নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আল ফালাহ’ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। গতকাল (শনিবার) নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।’
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তারে মেরে ফেলে, তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিখোঁজের এক দিন পর মো. মোতালেব হোসেন (৬১) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি-সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে লেপ-তোশকে মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোতালেব হোসেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফতুল্লার মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত থেকে মোতালেব হোসেন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার স্বজনরা ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর আজ বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে লেপ-তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া শ্বাসরোধের পাশাপাশি গরম পানির ছ্যাঁকা দেওয়ারও আলামত পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলার আসামিকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আদালত চত্বরে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) চাঁনমারী এলাকার ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে ওঠানো হয়। এ সময় তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত মো. নাছির উদ্দিনের এলাকার মানুষজন পুলিশের সামনেই হামলা করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যায়। আর এতেই বিক্ষুদ্ধ জনতা শরীফকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে।
পরে আরও পুলিশ ও অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, এ হত্যা মামলার আসামি অনেক বড় অপরাধী। এলাকাবাসী তার ওপর অনেক ক্ষুদ্ধ। তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুদ্ধরা নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে আমরা আইনজীবীরা ও পুলিশ বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলা করার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রেখেছি।
গত ১৪ মে চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে মো. নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় শরীফকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
৯ দিন আগে
রবিবার নারায়ণগঞ্জের ৫ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় রবিবার থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল মোড়ে বিদ্যমান সঞ্চালন ও গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের জন্য ভূলতা, গাউছিয়া, মুড়াপাড়া, আড়াইহাজার ও কাঞ্চন এলাকায় এই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
শনিবার (২৭ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ভূলতা, গাউছিয়া, মুড়াপাড়া, আড়াইহাজার ও কাঞ্চন এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, কাজ চলাকালে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বা সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
১২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাগলা তালতলা এলাকার নির্জন গার্মেন্টসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, বয়লার বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এতে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বয়লারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তারা অভিযোগ করেন, কারখানার অভ্যন্তরীণ সড়কে মালামাল রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় অনেক শ্রমিক দ্রুত বের হতে পারেননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
২০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের চারজনসহ দগ্ধ ৫
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ফ্ল্যাট বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বন্দর থানার মদনপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধরা হলেন— মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), মিম (১৩), হযরত আলী (৮) ও সিয়াম (১৯)।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মান্নানের শরীরে ৩০ শতাংশ, সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ, মিমের শরীরের ৪১ শতাংশ, সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ ও হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং দুজনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
২৮ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভের মুখে এসআই মাসুদ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়েরের (১৮) মৃত্যুর পর মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মরদেহ নিয়ে গতকাল রবিবার রাতে বন্দর থানা ঘেরাও করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা সেতুর উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জোবায়েরের মরদেহ ঢাকা থেকে বন্দর এলাকায় পৌঁছালে শত শত মানুষ মরদেহ নিয়ে বন্দর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার পর মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ নিয়ে তারা থানার সামনে অবস্থান নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওসমান গণি নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকার সড়ক অবরোধ করেন।
বুধবার (২০ মে) রাতে স্থানীয় দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত ওসমান গণি স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থানীয় বড় বিনাইর চর এলাকার মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় অবরোধকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা ওসমানকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি ছিল, ওসমান ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা প্রথমেই আমাকে এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আমার সামনে ওসমান ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংখ্যায় অনেক ছিল, তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল বলেন, ‘কাউন্দার চকে একটি জমি কিনে সেখান থেকে শ্রমিকরা মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে ভর্তি করতেছিল, আমি গাড়িতেই বসা ছিলাম। হঠাৎ একদল অস্ত্রধারী মুখোশ পরিহিত লোক ওসমান ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছিল, তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ওসমান গণিকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৯ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৫০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমা গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ সাত বছরের শিশু মুন্নাও মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শিশুটি রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মুন্নার বোন কথার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাত বছর বয়সী এ শিশুটিরও শ্বাসনালীসহ শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাদের বাবা মো. কালাম (৩৫) মারা যান গত সোমবার সকালে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে এই ঘটনায় দগ্ধ কালামের স্ত্রী সায়মা (৩২) এবং বড় মেয়ে মুন্নি (১০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সায়মার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিশু সন্তানসহ এক দম্পতি দগ্ধ হন।
ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, ওই কক্ষের তিতাস গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমা হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
৫৬ দিন আগে