পুশইন
পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ‘আলো নিভিয়ে’ ৩ নারীকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ৩ ভারতীয় নারীকে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনার পর সীমান্তে টহল আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করেছে বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ৩ নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় প্রধান পিলার ৮৩৪-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দেয় বিএসএফ। এ সময় পুশইনের জন্য আনা ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাহিনীটি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই তিনজনকে পুনরায় ভারতের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় প্রায় ২২ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন তারা।
ঘটনার পর গতকাল দুপুর ১টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খড়খড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন এবং ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন অংশ নেন।
৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারলে দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলুন: সরকারকে নাহিদ
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির নাম থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর বিভাগীয় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের প্রতি আমাদের আহ্বান, যদি দেশ পরিচালনা সঠিকভাবে করতে হয়, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারেন, তাহলে নিজেদের দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলে দেন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদের দেশপ্রেমিক দেখাবেন, অথচ সীমান্ত হত্যা, পুশইন রোধ করতে পারবেন না, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেন্ট দেবে না।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে যে আর কোনো ঋণ দেবে না। পৃথিবীর কোনো দেশই তাদের সহযোগিতা করবে না। গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করলে কেউই সহযোগিতা করবে না।
তিনি আরও বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল; গণঅভ্যুত্থানের সিপাহ সালার ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কী হয়েছিল? বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, এখন সেই গণভোটের সঙ্গেই তারা প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নাহিদ আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারও বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাজেটে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো কীভাবে ঠিক হবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা কীভাবে ফেরত আসবে—কোনো ধরনের সুপরিকল্পনা এই সরকারের নেই। ফলে আমরা বলব, আপনি (তারেক রহমান) এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। দেশ চালাতে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দঁড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলতেই হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনও ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল; কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার এত অসম্মানজনকভাবে, কাপুরুষোচিত ভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে যে তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনও রাখবেন না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লিকে মেসেজ (বার্তা) দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেইসব তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।
এ সময় সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি বাস্তবায়নে অচিরেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক আসবে বলে জানান তিনি। সেই আন্দোলনে সফল হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, বক্তব্যের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুদৃষ্টি, সুনজর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছেন না।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৫ দিন আগে
চাঁপাই সীমান্তে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ ওই ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বিজিবির মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাত ১১টার দিকে চকপাড়া সীমান্তের ১৮৩/৩-এস নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন এলাকায় ভারতের বিএসএফের ১১৯ ব্যাটালিয়নের মল্লিক-সুলতানপুর ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের ফ্লাডলাইট (বর্ডার সিকিউরিটি লাইট) বন্ধ করে দেয়। এরপর ১২ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় তারা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির টহল দল। এ সময় সীমান্ত পাহারায় বিজিবির সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। পুশইনের জন্য আনা ১২ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ৬০০ গজ অভ্যন্তরে মুসলিমপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিল। তবে বিজিবির কড়া অবস্থান এবং গ্রামবাসীর উপস্থিতির কারণে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ।
একপর্যায়ে আজ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএফ ওই ১২ জনকে ভারতের মালদা হোল্ডিং সেন্টারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
১২ দিন আগে
দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবি দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ৯ জনকে ভারতে 'ফিরিয়ে নিয়েছে' বিএসএফ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে নওগাঁ-১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু ছিল। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তারপর ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, বিকেলের দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরে বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ জনকে প্রশ্নের চেষ্টার প্রতিবাদে এবং পুশইন ঠেকাতে সন্ধ্যার দিকে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারতীয় অংশে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের অংশে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শূন্যরেখায় ওই ৯ জন তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর মানবেতর জীবনযাপন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জন চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে।
নওগাঁ সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের তিনটি সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।
তারা জানান, গতকাল রাত ১০টার পরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ তাদের সীমান্তে সার্চলাইটগুলো পুনরায় জ্বালিয়ে দেওয়ার পর সেখানে ওই ৯ জনকে আর শূন্যরেখায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে রাতের আঁধারে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় অংশে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯জন আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ গতকাল দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পুশইন এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গত ৫ জুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত, ৮ জুন পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এবং সর্বশেষ ২৪ জুন সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের তিনটি পুশইন মিশন ব্যর্থ হয়।
২১ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় অবস্থান
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশ ইন) করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার আদাতলা সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতীয় ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩টি শিশু রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত চৌকির (বিওপি) বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই ৯ জনসহ বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলছে।
২২ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
শনিবার (২০ জুন) সকালে এ তথ্য জানান বিজিবির মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি জানান, গতকাল (শুক্রবার) গভীর রাতে বিএসএফ অবৈধভাবে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির চৌকা বিওপির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশকারী ২০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং চারজন শিশু ছিল। তারা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করতে থাকে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় আজ (শনিবার) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনার পর বিএসএফ ওই ২০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশইন ও অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
২৬ দিন আগে
চার দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে পুশইনের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে চার দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপঅধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অপরদিকে, বিএসএফের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে সেদিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।
বৈঠকে বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চায়।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এছাড়া সেখানে রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, মশার উপদ্রব, প্রায় দুই সপ্তাহ গোসলের সুযোগ না পাওয়া এবং তীব্র গরমে পাটখেতে মানবেতর জীবনযাপনের কারণে ১২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা নেওয়া হবে।’
৩১ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তবাসীর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল জানায়, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টার দিকে ১০-১২ জনকে বহন করা একটি গাড়ি সীমান্তে দাঁড়ায়। ওই গাড়িতে থাকা লোকদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেন বিএসএফ ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি দিয়ে পুশইন রোধে মাইকিং করে গ্রামবাসী ও বিজিবি। কিছুক্ষণ এসব লোকদের শুন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুশইন রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যেকোনো ধরনের পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সকল ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৩৩ দিন আগে
ভারত থেকে ‘পুশইন’ শঙ্কায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা
ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রবিবার (৮ জুন) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে দিনরাত টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা দেখা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাড়তি সতর্কতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
৩৮ দিন আগে