শিক্ষক
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
১৬ দিন আগে
ধর্ষণে মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা: নেত্রকোনায় অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত হযরত ফাতেমা তুজ-জোহরা মহিলা কওমী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান।
নয়মুল হাসান বলেন, শিক্ষকের পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থী এখন সাত মাসের অন্ত্বঃসত্ত্বা। সম্প্রতি ১১ বছর বয়সী ওই শিশুটির শারিরীক গঠন দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটির পরিবার তাকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বাড়িতে আসার পর শিশুটি জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা ঝাড়ু দিতে নিয়ে যান। এ সময় নির্জন স্থান পেয়ে ওই শিক্ষক তাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেন। এরপর প্রযুক্তির সহযোগিতায় র্যাব-১৪-এর সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তার এড়াতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি এটিকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।
অপরদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করায় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নারী চিকিৎসককে অভিযুক্ত শিক্ষক হুমকি দিয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই চিকিৎসক।
র্যাব জানায়, শিশুটি পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির বাবা তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। নানির সঙ্গে থেকে শিশুটি ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
২৩ দিন আগে
অচলাবস্থা কাটাতে ববি শিক্ষকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি আন্দোলনে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনই পাঠদানে ফিরছেন না শিক্ষকরা, তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সোমবারের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে চলমান এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপাচার্য ও বিভাগীয় আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত আমরা শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সকল শিক্ষকের সঙ্গে রবি বা সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল। সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। ববিতে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষকের সকল যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে আছে বলে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনরতরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও উপাচার্য সেখানে নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হলেও এই সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই কার্যক্রম আটকে দিয়েছে। ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ নীতিমালার আওতায় এলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তা কার্যকর হয়নি। এখন থেকে নীতিমালা তৈরি শেষে ববির সিন্ডিকেটে পাস করতে হবে। তারপর দ্রুত অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসির অনুমোদন শেষে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।
২৯ দিন আগে
পদোন্নতির দাবিতে ববি শিক্ষকদের একাংশের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) পদোন্নতির দাবিতে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষকদের একটি অংশ। তাদের এই আন্দোলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশও একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দিচ্ছেন না। এদিন শিক্ষকরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন।
শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সাল থেকে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও উপাচার্য আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। ইউজিসির একটি চিঠির অপব্যাখ্যা দিয়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করছেন। এর ফলে ডিগ্রি প্রদানের বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ২৫টি বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং ৫১টি অনুমোদিত পদ খালি থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ‘প্রশাসনিক অদক্ষতা’ ও ‘অধিকার হরণের’ প্রতিবাদে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনের পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম শিক্ষকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান। কাজে না ফিরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা করণীয়, তা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় শিক্ষকদের এই কর্মসূচিকে ‘উন্নয়নবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন উপাচার্য।
তিনি শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংকট নিরসনের জন্য আমি তাদের মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিতে নিয়ে যেতে চেয়েছি, কিন্তু তারা রাজি হননি।
উপাচার্য আরও দাবি করেন, অনেক শিক্ষক চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রেয়াত (বিশেষ সুবিধা) নিয়ে পদোন্নতির আবেদন করেছেন, কেউ কেউ দুই বছরেই আবেদন করেছেন।
শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখেন, তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় আমার দিক থেকে যা যা করণীয়, আইন অনুযায়ী আমি তাই করব।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসানো হয়েছিল। তবে ইউজিসি ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করে সিন্ডিকেটে পাসের পর অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে এবং এরপর পদোন্নতি দেওয়া হবে।
৩১ দিন আগে
ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; চিরকুটে শিক্ষকের নাম, হেফাজতে ২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।
তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে ইউএনবিকে জানান, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।
ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।
৩৪ দিন আগে
ববিতে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দ্রুত দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট অনুমোদিত বিধিবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সব বিধি যথাযথ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ চ্যান্সেলরের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো ও কার্যক্রম আইনি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
তাদের মতে, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদানও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই একাধিক ব্যাচে পাঠদান চলছে, অথচ অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। একইসঙ্গে ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম চাপের মধ্যে রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরাও অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
তাই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, এমন কাজ না করে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান উপাচার্য।
৩৮ দিন আগে
৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। কমিশনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যালোচনা করে তাদের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কমিশন গত বছরের ১৪ আগস্ট প্রথম আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে পূর্ণ উদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। একটি ন্যায়সংগত ও কার্যকর বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইনে মতামত গ্রহণের জন্য চাকরিজীবী, সর্বসাধারণ, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থা বা সমিতির জন্য মোট চারটি প্রশ্নমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে পে-স্কেলের অংশীজনরা প্রায় সব পেশাজীবী গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে বেতন কাঠামোর ব্যাপারে সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে।
জোটের সদস্যসচিব বলেন, পে-স্কেলের অংশীজন হওয়ার কারণে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আহ্বান জানালে তারা জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবনাগুলো তাদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোটের নেতাদের আশ্বাস দেয়।
তিনি বলেন, আমরা ইদানীং গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন যাতে জারি না হয়, এ ব্যাপারে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে যাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই তারাও হরহামেশা মতামত দিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করায় জনরোষ তৈরি হয়েছে। তার নেতিবাচক মন্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে সপ্তম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছিল। এর ৬ বছর পর ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এরপর ১১ বছর যাবৎ কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুটি পে-স্কেল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। এভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পে-স্কলের প্রজ্ঞাপন জারি বন্ধ করা হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের মধ্যেই আমরা নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে জোর দাবি জানাচ্ছি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠনের ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পক্ষে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হবে। যদি নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয়, তাহলে কমিশন গঠন করে রাষ্ট্রের টাকা কেন অপচয় করা হলো? পে-স্কেলের অংশীজনরা মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামী ৫ বছরেও তা জারি হবে না।
তার দাবি, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমাদের রয়েছে ৬ লক্ষাধিক পরিবারের অর্ধকোটি সদস্য। কিন্তু আমরা সরকারের বেতনভোগী পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলেই কেবল আমাদের বঞ্চনার অবসান হবে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি। যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে শিক্ষক সমাজ তাদের পাশেই থাকবে।’
এই শিক্ষক নেতা বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও সরকার দাবি মেনে না নিলে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন হেলালী, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু।
যুগ্ম সদস্যসচিবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার, মো. শান্ত ইসলাম, মো. আশরাফুজ্জামান হানিফ, মো. ইমরান হোসেন ও জোটের ঢাকা উত্তরের সমন্বয়ক মো. বাছির উদ্দিন।
এ ছাড়াও ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নির্বাহী সমন্বয়ক এমএ মান্নান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আব্দুল মালেক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব-১ আশিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
১৩১ দিন আগে
শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: খুবি শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর আগস্ট মাসে অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন এক নারী শিক্ষার্থী। কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুইটি তদন্তের জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুইটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনগুলো গত ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪ তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে একটি অভিযোগ থেকে অধ্যাপক রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য অভিযোগে তাকে আগামী দুই বছর বাংলা বিভাগে পাঠদান, পরীক্ষার কাজসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল (রবিবার) তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রেজিস্ট্রার আরও জানান, ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকলেও এ সময় অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পেয়েছি। পরে এ বিষয়ে কথা বলব।
১৩৮ দিন আগে
৬২ বছর ধরে স্কুল আছে শিক্ষার্থী নেই, জানেন ঊর্ধ্বতনরাও
প্রতি ক্লাসে ৩ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী, তারপরও খিচুড়ি খাওয়া হলেই ছুটি; বাড়ি চলে যায় তারা। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ভি এইড রোডে অবস্থিত কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিত্যকার চিত্র এটি। গত ৬২ বছর থেকে এভাবেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চললেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা নয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও বিদ্যালয়টির সরকারিকরণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। শুরু থেকে এমপি মন্ত্রীদের সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে আসছে বিদ্যালয়টিতে। এ কারণে প্রথম থেকেই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম থাকলেও শিক্ষক ছিল পর্যাপ্ত।
বিদ্যালয়টি বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সুন্দর মনোরম পরিবেশে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীর কোলাহলপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে তা নয়, কোমলমতি শিশুদের ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্কুলের কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠার ৬২ বছর পরও স্কুলের শিক্ষকের সংখ্যা কম না হলেও শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। কোনো বছর প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না বলেও স্কুলের খাতাপত্র ঘেটে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো ক্লাসে ছিল ১০ জন, কোনো ক্লাসে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না।
আবার দুটি ক্লাস চলে একই কক্ষে। দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা কীভাবে এক সঙ্গে নেওয়া হয়, তা অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: প্রভোস্টবিহীন জাবির কাজী নজরুল হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬২ বছরেও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেখাতে পারেনি বিদ্যালয়টি। অথচ শিক্ষকরা তাদের কর্তাব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে মাসিক ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করে বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন।
অনিয়মের পাশাপাশি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় কেউ এখানে ভর্তি হয় না বলে জানান স্থানীয় কাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, পড়ালেখার পরিবেশ নেই, শুধু ফাঁকিবাজি। সব জেনেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা সব হজম করে পকেট ভরছেন আর ভালো রিপোর্ট দিচ্ছেন।
সম্প্রতি স্কুলের পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করতে ৬ জন শিক্ষিকা ছাড়াও একজন দপ্তরি নিয়োগ করা হয়। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষিকারা কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থী পেতে বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন, কিন্তু কাজ হয়নি। বরং শিক্ষার্থী না পেয়ে তারাও হতাশ। অনেক চেষ্টা করে ৬টি শ্রেণির জন্য মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থীকে ধরে রাখতে পেরেছেন তারা। তার মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন আর চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে।
স্কুলের সামনের বাসিন্দা এবং ওই স্কুলের একসময়ের শিক্ষার্থী দুলাল মিয়া বলেন, ‘স্কুলের চারদিকে ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। শিশুরা সেখানে পড়তে যায়। সেই কারণে কে এন রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা শিরিন বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে আমরা কম চেষ্টা করিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ করেছি, কিন্তু কাজ খুব বেশি হয়নি। তাছাড়া এই স্কুলের চারপাশে কোচিং সেন্টারসহ ভালো কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সে কারণে শিশুরা ওই দিকে ঝুঁকে পড়ছে।’
স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে এবং উপস্থিতি বাড়াতে আমরা নিজেদের বেতনের টাকায় ছাত্রছাত্রীদের দুপুরে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। খিচুড়ি খেয়েই শিক্ষার্থীরা চলে যায়। এই স্কুলের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন থাকলেও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা তা এড়িয়ে যান। তারা কোনো পরামর্শ দিতেও স্কুলে আসেননি।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস স্কুলের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা স্কুলে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছি।’
২৭৫ দিন আগে