নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েতনগরে শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)।
চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের সংঘর্ষে বাঁধে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই পোশাক কারখানায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সেখানে হামলা চালায়। এই গ্রুপটি বেশ কিছুদিন ধরে এখানে চাঁদা দাবি করছিল। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন ফতুল্লার আরেক ঝুট ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অভি গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে গোলাগুলি করে। এতে ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আহত শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুট মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্র আরাফাত হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্কুলছাত্র আরাফাত রহমান হত্যা মামলায় রিপন নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি রাব্বীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, নিহত স্কুলছাত্র আরাফাত বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের লাউসার গ্রামের রফিকুল ইসলাম মনার ছেলে। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে আরাফাতকে বিজয় দিবসের একটি কনসার্টে নিয়ে যায় রিপন মিয়া। রিপন একই গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে।
বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে ওই রাতেই আরাফাতকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে নিয়ে যান রিপন। সেখানে আরাফাতকে প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেন তিনি। পরে গলাটিপে হত্যা করে তার মরদেহ মসজিদের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর রিপন নিজেই পরিবারের সঙ্গে আরাফাতকে খোঁজাখুঁজি করেন। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর আরাফাতের মরদেহ পুকুরে ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পলাতক রয়েছেন।
পিপি আরও জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রিপনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। অপর আসামি রাব্বীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
১৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারী নিহত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনজন ছিনতাইকারী একটি মোটরসাইকেলে চড়ে এক পথচারীকে আটকিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দেন। এতে দুই ছিনতাইকারী দৌড়ে পালিয়ে গেলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জনতার পিটুনিতে ওই ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
৪০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে কারগার থেকে বের হওয়ার পরই যুবককে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর ইমন নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ‘সন্ত্রাসীরা’।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট ওয়াজউদ্দিন মিস্ত্রিবাগের শেষ মাথায় সাদেক-বাবুল মিয়ার বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার ওমর খৈয়ামের ছেলে।
নিহত ইমনের বাবা বলেন, দীর্ঘ কারাভোগের পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসে ইমন। বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর ফেরদৌস মোবাইলে ফোন করে তাকে বাবুল মিয়ার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ফেরদৌস, সন্ত্রাসী জাহিদ, চক্ষু হৃদয় ও হৃদয়সহ অপর সন্ত্রাসীদের তাকে হাতে তুলে দেন। পরে জাহিদ ও অপর সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তখন সে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী সাদেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে সেখানেও তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত ইমনকে শহরের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, হত্যাকারীদের মধ্যে চক্ষু হৃদয়ও কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছেন। নিহত ইমন তার সঙ্গে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে খালে ভাসছিল ড্রাম, খুলতেই মিলল মরদেহ
সিদ্ধিরগঞ্জে খালে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ কদমতলীর নয়াপাড়া খাল থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক।
নিহতের নাম মো. আলী (৩২)। তিনি ভোলার চরফ্যাশনের সাহাবুদ্দিনের ছেলে। মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
ঘটনাস্থলে যাওয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খালে ড্রামটি ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ড্রামটি তীরে নিয়ে খুললে ভেতরে মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল বারিক বলেন, নীল রঙের ড্রামটির ভেতর একটি রশি এবং নিহতের শরীরে আঘাতের বেশকিছু চিহ্নও পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর রাতের কোনো একসময় ড্রামের ভেতর লাশ ভরে খালে ফেলা হয়েছে বলে নিজের ধারণার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
৮৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে আমেনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে খুনের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা বেগম কেরাবো এলাকার বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কেরাবো এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ান নিজ বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। ওই বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ দেওয়া হয় মেহেদীকে। সেই থেকে আমেনাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন তিনি।
তারা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় আমেনা বেগমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আমেনা বেগম। এ সময় আমেনার কাছ থেকে ছুটে যেতে জোরাজুরি করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমেনার গলায় আঘাত করেন মেহেদী। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
এ সময় আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মেহেদী নিহত হন।
অপরদিকে আমেনা বেগমকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৯০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চুল্লি বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৭ জন
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আকিজ কোম্পানির একটি সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ৭ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে দগ্ধ শ্রমিকদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- ফেরদৌস (৩৮), রাকিব (২৫), মঞ্জু (২৮), তারেক (২১), বাবুল (৩০), খোরশেদ (২৮) ও হাবিব ( ৩৫)।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গতকাল (শনিবার) রাত ১০টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দগ্ধ অবস্থায় ৭ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে হাবিবের শরীরের ১৪ শতাংশ, খোরশেদের শরীরের ১২ শতাংশ , রাকিবের ১০ শতাংশ, মঞ্জুরের ৭ শতাংশ, তারেকের ৪ শতাংশ, ফেরদৌসের ২ শতাংশ এবং বাবুলের শরীরের ২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি থাকায় তিনজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ড. শাওন আরও জানান, আমরা দগ্ধদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি নারায়ণগঞ্জে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হয়েছেন।
৯৬ দিন আগে
‘নিরাপত্তা শঙ্কায়’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন নারায়ণগঞ্জের বিএনপির প্রার্থী
নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের প্রার্থী এ ঘোষণা দেন।
মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। ঢাকায় ওসমান হাদির উপর গুলির ঘটনার পর তারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’ তাই পরিবারের অনুরোধেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, তিনি তার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি জানাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
‘সংবাদ সম্মেলনেই এ কথা প্রথম জানালাম। বিষয়টি দলকেও বুঝিয়ে বলব,’ বলেন মাসুদুজ্জামান।
গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়। গুরুতর আহত হাদিকে শুরুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সোমবার তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে।
এ ঘটনার পর নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক দলের পক্ষ থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
হঠাৎ করে তার দেওয়া এ ঘোষণায় আশ্চর্য হয়েছেন তার অনুসারী নেতা-কর্মীরাও। তাদের কেউ কেউ সংবাদ সম্মেলনে মাসুদের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দলের প্রার্থী মাসুদুজ্জামানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের এভাবে ফেলে চলে যেতে পারেন না আপনি। আমরা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনার পাশে নেমেছি। আপনার এ সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।
জিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদের মহানগর শাখার সদস্যসচিব নাঈম খন্দকার বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেও শহীদনগরে তিনি পূর্ব-নির্ধারিত একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সেখান থেকে এসেই এমন ঘোষণা দিলেন। আমরা এ সিদ্ধান্তে আশ্চর্য হয়েছি। আমরা কিছুই জানতাম না।’
১২২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আলাউদ্দিনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ আলাউদ্দিন (৩৫) মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্য কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলাউদ্দিন। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ওই দুর্ঘটনায় বর্তমানে জরিনা বেগম শরীরের ২০ শতাংশ, সাথীয়া আক্তার ১২ শতাংশ এবং সাইমা শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রান্নাঘরে লাইনের গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ভোর ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধ আলাউদ্দিনের বোন সালমা আক্তার রবিবার বলেছিলেন, ‘আমার ভাইয়ের বাসায় লাইনের গ্যাসের মাধ্যমে রান্নার কাজ চলত। গত রাতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে যায়। পরে তা থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আমার দুই ভাতিজিসহ ভাইয়ের পরিবারের চার সদস্য আহত হয়।’
ওই ঘটনায় আলাউদ্দিনের শরীরেরই সর্বাধিক ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শুধু তাকেই নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন ডা. শাওন বিন রহমান। তবে তিন দিনের চিকিৎসাও পরও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলো না।
১২৮ দিন আগে
গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারায়ণগঞ্জে ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার কাঁচপুর পাটাততা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— জরিনা বেগম (৬৫), আলাউদ্দিন (৩৫), সাঁথিয়া আক্তার (১৪) ও সাইমা (৪)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ ভোরে সোনারগাঁও এলাকা থেকে শিশু ও নারীসহ চারজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে জরিনা বেগমের শরীরের ২০ শতাংশ, আলাউদ্দিননের ৪০ শতাংশ, সাঁথিয়া আক্তারের ১২ শতাংশ এবং শিশু সাইমার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে আলাউদ্দিনের দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং অন্যদের জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরও ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হতে পারে।
দগ্ধ আলাউদ্দিনের বোন সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বাসায় লাইনের গ্যাসের মাধ্যমে রান্নার কাজ চলত। গত রাতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে যায়। পরে তা থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আমার দুই ভাতিজিসহ ভাইয়ের পরিবারের চার সদস্য আহত হয়। পরে আজ ভোরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।’
এ বিষয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। শুনেছি দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।’
১৩২ দিন আগে