রাঙ্গামাটি
চার দিন পর উন্মুক্ত সাজেক, প্রথম দিনেই প্রবেশ করল ৮০০ পর্যটক
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাঘাইছড়ির সাজেকে চার দিন ধরে চলা পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রথম দিনে এখানে প্রায় ৮০০ পর্যটক প্রবেশ করেছেন। দীর্ঘ চার দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় অর্থনীতি, রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন অনিবার্য কারণে গত কয়েকদিন ধরে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক পর্যটকের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আজ সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি হয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাজেকের দিকে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল শুরু হয়।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ প্রথম দিনেই প্রায় ৮ শতাধিক পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন। পাহাড়ের বুক ঘেঁষে ভেসে যাওয়া মেঘের চাদর ও রূপসী সাজেকের রূপ উপভোগ করতে অসংখ্য পর্যটক ইতোমধ্যে তাদের অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করেছেন। পর্যটকদের বরণে স্থানীয় কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন মালিকরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। পর্যটকেরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তা ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ ও আনন্দঘন প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে। সাজেক পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া ও সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে। আর সব মিলিয়ে সাজেকে পর্যটকদের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
২ দিন আগে
প্রেমিকাকে হত্যা ও পোড়ানোর দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে হাছিনা বেগম সুমি নামের এক নারীকে হত্যা ও দেহ পোড়ানোর মামলার আসামি মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আহসান তারেক এ রায় দেন। এ সময় মামলার একমাত্র আসামি উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চে প্রেমের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সুমিকে কাপ্তাইয়ের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান মহিবুল্লাহ। এ সময় তিনি হাছিনার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। পরে আলামত নষ্ট ও দেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তা স্কুলের পরিত্যক্ত টয়লেটে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন।
পরবর্তীতে সুমির মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে র্যাব ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও সার্বিক প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, আসামির স্বীকারোক্তি, সুরতহাল ও মেডিকেল প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি দোষী সাব্যস্ত হন। দণ্ডবিধি ৩০২ ও ২০১ ধারায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
১২ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে প্রৌঢ়কে হত্যা মামলায় ছেলে-ভাইপোর মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির সাজেকে শান্তি লাল চাকমা (৫৬) নামে এক প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তার ছেলে সোহেল চাকমা (২২) ও ভাইপো আলোময় চাকমাকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বের করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে তাকে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে এবং ধারালো দা দিয়ে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তারা। হত্যা নিশ্চিত করার পর তারা নিহতের মরদেহ পাশের গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে পুলিশ শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা তার আত্মসমর্পণের পর এ রায় কার্যকর হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক থাকা আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪
রাঙামাটি সদর উপজেলায় পিকআপ উল্টে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শোভা চাকমা (৫২) এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং সুমন চাকমা (৪৫)-কে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশে যাওয়ার পথে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের রাঙামাটি হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে চারজনকে রাঙামাটি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, অনাকাঙ্খিত এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৬৩ দিন আগে
পর্যটকদের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে সাজেক ভ্যালি
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে চলতি মৌসুমে ভ্রমণের সময় সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৮ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে এগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাসের কারণে গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সাজেক রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন ও দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সাজেক পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এখানের ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটননির্ভর। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
৯৫ দিন আগে
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
১০০ দিন আগে
ভারী বর্ষণ: সাজেকে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক, রাঙ্গামাটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) নদী পার হতে গিয়ে ভেসে যান তিনি। অন্যদিকে, বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন।
জেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাজেকে আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
১০১ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি
রাঙ্গামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির পদবঞ্চিত ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদবঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের পৌরসভা এলাকা থেকে বনরুপা পর্যন্ত ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
১৬৭ দিন আগে
পানি স্বল্পতায় বন্ধ কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে শুধু ১টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর ওই একটি ইউনিট হতে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। আর পানির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে আজ (বুধবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধু ২ নম্বর ইউনিট হতে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে রুল কার্ভ অনুযায়ী, কাপ্তাই লেকে ৮৩ দশমিক ৮০ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৭ ফুট মিন সি লেভেল।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত প্রকৌশলী জানান, বিগত সপ্তাহগুলোতে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমতে থাকায় ৫টি ইউনিটের মধ্যে শুধু ১টি করে ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বৃষ্টি হবে না, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানান তিনি।
১৭৯ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে নারীদের আয় বাড়ছে, স্বাবলম্বী হওয়ার পথে পাহাড়ি সমাজ
রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী নারী উদ্যোক্তা মেলা–২০২৫। এই আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের বহু নারী নিয়মিত আয়ের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় রাঙ্গামাটি চেম্বার ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার সফল সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলী বাবর ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী উদ্যোক্তা মেলার আহ্বায়ক ও চেম্বারের সহ-সভাপতি নেছার আহমেদ।
২৯৪ দিন আগে