পুশইন
দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবি দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
নওগাঁ সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ৯ জনকে ভারতে 'ফিরিয়ে নিয়েছে' বিএসএফ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করতে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে নওগাঁ-১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করে। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনটি শিশু ছিল। সংবাদ পাওয়ার পর আদাতলা সীমান্তে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তারপর ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জানানো হয়, বিকেলের দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরে বিকেলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ জনকে প্রশ্নের চেষ্টার প্রতিবাদে এবং পুশইন ঠেকাতে সন্ধ্যার দিকে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটেলিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারতীয় অংশে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের অংশে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শূন্যরেখায় ওই ৯ জন তপ্ত রোদের মধ্যে দিনভর মানবেতর জীবনযাপন করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯ জন চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে।
নওগাঁ সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর বিএসএফ তাদের তিনটি সার্চলাইট বন্ধ করে দেয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।
তারা জানান, গতকাল রাত ১০টার পরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ তাদের সীমান্তে সার্চলাইটগুলো পুনরায় জ্বালিয়ে দেওয়ার পর সেখানে ওই ৯ জনকে আর শূন্যরেখায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে রাতের আঁধারে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ভারতীয় অংশে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ৯জন আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সেখানে আর দেখা যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ গতকাল দিবাগত রাতে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পুশইন এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
গত ৫ জুন সাপাহার উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্ত, ৮ জুন পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এবং সর্বশেষ ২৪ জুন সাপাহার উপজেলা আদাতলা সীমান্ত দিয়ে অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের তিনটি পুশইন মিশন ব্যর্থ হয়।
১ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় অবস্থান
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশ ইন) করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে এসব ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর সাপাহার আদাতলা সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকার সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতীয় ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩টি শিশু রয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্ত চৌকির (বিওপি) বিজিবির টহলদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে ওই ৯ ব্যক্তি ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই ৯ জনসহ বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশ ব্যাক) কার্যক্রম চলছে।
২ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
শনিবার (২০ জুন) সকালে এ তথ্য জানান বিজিবির মহানন্দা ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি জানান, গতকাল (শুক্রবার) গভীর রাতে বিএসএফ অবৈধভাবে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির চৌকা বিওপির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশকারী ২০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং চারজন শিশু ছিল। তারা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করতে থাকে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় আজ (শনিবার) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনার পর বিএসএফ ওই ২০ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুশইন ও অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
চার দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে পুশইনের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে চার দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপঅধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অপরদিকে, বিএসএফের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে সেদিন বিকেলে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়।
বৈঠকে বিএসএফ দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চায়।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এছাড়া সেখানে রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, মশার উপদ্রব, প্রায় দুই সপ্তাহ গোসলের সুযোগ না পাওয়া এবং তীব্র গরমে পাটখেতে মানবেতর জীবনযাপনের কারণে ১২ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা নেওয়া হবে।’
১১ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তবাসীর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল জানায়, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টার দিকে ১০-১২ জনকে বহন করা একটি গাড়ি সীমান্তে দাঁড়ায়। ওই গাড়িতে থাকা লোকদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেন বিএসএফ ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি দিয়ে পুশইন রোধে মাইকিং করে গ্রামবাসী ও বিজিবি। কিছুক্ষণ এসব লোকদের শুন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুশইন রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যেকোনো ধরনের পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সকল ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১৩ দিন আগে
ভারত থেকে ‘পুশইন’ শঙ্কায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা
ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রবিবার (৮ জুন) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে দিনরাত টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা দেখা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাড়তি সতর্কতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
১৮ দিন আগে
৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ
প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার পর বিএসএফ শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশুসহ মোট ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে তারা আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন না।
এর আগে, বিএসএফ গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয় এবং সেখানেই টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা কাটায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শূন্যরেখায় অবস্থানকালে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, খোলা আকাশ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হয় তাদের। বিশেষ করে তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কয়েকজন শিশু থাকায় মানবিক সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শিশুদের কান্না, তীব্র রোদ ও রাতের অনিশ্চয়তা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
১৮ দিন আগে
নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্র জানায়, সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ভারতীয় শূন্যরেখার অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে। ওই ১৭ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, পুশইনের খবর পাওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশব্যাক) কার্যক্রম চলছে।
২১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার পর ২৮ জন এখনও শূন্যরেখায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা পুশইনের চেষ্টার পর ২৮ জন ব্যক্তি এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএসএফ।
নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বাঙ্গাবাড়ি বিওপির বিজিবি টহল দল তাদের বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার এবং পরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে তারা ঘটনাটি স্বীকার করে।
আজ (শুক্রবার) সকালে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছিল বিষয়টি তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। এরপর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিজিবিকে জানানো হবে। তবে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে ওই ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
আরিফুল ইসলাম মাসুম আরও জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকরা হচ্ছে এবং সীমান্তে নতুন করে কোনো পুশইনের ঘটনা ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২১ দিন আগে