চালের দাম বৃদ্ধি
নওগাঁয় ধান কাটার ভরা মৌসুমেও বাড়ল চালের দাম
নওগাঁ জেলা ধান-চাল উৎপাদনে বরাবরই সমৃদ্ধ। বর্তমানে এ জেলায় চলছে বোরো ধান কাটার মৌসুম। এর মধ্যে বেশির ভাগ ধানই খেত থেকে কৃষকের ঘরে উঠে গেছে। হাট-বাজারে রয়েছে পর্যাপ্ত ধানের সরবরাহ। বোরোর এই ভরা মৌসুমে স্বাভাবিকভাবেই চালের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় কথা। অথচ, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ২ থেকে ৩ টাকা করে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে নতুন চালের সরবরাহ কম। এছাড়া হাট-বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।
এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির পিছনে সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণে চালকলগুলোতে মজুতবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন।
শহরের পৌর ক্ষুদ্র খুচরা চাল বাজারে বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৪৯ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৪৫-৪৬ টাকায়। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (শটেজ) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩-৭৫ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে যা বিক্রি হয়েছে ৭০-৭২ টাকা। প্রতি কেজি পুরাতন কাটারি (হাতছাটি) চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এই চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকায়। তবে জিরাশাইল আগের দামে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইকবাল হোসেন নামে এক ভোক্তা বলেন, ‘একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে যে বেতন পাই, সেটা বাজার করতেই শেষ হয়ে যায়। গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আমাদের আয় কম, কিন্তু খরচ বেশি হচ্ছে।’
মানিক হোসেন নামে আরেকজন ভোক্তা বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি করার কোনো যুক্তিই হয় না। ধান-চাল মজুত করে রেখে কেউ দাম বাড়াচ্ছে কি না, সে বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখতে হবে।’
পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভাণ্ডারের সত্ত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, ‘সরু জাতের কাটারি ও মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে বেশি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া বাজারে নতুন চালের সরবরাহও কম।’
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু ফসল নষ্ট হয়েছে এবং শুরুতে ধানের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। এখন বাজারে ধানের দাম বেশি। এছাড়া সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এজন্য পাইকারিতে চালের দাম প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।'
৭ ঘণ্টা আগে
চালের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ হয়েছে, স্বীকার করলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
চালের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়েছে স্বীকার করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার চাল আমদানির উপর ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওমর বোলাতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসন্ন রমজান মাস নিয়ে আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত। এই মুহূর্তে চালের বাজার নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা আমদানি শুল্ক শিথিল করছি। চাল আমদানিতে শুল্ক ছিল প্রায় ৬৩ শতাংশ, তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করেছি।’
খাদ্য মন্ত্রণালয় ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে কয়েক লাখ টন চাল আমদানি করেছে।
বশির উদ্দিন আশ্বস্ত করে বলেন, এখন আমনের পুরো মৌসুম চলছে। এপ্রিল পর্যন্ত চালের কোনো সংকট হবে না। এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যে কোনো অসঙ্গতি দেখা যায়নি।
চালের বাজারে কারসাজিতে জড়িতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এখন চালের বাজারের কোনো সংকট নেই, তবে আবহাওয়া, বন্যা ও অন্যান্য কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হচ্ছেন ট্রেসি অ্যান
কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শিগগিরই চালের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে টিসিবির স্মার্ট কার্ডধারী ৬৩ লাখ পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে চাল দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বশির উদ্দিন বলেন, জালিয়ারিতর মাধ্যমে একই পরিবারের আরও একাধিক সদস্য কার্ড নেওয়ার মতো দুর্নীতির অভিযোগে ৩৭ লাখ স্মার্টকার্ড বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আরও ৩৭ লাখ কার্ড যুক্ত করতে চাই। সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে যদি স্বচ্ছতা আনা যায়, তাহলে এই সংখ্যা ১ কোটিতে নেওয়া সম্ভব হবে, আমরা সেটাও করব।’
আরও পড়ুন: জাতিকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা রুখতে ঐক্য জরুরি: ফখরুল
৪৯৩ দিন আগে
ক্রেতা নেই, ঢাকার বাজারে দাম কমেছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণায় হাজারো মানুষ রাজধানী ছাড়ার পর ঢাকার বাজারগুলোতে হ্রাস পেয়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ী এবং দোকানীরা পার করছেন অলস সময়।
২২৩৯ দিন আগে