পুশইন
নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্র জানায়, সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ভারতীয় শূন্যরেখার অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে। ওই ১৭ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, পুশইনের খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশব্যাক) কার্যক্রম চলছে।
১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার পর ২৮ জন এখনও শূন্যরেখায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা পুশইনের চেষ্টার পর ২৮ জন ব্যক্তি এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএসএফ।
নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি টহল দল তাদের বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার এবং পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে তারা ঘটনাটি স্বীকার করে।
আজ (শুক্রবার) সকালে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছিল বিষয়টি তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হবে। তবে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
আরিফুল ইসলাম মাসুম আরও জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকরা হচ্ছে এবং সীমান্তে নতুন করে কোনো পুশইনের ঘটনা ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
লালমনিরহাট সীমান্তের পৃথক তিনটি পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও সীমান্তবাসী জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১১ জন, পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর দীঘলটারী সীমান্ত এলাকায় আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
খবর পেয়ে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞাপ্তিতে জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১ দিন আগে
এবার চাঁপাই সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্য রেখায় ২৮ জন
সাতক্ষীরার পর এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বাঙ্গাবড়ি বিজিবির সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ায় তারা সীমান্তের শুন্য রেখায় অবস্থান করছেন।
বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানো হয়। তবে বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আসতে পারেনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, পুশইন করা ২৮ জনের মধ্যে ১২ পুরুষ, ১০ নারী ও ৬ শিশু রয়েছে। রাতে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠান ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশরোধে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের পুশব্যাক করা হবে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারে বিএসএফের চৌকিগুলোতে জনবল বাড়ানো হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন। এপারে বিজিবিও টহল জোরদারসহ সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।
২ দিন আগে
বেনাপোল সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিল বিএসএফ
বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে শূন্যরেখায় জড়ো করা ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি।
এদিকে, শূন্যরেখা থেকে ১০-১২ জনকে সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল কার্যক্রম চলছে।
গত রবিবার (৩১ মে) রাত থেকে সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০-১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিল।
বিজিবি জানায়, কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বিএসএফ এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। সে সময় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।
আটকে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাংলাদেশি নাগরিক কিনা, এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে বিজিবি অস্বীকৃতি জানায়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা।
এর আগে, গত ৩১ মে রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের ভারতীয় অংশে সেবারও ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে রাখা হয়েছিল।
এরপর পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গত ৩১ মে থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমাদের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
তিনি বলেন, ৩১ মে রাতে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকার সীমান্ত লাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেটি দেখার পর আমাদের আশঙ্কা হয়, ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা হতে পারে। আমরা একপর্যায়ে দেখতে পাই, ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে তারা গাড়ি থেকে নামিয়েছে। এরপর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়। এ সময় মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে বিএসএফকে সতর্ক করা হয়, যেন কোনোভাবে তারা পুশইনের চেষ্টা করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, তারপরও তারা কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০ থেকে ১২ জনকে বের করে দেয়। সেই ১০-১২ জন মানুষ শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থান করে। তাদের আমরা কোনোভাবেই আমাদের সীমান্তে আসতে দেইনি। আজ (বুধবার) সকাল থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। হয়তো বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করতে পারে।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না।
বুধবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুরে ভারত থেকে পুশইনের প্রতিবাদে সীমান্ত পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ রাতের আঁধারে চুপিসারে কাঁটাতারের বেড়া খুলে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা শুনতে পারছি সীমান্তের ওপারে অনেক মানুষকে তারা সমবেত করেছে। আমরা সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই পুশইন মেনে নেবে না এবং পুশইন বন্ধে সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা এখানে তাদের প্রবেশ করালো কীভাবে? যেখানে সরকার পতাকা বৈঠক করেছে, সেখানে কোনো সমাধান আসেনি। সরকারের যে পররাষ্ট্রনীতি এবং স্বরাষ্ট্রনীতি আছে, সেটা আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে; তা ভঙ্গুর নীতি, এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপদ করতে পারছে না।
তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আরও বলেন, যেখানেই সীমান্ত হত্যা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা আছি। আপনারা বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। দলমত নির্বিশেষে আপনারা পুশইনের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে যেকোনো সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শোয়েব মিয়া।
৩ দিন আগে
পুশইনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারীকে সন্তানসহ ফেরত
পুশইনের শিকার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা এক ভারতীয় নারী ও তার সন্তানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে আজ (শনিবার) নিশ্চিত করা হয়।
ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন— ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুর এলাকার দানিশ শেখের স্ত্রী সোনালি খাতুন (২৬) ও তার ৮ বছরের ছেলে সাব্বির শেখ।
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, পুশইনের শিকার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালি খাতুন ও তার সন্তান সাব্বির শেখকে ভারতীয় হাইকমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ আইসিপিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ জুন বিএসএফ সোনালি খাতুন ও তার ছেলেসহ ছয়জনকে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। এরপর তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠলে ২০ আগস্ট অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত সোমবার সোনালিসহ ৪ ভারতীয় নাগরিককে জামিন দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
১৮২ দিন আগে
এবার ২১ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন থামছেই না। এবার শেরপুরে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে রাতের আাঁধারে ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাকুগাঁও সীমান্ত এলাকার ১৪১৬ নম্বর সীমানা পিলারের মাঝখানের ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
পুশইন করা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের মধ্যে ৫ জন বয়স্ক পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১১টি শিশু রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান।
তিনি জানিয়েছেন, পুশইন হওয়া আটককৃতদের নাকুগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমকিভাবে তারা রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। তাদের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ভারতের মেঘালয়ের কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গতকাল গভীর রাতে ২১ জন রোহিঙ্গাকে পুশইন করেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে নাকুগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণা সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ ইন বিএসএফের
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতরা ৬টি পরিবারের সদস্য। তারা ২০১৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে যায় এবং সেখানে শ্রমিক হিসেবে হোটেলে ও বাসাবাড়িতে কাজ করতে শুরু করে। এক মাস আগে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে ছিল বলে পরিচয় দেয়। ভারতীয় পুলিশ পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাদের মেঘালয়ের ডালু সীমান্তে কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে আনা হয় এবং মধ্যরাতে রাতে নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকার ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই একইভাবে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে পুশইন করে বিএসএফ।
৩১৬ দিন আগে
বাংলাদেশকে চাপে রাখতেই পুশইন করছে ভারত: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে ও এ দেশের সরকারকে চাপে রাখতেই সীমান্ত দিয়ে অব্যাহত পুশইন করছে ভারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজের কালিবাড়িস্থ বাসভবনে জেলার আলেম-ওলামাদের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন একটি কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারত নিয়মিত পুশইন করে যাচ্ছে। জনগণকে ধরে নিয়ে এসে জোর করে আমাদের দেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
‘ন্যায্য পানির হিস্যা ভারত আমাদের দেয়নি। তার ওপর তারা আমাদের বর্ডারে পাখির মতো মানুষ মারে ও অবৈধ পুশইন করে। এতদিন এগুলো তারা করেনি, যেহেতু আওয়ামী সরকারকে এদেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে এবং হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাই তারা এসব শুরু করেছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশে জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে। র্যাবের লোকদের মাধ্যমে জঙ্গি মতবাদ দিয়ে মাদ্রাসার এতিম ছেলেদেরকে নিয়ে গিয়ে তাদের হাতে লিফলেট ঢুকিয়ে তাদের হত্যা করেছে। এসব ঘটনা বিগত আওয়ামী সরকার একটা না হাজারটা ঘটিয়েছে।’
আরও পড়ুন: লন্ডন বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আশা বাড়ছে: ডা. জাহিদ
মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সময়ে শেখ হাসিনা সরকার যে হত্যাকান্ড চালিয়েছে, এরকম হত্যাকান্ড তারা আগেও একটি ঘটিয়েছিল। সেটি হলো—শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড। রাতের অন্ধকারে মেশিনগান দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তারা।’
‘যেসব ছেলেরা অভ্যুত্থানের সময় বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে, সেসব ছেলেদের রক্তের বিনিময়ে সাধারণ জনগণের রক্তের বিনিময়ে আমরা সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছি। তাদের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন,’ যোগ করেন তিনি।নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের যে বৈঠক হয়েছে, তাতে সম্ভাব্য একটি নির্বাচনের সময় উঠে এসেছে। ফেব্রুয়ারি মাস সে সময় হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সঠিক দেশ নেতাকে বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পাবো।’
এসময় আরও ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরীফসহ জেলার আলেম-ওলামারা।
৩৫০ দিন আগে
মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে আরও ২০ জনকে পুশইন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার (১৮ জুন) ভোর পৌনে ৫টার দিকে ভারত থেকে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর মাসুদপুর বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের আটক করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ।
তিনি জানান, আটকদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৭ জন মহিলা ও ১০টি শিশু রয়েছে। তারা কুড়িগ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণা সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ ইন বিএসএফের
এ ছাড়া আটকদের নাম ও ঠিকানা যাচাইয়ের কাজ শেষে তাদের শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
কর্নেল ফাহাদ বলেন, ‘এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে জোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’
এর আগে, গত ৩ জুন জেলার ভোলাহাট উপজেলার চাঁনশিকারি সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে ও ২৭ মে গোমস্তাপুর উপজেলার বিভীষণ সীমান্ত দিয়ে ১৭জনকে পুশইন করে বিএসএফ।
৩৫৩ দিন আগে