পহেলা বৈশাখ
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বন্দর থেকে মালামাল খালাসসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সারাদিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. লতিফ জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় এক দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদেরও জানানো হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় কার্যক্রম চালু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, পহেলা বৈশাখে সরকারি ছুটি থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ: বাঙালির চিরন্তন নবজাগরণের উৎসব
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলনমেলা এই পহেলা বৈশাখ। এটি শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
ইতিহাসের পথ বেয়ে
পহেলা বৈশাখের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। সে সময় কৃষিজ ফসলের খাজনা আদায় সহজ করতে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির পরিবর্তে একটি সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রবর্তিত হয় ফসলি সন, যা পরবর্তীতে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়।
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর এই সন প্রবর্তন করেন। এটি গণনা শুরু হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। তখন বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতেন এবং নববর্ষের দিনে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এই উপলক্ষে মেলা ও আনন্দোৎসবের আয়োজন করা হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মিশে এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়।
বিবর্তনের ধারা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দিন। হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের সূচনা করতেন।
ক্রমে এই দিনটি তার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এটি আনন্দ, ঐক্য ও মিলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐক্যের প্রতীক
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশাল মুখোশ, পাপেট, বাঘ-হাতি-পাখির প্রতীকী রূপ এবং নানা শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়গান করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এটি ইউনেস্কোর বিশ্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ তালিকায় জায়গা করে নেয়। বর্তমানে এটি বাঙালির ঐক্য, প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক।
২০ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীজুড়ে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহিদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল উদ্বোধন নিশ্চিত করতে ৯টি জেলার ১০টি উপজেলার প্রধান অনুষ্ঠানস্থলগুলোতেও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যেসব স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে সেগুলো হলো— পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট ও বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহেরর শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
কর্মসূচি চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাহিনীটি অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
২১ ঘণ্টা আগে
বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নানা বর্ণিল আয়োজন, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে। পুরোনো বছরের গ্লানি, জীর্ণতা আর শোককে পেছনে ফেলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় নববর্ষ বরণের আয়োজন। রাজধানীর রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগীত, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪৩৩। এ শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ১০টার দিকে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান।’ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মোটিফ ও পটচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। মোরগ, হাতি, পায়রা, টেপা পুতুল-ঘোড়া ও দোতারা প্রতিটি মোটিফই বহন করেছে আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য। বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে—নারীরা শাড়ি এবং পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে—শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেকে। মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খাবার এবং লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
২৩ ঘণ্টা আগে
সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি, নববর্ষে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনটি আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং সবাইকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
১ দিন আগে
সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক-বাহক হিসেবে নববর্ষ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম: রাষ্ট্রপতি
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩৩ সনের প্রথম দিন। নববর্ষের উৎসব নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেছেন।
দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে জানাই নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি বলেন, নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা—সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
তিনি আরও বলেন, এই আনন্দঘন দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে গড়ে তুলি একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। আবারও সবাইকে জানাই ‘শুভ নববর্ষ’।
১ দিন আগে
পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের ২ স্টেশন
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মেট্রোরেলের দুইটি স্টেশন আংশিক ও পূর্ণ সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ডিএমটিসিএলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোরেলের যাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শাহবাগ মেট্রোস্টেশন (দুপুর ১২টা পর্যন্ত) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন (সারা দিন) বন্ধ থাকবে।
১ দিন আগে
নববর্ষের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) নববর্ষ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তায় থাকবে বিশেষ নজরদারি। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবে না, তবে হাতে বহন করা যাবে। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ এতে যোগ দিতে পারবে না।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়ি রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হবে।
পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির
দেশের সকল সম্প্রদায় ও জাতিগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ বা পহেলা বৈশাখ বণার্ঢ্য আয়োজনে বিপুল জনসম্পৃক্ততায় উদযাপন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকার চীনা দূতাবাসের কারিগরি সহায়তায় ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহেযোগিতায় পহেলা বৈশাখে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে নগরবাসীর জন্য আয়োজন করা হয় ‘ড্রোন শো’ ও ‘কনসার্ট’।
সোমবার (১৪ এপ্রিল ) বিকাল ৩টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিরা।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও মহাপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: ‘আনন্দ শোভাযাত্রায়’ বরণ নতুন বছরকে
৩৬৫ দিন আগে
যেখান-সেখান দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না: ডিএমপি কমিশনার
পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সবোর্চ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বছর যেখান-সেখান থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দেন তিনি।
রবিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের শেষে শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নববর্ষের শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি ও টিএসসি হয়ে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পুরো রুট নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। পাশ থেকে বিকল্প পথে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করা যাবে না।’
আরও পড়ুন: ‘ধর্ষণ’ শব্দ না ব্যবহারে পরামর্শ: ডিএমপি কমিশনারের দুঃখপ্রকাশ
সাজ্জাত আলী জানান, শোভাযাত্রায় যোগদান করতে হলে শাহবাগ মোড় থেকে যোগ দিতে হবে। আর ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষে যারা শোভাযাত্রায় অংশ নিতে চান— তারা শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন মোড় দিয়ে নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাবি ভিসির বাংলোর সামনে থেকে অংশ নেবেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, বৈশাখে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৮ হাজার পুলিশ সদস্যসহ র্যাব, সেনাবাহিনী ও এন্টি-টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন।
বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাস্থলগুলো ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ মোট ২১টি স্থানে ব্যারিকেড থাকবে।
‘প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল দিয়ে তল্লাশি করা হবে। অনুষ্ঠান স্থলে যাওয়া ও শোভাযাত্রার রোড সমূহ সিসি ক্যামেরাসহ স্থির ও ভিডিও ক্যামেরা দ্বারা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। অনুষ্ঠানের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুট পেট্রোল থাকবে। সিটিটিসি, সোয়াত ছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে,’ বলেন ডিএমপি কমিশনার।
ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রতিরোধে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ দল মোতায়েন থাকবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। ‘এ ছাড়াও রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন থাকবে। সেখানে মাইকিং ব্যবস্থা থাকবে।’
গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে নববর্ষকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো অপপ্রচার বন্ধ করতে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান মো. সাজ্জাত আলী।
এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে এবং অনুষ্ঠানস্থলে কোন ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু ও দাহ্য পদার্থ না নিয়ে আসতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে এবং অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করতে হবে। কোনো ধরনের আতশবাজি, ফানুস উড়ানো যাবে না। শব্দ দূষণ হয়— এ ধরনের কোনো বাঁশি ব্যবহার করা যাবে না। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য বাজারজাত করা যাবে না। বিশেষ করে শোভাযাত্রায় ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থলে।
আরও পড়ুন: শোভাযাত্রার আগেই মোটিফে আগুন দেওয়া দুষ্কৃতকারীরা গ্রেফতার হবে: ডিএমপি কমিশনার
ছায়ানটের অনুষ্ঠানে আসতে ইচ্ছুক নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যারা নারী ও শিশু সঙ্গে নিয়ে আসবেন তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভীড় এড়িয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করবেন। মহিলা ও শিশুদের জন্য নির্ধারিত গেট ব্যবহার করে বের হয়ে চলে যাবেন।’
তিনি জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটি গেট দিয়ে প্রবেশ করা যাবে। সে সময় বের হওয়ার জন্যও তিনটি গেট ব্যবহার করা যাবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত উদ্যানে প্রবেশ করা যাবে। বিকেল ৫টার পর প্রবেশ পথগুলোও বের হওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। শোভাযাত্রা সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম পাশে চারুকলার বিপরীতে যে গেট আছে সেটি বন্ধ থাকবে। ওই সময় কেউ ওই গেট দিয়ে রাস্তায়ও যেতে পারবেন না।
৩৬৬ দিন আগে