বিনিয়োগ
অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত
ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতা পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
২২ ঘণ্টা আগে
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সংস্কার বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান অ্যামচেমের
নীতিগত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।
সংগঠনটি বলেছে, সংস্কারের উদ্যোগগুলোকে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দিতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় এ আহ্বান জানানো হয়। শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ ও ভিসার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের সদস্যরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং নীতিগত সংস্কারকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
এদিকে, এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য মূলধনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তি হলো একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ।
বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য আরও সহজ করা গেলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
চলমান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
করব্যবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আমীর খসরু বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আলোচনায় রাজস্ব আহরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশের পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য মূলধনপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২ দিন আগে
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতুল কেশাপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে যে পরিকল্পনা, বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, পাট, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়। এনজেডটিই-এর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বৈঠকে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আমদানিতে দুগ্ধজাত পণ্য ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর।
বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অ-পোশাক রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে এনজেডটিই-এর সহযোগিতা কামনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সাড়ে ৬ লাখের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।
এ সময় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: এনজেডটিই-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বি-টু-বি বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমএফএটি)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা। এছাড়া সভায় উভয় দেশের মধ্যে যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
৮ দিন আগে
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১৪ দিন আগে
বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর সংস্কার, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বৈঠকে দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
মাহ্দী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত ও সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে তিনি সেগুলো বিস্তারিতভাবে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দূর করা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কাঠামো সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
১৭ দিন আগে
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহ্দী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেওয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
মাহ্দী আরও বলেন, বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো অর্থনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এদিন কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত শাধিন।
বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।
এর প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। এর ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে।
আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসতে যাওয়া ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরিদর্শন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে তিনি সহযোগিতা করবেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ করে গুদামজাতকরণ, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিখাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
জবাবে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান, ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন বিনিয়োগকারীরা অদূর ভবিষ্যতে একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কাজ করছেন বলে জানান মার্কিন বিশেষ দূত।
১৮ দিন আগে
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।
৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর স্থাপিতব্য কারখানাটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বছরে ২৪ হাজার টন সুতা এবং দুই কোটি মিটার গ্রে ওভেন ফেব্রিক উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এখানে ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সম্প্রতি (১৬ জুলাই) ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ-সংক্রান্ত ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন ওয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি, এমফিল।
অনুষ্ঠানে নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ এবং বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বেপজা বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির সফল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ এস এম আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিন আগে
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ’কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, যেমন: চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ খাতে উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যার ফলে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এ ছাড়াও, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের বাবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে