কর্মবিরতি
ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন মেডিকেল কলেজটির ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে।
এতে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়। অন্যরা হলেন: নগরীর বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ, মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরেক স্বজন। তাদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ওই ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর জানিয়ে হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান বলেন, অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালালে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্ট্যাম্প হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্মবিরতি ও অ্যাকাডেমিক শাটডাউন
ঘোষণার পর রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতিতে হাসপাতালটির ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর আঘাত। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
দাবি পূরণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই দাবিতে ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
১ দিন আগে
বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত
ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত করেছে বেনাপোল বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ ও ৯২৫-এর শ্রমিকরা।
রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের সামনে প্রধান সড়কে অবস্থানের পর তাদের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ সরকারের বাজেট প্রণয়নের চলমান সময় বিবেচনায় নিয়ে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০১২ সালে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতি টন পণ্য হ্যান্ডলিং বাবদ ৩৩ টাকা আদায় করলেও শ্রমিকরা পেতেন মাত্র ১৮ টাকা। বর্তমানে ২০২৬ সালে সেই হ্যান্ডলিং চার্জ বেড়ে ৭৮ টাকায় উন্নীত হলেও শ্রমিকদের মজুরি এখনো ১৮ টাকাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
২৫ দিন আগে
রবিবার থেকে বেনাপোলে ২ শ্রমিক সংগঠনের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য লোড-আনলোড কাজে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য আগামী রবিবার (১৪ জুন) থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে, বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন।
আবেদনপত্রে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, ইতোপূর্বে কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা আগামী রবিবার থেকে বন্দরে শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দরের দুইটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি আবেদন পত্র বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২৮ দিন আগে
ববিতে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দ্রুত দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট অনুমোদিত বিধিবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সব বিধি যথাযথ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ চ্যান্সেলরের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো ও কার্যক্রম আইনি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
তাদের মতে, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদানও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই একাধিক ব্যাচে পাঠদান চলছে, অথচ অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। একইসঙ্গে ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম চাপের মধ্যে রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরাও অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
তাই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, এমন কাজ না করে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান উপাচার্য।
৭৯ দিন আগে
দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত সমঝোতা সভায় তারা অংশ নেননি। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, কর্মবিরতি অবসানের আশায় সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করেন তিনি। বৈঠকে প্রশাসনের প্রতিনিধি, কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কর্মবিরতিতে থাকা প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কেউ আলোচনায় অংশ নেননি। আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছেন তারা।
কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসকরা অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, হট্টগোল ও চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আগত রোগীরা জরুরি বিভাগে ভর্তি বা চিকিৎসাসেবা নিতে পারেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি করে কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসা চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এ সময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। স্বজনদের গালাগালি ও হট্টগোলে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হয়েছে।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এর আগেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় তালা ভেঙে নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় রোগীর স্বজন ইয়াকুব আলীকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেননি। তার শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে তাকে স্বজনদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে হাজির করা হবে বলে সম্মতি দিয়েছেন স্বজনরা।
৮৭ দিন আগে
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতি, অচল হয়ে পড়েছে খাদ্য সরবরাহ
ট্রাক মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতিতে খাদ্য সরবরাহ অচল হয়ে পড়ছে। এতে সরকারের জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক। খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ নম্বর ও ৭ নম্বর ঘাট অঞ্চলের ট্রাক লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।
২৭০ জন ঠিকাদার ২০০৫ সালে খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতিতে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর নানা কারণে আর টেন্ডার না হওয়ায় ২০০৫ সালের রেটে এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, এ অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে অচল হয়ে পড়বে জরুরি সেবা। কর্মহীন হয়ে পড়বে খুলনার ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা যারা খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা খাদ্য বিভাগে কাজ করি, সকলের সরকারের লাইসেন্সকৃত পরিবহন আছে। এই পরিবহনের কাছে ট্রাক ভাড়া করার স্বাধীনতা আমাদের আছে। যেকোনো ট্রান্সপোর্ট থেকে আমরা সুবিধামতো গাড়ি নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি। এক জায়গায় গাড়ি না পেলে, অন্য জায়গা থেকে গাড়ি নিতে পারি। কিন্তু খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটে বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সমিতির গাড়ি ভাড়া করার স্বাধীনতা নেই।
স্বাধীনতা কেন নেই, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কারণ উল্লেখ করে বলেন, খুলনার জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের গাড়ি নিতে বাধ্য করা হয়। এখানে একতরফা তাদের সিন্ডিকেট সচল। বিগত সরকারের আমলেও তারা আমাদেরকে বাধ্য করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে কিছুদিন শিথিল ছিল, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর তা আবার সচল হয়ে উঠেছে। ট্রাক মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের পক্ষে এখন ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
১৪০ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি অব্যাহত, রোগীদের ভোগান্তি
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ইন্টার্নদের উপস্থিতি কম দেখা যায়। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসক দেখা পাননি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পেলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেবা নিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
হাসপাতালে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কষ্ট বেড়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দাবি আদায়ে তারা এই কর্মবিরতিতে গেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে জরুরি রোগীদের সেবা ব্যাহত না করতে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পূর্ণমাত্রায় সেবা স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা কর্মবিরতিতে রয়েছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এটি আমরা প্রত্যাহার করিনি, কারণ হাসপাতাল প্রশাসন এখনও আমাদের এই আশ্বাস দিতে পারেনি যে তারা চিকিৎসকদের জন্য নিরাপত্তা বাড়াবে বা কী পরিমাণ ফোর্স (নিরাপত্তা বাহিনী) তারা আমাদের দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আবারও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। আশা করি, বৈঠকের পর একটি সিদ্ধান্ত আসলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন।’
এদিকে, শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিলেট হাসপাতাল প্রশাসন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করে গিয়েছেন। আটক হওয়া তিন আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে ৫৪ ধারায় আদালতে সোর্পদ করেছি।’
অন্যদিকে, নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। আশা করছি, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’
১৭২ দিন আগে
ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে কর্মবিরতি
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হামলার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে সার্জারি বিভাগের ওই ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। এতে ওই চিকিৎসক হেনস্তার শিকার হন।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালে থাকা অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছে এক নারী ও ২ পুরুষকে আটক করেন এবং পরে তাদের পুলিশে দেন। পরবর্তী সময়ে রাত ১টার দিকে হামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আজ সকাল ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।এদিকে সেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় তাদের স্বজনদের। তবে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ সকাল থেকেই হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি এবং চিকিৎসার পরিবেশ নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানান, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭৩ দিন আগে
দাবি আদায়ে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্মীরা
হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত ন্যূনতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং সম্পাদিত সব চুক্তি আগামী ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে ১৪ জানুয়ারি কর্মবিরতিতে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের জন্য গঠিত ‘নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকরাও আজ চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। হোটেল মালিকরা নিয়মিত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করছেন না; বরং বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের বিধান উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২–১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হলেও সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করার পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি, যা শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, এই প্রেক্ষাপটে গত ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও সরকার ও মালিক পক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে সারা দেশের সংগঠনসমূহকে নিয়ে গঠিত হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকারঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সরকারঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং আগে সম্পাদিত সব চুক্তি ১৩ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দেশব্যাপী কর্মবিরতির ঘোষণা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এবং স্টার গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মনির হোসেন।
১৮৫ দিন আগে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার থেকে সারা দেশে কর্মবিরতির হুমকি এনবিআর কর্মীদের
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানকে তার পদ থেকে অপসারণ না করা হলে শনিবার থেকে সারা দেশের সকল কর, শুল্ক এবং ভ্যাট অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সংস্থাটির সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৩ জুন) আগারগাঁওয়ে এনবিআর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক সেহেলা সিদ্দিকা এই হুমকি দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ‘ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন এবং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
তাদের চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন এনবিআর অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সোমবার এনবিআর সদর দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলম-ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজন প্রতীকী সাদা কাফন পরেও অংশগ্রহণ করেছেন।
কাউন্সিল অভিযোগ করেছে যে, রবিবার আয়কর শাখার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে— যেটিকে তারা 'প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেছে।
এর মধ্যে গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের দুইজন, এনবিআর বোর্ড অফিসের একজন এবং ঢাকা ও কুমিল্লার কর অঞ্চলের আরও দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিল এই বদলিকে ‘প্রতিহিংসামূলক ও নিপীড়নমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, সোমবারের মধ্যে আদেশ প্রত্যাহার না করা হলে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হবে।
নতুন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবা এবং রপ্তানি ব্যতীত সারা দেশের সকল কর, শুল্ক ও ভ্যাট অফিসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট এবং কলম ধর্মঘট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তারা বলেন, যদি আবার একই রকম বদলি আদেশ জারি করা হয়—তাহলে ২৫ এবং ২৬ জুন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট এবং কলম ধর্মঘটসহ আরও কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচি চলাকালে আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং রপ্তানি পরিষেবাও অব্যাহত থাকবে।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়েছে যে, যদি চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করা হয় এবং ২৭ জুনের মধ্যে বদলি আদেশ বাতিল না করা হয়, তাহলে শনিবার থেকে সমস্ত শুল্ক, ভ্যাট এবং আয়কর অফিস ‘সম্পূর্ণ এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ’ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তারা
লিখিত বিবৃতিতে কাউন্সিলের নেতারা বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যান সম্প্রতি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি নীতি লঙ্ঘন করে সিনিয়র কমিশনারদের বদলি করেছেন।
একই সাথে, তিনি একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে কর প্রশাসনের একটি সংবেদনশীল পদে নিয়োগ করেছেন, এতে বলা হয়েছে।
তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বহিরাগতদের একত্রিত করার এবং অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের শাস্তি এবং আরও বদলির হুমকি দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই পদক্ষেপগুলো একটি স্বাভাবিক কর্মপরিবেশকে ব্যাহত করছে এবং রাজস্ব আদায়ের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।’
৩৮১ দিন আগে