দুর্যোগ
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।
বিবৃতিতে মন্ত্রী আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আবারও আশ্বস্ত করছি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।’
১৪ দিন আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা প্রদান করছেন।
এছাড়া বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বাহিনীটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
১৮ দিন আগে
বান্দরবানের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, আটকে শতাধিক পর্যটক
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্রে এখনও আটকা রয়েছে শতাধিক পর্যটক। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থানচি ও রুমা উপজেলার সঙ্গে নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ আছে। থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্র শতাধিক পর্যটক এখনও আটকা রয়েছে।
সড়কের উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি ও রুমা উপজেলায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া, ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
৮ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
২৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইআরসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক হাসিনা রহমান। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন প্রধান শাবিরা নূপুর।
এ সময় বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইআরসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’
আলোচনায় উভয় পক্ষ দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইআরসির মধ্যকার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪১ দিন আগে
দুর্যোগ থেকে মানুষকে উদ্ধারের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই: সাবেক ইউএসএইড প্রধান
ভূমিকম্প কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা লোকবল কোনোটিই আর মার্কিন প্রশাসনের নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএইড) সাবেক প্রধান সারাহ চার্লস।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহায়তার আশ্বাস দিলে এই মন্তব্য করেন সারাহ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) ওয়াশিংটনে ভূমিকম্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘দানব’ ধরিয়ে দিল শিশু
তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরেই যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাঁটছাট করেন ট্রাম্প।
এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশে সংঘটিত এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুক্রবার দিনের মাঝামাঝিতে হওয়া এই ভূমিকম্পে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজারের বেশি। এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সহায়তা করতে চলেছি। সংশ্লিষ্টদের এরইমধ্যে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। যা হয়েছে, তা সত্যিই খুব খারাপ হয়েছে।’
এই বক্তব্যের পরে বৈদেশিক সহায়তা কাঁটছাট ও কর্মীদের ব্যাপকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করায় ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে সারাহ বলেন, ‘প্রশাসন এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে হলে যে সম্পদ বা লোকবল প্রয়োজন, তা কোনোটিই এখন নেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের।’
অবশ্য সারাহর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএসএইডের বর্তমান মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস। তিনি জানান, যেকোনো দুর্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার ও নিরাপদ পানিসহ অন্যান্য সহায়তায় বিশেষজ্ঞ টিম প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে মিয়ানমারে সহস্রাধিক প্রাণহানি, ব্যাপক মানবিক সংকট
কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে সংস্থাটির কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি।
সারাহ বলেন, ভূমিকম্পের মতো ঘটনাগুলোতে সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংস্থাটির একটি উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে ওই দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়াও বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ ও কাঁটছাট করার কারণে জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোর জরুরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিমত দেন সারাহ।
৪৮৮ দিন আগে
দারিদ্র্যকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনায় কাজ করছে সরকার: ফারুক ই আজম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। সচেতনতা ও জ্ঞানের অভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগের চেয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা হলো আমাদের দারিদ্র্যতা। বাংলাদেশের প্রায় ৭৫টি উপজেলার শতকরা ৫০ থেকে ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দারিদ্র্যজনিত অপুষ্টি একটি দুর্বল জাতি সৃষ্টি করবে যার পরিমাণ হবে ভয়াবহ। তাই আমি দারিদ্র্যকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় বিয়াম ফাউন্ডেশনের মাল্টিপারপাস হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন ফারুক ই আজম।
আরও পড়ুন: দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জাম সহায়তা
উপদেষ্টা মনে করেন, জীবন রক্ষার জন্য শক্তিশালী প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা, উন্নত বিল্ডিং কোড এবং আরও ভালো নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মানুষ সচেতন হলেই ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সবাইকে সচেতন করার কাজটি অত্যন্ত কঠিন। এই সচেতনতা আমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকেই আরম্ভ করতে হবে এবং অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। এছাড়া সরকারের ওপর নির্ভর না করে সর্বতোভাবে ভলান্টিয়ার সৃষ্টি করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় ভূমিকম্প ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী অন্য দেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আদলে কার্যকর মডেল সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে প্রস্তুত রাখা একটি সময়ের দাবি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সব সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে নিজস্ব উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যথেষ্ট গবেষণার প্রয়োজন। আমি আশা করি তরুণ প্রজন্ম এসব ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী।
কর্মশালায় আরও ছিলেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, যুগ্ম সচিব মো. আহমেদুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
আরও পড়ুন: দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলের মানুষের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন
৬৩২ দিন আগে
বন্যার সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা থেকে সাবধান থাকতে করণীয়
বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিপদের মাত্রাকে আরও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগস্থলগুলো। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে স্বাভাবিকভাবেই এসব বিষয় দৃষ্টির বাইরে থেকে যায়। আর এই অসতর্কতাই বুমেরাং হয়ে পড়ে ধ্বংযজ্ঞের সময়ে। উপরন্তু, পানি বিদ্যুৎ পরিবহনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হওয়ায় বন্যার সময়ে রীতিমতো মৃত্যুদূতে পরিণত হয় বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো। সেইসঙ্গে আশঙ্কা তৈরি হয় গ্যাসের লাইনগুলো ভেঙে যাওয়ার। নিদেনপক্ষে অল্প চিড় ধরলেও এই লোহার পাইপগুলো থেকে ঘটতে পারে ভয়ানক বিস্ফোরণ। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে হলে যথা সম্ভব তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চলুন, বন্যার সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপগুলো জেনে নেওয়া যাক।
বন্যার সময় গ্যাস ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয়
.
অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা
বন্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রধান সংযোগগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বিদ্যুতের ক্যাবল বা তার পানির সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বন্যায় পানির চাপে গ্যাস পাইপ ভেঙে গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমতাবস্থায় শুধু একটি স্পার্ক-ই যথেষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য। এই বিপদ থেকে বাঁচতে অবিলম্বে সব গ্যাস ভাল্ব ও পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।
যারা এই সুইচ বা ভাল্বের সঙ্গে অপরিচিত তাদের জন্য উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে এসব উৎস থেকে অতি দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়া। এ সময় সঙ্গে কোনো বিদ্যুৎ বা তাপ পরিবাহী কোনো বস্তু রাখা যাবে না। সম্ভব হলে সহায়তার জন্য পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বেই যেসব খাবার সংরক্ষণ করা জরুরি
বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বা উত্তপ্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ এবং উত্তপ্ত বস্তুর সান্নিধ্য এড়িয়ে চলতে হবে। পাওয়া অফ করার পরেও অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মধ্যে কিছু চার্জ জমা থাকে। সাধারণ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও পানির সংস্পর্শে সেগুলো হুমকির কারণ হতে পারে।
তাছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন অবস্থায় অধিকাংশ যন্ত্রাংশেরই উত্তাপ কমে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এই সময়েও ঘটতে পারে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। তাই সর্বাত্মকভাবে এসব সরঞ্জাম থেকে যত দূরে যাওয়া যায় ততই ভালো।
উচ্চ স্থলভাগে অবস্থান নেওয়া
কোমর থেকে গলা পর্যন্ত জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে উঁচু শুকনো জায়গা খুঁজে পাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য। এরপরেও নিমজ্জিত বা ভাসমান না থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থলভাগ খোঁজার চেষ্টা চালানো উচিত। কেননা স্থির পানি যত জায়গা জুড়ে বিস্তৃত থাকে বিদ্যুতের সংস্পর্শে তার পুরোটাই বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত জলাবদ্ধ জায়গায় পানির নিচে কোথায় কোনো বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত বস্তু আছে কি না তা বোঝা মুশকিল।
আরও পড়ুন: বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগ থেকে সতর্ক থাকার উপায়
এছাড়াও একটু উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিলে বানের পানিতে ভেসে যাওয়া অথবা পানির নিচে ধারালো বা শক্ত কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থেকে বাঁচা যায়। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময় হওয়ার পরেও মনকে যথা সম্ভব শান্ত রেখে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নিজের আশেপাশটা ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে।
গ্যাস লিক খুঁজে বের করে দ্রুত মেরামত করা
বন্যার সময় তীব্র বেগে প্রবহমান পানির চাপে কিংবা ভারী কোনো জড় বস্তু ভেসে এসে গ্যাস পাইপগুলোতে লেগে চিড় ধরাতে পারে। প্রচণ্ড প্রতিকূল অবস্থায় পুরো পাইপ ভেঙে বা উপড়েও যেতে পারে। এমতাবস্থায় চিড়যুক্ত পাইপগুলো খুঁজে বের করার জন্য ন্যূনতম সুযোগ পাওয়া গেলেও তার সদ্ব্যবহার করা উচিত।
অতঃপর খুঁজে পাওয়ার পর ত্রুটিপূর্ণ পাইপগুলো অবিলম্বে মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সাহায্য নিতে হবে পেশাদারদের। কেননা এর উপর নির্ভর করছে আশেপাশের অনেকগুলো মানুষের জীবন। উন্মুক্ত গ্যাসে সৃষ্ট বিস্ফোরণ ছড়িয়ে যেতে পারে বিশাল জায়গা জুড়ে।
আরো পড়ুন: বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতা করার উপায়
ব্যাটারি-চালিত টর্চলাইট ব্যবহার করা
বন্যাকালে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে দিনের আলো পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে রাতের মতো দিনেও পথ চলতে প্রয়োজন হয় কৃত্রিম আলোর। এই প্রয়োজন পূরণে মোমবাতি বা হারিকেন ব্যবহার করা যাবে না। কারণ অজানা কোনো জায়গায় গ্যাস লিকের ফলে মারাত্মক ঝুঁকির তৈরি হতে পারে। এখানে উৎকৃষ্ট বিকল্প হচ্ছে ব্যাটারি-চালিত টর্চ বা ফ্ল্যাশলাইট, যেগুলোতে আগুন বা চল বিদ্যুৎ সংযোগ কোনোটারই দরকার হয় না।
পরিশিষ্ট
তাৎক্ষণিকভাবে এসব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বন্যার সময় বিদ্যুৎ বা গ্যাস-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বন্ধ করা গেলে শর্ট সার্কিট ও গ্যাস লিকের ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত থাকা যায়। বৈদ্যুতিক উপাদান থেকে দূরে থাকা এবং প্লাবিত অবস্থা থেকে যথেষ্ট উঁচু স্থলভাগে অবস্থান নিয়েও ঝুঁকির মাত্রা কমানো যায়। গ্যাস লিকগুলো সম্ভব হলে শিগগিরই খুঁজে বের করে বন্ধ করা উচিত। অন্যথায়, এমন স্থান থেকে দূরে থাকা এবং আকস্মিক বিস্ফোরণ এড়াতে মোমবাতির পরিবর্তে ব্যাটারি-চালিত ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করতে হবে।
আরো পড়ুন: বাসা-বাড়ির রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে
৭০৪ দিন আগে
দুর্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নীতিমালা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
শৈত্যপ্রবাহ, তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নীতিমালা করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তিনি বলেন, বর্তমানে শনিবারে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে তা স্থায়ী নয়।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০২৪ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট কর্মদিবস আছে বিদ্যালয়গুলোর জন্য। এখন আমাদের প্রয়োজনে শনিবার বিদ্যালয় খোলা রেখেছি। কারণ বেশকিছু দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এটি স্থায়ী বিষয় নয়। প্রয়োজনবোধে যেকোনো ছুটির দিন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত আগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এটা নতুন কিছু নয়। শুক্রবারও তো অনেক জায়গায় পরীক্ষা হয়, আগেও নেওয়া হতো। সেটা শুক্রবার হোক, শনিবার হোক, প্রয়োজন সাপেক্ষে খোলা রাখতে পারব।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যই একটি নিরাপদ স্থান। একেক জেলায় একেক তাপমাত্রা। যেসব জেলায় আমাদের সন্তানরা অতিবৃষ্টির কারণে, বন্যার কারণে স্কুলে যেতে পারে না, অনেক কষ্ট হয়, সেখানে স্কুল বন্ধ থাকে। সেসব জায়গায় শুষ্ক মৌসুমেই শিক্ষা কার্যক্রম তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে, তাদের শিখন ফল অর্জনের জন্য। কিন্ত এখন দেখা যাচ্ছে, এমন একটা আলোচনা হচ্ছে— রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি আসছে। রাজধানীতে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঢাকায় আমরা স্কুল বন্ধ রাখতেই পারি।
আরও পড়ুন: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা থাকতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
চবিতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ: উপাচার্যকে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধ
৮২০ দিন আগে
দুর্যোগের সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ বোধ করেন না প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী
যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীরা নীরবে যৌন সমস্যা নিয়েই জীবনযাপন করছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠেছে।
এতে বলা হয়, পরে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা ও যথাযথ সুবিধার অভাবে ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী ও কিশোরীরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে খুব বেশি আগ্রহী না।
ঢাকার গুলশানের ক্রাউন প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল রেস্কিউ কমিটির (আইআরসি) তথ্য অনুসন্ধানমূলক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা যৌন হয়রানির মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনা নারী ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পীড়া দিচ্ছে।
গবেষণার তথ্য অনুসারে, মূলত দারিদ্র্য (৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং জীবিকা হারানোর (৬৮ শতাংশ) মতো বিষয়গুলো পারিবারিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা হওয়ার পেছনে মূল কারণ। দুর্যোগের পর দারিদ্র্যের কারণে জোরপূর্বক গর্ভপাতের শিকারও হচ্ছেন নারীরা।
আরও পড়ুন: শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৫ জন জয়িতা
আইআরসি জানায়, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে হাসপাতাল থাকলেও পর্যাপ্ত সেবার সুযোগ না থাকায় অনেকেই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অঞ্চলের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সঠিক সময়ে চিকিৎসা পান না। কারণ হিসেবে দেখা গেছে ৭০ শতাংশ সময়ে দুর্যোগের কারণে হাসপাতাল বন্ধ থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা গত কয়েক বছরে আরও অনেক বেড়েছে, এরই সঙ্গে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাসহ আরও অনেক ধরনের সমস্যা।
বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলা অঞ্চলের ওপর এই প্রতিবেদন করা হয়। এতে বলা হয়, শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া, বাল্য বিবাহ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, জীবিকার অভাবসহ নানা দিক, প্রতিনিয়ত যেগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে মায়েদের জন্য আমরা শিশুদের দুধপান করানোর আলাদা ব্যবস্থা করেছি। আমরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে সহনশীল অবকাঠামো তৈরি করছি, যেন সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।‘
আরও পড়ুন: জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে গ্রামীণ নারী, দরিদ্র ও বয়স্কদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব পড়ছে: এফএও
আইআরসির কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিনা রহমান বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগগুলো যেন সবার কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়, যেন সব ধরনের, লিঙ্গের, জাতির মানুষেরা সুযোগ-সুবিধাগুলো পায় এবং তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হয়।’
উপকূলীয় অঞ্চলে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা এনজিও ‘জাগো নারী’র প্রধান হোসনে আরা হাসি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি বড় অংশ উপকূলের সাথে জড়িত, এই অংশটির মানুষ নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এক্ষেত্রে সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের এখনও অনেক অভাব রয়েছে। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এই মানুষগুলোর জন্য।’
গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা কম হলে আমরা সেটাকে সাফল্য হিসেবে ধরে নেই, কিন্তু যেই মানুষগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে, তাদের অধিকার সম্পর্কে আমরা এখনও সচেতন নই। আমাদের এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
আরও পড়ুন: নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের বিশেষ তহবিল চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
৮৭৪ দিন আগে
দুর্যোগ উত্তর পুনর্গঠনে প্যারাডাইম শিফটে কাজ করছে সরকার: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ধারণা থেকে সরে এসে দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন সুরক্ষা ও দুর্যোগ উত্তর পুনর্গঠনে প্যারাডাইম শিফটে সরকার কাজ করছে।
রবিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে দক্ষিণ সুদানের মানবিক বিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আলবিনো আকোল আতক মায়োম’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: শতবছর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
তিনি বলেন, সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুগোপযোগী ও সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কৌশল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সব ধরনের দুর্যোগের প্রস্তুতিতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশবাসীকে আগাম সর্তকর্বাতা দিতে দেশের ৮টি স্থানে পরীক্ষামূলক বজ্রপাত চিহ্নিতকরণ যন্ত্র বা লাইটেনিং ডিটেকটিভ সেন্সর বসানো হয়েছে। তা ছাড়া বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ৩৩৫টি বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। এবছর সর্বোচ্চ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় আমাদের আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি ও সাড়াদান আরেকটি নজির সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প সহনীয় দেশ গড়তে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে ৮টি জোনে ভাগ করে ঢাকাকে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে কার্যকর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ পূর্বক সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০৭১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ভূমিকম্প সহনীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনকে প্রাধান্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়ন করেছি। ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ এর প্রথম পর্যায়ে মোট বিনিয়োগের একটা বড় অংশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নাব্যতা বৃদ্ধির খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে। নদী ড্রেজিং, গ্রীষ্মকালে সেচের পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণ, খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সংস্কারসহ নানাবিধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দুর্যোগ মোকাবিলায় এসব বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ‘দুর্যোগ সহনশীল’ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান, অতিরিক্ত সচিব মো. হাসান সারওয়ার এবং কে এম আব্দুল ওয়াদুদ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সরকার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবাদুর মারা গেছেন
১০১১ দিন আগে