নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাগলা তালতলা এলাকার নির্জন গার্মেন্টসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, বয়লার বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এতে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বয়লারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তারা অভিযোগ করেন, কারখানার অভ্যন্তরীণ সড়কে মালামাল রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় অনেক শ্রমিক দ্রুত বের হতে পারেননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
৮ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের চারজনসহ দগ্ধ ৫
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ফ্ল্যাট বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বন্দর থানার মদনপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধরা হলেন— মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), মিম (১৩), হযরত আলী (৮) ও সিয়াম (১৯)।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মান্নানের শরীরে ৩০ শতাংশ, সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ, মিমের শরীরের ৪১ শতাংশ, সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ ও হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং দুজনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভের মুখে এসআই মাসুদ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়েরের (১৮) মৃত্যুর পর মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মরদেহ নিয়ে গতকাল রবিবার রাতে বন্দর থানা ঘেরাও করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা সেতুর উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জোবায়েরের মরদেহ ঢাকা থেকে বন্দর এলাকায় পৌঁছালে শত শত মানুষ মরদেহ নিয়ে বন্দর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার পর মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ নিয়ে তারা থানার সামনে অবস্থান নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওসমান গণি নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকার সড়ক অবরোধ করেন।
বুধবার (২০ মে) রাতে স্থানীয় দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত ওসমান গণি স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থানীয় বড় বিনাইর চর এলাকার মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় অবরোধকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা ওসমানকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি ছিল, ওসমান ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা প্রথমেই আমাকে এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আমার সামনে ওসমান ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংখ্যায় অনেক ছিল, তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল বলেন, ‘কাউন্দার চকে একটি জমি কিনে সেখান থেকে শ্রমিকরা মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে ভর্তি করতেছিল, আমি গাড়িতেই বসা ছিলাম। হঠাৎ একদল অস্ত্রধারী মুখোশ পরিহিত লোক ওসমান ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছিল, তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ওসমান গণিকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৯ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৩০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ সাত বছরের শিশু মুন্নাও মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শিশুটি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মুন্নার বোন কথার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাত বছর বয়সী এ শিশুটিরও শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাবা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং বড় মেয়ে মুন্নি (১০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিশু সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই কক্ষের তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমা হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
৩৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে: প্রতিমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা শুনে আহতের চিকিৎসার খবর নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাট জেরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
দগ্ধরা হলেন— নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০)।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত আহতদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণ এবং চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুপুরে ক্যান্টিনে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ ক্যান্টিনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে উপস্থিত প্রায় ১২ জনের হাত, মুখ ও পা পুড়ে যায়। পরে সহকর্মীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, বুধবার দুপুরে ১২ জন দগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের দগ্ধের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দগ্ধ হওয়া তিনজনকে আইসিইউ এবং এইচডিইউতে রাখা হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনাঘাট এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন—রামিজুল (১৫), মনির হোসেন (৪৫), বদরুল হুদা (৯), তুহিন শেখ (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২), ওসমান গনি (৩০), আল আমিন (৩০), নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), শংকর (২৫), কাওসার (৩০) ও আমির (২৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের ড্রেসিং চলছে। এখনও পর্যন্ত তাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ জানা যায়নি।
৩৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখি, বাবা ও তার ছেলেরা দগ্ধ অবস্থায় আগুনে ঝলসে গেছে। পরে জানতে পারি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করান।
তিনি আরও জানান, আব্দুল কাদের পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদির ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৩৯ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ব্যর্থ হয়েছে একটি চক্র । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আক্তারুজ্জামান (৪৭) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৩০)।
যাত্রীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী শেখ মাসুম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে বিআরটিসি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় পৌঁছালে পথে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটির গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা ব্যবসায়ী শেখ মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে তাকে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে শেখ মাসুম বাসের ভেতরেই চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশে জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়ে এসব ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছেন।
তার চিৎকারে বাসের অন্য যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ‘র্যাব’ পরিচয়দানকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে যাত্রীদের সহায়তায় চক্রটির আক্তারুজ্জামান ও আমিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
৪০ দিন আগে