধি দল।
বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে প্রধান উপদেষ্টা দুবাই হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জাতিসংঘ মহাসচিবের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
এর আগে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন অধ্যাপক ইউনূস। পরে মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে ‘রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে সফর শেষ করেন।
২৬ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ—এর ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা এবং অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
পরে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে উল্লেখ করে তার সহায়তা চান প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় বাংলাদেশে চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
এ ছাড়া নিউইয়র্কে সোশ্যাল বিজনেস, ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ইউনূস।
নিউইয়র্ক সফরে তার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা ঢাকা থেকে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগ দেন। এ ছাড়া জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধি দলে যুক্ত হন।
৩৬৯ দিন আগে
নিউইয়র্কে অধ্যাপক ইউনুস ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা জোরদার
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে সোমবার নিউ ইয়র্কের জন. এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উদ্দেশ্যমূলক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সরকারের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সহযোগী এবং সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা, তা বাংলাদেশের ভেতরে হোক বা এর সীমানার বাইরে হোক, কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারি প্রতিনিধিদলের সব সদস্যের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে।
সরকার বলেছে, ‘এই নিন্দনীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা বিধ্বংসী ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক স্পষ্ট ও মর্মান্তিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এই বিধ্বংসী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সফরের সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করেছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ভিভিআইপি গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত পরিবহন ইউনিটে ওঠানোও হয়েছিল। তবে, অপ্রত্যাশিত এবং শেষ মুহূর্তের ভিসা-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতিনিধিদলটিকে পথ পরিবর্তন করে বিকল্প পথে অগ্রসর হতে হয়।
বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখজনকভাবে সেই অনুরোধ রাখেনি। এর ফলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ঘটনার পরপরই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে দ্রুত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
সরকার জানিয়েছে, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান।’
সরকার আরও বলেছে, এই ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রতিনিধিদলের সকল সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশে তার প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক ঘনিষ্ঠ এবং অবিচ্ছিন্ন সমন্বয় রেখে যাচ্ছে।
৩৭৭ দিন আগে
নিউইয়র্কে অফিস ভবনে গুলিতে বাংলাদেশি অভিবাসীসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি বহুতল অফিস ভবনে এক বন্দুকধারীর হামলায় এক বাংলাদেশি অভিবাসীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। এরপর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিউইয়র্কের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ নামের একটি বাণিজ্যিক অফিস ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বন্দুকধারীর হামলায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী এবং নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে তিন বছর ছয় মাস কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর নাম শেন তামুরা, তিনি লাস ভেগাসের বাসিন্দা ছিলেন। হামলার পরপরই তিনি আত্মহত্যা করেন। তার মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ইতিহাস রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে শেন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান জেসিকা।
আরও পড়ুন: ইরানে আদালতে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৯, আহত ২২
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস জানিয়েছেন, হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, একজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালাতে গিয়ে আরও চারজন সামান্য আহত হয়েছেন।
ওই এলাকার একটি নজরদারি ক্যামেরায় অস্ত্র হাতে সানগ্লাস পরা একজন ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়, যাকে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্য একটি পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি ডাবল পার্ক করা বিএমডব্লিউ গাড়ি থেকে নেমে এম৪ রাইফেল হাতে ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা জানান, তিনি ভবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর গুলি চালান এবং এরপর এক নারীকে গুলি করেন। পরে লবির ভেতর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন ওই বন্দুকধারী।
এরপর তিনি লিফটের দিকে এগিয়ে যান এবং নিরাপত্তা ডেস্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করেন। একই সঙ্গে লবিতে থাকা আরও একজনকে গুলি করেন বলে জানান কমিশনার।
পরে লিফটে করে ৩৩ তলায় একটি রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে যান এবং সেখানে একজনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি আত্মহত্যা করেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ায় ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহত
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়ি থেকে একটি এম৪ রাইফেল ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জেসিকা চেন জানান, তিনি দ্বিতীয় তলায় একটি প্রেজেন্টেশন দেখছিলেন, তখন প্রথম তলা থেকে একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে তারা একটি সম্মেলনকক্ষে আশ্রয় নেন এবং দরজার সামনে টেবিল ঠেলে ব্যারিকেড তৈরি করেন।
জেসিকা চেন বলেন, ‘আমরা সত্যিই খুব, খুব ভয় পেয়েছিলাম।’
৪৩৩ দিন আগে
নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ইউসুফের পরিবার শোকাহত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবু সালেহ মো. ইউসুফ জনির বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেনার স্ট্রিটে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন কানাইঘাট ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের সাবেক মেম্বার নুরুল হকের ছেলে ইউসুফ জনি ও কুমিল্লা জেলার বাবুল উদ্দিন।
বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত আবু সালেহ ইউসুফ জনির মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা জানার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মাস পূর্বে স্ত্রী এবং দুই মেয়ে শিশুকে নিয়ে স্থায়ী বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইউসুফ জনি। সেখানে একটি পেইন্টিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা সিলেট শহরের মেজরটিলায় বসবাস করে আসছেন। ইউসুফ জনির মৃত্যুর সংবাদ প্রথমে তার পরিবারের কাছে জানান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কানাইঘাটের দুলাল আহমদ।
৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সবার বড় ছেলে ইউসুফ জনি। নিহতের সিলেট শহরের বাসায় চলছে শোকের মাতম। নিহত দু’জনের লাশ নিইউয়র্ক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ফের নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হত্যার শিকার ইউসুফ জনি ও বাবুল উদ্দিন বাফেলোর জেনার স্ট্রিটে ১০০ ব্লকে একটি বাসার রঙয়ের কাজে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুল উদ্দিনের কাছে চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা না দেওয়ায় তারা বাবুল উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করলে তাকে রক্ষা করতে ইউসুফ জনি এগিয়ে যান। ওই সময় আততায়ী বন্দুকধারীরা তাদের দু’জনকে গুলি করে হত্যা করে। তারা দু’জনই কিছুদিন আগে বাফেলোতে স্থান পরিবর্তন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
বাফেলো পুলিশের মুখপাত্র মাইকেল জে ডিজর্জ বলেন, শনিবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার জেনার স্ট্রিটে ১০০ ব্লকে গুলির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের সোয়াট টিমও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ দু’জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কিছুই জানায়নি।
এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাফেলো বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
প্রবাসীরা জানিয়েছেন, শোকসন্তপ্ত দুই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানান।
আরও পড়ুন: রাশিয়ায় কনসার্ট হলে বন্দুক হামলায় নিহত ৬০ ও আহত ১৪৫, আইএসের দায় স্বীকার
৮৮৯ দিন আগে
নিউইয়র্ক পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স এলাকায় নিউইয়র্ক পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহতের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এ বিষয়ে ড. হাছান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক উইন রোজারিওর বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় যে, পুলিশের গুলি করার প্রয়োজন ছিল না। এট অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং এর তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে পুলিশের 'অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া' বা দোষ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা আশা করি।’
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও এমভি আব্দুল্লাহ জাহজকে মুক্ত করার জন্য সোমালিদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। খুব শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে আশা করি।’
আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের চর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি জানান, বাংলাদেশি নাবিকরা সবাই কেবিনে আছেন, ভালো আছেন। তাদের ওপর জলদস্যুরা কোনো নির্যাতন করছে না।
বাংলাদেশে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের সামরিক সদস্যদের ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ জানান, মিয়ানমারের মেজর, ক্যাপ্টেন ও সার্জেন্ট র্যাংকের তিন সামরিক সদস্য নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে আছেন। এই তিনজনসহ বাংলাদেশে আগে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের সব সামরিক সদস্যকে খুব শিগগিরই নৌপথে ফেরত পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলির পুরস্কার নিয়ে গণহত্যার পক্ষ নিয়েছেন ড. ইউনূস: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৯১৯ দিন আগে