রাঙ্গামাটি
পর্যটকদের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে সাজেক ভ্যালি
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে চলতি মৌসুমে ভ্রমণের সময় সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৮ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে এগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও আবহাওয়া পরিস্থিতির পূর্বাভাসের কারণে গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সাজেক রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন ও দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সাজেক পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এখানের ব্যবসা-বাণিজ্য পর্যটননির্ভর। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
১৪ দিন আগে
সাজেকে আটকে পড়া চার শতাধিক পর্যটক উদ্ধার
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৪৬১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় দফায় ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। গতকাল প্রথম দফায় ১৫০ জন ও আজ সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
গতকাল বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানুষ ভুগছেন।
এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।
১৯ দিন আগে
ভারী বর্ষণ: সাজেকে আটকা পড়েছে ৫ শতাধিক পর্যটক, রাঙ্গামাটির আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ছুটছে মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে রাঙ্গামাটি সদর মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) নদী পার হতে গিয়ে ভেসে যান তিনি। অন্যদিকে, বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন।
জেলাজুড়ে ভারী বর্ষণ এবং প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি বিরাজমান থাকায় জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সাজেকে আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক।
২০ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি
রাঙ্গামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির পদবঞ্চিত ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদবঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের পৌরসভা এলাকা থেকে বনরুপা পর্যন্ত ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
৮৬ দিন আগে
পানি স্বল্পতায় বন্ধ কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে শুধু ১টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর ওই একটি ইউনিট হতে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। আর পানির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে আজ (বুধবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধু ২ নম্বর ইউনিট হতে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে রুল কার্ভ অনুযায়ী, কাপ্তাই লেকে ৮৩ দশমিক ৮০ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৭ ফুট মিন সি লেভেল।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত প্রকৌশলী জানান, বিগত সপ্তাহগুলোতে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমতে থাকায় ৫টি ইউনিটের মধ্যে শুধু ১টি করে ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বৃষ্টি হবে না, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানান তিনি।
৯৮ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে নারীদের আয় বাড়ছে, স্বাবলম্বী হওয়ার পথে পাহাড়ি সমাজ
রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী নারী উদ্যোক্তা মেলা–২০২৫। এই আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের বহু নারী নিয়মিত আয়ের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় রাঙ্গামাটি চেম্বার ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার সফল সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলী বাবর ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী উদ্যোক্তা মেলার আহ্বায়ক ও চেম্বারের সহ-সভাপতি নেছার আহমেদ।
২১৪ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফের আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
রাঙ্গামাটির বাঘাইহাটের দুর্গম পাহাড়ে ইউপিডিএফের আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এসময় একে ৪৭ ও রাইফেলসহ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোর ৫টা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের মাচালং নরেন্দ্র কারবারি পাড়ায় সেনাবাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এসময় তল্লাশি চালিয়ে, একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৩টি রাইফেল, ১টি এলজি, শতাধিক গোলাবারুদ, বেশ কয়েকটি ওয়াকিটকি, স্পাই ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
পড়ুন: ৫ আগষ্টের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র: নাহিদ ইসলাম
আইএসপিআর জানায়, রাঙ্গামাটির বাঘাইহাটের দুর্গম পাহাড়ে ইউপিডিএফের আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানকালে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। এসময় একে-৪৭সহ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন।
৩৬৫ দিন আগে
করোনার চোখ রাঙানি: পর্যটকপ্রিয় রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি
ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে পার্বত্য পর্যটন-জেলা রাঙ্গামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও বনঘেরা রাঙ্গামাটি প্রায় সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে। তবে চলতি ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে অন্যান্যবারের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা, নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় জনসমাগম মিলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটি ঘিরে বাড়তি ভিড় এবং ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, প্রয়োজনে আইসোলেশন, ঘাটগুলোতে স্বাস্থ্য ডেস্ক স্থাপন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে ভিড় বেশি, সেসব জায়গায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা ইউএনবিকে বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আমরা আগেই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছি। জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঘাটগুলোতে পর্যটকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘কারও উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। মারাত্মক অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।’
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, করোনা মহামারিকালে রাঙ্গামাটিতে ৭৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তখনকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও একটি সম্ভাব্য সংক্রমণ ঢেউয়ের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই ঢল নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি স্তরে সমন্বিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি যেন করোনার নতুন ঢেউয়ে তার স্বাভাবিক ছন্দ না হারায়, সেই লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
এদিকে, কোভিডের নতুন ধরন মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে নজরদারি বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদারে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন ধরনের কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার লক্ষ্যে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো—
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
১. জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং উপস্থিত হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক পরা
৩. হাঁচি-কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লা ঝুড়িতে ফেলা
৫. ঘনঘন সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা
৭. আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা
সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়
১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকা
২. রোগীর মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া
৩. রোগীর সেবাদানকারীদেরও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করা
৪. প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে, আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়নে (১৬২৬৩) যোগাযোগ করা।
৪১৩ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ১
রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সঙ্গে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) গোলাগুলির ঘটনায় এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে রাঙ্গামাটি জেলার মানিকছড়ি খামারপাড়া তৈমিদুং এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউপিডিএফ সদস্যের নাম নির্মল চাকমা।
আরও পড়ুন: ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের গোলাগুলি, আহত ৮
এই বিষয়ে ইউপিডিএফের মুখমাত্র অংগ্য মারমা বলেন, জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের হামলায় আমাদের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাহেদ উদ্দীন জানান, মানিকছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে ইউপিডিএফের একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। স্থানীয় ইউপি মেম্বার আমাকে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।
৫০০ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে আনারসের ব্যাপক ফলন, হতাশায় কৃষকরা
সুস্বাদু হানি কুইন জাতের আনারসের জন্য রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় বিখ্যাত হলেও কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় আগাম হানি কুইন আনারসের ব্যাপক ফলন হয়েছে। তবে বাজারে চাহিদা না থাকায় সংকটে পড়েছেন চাষিরা। ফলে বাগানেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে পাকা হানি কুইন আনারস।
রাঙ্গামাটি জেলায় সাধারণ জায়েন্ট কিউ ও হানি কুইন নামের দুই জাতের আনারস চাষ হয়ে থাকে। জেলার নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি ও বরকলসহ বিভিন্ন উপজেলায় হানি কুইন জাতের আনারস বেশী চাষ হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলার খামাড়ি ঢলা চান চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে এবছর ব্যাপকহারে হরমোন প্রয়োগ করায় আগাম হানি কুইন জাতের আনারসের ব্যাপক ফলন হয়েছে। মূলত মে ও জুন মাসে আনারস বাজারে আসলেও এবার জানুয়ারিতেই আনারস বাজার আসতে শুরু করেছে।
নানিয়ারচর উপজেলার খামারি আব্দুল করিম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিশেষ পদ্ধতিতে হরমোন ব্যবহার করে সারা বছর উৎপাদন হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল এই জাতের আনারস। আকারে বড়, স্বাদে মিষ্ট হলেও বাজারে এই আনারসের ক্রেতা নেই। দাম কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
কৃষক ও বিক্রেতারা জানান, বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আনারস কৃষকরা ইঞ্জিন বোটে করে রাঙ্গামাটি শহরের সমতাঘাট, তবলছড়ি, পৌর ট্রাক টার্মিনাল এবং রির্জাভ বাজারে নিয়ে আসছে। সেখান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ট্রাকে করে জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই আনারসের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও বিক্রেতাদের।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে সার সংকটে পেঁয়াজ চাষিরা, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা
৫২৬ দিন আগে