শিক্ষক
নড়াইলে মাদরাসার ৬ ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইলে ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় ৬ শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাহাবুবুর রহমান (২৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মাহাবুবুর রহমান সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাতে নড়াইল পৌর এলাকার ডুমুরতলা তাফসীর উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এক ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। পরের দিন ভুক্তভোগী ছাত্রের মা ওই মাদরাসায় গেলে ভুক্তভোগী শিশু তার মাকে ঘটনা জানায়। পরে শিশুটি ও তার মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। এ সময় মাদরাসায় থাকা আরও ৫ শিশুকে ওই শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান পালিয়ে যান।
এরপর গতকাল (শনিবার) নড়াইল সদর থানায় ভুক্তভোগী এক ছাত্রের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর ওই দিন দিবাগত রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাবুবর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে শনিবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ
রাতের নীরবতা ভেঙে ছাদে শব্দ। শব্দ শুনে দেখতে গিয়েছিলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। ছাদে গিয়ে দেখলেন, পরিচিত দুই তরুণ ইয়াবা সেবন করছে। বাধা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে নিভে যায় একটি পরিবারের চারটি প্রাণপ্রদীপ।
পুলিশ বলছে, নিজেদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে দুই তরুণ। পরে লুটের নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যার ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আজ রবিবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন, আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়েকে এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পরও ওই বাড়িতেই ছিলেন দুজন। তারা গোসল করেন, খেজুর খান এবং ইয়াবা সেবন করেন। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘরে পাওয়া একটি স্বর্ণের চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্তে নতুন সূত্র মেলে। পরে সিদ্ধার্থের স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো মতে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, আলামত নষ্ট করতেই এমনটি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘হত্যার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নগরের একটি বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিল। পরে মাছুয়াপাড়ায় এসে আবার ইয়াবা সেবন করে। পুলিশ ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে খুশি ওরফে প্রশান্তর নামও পেয়েছে। তদন্তে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
১৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আজকের দিন আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা প্রদানের অর্থ বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়ে দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষককে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আজ সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাদের অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তাই জাতির ইতিহাসে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এছাড়া সরকারের ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ডের’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
২৪ দিন আগে
অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে অবসরকালীন সুবিধার টাকা যথাসময়ে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানিও যাতে তাদের পোহাতে না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট থাকবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, ইনশাআল্লাহ আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না।’
তিনি বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে আর কোনো ভোগান্তি আপনাদের পোহাতে হবে না, আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা আপনাদের ভোগ করতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের অ্যাকাউন্টে যাতে পৌঁছে যায়, এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি ব্যতিক্রমধর্মী। এর মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ১ লাখ ২৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর দুটি তহবিলে তাদের জমানো অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন বা পেতে যাচ্ছেন।
এই দুটি তহবিল হলো—বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ড।
দুটি তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার মাধ্যমে ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৪ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ অনুসন্ধানে ৬ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই কমিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে লিপ্ত শিক্ষকদেরও চিহ্নিত করবে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ সলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রতিবেদনের আলোকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ-সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তপূর্বক অনতিবিলম্বে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষ এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তদন্ত কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাঈল হোসেন, গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল ফজল মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে অবিলম্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকেই শাবিপ্রবির শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যপরিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে এই কমিটি।
এছাড়া বিগত সরকারের সময় শিক্ষকরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হুমকি বা নিপীড়নে লিপ্ত ছিলেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২৯ দিন আগে
আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে বেরোবির চার শিক্ষকের ১২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) চার শিক্ষকের ১২টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন (পিয়ার রিভিউ) প্রক্রিয়ায় কারচুপি, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম), একই তথ্য পুনর্ব্যবহার, অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন (উদ্ধৃতি সংখ্যা) বাড়ানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়।
বেরোবির প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের ১০টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল হুদা লিটনের যৌথ ১টি ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নুরুল কবির বিপ্লবের ১টি গবেষণাপত্র রয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ ডেটাবেস’-এর তথ্য বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে আসে। ওই ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণা-নৈতিকতা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। গবেষণাপত্র বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার হতে পারে। তবে যদি অনিয়মের কারণে প্রত্যাহার হয়, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো নীতিমালা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উল্লেখ রয়েছে, যেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধান নেই, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।’
এ বিষয়ে বেরোবির রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘অনিয়মের কারণে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাপক আবু রেজা মো. তৌহিদুল ইসলামের এক বছরের পদোন্নতি স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন যাদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাহারের কারণ তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, ‘কেন এমনটা হলো, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।’
৩৬ দিন আগে
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক গান, নওগাঁয় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
নওগাঁয় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ঘটনার পর তিনি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুস সালাম। তিনি বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাতেই বিদ্যালয়-সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মারপিটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এ সময় এক শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। গানের শব্দ শুনতে পেয়ে সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেই ক্ষুব্ধ হোন এবং একখণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করেন। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ২৩ জনের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ১৭ শিক্ষার্থী আহত হয়।
৪৭ দিন আগে
‘মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক’ তৈরিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে কোমলমতি শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই কাজের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ এবং দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, যদি একটি মানবিক বাংলাদেশ আমাদের গড়ে তুলতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের যে ছোট কোমলমতী শিশুগুলো আছে, তাদের আমাদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি মানবিক মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রটি রচনা করতে পারব।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—আসুন, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করুন। এই মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যে সৈনিকদের দরকার, সেই সৈনিকরা কিন্তু আপনাদের কাছে আছে, আপনাদের সামনে আছে। সেই সৈনিকদের আপনারাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনারাই তাদের গড়ে তোলার কারিগর।
৫৫ দিন আগে
অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত কলেজশিক্ষক সাজু বাঁচতে চান
সফিকুল ইসলাম পেশায় সরকারি কলেজের শিক্ষক। পরোপকারী, সদাহাস্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত মানুষটি নিজ গ্রামের মানুষের কাছে সাজু নামেই পরিচিত। সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় সাজু স্যার। তবে শিক্ষার্থীদের প্রিয় সেই ‘সাজু স্যার’ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
অগ্নাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) চতুর্থ ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত সাজুর ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তাই প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন এই শিক্ষক।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সাজু ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কবিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। দুই সন্তানের জনক সাজু দীর্ঘদিন ধরে একজন পরোপকারী, সদাহাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি এলাকায় ‘সাজু স্যার’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অগ্নাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগটি ইতোমধ্যে চতুর্থ ধাপে পৌঁছেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত দেশে কেমোথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ভারত অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে চিকিৎসা বাবদ আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার। সবার সম্মিলিত সহায়তায় তিনি সুস্থ হয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে আসবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
হিসাবের নাম: মো. সফিকুল ইসলাম
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, কালামুন্সি বাজার শাখা, কবিরহাট, নোয়াখালী
হিসাব নম্বর: ৩৮১২১০১০২৬৭২
রাউটিং নম্বর: ২০০৭৫১২৭০
বিকাশ/নগদ (ব্যক্তিগত): ০১৭০১৩০০৫০০
৬২ দিন আগে
ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হয়রানি, বাধা দেওয়ায় টিসি দেওয়ার অভিযোগ মাদরাসা সুপারে বিরুদ্ধে
যশোরের শার্শা উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব, নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের (সুপার) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গতকাল (বুধবার) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার ওই শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ভয়ে দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে কিছু বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে সে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রস্তাবে রাজি না হলে ভুক্তভোগীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এমনকি গত ১৮ জুন রাতে ওই শিক্ষক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এতে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর হাত ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা ।
এরপর গত ২৯ জুন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মেয়েটির বাবার হাতে টিসি (স্থানান্তর সনদ) ধরিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে তার মেয়ের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও ওই মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৮ দিন আগে