বিনিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘জনশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী, বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী। জাপান সফরে প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানো।
চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সফরে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান তিনি।
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির বিনিয়োগে বাস্তবায়িত কয়েকটি মেগা প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করেছে।
৮ দিন আগে
বিনিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবাগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা পাওয়ার বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দেওয়া, প্রক্রিয়া সম্পন্নের সময় কমানো এবং উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো গেলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ উৎসাহিত হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসা ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাগুলো ধীরে ধীরে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন, যাতে আরও বেশি স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চলমান উদ্যোগ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সেবা প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজনেস বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা
বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ও স্টার্টআপ নিয়ে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সিসকো, অ্যাপল, মেটা, এনভিডিয়া ও প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবনী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সংযোগ ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এসব বৈঠকের আয়োজন করে।
সিসকোর সঙ্গে আলোচনায় নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, সংযোগ, এআই ও জনশক্তির দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর অ্যাপলের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষা, সফটওয়্যার তৈরি, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার ইকোসিস্টেম নিয়ে আলোচনা হয়।
অ্যাপল পার্ক পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার তৈরি, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং ডেভেলপার ইকোসিস্টেমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।
অন্যদিকে মেটার সঙ্গে আলোচনায় এআই, ডিজিটাল অবকাঠামো, অনলাইন নিরাপত্তা ও স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক কনটেন্টের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া সান্তা ক্লারায় এনভিডিয়ার সদর দপ্তরে আলোচনায় জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়নে এআইয়ের ব্যবহার, জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, কম্পিউটিং অবকাঠামো ও বাংলাদেশে এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দুই পক্ষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সরকারি সেবা ও শিল্পে এআইয়ের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং স্থানীয় এআই দক্ষতা, গবেষণার সক্ষমতা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।
প্রতিনিধিদলটি এনভিডিয়ার এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারও পরিদর্শন করে এবং উন্নত এআই ও কম্পিউটিং প্রযুক্তির প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করে।
বৈঠকগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো, বাংলাদেশে এক বা একাধিক এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই করতে প্লাগ অ্যান্ড প্লে ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর।
বাংলাদেশি স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, করপোরেশন ও উদ্ভাবনী নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে প্লাগ অ্যান্ড প্লে।
বৈঠকগুলোতে এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ, ডেভেলপার ইকোসিস্টেম ও দায়িত্বশীল উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে আরও কাজের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি দক্ষতা এবং সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতির কথা তুলে ধরে। একই সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহের কথা জানায়।
অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয় করবে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।
১৮ দিন আগে
মুডি’স রেটিংয়ের ফলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে: মাহ্দী আমিন
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’সের রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল হওয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে গত এক মাসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বহুমুখী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজকের সংবাদ সম্মেলনে আমি আবারও আপনাদেরকে একটা সুখবর দিতে চাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স (Moody's)-এর রেটিংয়ে বাংলাদেশকে গতকাল নেতিবাচক থেকে একটা লম্বা সময় পর স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত আনা হয়েছে।
‘অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগই বাড়বে না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাও বাড়বে না; বরং আমাদের ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট—অর্থাৎ নারী, যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।’
মুডি’স গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং বি২ অপরিবর্তিত রেখে এর আউটলুক ‘নেগেটিভ’ থেকে ‘স্টেবল’ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক ও বৈদেশিক খাতের তীব্র চাপ কমে আসায় ঝুঁকিগুলো এখন তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা দেখেছি অত্যন্ত স্বল্প সময়ে তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে এবং আমরা গ্যাসের যে দৃশ্যমান উন্নয়ন আজ দেখতে পাচ্ছি, সামনের দিনগুলোতে ইনশাল্লাহ সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
মূল্যস্ফীতি কমার দাবি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময় কিংবা গত মাসের তুলনায় দেশের মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে এবং খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হারও কমেছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহও তুলনামূলকভাবে ভালো।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশ এবং বিশেষ করে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেল তেলের দাম অপেক্ষাকৃত কম। জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি খাতে সরকার সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাত খাতে সরকারের পদক্ষেপ
মাহ্দী আমিন বলেন, গত এক মাসে নির্বাচিত সরকার যেসব জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো মোটামুটিভাবে সাতটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। এগুলো হলো—
১. তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন;
২. গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন;
৩. নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা;
৪. পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন;
৫. আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য;
৬. যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; এবং
৭. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ কোটি টাকার ঋণ তহবিল
মাহ্দী আমিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় গত এক মাসে ৫০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর অধীনে প্রতিবছর ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রারম্ভিক মূলধন সহায়তা দেওয়া হবে।
কোনো জামানত ছাড়াই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল চ্যানেলে সুদমুক্ত ই-লোন সুবিধা চালু করা হচ্ছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তরুণদের জন্য দেশব্যাপী অনলাইন স্টার্টআপ তহবিলের সুযোগ উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
তরুণ উদ্ভাবকদের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে জাতীয় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সাইবার সুরক্ষায় দেশে সাইবার ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম এবং জাতীয় আইসিটি ও সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কারখানায় সাশ্রয়ী আধুনিক স্মার্টফোন উৎপাদনে বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ কোটি মানুষকে সুবিধার আওতায় আনতে কৃষি শ্রমিক, কৃষক ও রিকশাচালকসহ প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রাথমিক লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৪৫ লাখ মানুষকে বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা দিতে দেশব্যাপী আধুনিক ‘আলফা’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধন ও তিনটি প্ল্যাটফর্ম চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
কক্সবাজারে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু ইকোনমি গবেষণায় বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় প্রতিবছর ৫ শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীকে শতভাগ সৌদি সরকারি শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কওমি ও আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে বিনামূল্যে সুষম দুপুরের খাবারের রূপরেখা প্রণয়ন চলছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে ঘোষিত ১৫ অনুশাসন বাস্তবায়ন এবং বছরব্যাপী খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অচল ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রযুক্তি পার্ক কীভাবে কার্যকর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, সে জন্য শিল্প ও বাণিজ্যের সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
নারী, শ্রমিক ও জনকল্যাণ
নারীদের সাইবার হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
তিনি জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ নারী শিক্ষার্থীর সর্বজনীন উপবৃত্তি এবং স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চা শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ২০ হাজার চা শ্রমিকের মধ্যে আধুনিক রেইনকোট বিতরণ করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষায় ১৩টি দেশের ২২টি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করা হয়েছে।
জ্বালানি ও শিল্পে বড় কর্মসূচি
গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, এলএনজি সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউ পর্যায়ক্রমে পাঁচটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট নিরসনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শিল্প ও কৃষির বিকাশে ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নতুন ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচ পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির বিদ্যুৎবিহীন ৩০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাসাবাড়ির ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের আধুনিক যন্ত্রাংশ আমদানিতে টানা ১৮০ দিন সব ধরনের শুল্ক ও কর মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষায় নদীর ড্রেজিংয়ের পলিমাটি দিয়ে পরিবেশবান্ধব আধুনিক ইট তৈরির প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
মাহ্দী আমিন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনায় ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চার লেনের নিরবচ্ছিন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
মহাসড়কে যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগামী চার মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস স্বয়ংক্রিয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ টোল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার গাবতলীতে এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল আধুনিক কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, গত এক মাসে সরকারের বহুমুখী কল্যাণমূলক কর্মযজ্ঞ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথাগত শাসন পদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে।’
তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন, কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পথযাত্রা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৩২ দিন আগে
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবের পথে আরও এগোবে চট্টগ্রাম: অর্থমন্ত্রী
ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ চট্টগ্রামকে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি মাইলফলক।’
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রকল্প এলাকায় লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যৌথভাবে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে বিশ্বখ্যাত ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
৪৯ দিন আগে
চীনা বিনিয়োগে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে: রাষ্ট্রদূত ওয়েন
চীনের প্রায় ৩০টি কোম্পানি বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে (সিইআইজেড) প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় জনগণের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান ইয়াও ওয়েন।
এ সময় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও সুগম করবে।
সাক্ষাৎকালে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘২+২’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি শুরু, সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রপতির চীন সফরের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
ওই সফরে আইডিসিপিসির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ এবং তার বাবা লিউ শু ছিংয়ের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের আগস্টে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের বিরল আলোকচিত্র ও ভিডিও হস্তান্তরের বিষয়টি স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
৪৯ দিন আগে
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহজীকরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে ইউএনডিপি
বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি—ইউএনডিপি। একই সঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও বর্তমানে তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠকে দেশের উচ্চ লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এবং বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য উঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এমএসএমই খাতকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইউএনডিপির রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিফেন রড্রিকস ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা জানান। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় টুলস ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন।
৪৯ দিন আগে
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত
ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতা পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
৬১ দিন আগে
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সংস্কার বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান অ্যামচেমের
নীতিগত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।
সংগঠনটি বলেছে, সংস্কারের উদ্যোগগুলোকে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দিতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় এ আহ্বান জানানো হয়। শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ ও ভিসার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের সদস্যরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং নীতিগত সংস্কারকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
এদিকে, এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য মূলধনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তি হলো একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ।
বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য আরও সহজ করা গেলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
চলমান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
করব্যবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আমীর খসরু বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় রাজস্ব আহরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশের পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য মূলধনপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
৬৩ দিন আগে
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতুল কেশাপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে যে পরিকল্পনা, বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৬৬ দিন আগে