জকসু
ভিপি-জিএসসহ জকসুর বেশিরভাগ পদে শিবিরের জয়জয়কার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২১টি পদের বেশিরভাগ পদেই তারা জয়লাভ করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তাফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে বিজয়ী হন।
ভিপি পদে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পান ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। এতে রিয়াজুল ইসলাম ৮৮০ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
জিএস পদে আরও বড় ব্যবধানে জয় পান ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের আব্দুল আলিম আরিফ। তিনি ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পান ২ হাজার ২০৩ ভোট। এ পদে আরিফের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩ হাজার ২৬৭ ভোট।
এজিএস পদে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদের মাসুদ রানা ৫ হাজার ২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএম আতিকুর তানজিল পান ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট।
নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ জানান, জকসু নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই হলে নিবন্ধিত ১ হাজার ২৪২ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ ছাত্রী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
৭ দিন আগে
জকসুর ১৪ কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ, ভিপি পদে এগিয়ে রাকিব
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ১৩টি বিভাগ ও ১ অনুষদের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মোট ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্যানেল।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সকাল থেকে ফল ঘোষণা শুরু হয়।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ ভোট। ফলে ভিপি পদে মোট ভোটের হিসাবে রাকিব এগিয়ে রয়েছেন ২৪৭ ভোটে।
এদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোট ভোটে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ছাত্রশিবিরের জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ১ হাজার ৫৮৭ এবং ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৭৯৩ ভোট, এজিএস পদে মাসুদ রানা ১ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন; বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব ভূগোলে ৯১, নৃবিজ্ঞানে ১১৮, লোক প্রশাসনে ১৩২, ফার্মেসিতে ৫৩, ফিন্যান্সে ২৩১, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪৬, জিন প্রকৌশলে ৩৯, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৯৪, চারুকলায় ১০৬, জৈব রসায়নে ৫৭, দর্শনে ১৭৫, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ১৮৭ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ২১৪ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম ভূগোলে ১০০, নৃবিজ্ঞানে ১২৮, লোক প্রশাসনে ১২২, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৩৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৭, জিন প্রকৌশলে ৫১, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৬, চারুকলায় ২১, জৈব রসায়নে ৮৯, দর্শনে ১১১, প্রাণিবিদ্যায় ১২৮, মার্কেটিংয়ে ২০০ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৫ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ৭৩, লোক প্রশাসনে ৬২, ফার্মেসিতে ২৬, ফিন্যান্সে ১১৩, অনুজীবে ৩২, জিন প্রকৌশলে ১৮, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৫৩, চারুকলায় ৩৬, জৈব রসায়নে ৩২, দর্শনে ৮০, প্রাণিবিদ্যায় ৬৮, মার্কেটিংয়ে ৮৬ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ৬৯ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্র শিবির সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ভূগোলে ৯০, নৃবিজ্ঞানে ১২৩, লোক প্রশাসনে ১২৩, ফার্মেসিতে ৮৩, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮৫, জিন প্রকৌশলে ৪৬, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১১২, চারুকলায় ১৮, জৈব রসায়নে ৯৮, দর্শনে ১৩৫, প্রাণিবিদ্যায় ১৫৪, মার্কেটিংয়ে ২১৪ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৪৩ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল ভূগোলে ৪৫, নৃবিজ্ঞানে ১২৬, লোক, প্রশাসনে ১০৬, ফার্মেসিতে ৪৫, ফিন্যান্সে ১৭৮, অনুজীব বিজ্ঞানে ৪০, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ৮০, চারুকলায় ৮২, জৈব রসায়নে ৪২, দর্শনে ১২৪, প্রাণিবিদ্যায় ১০৮, মার্কেটিংয়ে ১৫৩ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১৩৮ ভোট পেয়েছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী মাসুদ রানা ভূগোলে ৯৮, নৃবিজ্ঞানে ১০২, লোক প্রশাসনে ১৩০, ফার্মেসিতে ৭৮, ফিন্যান্সে ১৬৩, অনুজীব বিজ্ঞানে ৮১, জিন প্রকৌশলে ৪২, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১০৫, চারুকলায় ১২, জৈব রসায়নে ৯০, দর্শনে ১১৯, প্রাণিবিদ্যায় ১৩১, মার্কেটিংয়ে ১৯৫ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ১২০ ভোট পেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেকক্ষণ স্থগিত ছিল। এরপর ম্যানুয়াল ও মেশিন—উভয় পদ্ধতিতে গণনা শুরু হলেও তা শেষ করতে পারেননি নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ৫ ঘণ্টা পর পুনরায় ভোট গণনা শুরু হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম ফল ঘোষণা করা হয়। এখনও ২৫টি কেন্দ্রের ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
৮ দিন আগে
জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা: ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আটটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধান রয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এ তিনটি শীর্ষ পদেই শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ পরিষদ এগিয়ে রয়েছে।
ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৮১০ ভোট পেয়েছেন। তবে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী একেএম রকিব মাত্র ৬ ভোট কম পেয়ে ৮০৪ ভোট পেয়েছেন।
জিএস পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ ৮২৫ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪২২ ভোট । এজিএস পদে শিবির প্রার্থী মাসুদ রানা ৭৯৯ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছেন, ছাত্রদলের প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৬৯০ ভোট।
শীর্ষ তিনটি পদ ও বেশিরভাগ সম্পাদক পদে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও ছাত্রদলের কিছু প্রার্থীও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা দীর্ঘ সময় স্থগিত রাখা হয়েছিল । পরে ম্যানুয়াল ও মেশিন উভয় পদ্ধতিতে গণনা পুনরায় শুরু হয়।
পাঁচ ঘণ্টার বিরতির পর গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে গণনা আবার শুরু হয়, তবে আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুধু ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৩১টি ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা এখনও চলছে।
এখন পর্যন্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগ, লোক প্রশাসন, ভূগোল ও পরিবেশ, ফার্মেসি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, ফাইন্যান্স এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
জকসুর শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর ছাত্রদলের হামলা চেষ্টার অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদলের দিকে উঠেছে এই অভিযোগের আঙুল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজ উল ইসলাম বলেন, ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি দিচ্ছিল। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে আমাদের প্রার্থীরা অবহিত করেন, তখন ছাত্রদল আমাদের প্রার্থীদের ওপর মারার জন্য চড়াও হয়ে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের প্রতি পক্ষপাত করছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের ভাইয়েরা প্রথম থেকে প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। আমাদের যে ভাইয়েরা স্লিপ দিচ্ছিলেন, তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল তাদের প্যানেল পরিচিতি অন্যান্য বিভাগের মতো দর্শন বিভাগে দিতে থাকে। আমাদের এজেন্ট বাধা দিলে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারতে আসে।
৯ দিন আগে
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জকসুর ভোটগ্রহণ চলছে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
শীতের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল সংসদ নির্বাচনও হচ্ছে।
এই নির্বাচনে মোট ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়া হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি ভোটকেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য এবং একটি পৃথক কেন্দ্র হল সংসদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা ও নেতৃত্ব বিকাশে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে শৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন মোট ১২ জন প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। আর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন ৮ জন।
অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, গপাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে, নারী হল সংসদে ১৩টি পদের মধ্যে ভিপি পদে ৩ জন, জিএস পদে ৩ জন, এজিএস পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক পদে ২ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন এবং চারটি সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের ভোট দুটি আলাদা ব্যালটে নেওয়া হবে। আবাসিক হলের ছাত্রীরা দুটি ব্যালটে হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ মোট ৩৪টি ভোট দিতে পারবেন। আর অনাবাসিক ভোটাররা শুধু কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ভোট দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
৯ দিন আগে
জকসু ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিষয়ে দায়সারা উত্তর, প্রতীকী প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রণয়ন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং পুরান ঢাকায় দুটি হল নির্মাণকাজের অগ্রগতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের দায়সারা আচরণের প্রতিবাদে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৬ আগস্ট) উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে একটি চেয়ারে প্রশাসন লেখা বসিয়ে, নানা ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড টাঙিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় প্লাকার্ডে ছাত্র সংসদ কবে হবে? দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ কবে শুরু হবে? পুরান ঢাকায় দুইটি হলের কাজ কবে হবে? সম্পূরক বৃত্তি কবে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তরে ওই চেয়ারে ‘আলহামদুলিল্লাহ’; ‘চিঠি পাঠিয়েছি’; ‘বের হয়ে যাও’; ‘হচ্ছে, চলছে, চলমান’; ‘৮টা টু ৮টা’ লিখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের সুদীর্ঘ আন্দোলনের ফসল দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং দুটি হল হাবিবুর রহমান ও বাণী ভবনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনের দায়সারা উত্তরের প্রতিবাদেই এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও সম্পূরক বৃত্তির নীতিমালা নিয়েও জবি প্রশাসনের হেয়ালিপনার প্রতিবাদ জানান তারা।
আরও পড়ুন: জকসু নির্বাচনসহ দুই দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
এ বিষয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চলমান নীরবতা শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবহেলার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, যেমন সম্পূরক বৃত্তি প্রদান ও জকসু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা, জবি শিক্ষার্থীরা, আজ প্রতীকী জবাবদিহিতা কর্মসূচির মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছি, এই নীরবতা চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। বিশ্ববিদ্যালয় কারো দয়ায় নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকারে চলবে।’
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই জবাবদিহিতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটা অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রতিবাদ। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যাদের আশা করে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য গেইট লক কর্মসূচি পালন করলাম, তারা আজ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিয়ে উদাসীন। আবাসন, ভাতা, ছাত্র সংসদ, সবখানেই ব্যর্থতা! যমুনার সামনে রক্ত দিয়ে যাদের জাগাতে চেয়েছি, তারা এখন ইউজিসি থেকে আমাদের প্রাপ্য বৃত্তিও আনতে অক্ষম। আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ, দুটি হলের কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আমাদের আজকের এই প্রতীকী জবাবদিহিতা তাদের ব্যর্থতা ও গাফিলতির নগ্ন মুখোশ খুলে দিতেই!
এর আগে, জকসু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে দুই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন তিনি। জকসু নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী নন, বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এ ছাত্র সংসদ (জকসু) বিষয়ে কোনো বিধান না থাকায় বিগত ২০ বছরে তা গঠনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত ২ জানুয়ারি ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় জকসু গঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। পরে গত ৭ মে ১০০তম বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থী ও সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আরও একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। গত ১২ মে ও ১৫ মে যথাক্রমে শিক্ষার্থী ও সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামত আহ্বান করা হয়। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে উচ্চতর কমিটি এখন গঠনতন্ত্রকে আইন আকারে প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
১৬২ দিন আগে
জকসু কমিটি হলেও আশানুরূপ অগ্রগতি নেই
জবি, ১২ সেপ্টেম্বর (ইউএনবি)- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করলেও আশানুরূপ কোন অগ্রগতি নেই।
২৩১৭ দিন আগে