সিরিয়া
লেবাননে বাশার আল-আসাদের আত্মীয় আটক
লেবাননের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্ত্র ও মাদক বহনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের এক আত্মীয় ও কুখ্যাত এক মাদক কারবারির ছেলেকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) লেবাননের সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আদালতের দুই কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের কাছে সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারকে আটক করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই বিচারিক কর্মকর্তা আরও জানান, সুলেইমান আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই হিলাল আসাদের ছেলে। অন্যদিকে আলি জেইতার গত বছর গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নোয়াহ জেইতারের ছেলে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখল করার পর আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর সিরিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও আসাদের আত্মীয় লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তিনজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিকও রয়েছেন, যার লেবাননে বৈধভাবে অবস্থানের নথি ছিল না।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্রের পাশাপাশি হাশিশও পাওয়া গেছে। উত্তর-পূর্ব লেবাননে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া গাঁজা থেকে এই মাদক তৈরি করা হয়।
সেনাবাহিনী তাদের নাম প্রকাশ না করলেও তাদের নামের প্রথম ও পারিবারিক নামের আদ্যক্ষর সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারের সঙ্গে মিলে যায়। বিচারিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুলেইমান আসাদকে গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগে লেবানন সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর জেনারেলকে হস্তান্তর করেছিল, যিনি বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনীর একটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
৩ দিন আগে
সিরিয়ায় অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৪
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ইদলিব প্রদেশের সারমাদা শহরের কাছে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে নিয়মিতই ঘটে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে চলা বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের সময় পড়ে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণে গুদামটি ব্যবহার করা হতো। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স ও সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিস্ফোরণস্থলে থাকা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক আলোকচিত্রী মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেছেন।
বিস্ফোরণের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। এ সময় ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।
গুদামের কাছে কাজ করা গাড়ির মেকানিক আহমাদ ফাউর বলেন, প্রথমে তিনি ও অন্যরা একটি ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সেখান থেকে দৌড়ে সরে যান। এরপর বড় বিস্ফোরণটি ঘটে।
নিজের গ্যারেজে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর দিকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, মানুষ ও দোকানপাট থাকা একটি গ্রামে অস্ত্রের গুদাম রাখা উচিত নয়। যারা মারা গেছেন, ওই অসহায় মানুষগুলোর কোনো দোষ ছিল না।’
৬ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
৩৫ দিন আগে
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে ‘আত্মাহীন পুতুল’ আখ্যা দিয়ে নতুন হামলার হুমকি আইএসের
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘আত্মাহীন পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আসাদের মতোই হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক অডিও বার্তায় সারা বিশ্বের আইএস অনুসারীদের অতীতের মতো ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আহ্বান জানান আইএসের মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি।
বার্তায় গোষ্ঠীটির প্রধান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হাশেমি আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে আইএস যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান আল-আনসারি। আল-কুরাইশি তিন বছর আগে গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনায় হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানোর কয়েক মাসের মধ্যে এই অডিওটিই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানো হয়। ওই ঘটনার পর সিরিয়ার যেসব জায়গা জঙ্গীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, সেসব স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাক ও সিরিয়ায় একসময় খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। এরপর ২-১৭ সালে ইরাকে এবং তার দুই বছর পর সিরিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে তারপরও দেশদুটিতে হামলা থামায়নি আইএসের সুপ্ত চক্রগুলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসের হুমকি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার পাঁচটি চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) দামেস্কে প্রবেশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির ওপর ইরানের যে প্রভাব, তার ওপর বড় আঘাত হানে। সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আসাদ সংখ্যালঘু আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
ওই ঘটনার পরে সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখার সাবেক নেতা আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন করেছেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর গত বছর তিনিই প্রথম সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন।
আল-আনসারির দাবি, সিরিয়ায় ইরান ও আসাদের স্থলে আমেরিকার প্রভাবাধীন একটি শাসনব্যবস্থা আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়া ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তারা এমন এক নেতাকে বসিয়েছে যে আত্মাহীন পুতুল।’ এ সময় দেশটিতে নতুন হামলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি নতুন প্রতিরক্ষার যুগে প্রবেশ করেছে এবং জিহাদের কাফেলা শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় অগ্রসর হবে।’
২০৫ দিন আগে
নতুন চুক্তি, সিরিয়াকে অস্ত্র সহায়তা দেবে তুরস্ক
সিরিয়ার সঙ্গে নতুন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে তুরস্ক। এই চুক্তির আওতায় দেশটিকে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে আঙ্কারা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এ তথ্য জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এর আগে, সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসের গুলের এবং সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা। এর পরপরই এই সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
গত মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সেই সুযোগে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের পর নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তুরস্কের সহায়তা চেয়েছিল সিরিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, চুক্তির আওতায় সিরিয়ার সঙ্গে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করবে আঙ্কারা। সেই সঙ্গে সিরিয়ার সক্ষমতা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ব্যবস্থা ও লজিস্টিক উপকরণ সরবরাহ করে সহায়তা করবে তুরস্ক।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ সিরিয়ায় সংঘাতে সহস্রাধিক প্রাণহানি
গত ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলা দেশটি পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে শুরু করে সরকার।
সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণ প্রদেশের সোয়েইদাতে একদিকে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বেদুইন জাতিগোষ্ঠীর সংঘর্ষ, অন্যদিকে দ্রুজ সংখ্যালঘুর যোদ্ধাদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হন।
শুরু থেকে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে সমর্থন করে আসছিল তুরস্ক। এমনকি বুধবার (১৩ আগস্ট) সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে ইসরায়েল ও কুর্দি যোদ্ধাদের সতর্ক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পাশাপাশি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে তুরস্কের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আঙ্কারায় সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান আরও বলেন, মার্চে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন মিত্র ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সেই চুক্তির বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা করছে।
এদিকে, এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাসাকেতে একটি সম্মেলন আয়োজন করেন সিরিয়ার বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সেখানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৃগোষ্ঠীগত বহুমতকে নিশ্চিত করে একটি বিকেন্দ্রীভূত দেশ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ণের আহ্বান জানানো হয়।
তবে এই সম্মেলনের নিন্দা জানিয়েছে দামেস্ক। এমনকি বহুদিন ধরে নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও জুলাইয়ের শেষের দিকে এসডিএফের সঙ্গে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকও বাতিল করে সিরিয়া সরকার।
৩৯৬ দিন আগে
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ সিরিয়ায় সংঘাতে সহস্রাধিক প্রাণহানি
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়েইদা অঞ্চলে সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়, বেদুইন গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতে হাজারের অধিক প্রাণহানি হয়েছে। রবিবার (২০ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (এসওএইচআর) বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, গত রবিবার (১৩ জুলাই) থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ৩৩৬ জন দ্রুজ যোদ্ধা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির ২৯৮ জন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১৯৪ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে দেশটির প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে এসওএইচআর।
এ ছাড়া, সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ৩৪২ জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৩ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ২১ জন সুন্নি রয়েছেন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ১৫ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে এসওএইচআর।
পড়ুন: ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে নির্বিচারে গুলি, ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত
গত ১৩ জুলাই দক্ষিণ সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায়ের একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ নিয়ে সিরিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুজ মিলিশিয়া এবং সুন্নি বেদুইন যোদ্ধারা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একই দিন, সংঘাত থামাতে এসে উল্টো দ্রুজদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সিরীয় বাহিনী।
এরপর, বুধবার (১৬ জুলাই) দ্রুজদের ওপর ব্যাপকহারে সহিংসতার অভিযোগ তুলে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। এরপর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়ে সুয়েইদা ত্যাগ করেন সিরীয় সেনারা।
পরে, সিরিয়ার সরকার জানায়, শান্তি বজায় রাখতে দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে এবং লড়াই বন্ধ রাখার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরদিন শুক্রবার (১৮ জুলাই) নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ বিষয়ে, গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানান, দ্রুজ-অধ্যুষিত সুয়েইদা শহর থেকে বেদুইন যোদ্ধাদের সরানো হয়েছে এবং সেখানে সংঘর্ষ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বেদুইন এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেওয়ার পর এই ঘোষণা আসে।
এমন পরিস্থিতিতেও সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও প্রাণহানি চলমান রয়েছে।
৪২২ দিন আগে
সিরিয়ায় গির্জায় আত্মঘাতীর হামলায় নিহত ২২
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় ঢুকে প্রার্থনাকারীদের ওপর গুলি চালান এক বন্দুকধারী। পরে তার নিজের শরীরে বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হন। এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ জুন) দামেস্কের মার এলিয়াস গির্জায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার এক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়েছে।
এদিকে, ব্রিটেনভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেক আহত হয়েছেন। তবে আহতদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি তারা।
কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
বহু বছর পর সিরিয়ায় গির্জায় এই ধরনের হামলা হলো। এমন এক সময়ে এ হামলা ঘটনা হলো যখন দেশটি ইসলামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা সেখানকার সংখ্যালঘুদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১২ সেনাসদস্য নিহত
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে আবারও উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূরুদ্দিন আল-বাবা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে উগ্রবাদী ইসলামিক স্টেট (আইএস) জড়িত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এক বন্দুকধারী গির্জায় ঢুকে প্রার্থনারতদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে শরীরের বাঁধা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেই নিজেকে উড়িয়ে দেন।’
এই মুখপাত্রের দাবি, উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা তাদের জন্য একটি রেড লাইন। তবে আইএস ও উৎখাত হওয়া আসাদ সরকারের অবশিষ্ট সদস্যরা সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা মোস্তাফা এটিকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই কাপুরুষোচিত কাজ আমাদের নাগরিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, যা আমাদের একসূত্রে বেঁধে রাখে। আমরা সমান নাগরিকত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাষ্ট্র সব অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাজের রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুখ ঢাকা এক বন্দুকধারী গির্জায় ঢুকে গুলি চালান। তখন উপস্থিত জনতা তাকে থামাতে ধাক্কা দিলে তিনি গির্জার প্রবেশপথে বিস্ফোরণ ঘটান।
ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় সিরিয়ার সমাজকল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত গির্জায় গিয়ে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ার রাজধানীতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৭
গির্জার ফাদার ফাদি ঘাট্টাস বলেন, ‘সবাই তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিল। আমি নিজ চোখে অন্তত ২০ জনের লাশ দেখেছি। গির্জায় তখন ৩৫০ জন প্রার্থনারত ছিল।’
তবে আরেক যাজক, মেলেটিয়াস শাহাতি বলেন, ‘হামলাকারী একজন ছিলেন না, দ্বিতীয় আরেক বন্দুকধারীও গির্জার দরজার দিকে গুলি ছুঁড়েছিলেন, এরপর প্রথম হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটান।’
ঘটনার পর হতাহতদের সহায়তায় সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত গির্জায় ছুটে যায়।
৪৪৯ দিন আগে
সংকট নিরসনে পরোক্ষ আলোচনায় সিরিয়া-ইসরায়েল; মধ্যস্থতায় আরব আমিরাত
সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।
বুধবার (৭ মে) প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।
আল-শারা বলেন, ‘সিরিয়া ও ইসরায়েল এখন মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় পরোক্ষভাবে আলোচনা করছে। এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো উভয় দেশের মধ্যকার পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, যাতে করে এটি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না সিরিয়া আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক। আমাদের লক্ষ্য হলো, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।’
এ সময় সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরায়েলের অযাচিত হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। তারা ১৯৭৪ সালের অস্ত্রবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। আমরা দামেস্কের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়েছি যে, সিরিয়া ১৯৭৪ সালের চুক্তির শর্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আরও পড়ুন: সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে ইসরায়েল: এরদোগান
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে, এমনকি প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসের কাছেও বিমান হামলা চালিয়েছে। আল-শারার অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার অজুহাত দেখিয়ে গত এক সপ্তাহেই ইসরায়েল সিরিয়ায় ২০ বারের বেশি বোমাবর্ষণ করেছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজ মিলিশিয়াদের সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে বসবাসরত দ্রুজ সংখ্যালঘুদের রক্ষায় এসব হামলা চালাচ্ছে তারা।
চলতি বছরের মার্চ মাসে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত আলাউই অধ্যুষিত অঞ্চলে গণহত্যার ঘটনার পর দ্রুজ এলাকায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপরই এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে ইসরায়েল।
গত ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তারা বলছে, সিরিয়ার নতুন শাসকদের তারা জিহাদপন্থি মনে করে এবং তাদের হাতে উন্নত অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনারা গোলান মালভূমির ১৯৭৪ সালের অস্ত্রবিরতির সীমারেখা অতিক্রম করে মালভূমির জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত নিরপেক্ষ অঞ্চলেও প্রবেশ করেছে এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় আরও গভীরে অভিযান চালিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি বাহিনীসহ জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক বাহিনীকেও নিরপেক্ষ অঞ্চল ছেড়ে ব্লু-লাইন বা বিচ্ছিন্ন রেখায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আল-শারা।
এদিকে, সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ বলেন, ‘এসব হামলা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। বোমাবর্ষণ ও আগ্রাসন বাজে একটি দৃষ্টান্ত। প্রতিবেশীর ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কোনো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।’
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটসের হুমকির পর গত শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল দামেস্কের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসের কাছে হামলা চালায়। সে সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সিরিয়ার নতুন শাসকরা যদি দ্রুজ সম্প্রদায়ের জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইসরায়েল এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ হামলাকে সিরিয়ার নতুন শাসকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
৪৯৫ দিন আগে
সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে ইসরায়েল: এরদোগান
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল দেশটিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। স্থানীয় সময় রবিবার (১২ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্টালিয়া কূটনীতি ফোরামে (এডিএফ) অংশগ্রহণ করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাত্র দুদিন পরেই এমন বক্তব্য বিস্মিত করেছে অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষককে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
মূলত, এই দুটি দেশেরই সামরিক বাহিনী সিরিয়াতে সক্রিয় রয়েছে। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গত বুধবার (৯ এপ্রিল) আজারবাইজানে বৈঠক করেন তুরস্ক ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
তবে বৈঠকের পরও সিরিয়ায় শান্তি নষ্ট করায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: তুরস্কে ধরপাকড় উপেক্ষা করে এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে
আন্টালিয়া সম্মেলনে বিশ্ব নেতা ও কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে এরদোগান জানান, ‘সিরিয়ায় নতুন করে কোনো সংঘাত তারা চান না। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাসার-আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, তা ইসরায়েলের কারণে ব্যর্থ হচ্ছে।’
আসাদের পতনের পর সিরিয়ার গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এরদোগান।
সিরিয়ার ভৌগলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিরিয়ার ওপর চলমান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আঙ্কারার চেষ্টার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আহমেদ আল সারা। সিরিয়ায় নতুন করে কাউকে সংঘাত সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে সারাকে আশ্বস্ত করেন এরদোগান। সম্মেলনের ফাঁকে একটি বৈঠকও করেন তারা।
গত ৮ ডিসেম্বর আল সারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আলশামস (এইচটিএস) দামেস্ক দখল মাধ্যমে আসাদ সরকারের পতন ঘটায়। এরপর সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তুরস্ক।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে তুরস্কে গ্রেপ্তার ৩৪৩ জন
দামেস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি চুক্তিও করতে চাইছে আঙ্কারা, এর মাধ্যমে সিরিয়াতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনসহ দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের।
অন্যদিকে আাসদের পতনের পরই সিরিয়ায় সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইসরায়েল। এ কারণে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এ মাসের শুরুর দিকে সিরিয়ায় তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
আবার হামা প্রদেশের প্রধান বিমানবন্দর ও হোমসের টি-৪ ও পালমিরা বন্দর পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের সেনা কর্মকর্তারা। যেখানে তারা দামেস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে নিজেদের সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে পারে। এ নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকারে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের আরন লুন্ড বলেছেন, ‘সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয়ার্ধে আসাদের অন্যতম রক্ষাকর্তা ছিল রাশিয়া। এখন আসাদের পতনের পর যদি সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে তুরস্ক, তাহলে এই অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে।‘
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের সামরিক অভিযানই শুধু আঙ্কারার জন্য সমস্যা নয়, সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তেল আবিবের নানা বাধা নিয়েও চিন্তিত তারা। যেমন, দেশটির দক্ষিণে আল সারার সরকার কোনো সেনা মোতায়ন করতে পারবে না বলে জানিয়েছে তেল আবিব।’
আরও পড়ুন: তুরস্কের ইস্তানবুলের মেয়র গ্রেপ্তার
এরইমধ্যে সিরিয়ার দক্ষিণের দারাহ শহরে অনুপ্রবেশ শুরু করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার বৈঠককে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আরন।
তিনি বলেন, সিরিয়ায় এই দুটি দেশই নিজেদের সামরিক তৎপরতা বহাল রাখবে। তবে তাদের মধ্যে যদি একটি যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপিত হয় সেটি সব পক্ষের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।
বুধবারের বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইসরাইলের সাথে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রোধ করার জন্য এবং সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এদিকে বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও ইসরায়েল।
৫২০ দিন আগে
সিরিয়ায় প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত ১ হাজার ছাড়াল
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের অনুগতদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে এক হাজারেরও বেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মার্চ) যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী একটি গোষ্ঠী এমন তথ্য দিয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ১৪ বছরে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা এটি।
ব্রিটিশভিত্তিক সিরীয় অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ৭৪৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর ১২৫ সদস্য ও আসাদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন। খুব কাছ থেকে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া লাতাকিয়া শহরের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও খাবার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংঘাতের শুরু হয়েছে। দামেস্কো সরকারের জন্য যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে মাসতিনেক আগে সিরিয়ার কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছে তারা।
সরকার জানিয়েছে, আসাদ বাহিনীর অবশিষ্টাংশের হামলার জবাব দিচ্ছে তারা। আর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার জন্য ব্যক্তিগত হামলার ঘটনাকে দায়ী করা হয়েছে।
আলবীয়দের ওপর প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড
আলবীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকার-অনুগত সুন্নি মুসলমানরা শুক্রবার প্রথম এই প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে, যা আসাদ সরকারকে ক্ষমতচ্যুত করতে নেতৃত্ব দেওয়া হায়াত তাহরির আল-শামের জন্য বড় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এপি জানিয়েছে, বাড়ির সামনের ফটক ও সড়কে আলবীয়দের গুলি করে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। নিহতদের বেশিরভাগই পুরুষ। বিভিন্ন গ্রামে তাদের অনেক বাড়িঘর লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কয়েক হাজার আলবীয় বাসিন্দা পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উপকূলীয় শহর বানিয়াস। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, বাড়ির ভেতরে, ঘরের ছাদেও পড়ে আছে মরদেহ। কবর দেওয়ার মতো সেখানে কেউ নেই।’
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় এক সপ্তাহে নিহত অন্তত ৩৭০: জাতিসংঘ
একজন বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার খুবই কাছ থেকে পাঁচজনকে হত্যা করা হলেও তাদের মরদেহ কবর দিতে দেয়নি বন্দুকধারীরা।’
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া বানিয়াসের ৫৭ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী শেহা বলেন, ‘তাদের গ্রামে অন্তত ২০ প্রতিবেশী ও সহকর্মীকে বাড়ি কিংবা দোকানে হত্যা করা হয়েছে।’
আসাদ সরকারের অপরাধের দায়ে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বাসিন্দারা বলছেন, ‘আশপাশের শহর ও গ্রাম থেকে আসা বিদেশি যোদ্ধা ও জঙ্গিরা রয়েছেন বন্দুকধারীদের মধ্যে।’
আলী শেহা বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ। রাস্তায় পড়ে আছে মরদেহ।’
পালিয়ে যাওয়ার সময় ফোনে এপিকে এসব কথা বলছিলেন তিনি। তখন শহর থেকে তিনি ২০ কিলোমিটার দূরে। এই আলবীয় বলেন, ‘তার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ১০০ মিটারের কম দূরত্বে বন্দুকধারীরা জড়ো হচ্ছিল। বাড়িঘর ও বাসিন্দাদের ওপর তারা এলাপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে।’
তার নিজের জানা একটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হত্যার আগে ধর্ম নিশ্চিত হতে বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র দেখেন বন্দুকধারীরা। কিছু বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, লুটতরাজ করেছে ও গাড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।’
সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, আসাদ অনুগতদের কাছ থেকে অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উপকূলীয় শহরটির সব সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দারা বলছেন, একদিন আগে নিহত ৩১ জনের মরদেহ শনিবার সকালে গণকবর দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯টি শিশু ও চার নারী রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
গেল কয়েক দশক ধরে আসাদের সমর্থকদের বড় একটি অংশ ছিল আলবীয়রা। শিয়া মুসলমানদের একটি শাখা হচ্ছেন তারা। আসাদ সরকারের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পদে ছিলেন দেশটির এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর লোকজন।
নতুন সরকার দাবি করছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে আসাদ অনুগতরাই এই হামলা চালিয়ে আসছে।
৫৫৫ দিন আগে