স্বাস্থ্য খাত
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ, যেসব প্রতিশ্রুতি দিল সরকার
একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনকে টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত উল্লেখ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হয়নি। ফলে দেশের হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে, সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হবে সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো।
সরকার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে।
জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুশৃঙ্খল করতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সমন্বিতভাবে পূর্ণাঙ্গ ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মা, নবজাতক, শিশু ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকবে। অন্যদিকে, সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত করা হবে, যেখানে করোনারি কেয়ার ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো সুবিধাও থাকবে।
রোগী পরিবহনের দুর্ভোগ কমাতে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নে কাজ করছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির সমস্যা মোকাবিলায় বহুমুখী ও বহু-খাতভিত্তিক জাতীয় কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
ওষুধশিল্পের বিকাশে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। এলডিসি উত্তররণের পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধশিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন, উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়ক নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী একটি আধুনিক ও টেকসই ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে অতীতের অবহেলা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে হামের বিস্তার ঘটেছে এবং শিশু মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
চিকিৎসাশিক্ষার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইন্টিগ্রেটেড মডুলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে নতুন দক্ষতাভিত্তিক এমবিবিএস কারিকুলাম চালু করা হবে।
জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। দেশব্যাপী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ নারী হবে।
শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাত হিসেবে উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমানো, মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ।
১৫ দিন আগে
বাজেট ২০২৪-২৫: স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা
২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, '২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণের অগ্রগতি বজায় রাখতে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: দেশের সর্বোচ্চ বাজেট উপস্থাপন করতে পেরে গর্বিত অর্থমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর মতো এবারও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' রূপকল্প তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী
জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ অর্থবছর: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬.৭৫ শতাংশ
৭৫০ দিন আগে
এফবিসিসিআই-আইসিসির বৈঠক: ভারতের স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান
ভারতের স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতারা। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোল্ড চেইন অবকাঠানো নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহও প্রকাশ করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) এর মধ্যে বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭ আগস্ট) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাংলাদেশে সফররত আইসিসির ৪৩ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। আইসিসি এর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনটির মহাপরিচালক রাজিভ সিং।
এসময় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: এফবিসিসিআই -এর নতুন সভাপতি মাহবুবুল আলম
বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য অনেক ভালো অবস্থানে আছে। দিন দিন দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যা দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য একটি লাভজনক, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে; যা এ খাতের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে আইসিসি মহাপরিচালক রাজীভ সিং বলেন, ভারতে অনেক দক্ষতাসম্পন্ন লোকবল রয়েছে; যারা জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করে। তারা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করতে চায়। এ ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভুটান ও নেপালে উৎপন্ন বিদ্যুৎ পরিবহনের ক্ষেত্রে সঞ্চালন লাইন সরবরাহে কাজ করতে পারে ভারতের ব্যবসায়ীরা।
এ ছাড়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে মসলা ও শাকসবজি উৎপন্ন হয়; যা বাংলাদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এফবিসিসিআইর পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী তার বক্তব্যে ভারতের স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হাফেজ হারুন, আক্কাস মাহমুদ, মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান, দুই দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, মসলা, শাকসবজি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হর্টিকালচার ইত্যাদি খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: এফবিসিসিআই নির্বাচন: সম্মিলিত ১৫, ঐক্য প্যানেলের ৮ পরিচালক নির্বাচিত
১০৫৪ দিন আগে
ডেঙ্গু: থামছে না মৃত্যু ও শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি, আজও ২ জনের মৃত্যু
দেশে থামছেই না এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি । সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে আরও ৩৫৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদের মধ্যে ২৩৮ জন ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বাকি ১১৫ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক হাজার ২১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৮৯৫ জন ঢাকার মধ্যে এবং ৩১৮ জন রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আরও পড়ুন:ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানের ঘোষণা ডিএনসিসি মেয়রের
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ হাজার ৪৪৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় সাত হাজার ৫৩৭ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯১১ জন ডেঙ্গু রোগী।
অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে আট হাজার ১৯৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এদের মধ্যে ছয় হাজার ৬২৫ জন ঢাকার এবং বাকি এক হাজার ৫৭১ জন ঢাকার বাইরের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার দুইজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩৯ জনে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু: একদিনে আরও ২৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে একদিনে ৪ জনের প্রাণহানি
১৩৮২ দিন আগে
৭১ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার: টিআইবি
দেশের প্রায় ৭১ শতাংশ পরিবারকে ঘুষ দিয়ে সরকারের বিভিন্ন খাত থেকে সেবা নিতে হয়। বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিবার জরিপ করে এ তথ্য তুলে ধরে।
‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় পরিবার জরিপ-২০২১’ শিরোনামে চালানো জরিপে উঠে আসে যে সেবাখাতের আইন-শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার বর্হিগমন ও পাসপোর্ট বিভাগ(ডিআইপি) সবচেয়ে বেশি চুয়াত্তর দশমিক ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআরটিএ)আটষট্টি দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত।
অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগ ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশ, স্বাস্থ্য ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ, স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভূমি সেবায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত।
জরিপ প্রতিবেদন বলছে, পাসপোর্ট, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিআরটিএ- এই শীর্ষ তিনটি খাতে দেশের সার্বিক ঘুষের প্রচলন ৪০ দশমিক ১ শতাংশ।
ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া ৭২ দশমিক ১ শতাংশ ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ‘ঘুষ ছাড়া সেবা নাই’ ফলে তারা ঘুষ দেয়। নিয়মিত ঘুষ দেয়ায় তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি পরিবার বীমা, বিচার ও গ্যাস এই তিনটি খাতের সেবা নিতে গড়ে বার্ষিক ছয় হাজার ৬৩৬ টাকা ঘুষ দিয়ে থাকে।
জরিপকালীন ২০২০-২০২১ সালের এই সময়ে ১০ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যা দেশের ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপির শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ এবং একই অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের পাঁচ দশমিক ৯ শতাংশ।
টিআইবি ১৯৯৭ সাল থেকে নয়টি জাতীয় খানা জরিপ করেছে।
জরিপ মতে, দুর্নীতির হার ২০১৭ সালের তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে একই খাতে দুর্নীতির হার ছিল সত্তর দশমিক ৮ শতাংশ যখন ২০১৭ সালে একই খাতে দুর্নীতির হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তুলনামূলক ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ঘুষ বা বেনামী লেনদেনের হার কমলেও বৃদ্ধি পেয়েছে ঘুষের পরিমাণ।
সরকারের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার মধ্যেও অনেকগুলো খাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পাসপোর্ট, বিআরটিএ ইত্যাদি) দুর্নীতির হার একই রকম রয়েছে। কিছু খাতে(স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও বীমা ইত্যাদি) দুর্নীতি বেড়েছে। উপরন্তু ২০১৭ সালের তুলনায় ঘুষের হার বেড়েছে কিছু খাতে(স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহ) এবং ২০২১ সালে কিছু খাতে (কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য) দুর্নীতি কমেছে ।
পড়ুন: নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রসঙ্গে সিইসির বক্তব্য আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী: টিআইবি
২০২১ সালের জরিপে দেখা যায়, সেবাখাতের দুর্নীতির ঘনটনাগুলো শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি হয়েছে যার হার ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বেশি
উপার্জনক্ষম মানুষের চেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দুর্নীতির ঊর্ধ্বগতি বেশি। বিভিন্ন সেবা গ্রহীতা নিম্ন আয়ের মানুষদের তাদের বার্ষিক আয়ের বড় একটি অংশ ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায় স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সেবা খাত থেকে সেবা গ্রহীতা নারীরা পুরুষ সেবা গ্রহীতাদের চেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হন। এবং পুরুষ সেবাগ্রহীতারা শিক্ষা, সরকারি সেবা খাতে
নারীদের চেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হন। এছাড়া ৩৫ বছরের কম বয়সী সেবাগ্রহীতাদের তুলনায় ৩৬ বছরের ঊর্ধ্বের সেবাগ্রহীতারা বেশি দুর্নীতির শিকার হন।
জরিপে অংশ নেয়া পরিবারগুলোর মতামতের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন দশ দফা সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা, সরকারি সকল সেবা ডিজিটালাইজেশন, সেবা প্রদানকারীদের বিধির আওতায় পরিচালনা এবং সরকারের বিভিন্ন
অভিযোগের পদ্ধতি ও প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে অধিক প্রচারণা চালানো।
আরও পড়ুন: টিসিবির পণ্য বিক্রি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন সঠিক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই পারিবারিক সমীক্ষার সঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি উপলব্ধি সূচকের (সিপিআই) কোন সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংস্থাটি সিপিআই তৈরি করার সময় এই জরিপ এবং টিআইবি দ্বারা পরিচালিত অন্যান্য গবেষণার ফলাফলগুলো ব্যবহার করে না।
১৩৯৫ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা
জনগণের দোরগোড়ায় টেকসই স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ৮টি বিভাগীয় হাসপাতালে ১০০ শয্যার ক্যান্সার ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও চলছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সৌদি সরকারের সহায়তায় একটি প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে বার্ন ইউনিট স্থাপন শুরু করেছে সরকার।
এছাড়া জেলা সদর পর্যায়ে ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
নথিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার শয্যার বিশ্বমানের আধুনিক হাসপাতালে পুনর্নির্মাণ ও রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে।
এছাড়া পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ের মেডিকেল কলেজে পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
পড়ুন: জনবল সংকটে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও এইচডিইউ সেবা বন্ধ
১৪৩৮ দিন আগে
বাজেট ২০২২-২৩: স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৫.৪ শতাংশ
স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বললেও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সামান্যই বাড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন, যা গত বছরের চেয়ে মাত্র ৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকা বেশি। বিদায়ী অর্থবছর ২০২১-২০২২ এ বরাদ্দ ছিল ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ৫.৪ শতাংশ পাওয়া গেছে যা গত বছরের বাজেটে ছিল ৫.২ শতাংশ।
মন্ত্রী বলেন, এই বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের মাধ্যমে জীবন রক্ষা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যে কোভিড-১৯ এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কামাল বলেন, কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যবিধি এখনও কঠোরভাবে পালন করা, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া, পরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছয়টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল- ‘মানবস্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কোভিড-১৯ থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধার’। এই এজেন্ডাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রেখে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে জনগণের আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
পড়ুন: বাজেট ২০২২-২৩: মূল্যস্ফীতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী
পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটাবে: কামাল
বাজেট ২০২২-২৩: রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা
১৪৭৮ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট লুট হচ্ছে: জিএম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অভিযোগ করে বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার একটি বড় অংশ লুট হচ্ছে। এ কারণেই প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
বুধবার দলটির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে জিএম কাদের এই মন্তব্য করেন। জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ সিটি ইউনিট ১০ হাজার অভাবী মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান চলমান থাকবে: মেয়র তাপস
তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্সসহ ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে (কেন্দ্রীয়) অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই, যা মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।’
জাতীয় পার্টির প্রধান বলেছেন, ‘সরকারের অবহেলার কারণে দেশ এমন ভয়াবহ করোনার পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ যখন তাদের জিডিপির ৫ থেকে ৬ শতাংশ চিকিৎসার যত্নে ব্যয় করছে, তখন আমরা কেবল এক শতাংশ ব্যয় করছি। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের একটি বিশাল অংশ লুট হচ্ছে। এই কারণে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: সিআরবির পরিবেশ ক্ষতি করে হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা: ৮ সংস্থাকে আইনি নোটিশ
সংসদের বিরোধীদলীয় উপ নেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘তাদের দল দীর্ঘদিন ধরে দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলে আসছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউন কার্যকর করার পরিবর্তে স্বাস্থ্য সেবার উন্নতি করা উচিত।’
তিনি বলেছেন, ‘সরকারের অবশ্যই প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের প্রত্যেককে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করেই করোনাকালে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে দেয়া উচিত। এটি যদি হত, তবে অভাবী লোকদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হতো না এবং এতে লকডাউনও কার্যকর হতো।’
আরও পড়ুন: দেশে করোনায় মৃত্যু ১৭ হাজার ছাড়াল
১৮০৮ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে টিআইবি মিথ্যাচার করেছে: মন্ত্রী
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কোন জায়গায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বা দুর্নীতি হয়েছে এরকম কোন তথ্য কি দেখাতে পারবে। কেউ এমন তথ্য দিতে পারবে না, অথচ অন্য খাতের কোটি টাকা নিয়ে কানাডায় চলে গেছে। ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ ছেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরনের কোনো দুর্নীতি ঘটনা ঘটেনি ‘
শনিবার করোনাযুদ্ধে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সুশাসনে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সেখানে উল্লেখ করা হয়, করোনা প্রতিরোধের কার্যক্রমে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, লকডাউন, টিকা ক্রয় ও বিতরণে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না।
গত মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন স্বচ্ছতার তথ্য তুলে ধরেন । এমনকি করোনা মোকাবিলায় আগামী দিনের জন্য ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছে টিআইবি।
আরও পড়ুন: ফাইজারের টিকা নিবন্ধিত ব্যক্তিরা সিরিয়াল অনুযায়ী পাবেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাহিদ মালেক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের সকল দেশ বা সংস্থা প্রশংসা করেছে বাংলাদেশকে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বাংলাদেশকে প্রশংসা করেছে।
‘তবে টিআইবির ঘরে রুমে বসে একটি সুন্দর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা করোনা শনাক্ত করতে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এমন মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে অথচ করোনা শনাক্তে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তারা (টিআইবি ) বলছে আমরা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা করিনি, শুধুমাত্র করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে ১৫ হাজার বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।
‘যে কারণে ভারতের মতো এমন পরিস্থিতি তৈরি তৈরি হয়নি, এখনো অনেক দেশ যথাযথভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারেনি কিন্তু বাংলাদেশে এখনও লকডাউন চলমান,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ভারতে সাথে আমরা টিকা নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করে ভ্যাকসিন ক্রয় করেছি।
তিনি বলেন, করোনা মধ্যে আইসিইউ বাড়াতে পারেনি বলে টিআইবির যে দাবি করছেন এটা সঠিক নয়, গত বছর সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ আইসিইউ ছিল সেখানে এখন এক হাজারের অধিক আইসিইউ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টিআরবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র জনগণের কাছে ভুল তথ্য দেয়ার জন্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। করোনার জন্য যে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে তার ব্যবহার করা হয়নি এমন তথ্যও সঠিক নয়। আমরা সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছি। এমন মিথ্যাচার আমরা গ্রহণ করি না।’
টিকা ব্যবস্থাপনায় অসচ্ছল ছিল এমন অভিযোগ মিথ্যা বল দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের টিকা ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা ছিল সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করো না সামনের সারির যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ মোটেও গ্রহণযোগ্য না।
আরও পড়ুন: সুশাসনের ঘাটতি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘায়িত করছে: টিআইবি
বসুন্ধরার আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ওটা চালু হলেও ছয় মাসে ছয়টা রোগী হয়েছে। এর পেছোনে লাখ লাখ টাকা ভাড়া দেয়ার কারণে সবার সাথে আলোচনা করে আইসোলেশন সেন্টার থেকে সরঞ্জাম বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
যারা দুর্নীতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অধিদপ্তরের ড্রাইভার থেকে শুরু করে যারা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এমনকি ভুয়া রিপোর্টের দেয়ার জন্য সাবরিনা এবং সাহেদকে গ্রেপ্তারর করে আদালতে দেয়া হয়েছে। ভুয়া সনদ দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ অন্যান্যারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৪০ দিন আগে
বাজেটে জীবন, জীবিকার সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই: সিপিডি
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করোনা থেকে সুরক্ষা এবং করোনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনও রূপরেখা দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
শুক্রবার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়ে পর্যালোচনায় এসব কথা জানায় সিপিডি।
সিপিডির কার্যনিবাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু জরুরি সংশোধন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়িয়ে কীভাবে এটি সম্ভব হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়নি।
আরও পড়ুন: বাজেট: কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না দেয়ায় টিআইবির সাধুবাদ
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গতবারের মতো এবারের বাজেটেও করোনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়েছে, তবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং বরাদ্দের সাথে এর কোনও মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, আশা করা হয়েছিলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি করা হবে কিন্তু তেমনটা হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান বাড়ানো এবং বরাদ্দগুলোর যাতে সঠিক প্রয়োগ হয় সেজন্য স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম এবং দুর্নীতি দূর করতে হবে এবং এক্ষেত্রে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন ফাহমিদা খাতুন।
সিপিডি মনে করে, সামাজিক নিরাপত্তার সিকি অংশ ব্যয় করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের প্যানশনের জন্য।
দেশের কৃষি ক্ষেত্রে সামগ্রিক বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে, তবে এ খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সিপিডির কার্যনিবাহী পরিচালক জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই যেহেতু চাকরি হারিয়েছে সেহেতু কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এই সংক্রান্ত অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বরাদ্দ কমেছে। বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে, কিন্তু তাদের জন্য সুযোগ খুব কম।
তিনি বলেন, যেহেতু করোনার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম অনেক দিন ধরেই ব্যাহত হচ্ছে সেহেতু সরকারের উচিৎ ছিলে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এ ব্যাপারে বরাদ্দ খুবই নগণ্য।
১৮৪৮ দিন আগে