ডিবি পুলিশ
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় মূল অপরাধীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এছাড়া গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ থানা এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
নিয়াজ মেহেদী জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পাকা সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
পরে রায়হান উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্কিংয়ের মাঝের একটি পিলারের পাশে ইটের সুরকির বস্তার মধ্যে লাল স্কচটেপে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পরে ডেমরা থানাধীন ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী জানান, রায়হান উদ্দিন এর আগে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৪ দিন আগে
নওগাাঁয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে কয়কেজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও কাকা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে ধোলাই দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৩৫ দিন আগে
কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চারজন পেশাদার খুনিকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় ভুলবশত গুলিতে নিহত হন ইউসুফ।
সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তবে পরিকল্পিত হামলার সময় গুলিতে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় পথচারী সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন— চঞ্চল, জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।
ডিবিপ্রধান জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা সংগ্রহের টেন্ডার, ফুটপাতের ব্যবসা এবং একটি টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি বলেন, বাবুকে হত্যার জন্য মাগুরা ও ঝিনাইদহের চারজন পেশাদার খুনিকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করা হয়।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ২৯ জুন হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় তা বিকল হয়ে যাওয়ায় হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২-এর একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার আগে বাবুর কার্যালয়ের কাছে স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০-এর বাসিন্দা বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের তল্লাশি করতে চাইলে এক হামলাকারী গুলি চালান। এতে ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।
তিনি জানান, কাফরুল থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিবিও পৃথক তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করা হয়। অন্যদিকে চঞ্চল ও আবির হাওলাদারকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ তাদের এ হামলা চালানোর জন্য ভাড়া করেছিলেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। হাফিজুর রহমান হাফিজকে এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে অভিযান চলছে। কাফরুল থানায় একটি হত্যা এবং একটি অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিবি এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৬৯ দিন আগে
পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ফরিদপুরের ডিবির ওসি প্রত্যাহার
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গেল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে এবং মায়ের সামনেই মারধর করে। পরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
১০৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সেজে ভুয়া গেজেট, প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকা থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আজ (রবিবার) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা কিছু তথ্য ও ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জানতে পারি, আরিফ মহউদ্দিন নামের একজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি নিজেকে কোনো সময় ড. আরিফ মহিউদ্দিন, কোন সময় শুধু মহিউদ্দিন, কোনো সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী নাম ব্যবহার করে এসব প্রতারণা করতেন। গতকাল তাকে কক্সবাজার থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ অ্যাডভাইজর (উপদেষ্টা) হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শাহাবুদ্দিন জামিলের সিল ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বায়োগ্রাফি তৈরি করে বিভিন্ন লোকের কাছে পাঠান এবং একটি সরকারি গেজেটে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে পোস্ট করেন, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সই রয়েছে। আসলে এমন একটি প্রকৃত গেজেট তিনি এডিট করে নিজের নাম বসিয়েছেন। এটা তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও পাঠাচ্ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আরিফ মহিউদ্দিন ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সরকারি সিল ও মনোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাচ্ছিলেন। একজন সরকারি ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে এটির সভাপতি ও নিজেকে সদস্যসচিব ঘোষণা করে তিনি এই সংগঠনের নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা বা চাঁদা চাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, এছাড়া তিনি একইভাবে নিজেকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করে দুদক বরাবর চিঠি লিখেছেন। তাকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি লিখেছেন।
ডিবিপ্রধান আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির মোবাইল ফোন প্রাথমিকভাবে যাচাই করে আমরা অসংখ্য প্রতারণার তথ্য পেয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছি। এখন জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাচ্ছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
এর আগে আরিফ মহিউদ্দিন কখনও আটক হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মামলায় আগেও আটক হয়েছিল। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০২৪ সালে তার নামে চকরিয়া থানায় একটা জিডি করা হয়েছিল। সাইবার মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজাও হয়েছে। পাঁচ বছরের সেই সাজা এখন কোন পর্যায়ে আছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
১৯৬ দিন আগে
চীনা নাগরিকদের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় অবৈধ আইফোন কারখানা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় চীনা নাগরিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি অবৈধ আইফোন সংযোজন কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ দিয়ে সেখানে অবৈধভাবে আইফোন সংযোজন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।
সম্প্রতি ওই কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন, আইফোনের যন্ত্রাংশ এবং মোবাইল ফোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ ৭ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর ও নিকুঞ্জ-১ এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে উত্তরা এলাকা থেকে ৫৮টি আইফোনসহ একজনকে এবং নিকুঞ্জ-১ থেকে মোট ৩০৫টি ফোনসহ দুই চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকালে অবৈধ মোবাইলের পাশাপাশি আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পার্টস সংযোজনের মেশিনারিজ এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ট্যান জিয়ান, উ জুন এবং ডং হংওয়েই।
উপকমিশনার সোহেল বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিদেশ থেকে আইফোনের বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে অবৈধভাবে ঢাকায় এনে একটি গোপন ল্যাব স্থাপন করে। ওই ল্যাবে যন্ত্রাংশ সংযোজন করে আইফোনের আদলে ভুয়া মোবাইল ফোন তৈরি করা হতো, যা পরে আসল আইফোন হিসেবে বাজারে ছাড়া হতো।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে চক্রটি এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ সময়ে তারা বিপুল পরিমাণ ভুয়া মোবাইল ফোন বাজারে সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কি না তা জানতে চাইলে ডিবি কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের মূল হোতা ও বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা জনগণকে মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কম দামে ‘অরিজিনাল আইফোন’ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাই অনুমোদিত ও অফিশিয়াল শোরুম বা বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া মোবাইল ফোন না কেনার অনুরোধ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৬৯ দিন আগে
দীপু হত্যা মামলায় মামলার আরও ৬ আসামি গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হওয়া মামলার আরও ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে এই মামলার মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ৬ জন দীপুকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সুনামগঞ্জের তাকবির (২২), ঠাকুরগাঁওয়ের রুহুল আমিন (৪২), ময়মনসিংহ সদরের নূর আলম (৩৩), তারাকান্দা উপজেলার মো. শামীম মিয়া (২৮) নোয়াখালীর সেলিম মিয়া (২২) ও মাদারীপুরের মো. মাসুম খালাসী (২৩)।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জনতা দীপুকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরের দিন (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দীপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০-১৬০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার পর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
২৮৩ দিন আগে
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণের দোকানে চাঁদাবাজি, আটক ২
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি স্বর্ণের দোকানে চাঁদাবাজি করার সময় দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পাঁচবিবি উপজেলার চাঁনপাড়া বাজারের এই ঘটনা ঘটেছে।
তারা হলেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুরের তৈয়ব আলীর ছেলে সাগর আহমেদ (৩৩) এবং সদর উপজেলার জগত সিংহপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ইমরান হোসেন (৩১)।
আরও পড়ুন: গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে ৩ লেমুর চুরি, গ্রেপ্তার ১
দোকানমালিক তাপস চন্দ্র বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদা পোশাকে দুজন মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে নামেন। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দোকানে ঢুকে অবৈধ মালামাল আছে বলে অভিযোগ করে আমার সঙ্গে আলাদাভাবে গোপনে কথা বলতে চান। এ সময় তার টাকাও দাবি করেন। ওই সময় আমার দোকানে স্থানীয় আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহ আলম বসে ছিলেন। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে তিনি তাদের ডিবি পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ পাঁচবিবি থানাকে অবগত করা হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ওই দোকানে এসে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায়।’
৫৩৩ দিন আগে
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গ্রেপ্তার
জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
আরও পড়ুন: সাবেক বিচারপতি মানিক আটক
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ওয়াশরুমে আটকে রেখে পদত্যাগে বাধ্য করার পর শিক্ষক শূন্য কক্সবাজার নার্সিং ইনস্টিটিউট
৭৬২ দিন আগে
সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দুইটি পিস্তল ও গুলি কেনেন শিক্ষক রায়হান: ডিবি পুলিশ
সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষক রায়হান শরীফ দুইটি পিস্তল ও গুলি কেনেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুলহাজ উদ্দীন।
রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেন রায়হান। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিবির ওসি।
ওসি মো. জুলহাজ উদ্দীন জানান, মূলত তিনি সিনেমা দেখেই অনুপ্রাণিত হন এবং অস্ত্রের প্রতি তার এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়। এরপর বেশ কিছুদিন অস্ত্রের অনুসন্ধান করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: রোজায় শরীর সুস্থ রাখতে যে ১০টি বিষয় এড়িয়ে চলা উচিৎ
এরই এক পর্যায়ে অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ও ডিসেম্বর মাসে বিদেশি দুইটি পিস্তল ও গুলি কেনেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সব অস্ত্রই তিনি শখের বশে কিনেছেন। এছাড় আরও কিছু অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা থাকলেও অস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের কোনো পরিকল্পনার ছক তার ছিল না বলে জানান।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, যার কাছ থেকে অস্ত্র কিনেছিলেন পেশাদার সেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীর তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ওই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার দুপুরে আবারও শিক্ষক রায়হান শরীফকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ৪ মার্চ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি করেন রায়হান। তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে ডা. রায়হান শরীফকে হেফাজতে নেয়। এরপর তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮১ রাউন্ড গুলি ও বেশকিছু বিদেশি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: এফবিসিসিআইয়ের বিদেশি বিনিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ওয়াহিদ রায়হান
খুলনায় কারগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিলো রায়হান
৯৩২ দিন আগে