চুরি
হাঁস চুরির অভিযোগে সালিশ, অপমান সইতে না পেরে তরুণের ‘আত্মহত্যা’
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করেন ও হুমকি দেন। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মোবাইল চুরি নিয়ে সিলেটে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বোয়ালজুড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল আলী (২২) উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইলের বড় ভাই মামুনের সঙ্গে ছাত্রদলকর্মী হাসানের বিরোধ হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ইসমাইল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে এক নারীর বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট, আটক ২
কুষ্টিয়ায় ছাগল চুরির অভিযোগে ইরানি বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইরানি বেগম ওই এলাকার নেহেরুলের স্ত্রী।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকার মাছিদুলের ছাগল বৃহস্পতিবার (২৬ তারিখ) হারিয়ে যায়। এরপর গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ইরানি বেগম তার বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করে ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই উপস্থিত জনতার কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও একাধিকবার ছাগল চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই নারী। তবে শুক্রবার তাকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই নারী। তার ভাষ্য, ‘আমি ছাগল চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। তবুও তারা আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এতে আমার অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তিনি থানায় এ বিষয়ে এজাহার দিলে মামলা নেওয়া হবে।’
৯ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
২৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ব্যালট নিয়ে পালানো সময় যুবক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার বাক্সে না ফেলে চুরি করে পকেটে নিয়ে পালানোর সময় শাহিন মালিথা (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন উপজেলার নওদা গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার বাক্সে না ফেলে সাদা কাগজ ফেলে ওই যুবক পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তিনি দোষ স্বীকার করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
২৫ দিন আগে
ফরিদপুরে ‘চোর সন্দেহে’ যুবককে ঝুলিয়ে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় চোর সন্দেহে এক যুবককে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে এলাকাবাসী।
উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা আকিজ জুটমিল এলাকায় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ডোবরা গ্রামের সালাম সিকদারের ছেলে আহাদ সিকদার (৩০) এলাকার চিহ্নিত চোর ও মাদক সেবনকারী। গত শনিবার মিল গেটের মাহাবুবের মুদি দোকানে চুরি হয়। এ ছাড়া একজনের পাট চুরি হয় এবং একইসঙ্গে মিলের তারও চুরি যায়। এসব চুরির অভিযোগে ডোবরা গ্রামের কালাম শেখ ও রবিউল শেখের সঙ্গে আরও লোকজন মিলে মঙ্গলবার রাতে আহাদকে ধরে একটি দোকান ঘরে নিয়ে আড়ার সঙ্গে পা ঝুলিয়ে অমানবিকভাব পেটাতে শুরু করেন।
মারধরের একপর্যায়ে চুরির ব্যাপারে নিজের দোষ স্বীকার করলে আহাদকে বোয়ালমারী থানায় সোপর্দ করেন রবিউল শেখ। পরে আহাদের অভিভাবকদের অনুরোধে ভালো হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়া পেয়ে আহাদ বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য কালাম শেখ বলেন, ‘আহাদ একজন চিহ্নিত চোর এবং মাদক সেবনকারী। বিভিন্ন এলাকায় সে চুরি করে। চিতারবাজারে একবার মোবাইলের দোকানে চুরি করে ধরা পড়ে। চিতারবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোল্যা তাকে বেদম মার দেয়, তারপরও সে চুরি ছাড়ে নাই।’
আরও পড়ুন: সিংড়ায় কবুতর চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
তিনি বলেন, ‘এক সপ্তায় (সপ্তাহে) এলাকার তিন জায়গায় চুরি করেছে সে। তাই এলাকার লোকজন ধরে তাকে পিটিয়েছে। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে পুলিশে দেই।’
উপজেলা যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মিলের পক্ষ থেকে করা তিনটি মামলার আসামি আহাদ। চুরি করার কারণেই তাকে এলাকার লোকজন ধরে এনে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি তাকে উদ্ধার করে মোটরসাইকেলে করে থানায় দিয়ে আসি। আমি উদ্ধার না করলে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে আহাদের অভিভাবকদের অনুরোধে ভালো হওয়ার শর্তে থানা থেকে সে ছাড়া পায়।’
তবে এই প্রতিবেদকের কাছে চুরির বিষয়টি অস্বীকার করেন আহাদ সিকদার। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ইজিবাইক-চালক। কালাম আর রবিউলের লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে আড়ার সঙ্গে দুই পা বেঁধে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পিটিয়ে চুরির স্বীকারোক্তী আদায় করেছে। লোহার রড, কাঠ ও হাতুড়ি দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে ওরা।’
তার অভিযোগ, ‘কালামদের সঙ্গে দল না করায় তারা আমাকে ধরে নিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে। পরে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। আমার অভিভাবক এবং এলাকার বড় ভাই সুমন খন্দকারের চেষ্টায় থানা থেকে ছাড়া পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি আসি।’
এমনকি, তার দুটি মোবাইল এবং মানিব্যাগও যারা পিটুনি দিয়েছে, তাদের কাছে রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এলাকাবাসী কোনো মামলা না করায় আহাদকে আদালতে চালান করা হয়েছিল। আদালত থেকে সে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। তাকে মারপিট করার বিষয়টি আমাদের কেউ বলেনি।’
২০৬ দিন আগে
আদালতের মালখানার তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি, ৩ জন হেফাজতে
নাটোর আদালতের মালখানার তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এদিকে শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোর্ট পুলিশের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থলে যান।
এ ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশ।
পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গত রাতের কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোর চক্র কোর্ট পুলিশ দপ্তরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মালখানার তালা ভেঙে আলামত হিসাবে সংরক্ষণ করা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগে তারা সিসি ক্যামের ভিআরসহ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।’ ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ‘তবে তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।’
কি পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে তা নির্ণয় করার চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনা তদন্তে সিআইডি ও সিবিআই সদস্যরা কাজ করছে।
৩৩২ দিন আগে
‘কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ চুরির অপবাদ দিয়ে গৃহবধূকে মারধর
পটুয়াখালীর দুমকিতে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী দম্পতি।
রবিবার (২২ মার্চ) রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
জিয়াউর রহমান আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের রূপাসিয়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চুরির অপবাদ দিয়ে ওই দম্পতিকে মারধর করেন জিয়াউর রহমান, তার বউ ও ছেলেমেয়েরা। এর আগেও মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ওই গৃহবধূর পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিয়াউরের একটি অডিও কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অভিযোগকারী গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দিতে শোনা যায় জিয়াউর রহমানকে।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘বেশকিছু দিন আগে জিয়াউর রহমান ফোন করে আমাকে কুপ্রস্তাব দেন। আর তার সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বর্তমানে একটি মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে আর আমার স্বামীকে মারধর করেন।’
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘এই জিয়াউর রহমান খারাপ চরিত্রের লোক। বেশকিছু দিন আগে তার খারাপ চরিত্রের কারণে অন্য একটা সংসার ভাঙ্গে। এছাড়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে সে। মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমার এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।’
তবে জিয়াউর রহমানের দাবি, ‘চুরির কারণেই তাদের মারধর করা হয়েছে।’ ভুক্তভোগী গৃহবধূকে কল দিয়ে কুপ্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওটা তো প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ওরা খারাপ বলেই এখন সেই রেকর্ড ভাইরাল করছে।’
পটুয়াখালী জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিলন বলেন, ‘ব্যক্তির কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তাই এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে নাকি মারধর করা হয়েছে এবং সে বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাবের বিষয়ে কিছু জানা নেই।
ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দিলে তা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
৩৫১ দিন আগে
চুরির অভিযোগে ২ যুবকের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, দোকান মালিক আটক
বরিশালের বাবুগঞ্জে দোকান থেকে লোহার পাত চুরির অভিযোগে দুই যুবককে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটনায় অভিযুক্ত এক দোকানের মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা গ্রামের চান মুন্সির ছেলে মিঠুন (২০) ও একই গ্রামের বাবুল বেপারীর ছেলে লিংকন (২৩)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটক হওয়া মো. হাসান রহমতপুর ব্রিজ এলাকার সেবা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের দোকানের মালিক ও দোয়ারিকা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে রহমতপুর ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে সেবা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি দোকান থেকে বেশ কিছু লোহার পাত চুরি হয়। আজ (রবিবার) সকালে দোকান মালিক হাসান খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাশের ভাঙারি ব্যবসায়ী সাইদুল চোরাই লোহার পাত কিনেছেন। পরে সাইদুলের স্বীকারক্তি অনুযায়ী মিঠুন ও লিংকনকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন দোকান মালিক হাসান ও স্থানীয় কিছু লোকজন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর পেছনে ঘুরে ঘুরে তার পায়ে লোহার রড দিয়ে পেটাচ্ছেন এ ব্যক্তি (হাসান)। অপর যুবককে মারধর করে পাশেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয় আরও কয়েকজন লোক দুই যুবককে মারধরে সহযোগিতা করছে। উৎসুক জনতা চারপাশে দাঁড়িয়ে তা দেখছে।
ভিডিওর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে আজ (রবিবার) বিকালে অভিযুক্ত দোকান মালিক হাসানকে আটক করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদের প্রতিবাদ করায় কিশোরীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
এ প্রসঙ্গে মো. হাসান বলেন, ‘আমার দোকানের মালামাল চুরি করে পাশের ভাঙারি দোকানে ৪-৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। ভাঙারি দোকান মালিক ও অভিযুক্ত দুই যুবকও চুরির কথা স্বীকার করেছে।’
সেক্ষেত্রে পুলিশে না দিয়ে কেন আইন হাতে তুলে নেওয়া হলো? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন শিকদার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই যুবককে ছেড়ে দেয় তারা। চুরি করা যেমন অপরাধ, চোর ধরে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আরেকটি অপরাধ।’
‘এ কারণে দোকান মালিক হাসানকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৩৫৮ দিন আগে
অবশেষে গাজীপুর থেকে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া শিশু, গ্রেপ্তার ৪
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে চুরি যাওয়া আড়াই মাস বয়সি সায়ামকে গাজীপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ) জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় গাজীপুর বড়বাড়ি নুরলতলা গোবিন্দগঞ্জ এলাকার সামসুদ্দিন ও তার মেয়ে সোনালী আক্তারসহ (২০) ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, শ্বাসকষ্ট নিয়ে রবিবার (৯ মার্চ) শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করান তার বাবা-মা। সারাদিন শিশুটির পরিবারের কাছে অপরিচিত সোনালী আক্তার নামে ওই নারী পাশে থেকে শিশুটির যত্ন নেয় ও সহযোগিতা করে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি, শহরে উত্তেজনা
সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা হাসি ও নানি পাশের ওয়ার্ডে অন্য এক রোগীকে দেখতে গেলে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা সদর উপজেলার মুজাবর্নি গ্রামের মো. শিমুল ইসলাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমান বলেন, ‘সোনালী শিশুটিকে নিয়ে গাজীপুরে গেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাই। এর পর গাজীপুর র্যাব-১ এর সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
৩৬২ দিন আগে