নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ায় স্কুলে জঙ্গি হামলা, ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ
নাইজেরিয়ায় গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুলে জঙ্গি হামলা ও অপহরণের ঘটনায় অন্তত ৮০টির বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার জিহাদি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক এসব জঙ্গি হামলা স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির একাধিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় ৮০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ সময় আসকিরা উবা ও চিবক এলাকায় অবস্থিত ওই স্কুল থেকে ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বোর্নো রাজ্যের সাম্বিসা বনাঞ্চল-সংলগ্ন মুসা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাইজেরিয়ায় সাম্বিসা বন জঙ্গি অধ্যুসিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই বনে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী আইএসডব্লিউএপির শক্ত ঘাটি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যের দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী।
অ্যামনেস্টির নাইজেরিয়া শাখা জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪০ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। ওয়ো অঙ্গরাজ্যে এর আগে অপহরণের ঘটনা সচরাচর দেখা যায়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপহরণের আতঙ্কে অনেক শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, অনেক পরিবার হামলা থেকে বাঁচাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। এসব মেয়ে শিশুদের বাল্যবিয়েতে বাধ্য করছে তাদের পরিবার।
এদিকে, মুসা গ্রামের সরকারি কর্মকর্তা পিটার ওয়াব্বা জানান, ওয়ো রাজ্যে অপহৃত শিশুদের সংখ্যা ৪৮ জন।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, তারা অপহৃত শিশুদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’
অপরদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ প্রায়ই জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আর বাস্তবায়ন করে না। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলার শিকার ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ মে) ওয়ো রাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র আয়ানলাদে ওলায়িঙ্কা জানান, ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলে হামলার ঘটনায় তিনজন বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। হামলাটি করা হয়েছিল ওরিইরে এলাকায়। ওরিইরে লাগোস শহর থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওলায়িঙ্কা বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।
নাইজেরিয়ায়, বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে স্কুল থেকে শিশু অপহরণ একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটিতে গত বছরও স্কুলে দুটি বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় ৩ শতাধিক শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো স্কুলকে তাদের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ, স্কুলে হামলা চালালে দ্রুত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাওয়া যায়।
১২ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় শতাধিক নিহত, দায় অস্বীকার সেনাবাহিনীর
নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যের একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ নিহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার (১০ মে) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তুমফা এলাকার একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ওই রাজ্যের রেড ক্রস কর্মকর্তা ইব্রাহিম বেলো গারবা এ ঘটনাটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপিকে বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তারা সবাই সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল তরুণী ও শিশু।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এপিকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করছে, গণমাধ্যমে যেভাবে বেসামরিক হতাহতের দাবি করা হচ্ছে, তার সঠিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কখনোই আমাদের লক্ষ্য নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে বলে জানান তিনি।
গত মাসেও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীর ভুলবশত চালানো এক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছিল। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগটি নাইজেরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভুলবশত সামরিক বিমান হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে এনেছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহতের পেছনে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর আগেও সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, অভিযানের সময় তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে থাকে। এ কারণে আলাদা করে তাদের চিহ্নিত করা সেনাবাহিনীর জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ফলে নিহত হয় সাধারণ মানুষ।
১৭ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২০
নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একটি জনপদে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে নাইজেরিয়ার জোস নর্থ এলাকার গারি ইয়া ওয়ায়ে কমিউনিটিতে এই হামলাটি ঘটে বলে জানান প্লাটো রাজ্যের তথ্য কমিশনার জয়েস লোহিয়া রামনাপ। হতাহতের সংখ্যা না জানালেও তিনি বলেন, উদ্বেকজনক হারে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, হামলা প্রতিরোধ করতে রাজ্য সরকার ৪৮ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে থাকা কিছু বন্দুকধারী এলাকায় এসে হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইবুকুন ফালোদুন নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই আকস্মিক হামলায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্লাটো রাজ্যের এই হামলাগুলো মূলত উত্তর-মধ্য নাইজেরিয়ার দীর্ঘদিনের সহিংসতা চক্রের একটি অংশ। প্রধানত মুসলিম ফুলানি পশুপালকদের সাথে খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়গুলোর জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই সহিংসতা চলে আসছে।
৬১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় গির্জায় হামলায় ৫০ জনের বেশি নিহতের আশঙ্কা
দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজেরিয়ার একটি ক্যাথলিক গির্জায় রবিবার প্রার্থনাকারীদের ওপর বন্দুকধারীদের গুলি ও বিস্ফোরণে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির রাজ্য আইনপ্রণেতারা।
আইনপ্রণেতা ওগুনমোলাসুয়ি ওলুওলে বলেছেন, রবিবার প্রার্থনাকারীরা পেন্টেকস্টে জড়ো হলে ওন্ডো রাজ্যের সেন্ট ফ্রান্সিস ক্যাথলিক গির্জাকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।
নাইজেরিয়ার নিম্ন আইনসভা চেম্বারের ওও এলাকার প্রতিনিধি অ্যাডেলেগবে তিমিলেইন বলেছেন, গির্জার প্রধান পুরোহিতকেও অপহরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরে হামলাকারীর গুলিতে ২ হিন্দু নাগরিকের মৃত্যু
রবিবার এক টুইটবার্তায় ওন্ডোর গভর্নর রোটিমি আকেরদোলু বলেছেন, ‘আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমাদের শান্তি ও প্রশান্তি জনগণের শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।’
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তিমিলেইন বলেছেন, অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে, যদিও অন্যরা সংখ্যাটা আরও বেশি বলছেন।
তবে এ হামলার জন্য কারা দায়ী তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। নাইজেরিয়ার অধিকাংশ এলাকা নিরাপত্তা সমস্যা নিয়ে লড়াই করলেও ওন্ডো দেশটির সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ রাজ্যগুলোর একটি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
আরও পড়ুন: মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বহরে হামলায় নিহত ১, আহত ৩
নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে হামলাটি কীভাবে হলো বা সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কি না সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
ওও লাগোস থেকে প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার (২১৫ মাইল) পূর্বে অবস্থিত।
আইনপ্রণেতা ওলুওল বলেন, ‘ওওর ইতিহাসে আমরা এমন ভয়াবহ ঘটনার সম্মুখীন হইনি। এটা অনেক বেশি।’
১৪৫৪ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তাবাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি দলকে পাহারা দেয়ার সময় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত হয়েছে।
২৩৪৬ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় পুলিশের গুলিতে শিয়া গ্রুপের ১৫ জন নিহত
নাইজেরিয়া, ১১ সেপ্টেম্বর (এপি/ইউএনবি)- নাইজেরিয়ার সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত শিয়া মুসলিম গোষ্ঠী বলেছে, তাদের মিছিলে পুলিশের চালানো গুলিতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
২৪৫৩ দিন আগে