কওমি মাদরাসা
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরস্ত জামিয়া সিদ্দীকিয়া নূরানী মহিলা মাদরাসায় এই টিকা কার্যক্রম শুরু হয়।
কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ও টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক।
কওমি শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সরকার সফলতার সাথে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শেষ ধাপে সারাদেশে বাদ পড়া সকলকে খুঁজে বের করে টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
ডা. শামসুল হক বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আওতায় আনতে আজ মাদরাসায় টিকা কার্যক্রম শুরু হলো। এটা শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের সকল কওমি মাদরাসায় টিকা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এর প্রসার বাড়ানো হবে। এজন্য সারা দেশের কওমি মাদরাসার প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে।
আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন: শিক্ষামন্ত্রী
আরও ৬,৯৭০ কওমি মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
১৫৭০ দিন আগে
শিশুদের মাঝে কী সহজেই করোনা ছড়ায়?
করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি ও আসন্ন শীতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কার মধ্যে শিশুরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করবে কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছে বাংলাদেশ।
২০৬৮ দিন আগে
আরও ৬,৯৭০ কওমি মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের আরও বেশ কিছু কওমি মাদরাসায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
২১৯৮ দিন আগে