সুইজারল্যান্ড
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
১৩ দিন আগে
ইরানের পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আজ রবিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
গত সপ্তাহে আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আলোচনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করার পথ ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য ইরানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, গত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
ভ্যান্স প্রথমে স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্নের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির আলোচকদের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর প্রচারের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হন ভ্যান্স।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সুইজারল্যান্ডে ভ্যান্সের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছে যুদ্ধ অবসানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ ইরান, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার চ্ষ্টো করবেন।
ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে লুসার্নের বাইরে এমেন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যান্স জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিন থাকবেন। মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্স নিজ দলের একটি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থিরা এই চুক্তিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছেন। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ইরান অবিলম্বে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে।
প্রসঙ্গত, যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছিল, গত গ্রীষ্মে সেসব স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ইরান প্রবেশমূল্য আরোপ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সেবার বিনিময়ে এবার থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরুর আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ তেলের দামে সাময়িক সময়ের জন্য প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের বাজারে দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। স্থানীয় সময় আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বাজার খোলার পর বিনিয়োগকারীরা আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে পরিস্থিতিকে এখনও কিছুটা জটিল রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর কোনো পক্ষই জড়িত নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
১৪ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে বাসে আগুন লেগে নিহত ৬
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডে একটি বাসে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে দেশটির রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফ্রিবুর্গ কান্টনের কেরজেরসের কেন্দ্রস্থলে (যা ফরাসি ভাষায় শিয়েট্রেস নামে পরিচিত) এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ৩ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছেন বলে জানাচ্ছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মূলত কেরজেরস থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুডিঙ্গেন পৌরসভা থেকে আসছিল।
একটি এক্স পোস্টে সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি সত্যিই হতবাক এবং ব্যাথিত।’
এর আগেও বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল।
১১৬ দিন আগে
পল্লী উন্নয়ন ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের আগ্রহ
বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও জলবায়ু সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতেই রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন খাতে সুইজারল্যান্ডের চলমান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব জোরদার করার বিষয়ে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সুইজারল্যান্ড অন্যতম সহযোগী এবং বর্তমান সহযোগিতার পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে তিনি সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
আলোচনা শেষে উভয়পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।
১২৩ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার শোক
সুইজারল্যান্ডের ক্রঁ-মঁতানায় একটি স্কি রিসোর্টে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে সুইস প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকাবহ এই সময়ে সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের প্রতি এবং তার মাধ্যমে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি।
বার্তায় আরও বলা হয়, এই চরম শোকের সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা প্রার্থনাও করছি। সর্বশক্তিমান যেন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত দান করেন এবং তাদের পরিবারবর্গকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
আমরা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করছি।
শোকবার্তার শেষে সুইস প্রেসিডেন্টের প্রতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সৌজন্য জ্ঞাপন করা হয়।
১৮৩ দিন আগে
গুম ও হাওর সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
আজকের বৈঠকে গুম প্রতিরোধসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন এবং সুইজারল্যান্ডের বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বলা হয়েছে, এর ফলে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন ৫ বছর ধরে গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে ট্রাইবুন্যাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে।
অধ্যাদেশের ফলে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনাল’-এর জন্য মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিতে পারবে। ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারীও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রাইবুনাল আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন এবং গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের কোনো সদস্য কমিশনের পুর্বানুমতি ব্যাতিরেকে গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন।
হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ অনুমোদন
বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের ইকোসিস্টেম বিশ্বে বিরল ও অনন্য। কিন্তু নদী ও নদীপথের বাধা সৃষ্টি করে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাবের কারণে এই ইকোসিস্টেম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পড়ছে। আবার জলাশয় রক্ষায় আইনি কাঠামোরও অপ্রতুলতা রয়েছে।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও অধিক্ষেত্র সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, হাওর ও জলাভূমি এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘সংরক্ষিত হাওর ও জলাভূমি এলাকা’ ঘোষণা করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়াও হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের বিবরণ প্রদান, নিষিদ্ধ কার্যক্রম সংঘটিত হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং উক্ত অপরাধের জন্য আরোপনীয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ, দপ্তর কিংবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিধি, প্রবিধান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
বার্নে হচ্ছে নতুন দূতাবাস
এদিন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বাংলাদেশের পার্মানেন্ট মিশন রয়েছে। তবে বার্নে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের দূতাবাস নেই। এর ফলে জেনেভার স্থায়ী মিশনেই এতদিন ধরে জাতিসংঘ ও দূতাবাসের কাজগুলো একসঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছিল।
সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও কৌশলগত অংশীদার। তাই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বার্নে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূত, ফার্স্ট সেক্রেটারি, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮২টি মিশন অফিস আছে।
আলোচনায় হাদির শারীরিক অবস্থা
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়।
হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং খোঁজখবর জানাচ্ছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল (বুধবার) েসিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন। তিনি সরাসরি হাদির চিকিৎসার দেখভাল করছেন।
১৯৯ দিন আগে
সুইজারল্যান্ড: বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে লাখ ডলার জরিমানার মুখে চালক
সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণে সুইজারল্যান্ডে এক অতি ধনী চালককে ৯০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক বা ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, ওই চালক লোজান শহরের এক রাস্তায় গতিসীমা অতিক্রম করে ২৭ কিলোমিটার (১৭ মাইল) প্রতি ঘণ্টা বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এই জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন।
কেন এত বড় পরিমাণ জরিমানা?
জানা গেছে, ওই চালক সুইজারল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তিনি গতিসীমা লঙ্ঘনের এই ধরনের অপরাধ বারবার করে আসছেন। ভৌদ অঞ্চলে ব্যক্তির আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা নির্ধারিত হয়।
পড়ুন: মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
এ অঞ্চলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দারিদ্র্যগ্রস্তরা কেউ এই অপরাধের জন্য জরিমানার বদলে এক রাতের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়, আর অতি ধনী চালকদের ক্ষেত্রে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে শুরু করে জরিমানা গুণতে হয়। সম্প্রতি এই অঞ্চলের একটি আদালত রায় অনুযায়ী, গতিসীমা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের প্রথমে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক (১২ হাজার ৩০০ ডলার) জরিমানা বহন করতে হবে এবং পরবর্তী তিন বছরে অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও ৮০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা হতে পারে।
সুইজ সংবাদপত্র ‘টুয়েন্টি ফোর হিউয়ারস’ প্রথমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চালক একজন ফরাসি নাগরিক, সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ ৩০০ ধনী ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম এবং তার শত মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে।
পুলিশের স্বয়ংক্রিয় রাডার চালককে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গতিসীমায় ৭৭ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতি রেকর্ড করতে দেখেছে। এরপরই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা হিসাব করা হয়।
পড়ুন: সেই ‘সুপারম্যান’ এখন মার্কিন অভিবাসন এজেন্ট
ভৌদ অঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র ভিনসেন্ট ডেরৌয়া জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাননি। ঘটনা ঘটেছে গত বছরের আগস্টে এবং চলতি বছরের জুনে জরিমানার রায় দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই চালককে ৮ বছর আগেও একই ধরনের অপরাধের জন্য ১০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা করা হয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডে গতিসীমা লঙ্ঘনের জরিমানা সবার জন্যই কঠোর, এমনকি পুলিশের জন্যও। ২০১৬ সালে জেনেভা শহরের এক পুলিশকর্মী চোর ধারার প্রায় দ্বিগুণ গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে জরিমানা গুণেছিলেন।
৩২৬ দিন আগে
বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করল সুইজারল্যান্ড
বাংলাদেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়’ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সুইজারল্যান্ডের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিলর ও সুইস ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের (এফডিএফএ) প্রধান ইগনাজিও ক্যাসিস।
এফডিএফএ প্রধান দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভার ফাঁকে বুধবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, 'আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালে বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
ক্যাসিস বলেন, সুইজারল্যান্ড এ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ক্যাসিস ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তার উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রশাসক আচিম স্টেইনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৫ সভায় ক্যাসিস ইউরোপীয় নীতি এবং ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ড যখন ২০২৬ সালে ওএসসিইর সভাপতিত্ব করার প্রস্তুতি নেওয়ার প্রাক্কালে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।
দাভোসে অবস্থানকালে এফডিএফএর প্রধান বর্তমানে সুইস বৈদেশিক নীতির আগ্রহের মূল বিষয়গুলোতে একাধিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন।
ক্যাসিসের কর্মসূচিতে ইইউ কমিশনার মারোস শেফকোভিচের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এসময় উভয়েই সুইজারল্যান্ড এবং ইইউর মধ্যে আলোচনার বাস্তব সমাপ্তিকে স্বাগত জানান।
তারা আলোচনার প্যাকেজ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
চেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান লিপাভস্কি এবং বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিনের সঙ্গে আলোচনার সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে ছিল।
আরও পড়ুন: দাভোসে দ্বিতীয় দিনে ১৪ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা
৫২৭ দিন আগে
দাভোসে পৌঁছেছেন ড. ইউনূস, পরিকল্পনায় ৪০টির বেশি কর্মসূচি
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার বিকেলে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে জুরিখের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধান উপদেষ্টা ও তার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এ সময় জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এরপর সড়ক পথে বিমানবন্দর থেকে দাভোসের উদ্দেশে রওনা হন ড. ইউনূস।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে দাভোসে পৌঁছানোর পর সম্মেলনের প্রথম দিন কুরপার্ক ভিলেজে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নৈশভোজে যোগদানসহ বেশ কয়েকটি বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।
দাভোসে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। মঙ্গলবার দাভোস সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর তিনি শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের চেয়ারম্যান জেনস পেটার অলসেনের সঙ্গে (বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত) বৈঠক করবেন।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির শুরুতেই 'জুলাই ঘোষণা' নিয়ে ঐকমত্যের প্রত্যাশা ড. ইউনূসের
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর এবং মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান ক্রিস্টফ হিউজেনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
ড. ইউনূস জাতিসংঘের ১১তম শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং ফিনল্যান্ডের ত্রয়োদশ প্রেসিডেন্ট কাই-গোরান আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক-বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (জ্যেষ্ঠ সচিব) লামিয়া মোরশেদ, প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও পররাষ্ট্র সচিব (পশ্চিম) এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
আগামী ২৪ জানুয়ারি দাভোসে অবস্থানের আগ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পাইতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, বেলজিয়ামের বাদশাহ ফিলিপ ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকসহ ৪০টিরও বেশি বৈঠক করবেন তিনি।
২৫ জানুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক, মেটা ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সভায় বিশ্বের ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উন্নত ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ অর্জনে তাদের প্রচেষ্টা তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া এই অর্থনীতিবিদ ধারাবাহিক ব্যস্ততার মাঝে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে থাকবেন।
উপ-প্রেস সচিব আজাদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী নেতা ও প্রধান নির্বাহীদের অংশগ্রহণে আগামী ২২ জানুয়ারি ‘কান্ট্রি স্ট্রাটেজি ডায়ালগ অন বাংলাদেশ’ নামে একটি পৃথক বিজনেস রাউন্ডটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সুযোগ।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ড. ইউনূস
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দাভোস ২০২৫ সালের বার্ষিক সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা।
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে— ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় সাড়া দেওয়া, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন এবং ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শক্তি রূপান্তর পরিচালনার মতো কর্মপরিকল্পনা।
‘কলাবরেশন ফর দ্য ইন্টেলিজেন্ট এজ’ থিমের অধীনে এ বছরের সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে।
সম্মেলনে ১৩০টির বেশি দেশের প্রায় তিন হাজার নেতা এবং বিশ্বের ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ মোট ৩৫০ জন নেতা একত্রিত হয়েছেন।
৫২৯ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
ডাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ড সফর করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
ডাভোসে ‘শেপিং দ্যা ইন্টেলিজেন্ট এজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার ২১ থেকে ২৪ জানুয়ারি সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।
সুইজারল্যান্ড সফরকালে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হবেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত এবং এসডিজি বিষয়ক প্রিন্সিপাল কোওর্ডিনেটর।
সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।
এছাড়াও উপদেষ্টা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দিতে মালয়েশিয়াকে ড. ইউনূসের আহ্বান
৫৩৫ দিন আগে