পিটিয়ে হত্যা
বরিশালে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা, জড়িত অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চরহোগলা গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম খোরশেদ সিকদার (৬৫)। পুলিশের সামনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও সংঘর্ষ থামাতে এবং খোরশেদ সিকদারকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোরশেদ সিকদারকে কয়েকজন মিলে বেদম মারধর করছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনেই ঘটছে এ ঘটনা। পুলিশ সদস্যরা হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। চেয়ার আর লাঠির উপর্যুপরি আঘাতে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোরশেদ সিকদার। পরে তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতেই বিষয়টি জানানো হয়।
মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ জানান, ঘর নির্মাণের পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যাক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল।
৭ দিন আগে
মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় চাঁদপুরে কৃষককে ‘পিটিয়ে হত্যা’
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ পাঁচ সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ফাইম মিয়াজী (২৪), মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের রিফাত বেপারী ও রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় জাকির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হঠাৎ হামলা চালান। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান জাকির।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। টানা ১৩ দিন ঢামেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল (রবিবার) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজীর ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে।
বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্তদের নামে নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
২১ দিন আগে
রাজশাহীতে বিএনপির দুপক্ষের বিরোধে এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিএনপির কর্মীরা নিজ দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি সিপাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদের অনুসারী ছিলেন।
অভিযুক্তরা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী। তিনি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, গতকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা মসজিদে বসে একটি ইসলামি জলসা আয়োজন করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। এ সময় একপক্ষ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করতে চান। আর অপরপক্ষ স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ চাঁদকেই প্রধান অতিথি করতে চান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কিতে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ঘটনার বিবরণে তিনি আরও জানান, তর্কাতর্কির পর রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই সময় চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী সাইদুর রহমান, গাজী, সুমন আলী, সাব্বির, আশাদুল, জোয়াদসহ কয়েকজন। তারা এরশাদ আলীকে দেখতে পেয়ে লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তার বাড়ির পাশেই ঘটনাটি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পরই পালিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। আর নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৩০ দিন আগে
ফরিদপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ফরিদপুরে দড়ি টাঙানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটের মোল্লাবাড়ী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম জুয়েল আহমেদ। তিনি ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ভাঙ্গারী মালের ব্যবসায়ী বিহারী মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজ (শুক্রবার) সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলের বাড়ির প্রবেশপথে দড়ি টাঙানোর সময় অযাচিত শব্দ ও উশৃঙ্খল আচরণ করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা লাঠি ও রড দিয়ে জুয়েল ও তার ছোট ভাই সোহেলকে পিটিয়ে জখম করেন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩১ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের জাওলার বাজারে ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম লেবু মণ্ডল; অপরজন ময়নুল ইসলাম। উভয়ের বাড়িই পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর ঢাকা থেকে নাসিমা ও তার স্বামী নিজের বাড়ি সাদুল্লাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা খোর্দ্দ কোমারপুর মাদারহাট সেতুতে পৌঁছালে দুই যুবক তাদের পথরোধ করে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এসে ওই দুই যুবককে ধাওয়া করে। তারা জাওলার বাজার এলাকায় আশ্রয় নিলে লোকজন তাদের দুইজনকে পিটুনী দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাদের পিটুনী দেওয়া হলে তারা নিহত হন। নিহত লেবু মন্ডলের নামে হত্যা, ডাকাতি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
৩৭ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৪৪ দিন আগে
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: অবশেষে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ২
কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে নিহত রুবি বেগমের মেয়ে রিক্তা আক্তার মামলাটি করেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে আকবপুর এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন— সবির আহমেদ ও নাজিমউদ্দীন বাবুল।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে কড়ইবাড়ি গ্রামে মোবাইল চুরির সন্দেহে খলিলুর রহমানের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় গ্রেপ্তার
আটক দুজনকে সেনা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেছেন, আটক দুজনকে আজই কুমিল্লা আদালতে তোলা হবে।
এদিকে, শুক্রবার রাতে পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে কয়েকজন মাদরাসা শিক্ষার্থীকে দিয়ে নিহতদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
২৬৮ দিন আগে
গাজীপুরে চোর অপবাদ দিয়ে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা, কারখানা বন্ধ ঘোষণা
গাজীপুরের কাশিমপুর রোডে একটি পোশাক কারখানায় ইলেকট্রিক মেকানিককে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই লিটন বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (৩০ জুন) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ জুন) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে শনিবার (২৮ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করায় ঘটনাটি দেরিতে প্রকাশ পেয়েছে। এরপর থেকে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, নিহত ইলেকট্রিক মেকানিক হৃদয় হোসেন (১৯) টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার শুকতারবাইদ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। তিনি মা ও বোনের সাথে কোনাবাড়ীর হারিনাবাড়ী এসরারনগর হাউজিং এলাকায় মিরাজের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রিনল্যান্ড লিমিটেড গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ডাইং সেকশনের ইলেকট্রিক মেকানিক হিসেবে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ মিঠুন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার হাদিরা বাজার এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন কুদ্দুসনগর এলাকায় আয়নালের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ জুন) সকালে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হৃদয়ের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। দুপুরের দিকে হৃদয় মারা যায়। ঘটনার খবর আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও ময়মনসিংহে চালু হচ্ছে সব ধরনের অনলাইন জিডি
পরে, প্রায় ৪০০-৫০০ শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসে গ্রীনল্যান্ড গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হৃদয় হত্যার বিচার দাবি করেন। এ সময়ে তারা কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষ গার্মেন্টসের মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে (২৮ জুন শনিবার) কতিপয় লোক হৃদয়কে দড়ি দিয়ে হাত-পিঠ বেঁধে কারখানার ভিতরে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। পরে ওই কক্ষে তার ওপর অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। শনিবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে কারখানা ভেতরে একটি এম্বুলেন্স প্রবেশ করতে দেখা যায়। মৃত অবস্থায় হৃদয়কে নিয়ে ১০টা ২১ মিনিটে এম্বুলেন্সটি কারখানা ত্যাগ করে।
হৃদয় মারা যাওয়ার পর তার শরীরের একাধিক ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। তাতে তার হাঁটুতে, কোমরে, পিঠে, হাতের কব্জিতে, কনুইতে, হাতের নখে, গলায়, মুখমন্ডলে রক্তাক্ত ও কালচে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এসব থেকে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা অনুমান করা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভিতরে নির্যাতনের তার মৃত্যু হওয়ার পর বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে আহত দেখিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে বলে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে স্থানান্তর করে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদি লিটনের মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৮ জুন বিকাল সাড়ে ৪টার সময় বাদীর মা মোবাইলে ফোন করে বাদীকে জানায় যে, গত ২৭ জুন রাত্র আনুমানিক ৮টার দিকে হৃদয় খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসা থেকে বের হয়ে ডিউটির উদ্দেশ্যে যায়। এরপর থেকে সে এখন পর্যন্ত বাসায় ফিরে আসেনি।
এই সংবাদ পেয়ে বাদী তাৎক্ষণিক মায়ের বাসায় এসে মাকে নিয়ে হৃদয়ের অফিসে যায়। সেখানে গিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন যে হৃদয়ের হত্যার ঘটনায় গ্রিণল্যান্ড লিমিটেড ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা টাঙ্গাইল-গাজীপুরগামী মহাসড়কের রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।
তখন পরিবারের লোকজন হৃদয়ের লাশের সন্ধান করলে কারখানার লোকজন জানায় যে, হৃদয়ের লাশ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। পরে পরিবারের লোকজন হাসপতালে উপস্থিত হয়ে হৃদয়ের লাশ শনাক্ত করে।
মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, ওই সংবাদ পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ও হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হাসপাতালে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির আগের আদেশ স্থগিত
এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে একজন চোর কারখানার দেয়াল টপকে ভিতরে আসার সময় ড্রেনে পরে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ওসি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা শোনার পর কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও হত্যায় ব্যবহৃত অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা হত্যাকান্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মামলার অজ্ঞাত আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২৭২ দিন আগে
ঝিনাইদহে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নায়েব আলী (৬২) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নায়েব আলী উপজেলার মালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার (২৮ মে) সকাল ১০টার দিকে নায়েব আলী বাড়ির পাশে বসে ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ইউনুছ আলী ও তার ছেলে আল-আমিন এসে তার ওপর হামলা চালায়।
তারা বাশের লাঠি দিয়ে তাকে উপর্যপুরি পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশিরা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব আলীর বোনের জমি কিনেছে প্রতিবেশি ইউনুছ আলী। ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে এ বিরোধের জেরে নায়েব আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার খালিদ হাসান বলেন, “নায়েব আলী আগেই মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে লাঠির আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা গেছেন।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম হাওলাদার জানান, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আসামিদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
৩০৫ দিন আগে
গাছের ডাল কাটায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আম গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (৭ মে) পৌনে ৬টার দিকে উপজলোর কশোরপাড় ইউনয়িনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেশারপাড় দক্ষিণ পাড়া ক্লাবঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম (৬৫) ওই এলাকার প্রয়াত আবুল হাশেমের ছেলে।
আরও পড়ুন: সংকট মেটাতে শিল্পে বাড়তি ২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত: উপদেষ্টা
নিহতের পরিবার জানায়, স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন আবুল কাশেম। মঙ্গলবার বিকালে প্রতিবেশী হানিফ কাশেমকে তার বাড়ির আম গাছের ডাল সীমানার বাইরে চলে গেছে বলে গালি দেন। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হন কাশেম। এ সময় হানিফ, তার ভাই মিঠু, হিরণ ও টিটু কাশেমকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে ফেলে যান। সেখানে তার কান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পেয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩২৬ দিন আগে