কিশোরী
ফরিদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন মোল্লা (১৯) ও উসমান বেপারী নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি রিয়াজ বেপারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ওই আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মোল্লা ও উসমান বেপারী ফরিদপুর সদর উপজেলার চর দুর্গাপুর হাজীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া ঘাটে যায় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী। সেখানে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও তিনি না আসায় কিশোরী তার আত্মীয় রিয়াজ বেপারীকে বিষয়টি জানান। পরে রিয়াজ মোটরসাইকেলে করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রিয়াজের মাধ্যমে কিশোরীকে ফরিদপুরের ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে সুমন ও উসমান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে অন্যত্র রেখে পালিয়ে যান তারা।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমন ও উসমানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে রিয়াজ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
এদিকে, অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঢামেকে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ ফেলে পালাল ২ ব্যক্তি
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ট্রলির ওপর অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে দুই ব্যক্তি।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর।
হাসপাতালের ট্রলিম্যান আব্দুর রউফ জানান, ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই পুরুষ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ওই কিশোরীকে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। তাদের দেখে তিনি ট্রলি নিয়ে এগিয়ে গেলে ওই দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে ট্রলিতে তোলেন এবং জরুরি বিভাগের টিকিট কাটার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগার স্পষ্ট দাগ এবং দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাত ও গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, বা অন্য কী কারণে মারা যেতে পারে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিদর্শক মো. ফারুক আরও বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ওই কিশোরীর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশাসহ পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১১ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
৩৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গার কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হুমকির মামলায় গ্রেপ্তার ৩
চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ভুট্টাখেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। এরপর ৩ আসামি গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহারে যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ছাগল আনতে মাঠে যায় ওই কিশোরী। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজ তাকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় পলাশ আলী (২০) মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং জনি হোসেন (২১) বাইরে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের পর তারা তিনজন মিলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলে, মুখ খুললে ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেবেন তারা। এ কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারকেও জানাতে পারেনি।
ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পর, ২০ মে হঠাৎ করেই ধর্ষণের সেই ভিডিও এলাকায় বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর পরিবার আবারও হুমকির শিকার হয়।
এজাহারে ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেছেন, পলাশ আলী ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আব্দুল আলী (৪৫) সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে ভিডিও মুছে ফেলার জন্য ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার খবর এবং মামলা হওয়ার পর তৎপর হয় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এরই ধারাবহিকতায় গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আব্দুল আলী (৪৫), জনি হোসেন (২১), ও পলাশ আলী (২০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাই। এ ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি মিরাজকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
৯৪ দিন আগে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা: ৭ আসামি রিমান্ডে
নরসিংদীতে কিশোরীকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার ৭ আসামির ৮দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (১ মার্চ) জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এই আদেশ দেন।
এর আগে, গত শুক্র ও শনিবার দুদিনে ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর কাইয়ুম। এরপর আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংদী জজ কোর্টের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল আদালতে তোলা হয় ওই ৭ আসামিকে।
এদিন বাদীপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনজীবী আদালতে দাঁড়ালেও আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি।
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাতে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মাধ্যমে নিয়ে কিশোরীর মা ফাহিমা বেগমের করা মামলায় ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তার আগে, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষাখেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং বিচারকাজে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জন নিয়ে মোট ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকী দুই পলাতক আসামিকেও দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৭৫ দিন আগে
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে নুরজাহান (১৪) নামে এক কিশোরী বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের চরমহিষকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নুরজাহান ওই গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, নুরজাহানের সঙ্গে তার মা রুচিয়া বেগমের সাংসারিক কাজকর্ম নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে অভিমান করে সে নিজের শোবার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান নুরজাহান আর বেঁচে নেই।
গোসাইরহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৮৩ দিন আগে
যশোরে ‘প্রেমিকের’ বাড়ি থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
যশোরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার ‘তাকে হত্যা করা হয়েছে’ দাবি করলেও যে বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তারা বলছে, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সদর উপজেলার ইছালি ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে ঘটে এই ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, নিহত কিশোরী ওই গ্রামের এক প্রবাসীর মেয়ে এবং স্থানীয় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের নাজমুল নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরেই এই ঘটনা ঘটে। নাজমুলের বাড়ির উঠানের আম গাছ থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা জানান, নাজমুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রেখেছিল। কিন্তু সম্প্রতি ছেলেটি তাদের সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করলে সোমবার রাতে তার বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে যায় ওই কিশোরী।
তাদের দাবি, ওই বাড়িতে যাওয়ার পর নাজমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে মারপিট করে হত্যা করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে গামছা ও মেয়েটির গায়ে থাকা ওড়না পেঁচিয়ে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেয়।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নাজমুল ও তার বাড়ির সদস্যদের দাবি, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রেম-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২৫৬ দিন আগে
পালিয়ে গিয়ে কিশোরীর বিয়ে, উদ্ধারে গিয়ে আহত ৩ পুলিশ
প্রেমের টানে যশোর থেকে পালিয়ে বিয়ে করা ১৪ বছরের এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।
সোমবার (৫ মে) বিকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার বাকুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— যশোর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাপস কুমার পাল, কনেস্টবল রাবেয়া খাতুন ও ফারজানা খাতুন।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি বাকুলিয়া গ্রামের সুজন হোসেন যশোর থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে নিয়ে এসে পরিবারের অমতে বিয়ে করে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর যশোর থানার পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরের পর কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধারে ওই গ্রামে যায়। বাকুলিয়া গ্রামের ইমাদুলের বাড়িতে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় কয়েকজন নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা পুলিশের কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হকার জুবায়ের হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন দুজনের
এ সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে ওসি মো. শহিদুল ইসলাম।
রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় ৬ থেকে ৭ জন আমাকে বলে হাত ছেড়ে দাও। হাত না ছাড়ায় আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা নারী কনেস্টবলকে মারপিট শুরু করে। তারা আমাদের বেধড়ক মারপিট করে।’
যশোর কোতোয়ালি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাতকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘কালীগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি কিছুই বলতে পারব না।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ কালীগঞ্জ থানার সহযোগিতায় বাকুলিয়া গ্রামের অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েটিকে উদ্ধারে গেলে হামলার শিকার হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থা যশোর থানা নেবে বলে জানান ওসি।
৪৭৪ দিন আগে
মাদারীপুরে নদে গোসল করতে নেমে কিশোরী নিখোঁজ
মাদারীপুর জেলার শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে নেমে মাদরাসার শিক্ষার্থী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে।
শনিবার (৩ মে) দুপুর ২টার দিকে শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের কাঁচিকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ জান্নাত আরা (১৪) ওই এলাকার রনি ফকিরের মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।
আরও পড়ুন: ঝিকরগাছায় পুকুরে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে বান্ধবীদের সঙ্গে আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে নামে জান্নাত। গোসল শেষে সবাই পাড়ে উঠলেও স্রোতের পানিতে তলিয়ে যায় সে। এ সময় বান্ধবীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও এখন নিখোঁজ রয়েছে মেয়েটি।
শিবচর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক তপন কুমার ঘোষ জানান, মেয়েটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৭৬ দিন আগে
কিশোরীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা, নানা-নানীকে কুপিয়ে জখম
চট্টগ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে নাজিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) চন্দনাইশ উপজেলার নয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনা দেখে ফেলায় নানা ও নানীকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় নাজিম। নাজিম ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের চাচাত ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কিশোরী ঈদের ছুটিতে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে একই বাড়ি বেড়াতে আসেন তার মামা নাজিম। এর পর আনুমানিক দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরীকে মুখে কাপড় গুজে নাজিম ধর্ষণের পর হত্যা করেন।’
বিষয়টি আরজুর নানা আব্দুল হাকিম ও নানী ফরিদা আক্তার দেখে ফেললে তাদেরকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নাজিম পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আহতদের চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তারা থানায় ফিরলে বিস্তারিত বলতে পারব। আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি।’
৫০১ দিন আগে