মেট্রোরেল
ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল
ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
সোমবার (১৭ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুধু ঈদের দিন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের পরদিন থেকে যথারীতি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হতে পারে ২১ মার্চ। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে এবারের ঈদে টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
৯ দিন আগে
মেট্রোরেলের ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলসহ সব ধরনের রেলসেবায় ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। তবে এই ভাড়া ছাড় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধারা কি এ সুবিধা পাবেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সে বিষয়ে আজকে কোনো কথা হয়নি।
ট্রেনে টিকিটগুলো এখন অনলাইনে কাটা হয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে ওখানে অপশন থাকবে, আইডি কার্ড দেখালে বয়স যদি ৬৫ বছরের বেশি হয়, তবে আপনি ওই ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট পেয়ে যাবেন। অনবোর্ডেও আইডি কার্ড শো করতে হবে। স্টুডেন্টদের আইডি কার্ড শো করতে হবে এবং যারা প্রতিবন্দী আছেন তাদেরও এই সুবিধা দেওয়া হবে, তাদের একটা কার্ড মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা রেলের সার্বিক উন্নয়ন চাচ্ছি। সেবার মান, বর্তমানে যে সমস্ত ট্রেনগুলো চালু আছে তার গতি বৃদ্ধি এবং অল্প সময়ে যাতায়াত কীভাবে করা যায়, তার জন্য বিদ্যমান কিছু প্রকল্প আছে সেগুলো আরও বেগ পাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। নতুন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যার ফলে রেলের বিদ্যমান যে অবস্থা আপনারা দেখছেন, যে সেবা এবং যে সার্ভিসটা এখানে আছে, সেটা আরও শক্তিশালী, জনবান্ধব এবং মানসম্মত হবে।'
'আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ৮৫ থেকে ৮৬টা লোকোমোটিভ ব্যবহার করতে পারি কি না এই ঈদে। সেটা যদি আমরা করতে সক্ষম হই, আমার মনে হয় সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। যেহেতু যাত্রী অতিরিক্ত আছে, সেটাও আমরা বহন করতে সক্ষম হব বলে মনে করছি। কোনো শিডিউল বিপর্যয়ের হওয়ার সুযোগ থাকবে না।'
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছে ভাড়া বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, এটা নিয়ে আপনার যারা বাস মালিক সমিতি আছে, লঞ্চ মালিক সমিতি আছে, তাদের সঙ্গে বসেছি। তারা অঙ্গীকার করেছেন এবং আমরা তাদের কিন্তু নজরদারিতে রেখেছি। যেকোনো মূল্যে আমরা এটা প্রতিষ্ঠিত করব। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা রাখছি সবার এ রকম সহযোগিতা থাকলে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, 'একটা প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে যে, দুই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি লোকের মতো ঢাকা শহর ছাড়ে। পৃথিবীতে এ রকম শহর ছাড়ার নজির নেই। যার ফলে একটা চাপের সৃষ্টি হয়।'
প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাস মালিকরা ঈদের সময় ২-৩ গুণ ভাড়া বেশি নেয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার তাদের ভাড়া নির্দিষ্ট হারেই নিতে হবে, যে ভাড়া আছে। অঙ্গীকার না শুধু, এটা বাস্তবায়ন করা হবে। তারা যেটা বলেছে—একটা দাবি আমাদের কাছে করেছে—যে বাসটা যখন খালি আসতে চায়, আসতে হয় তাদের, সেতু যখন ক্রস করতে হয়, টোলটা ফ্রি করে দেওয়া যায় কি না—এতটুকু দাবি তাদের আছে। বাকিটা তারা অঙ্গীকার করেছে যে তারা ভাড়া বাড়াবে না, যাত্রীসেবার মানও ঠিক রাখবে, যানজট যাতে না হয়, টিকিট যেটা আছে সেটাও তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিক্রি করবে। এসব ব্যাপারে আমাদের মনিটরিং আছে। ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।'
২৩ দিন আগে
ঢাবি স্টেশনে ২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ মেট্রোরেল
আজ দুপুর দেড়টা থেকে দুই ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ কারণে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন সাময়িকভাবে ২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ বা বের হতে পারবেন না। একইসঙ্গে এ সময় কোনো ট্রেনও স্টেশনে থামবে না।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশনে মেট্রো ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকবে না। সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
২৮ দিন আগে
রমজান মাসে মেট্রোরেল চলাচলে নতুন নির্দেশনা
রমজান মাসের অফিস সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ রমজান থেকে ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত সাপ্তাহিক কর্মদিবসে মেট্রোরেল চলাচলের বিশেষ সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রমজান মাসে দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়বে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায়। আর সেখান থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত সাড়ে ৯টায়। অন্যদিকে, মতিঝিল থেকে সকালে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সোয়া ৭টায় এবং রাতে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যাবে ১০টা ১০ মিনিটে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শনিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন এবং শুক্রবারের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
এছাড়া রমজানে ইফতারে পানি পান করার জন্য প্রত্যেক যাত্রী মেট্রোরেল ও স্টেশন এলাকায় শুধুমাত্র ২৫০ মিলিলিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। তবে পানি যেন পড়ে না যায় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। সেইসঙ্গে ব্যবহৃত পানির বোতল অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স, এন্ট্রি অথবা এক্সিট গেটের ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। এছাড়া কোনো অবস্থাতেই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স ও মেট্রোট্রেনের ভেতরে অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
৩৭ দিন আগে
১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল চলবে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজধানী ঢাকার ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি মেট্রো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, ভোটের জন্য ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে। নির্বাচনের দিন আমরা অতিরিক্ত ট্রেন দেব। কোনো অসুবিধা নেই।
নির্বাচনকালীন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৪৯ দিন আগে
বিয়ারিং প্যাড পড়ে পথচারীর মৃত্যু, মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন।
নিহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। তাতে নাম আবুল কালাম ও বাড়ি শরীয়তপুর লেখা। জন্মসাল ১৯৯০।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ব্যক্তি ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মেট্রোরেল চলাচলের সময় হঠাৎ একটি বেয়ারিং প্যাড ওপর থেকে তাঁর মাথায় পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো রুটে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কখন চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোরেলে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল। সে কারণে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ১১ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যেই দ্বিতীয়বার বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনা ঘটল।
মেট্রোরেলের লাইনের নিচে উড়ালপথের পিলারের সঙ্গে রাবারের এসব বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলোর প্রতিটির ওজন আনুমানিক ১৪০ বা ১৫০ কেজি। এসব বিয়ারিং প্যাড ছাড়া ট্রেন চালালে উড়ালপথ দেবে যাওয়া কিংবা স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্যই মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে।
১৫১ দিন আগে
ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল
রাজধানী ঢাকাবাসীর কাছে মেট্রোরেল এখন আর কেবল যাতায়াতের বাহন নয়, এটি হয়ে উঠেছে শহরের আধুনিকতার প্রতীক এবং প্রাত্যহিক জীবনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তবে ঈদুল আজহার দিন বিরতিতে যাচ্ছে এই জনপ্রিয় গণপরিবহন সেবা।
বুধবার (৪ জুন) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ৭ জুন (শনিবার) দিনব্যাপী মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে ঈদের পরের দিন অর্থাৎ ৮ জুন সকাল ৮টা থেকে ৩০ মিনিট হিডওয়ে অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল করবে। পাশাপাশি ৯ জুন থেকে সরকারি ছুটির দিনের সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল যথারীতি চলাচল করবে বলেও ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম. খায়রুল আলমের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২৯৫ দিন আগে
উপরে মেট্রোবিলাস, নিচে বিশৃঙ্খলা
ঢাকার মেট্রোরেল চালুর সময় এটিকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শহরের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আরামদায়ক ট্রেনযাত্রা রাজধানী ঢাকার অগ্রগতি নিয়ে আশার সঞ্চার করেছিল। তবে উপরে ঝাঁ চকচকে লাইন থাকলেও তার নিচে ফুটে উঠেছে উল্টো চিত্র।
মেট্রোরেল লাইনের নিচের ফাঁকা জায়গাগুলো সবুজায়ন ও জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। এ লক্ষ্যে কিছু গাছপালাও লাগানো হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর বেশিরভাগেরই আর অস্তিত্ব নেই। গাছের চারাগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং চলাচলের পথ দখল করেছেন শহরের গৃহহীন মানুষেরা। রোদ-বৃষ্টিতে মেট্রোরেলের নিচের স্থানগুলো এখন তাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ উদ্বোধনের পর থেকে ধাপে ধাপে এই মেট্রোরেল পরিষেবা মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু যে স্থানগুলো একসময় পথচারী ও জনসাধারণের জন্য পরিষ্কার ও উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল, সেগুলো এখন দখল হয়ে গেছে। ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার, কাজীপাড়া থেকে মিরপুর—সব জায়গাতেই এখন হকার ও ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য।
ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান, পথশিশু ও আবর্জনার স্তূপের ভিড়ে যাত্রীদের চলাচল করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘নিচের অংশ দেখলে মনে হয়, মেট্রোরেল যেন বস্তির ওপর তৈরি করা হয়েছে।’ ফার্মগেট এলাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বিষয়টিকে এভাবেই বর্ণনা করেন। বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মেট্রোর কারণে শহরের চেহারা বদলে যাবে। কিন্তু পরে দেখছি, সমস্যাগুলো আছেই, শুধু নতুন জায়গায় সেগুলো সরে এসেছে।’
আরও পড়ুন: আস্থার সংকট: ফেনীর ১৮০ সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী খরা
মেট্রোরেল ও এই রেললাইন-সংলগ্ন সড়কগুলোতে নিয়মিত চলাচলকারীদের ভাষ্য, দৃশ্যপটটি দুশ্চিন্তার। মেট্রোরেল লাইনের নিচে ছাউনির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকের পলিথিন, মাটিতে পড়ে আছে পুরনো তোশক, আর পায়ে হাঁটার পথের কাছেই ভাজা খাবার রান্না করছেন বিক্রেতারা। স্টেশন গেটের পাশে বসে থাকা ভিক্ষুকরা পথচারীদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ এমন পরিবেশ শুরুতে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।
মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন থেকে পোশাককর্মী আসমা খাতুন বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে এই জায়গা একেকটা ছোট বাজারে রূপ নেয়। শব্দ, ভিড় আর ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে চারদিক। এখানে একা একা হাঁটাও অনেকসময় নিরাপদ মনে হয় না।’
শুরুতে কিন্তু পরিবেশ এমন ছিল না। তবে দায়িত্বশীলদের সঠিক তদারকির অভাবে ধীরে ধীরে এমন শ্রীহীন হয়ে উঠেছে মেট্রোরেলের নিচের জায়গাগুলো। প্রথমে একজন হকার এসেছেন, তারপর তার দেখাদেখি অন্যরা। এরপর গৃহহীনরা একেক করে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এভাবে এখন জায়গাগুলোর সবটুকু একপ্রকার বাজারের চেহারা নিয়েছে।
এই জায়গাগুলো দখলমুক্ত করতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। ফলে যে ব্যবস্থাকে নগর পরিবহনের বিপ্লব বলা হচ্ছিল, তা এখন পুরনো বিশৃঙ্খলার আরেকটি রূপে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিদিন মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘এটা হওয়ার কথা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক ঢাকা। কিন্তু এখন প্রতিটি স্টেশনের নিচে দেখি সেই পুরনো বিশৃঙ্খলাই, যা থেকে আমরা পালাতে চেয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত লবণ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
এর ফলে কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনের আশপাশের দোকানিরাও পড়েছেন বিপাকে। সেখানকার একটি মুদি দোকানের মালিক রিনা আক্তার বলছিলেন, ‘ফুটপাতজুড়ে হকাররা বসে আছে, আবার চারপাশ নোংরাও হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।’
এই সমস্যার নেপথ্যে নির্মাণ-পরবর্তী পরিকল্পনা-ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।
মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রী ড. শফিক রহমান বলেন, ‘যদি আগে থেকেই এই জায়গাগুলোর ব্যবহার নির্ধারিত থাকত, যেমন: হাঁটার পথ, সবুজ এলাকা কিংবা ছোট পার্ক—তাহলে এমনটা হতো না।’
এই খোলা জায়গাগুলো মূলত জনসাধারণের উপকারের জন্যই পরিকল্পনায় ছিল। তবে বাস্তবে কোনোকিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানগুলো রয়ে গেছে অনিয়ন্ত্রিত, ফলে হকার ও গৃহহীনরা অবাধে তা দখলে নিয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এখন পর্যন্ত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো নির্দিষ্ট কৌশল ঘোষণা করেনি।
আরও পড়ুন: কৃষকের ভাগ্য বদলে দিল বিএডিসির সেচ প্রকল্প
এখন নগরবাসী প্রতিদিন একই সঙ্গে দুটো বিপরীত চিত্রের মুখোমুখি— উপরে আধুনিকতার ঝলক, আর নিচে পুরনো বিশৃঙ্খলার ছায়া।
৩০৮ দিন আগে
প্রায় ২ ঘণ্টা পর মেট্রোরেল চলাচল শুরু
বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে প্রায় দুঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে রাজধানীর মেট্রোরেল পরিষেবা। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মেট্রোরেলের ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এর আগে বিকাল ৫টার দিকে এই সমস্যা দেখা দেয়। তখন শাহবাগ স্টেশনে আসার পর হঠাৎ করে একটি ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছানোর পর আরেকটি ট্রেন বিকল হয়ে যায়।
অফিস শেষ হওয়ার পরপরই এমন সমস্যা দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শত শত যাত্রীর। সে সময় মেট্রোর কোচগুলোতে আটকা পড়েন অনেকে। পাশাপাশি ঘরে ফেরার অপেক্ষায় স্টেশনগুলোতে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
কারণ জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, মূলত যেখান থেকে (ট্রেনগুলোতে) বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, সেখানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। শেওড়াপাড়া থেকে শাহবাগ পর্যন্ত কোনো একটি জায়গায় এই সমস্যাটি হয়েছে।
সেই সমস্যা নিরুপণ ও সমাধান করে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক গোলযোগে মেট্রোরেল বন্ধ
ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এর আগেও কয়েকবার ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে নগরবাসীর। গত বছরের ২৫ মে-ও একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তখন প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন পরিষেবা চালু করতে সক্ষম হয় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
৩৩৪ দিন আগে
বৈদ্যুতিক গোলযোগে মেট্রোরেল বন্ধ
বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঢাকার মেট্রোরেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। অফিস শেষ হওয়ার পরপরই এমন সমস্যা দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে এই সমস্যা দেখা দেয়। তখন শাহবাগ স্টেশনে আসার পর হঠাৎ করে একটি ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছানোর পর আরেকটি ট্রেন বিকল হয়ে যায়।
এর ফলে শত শত যাত্রী মেট্রোর কোচগুলোতে আটকা পড়েন। পাশাপাশি ঘরে ফেরার অপেক্ষায় স্টেশনগুলোতে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।
বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে মেট্রোরেলের সেবা বন্ধ রয়েছে বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা চালু হয়নি।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) এক কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে মেট্রোরেল বন্ধ রয়েছে। মূলত যেখান থেকে (ট্রেনগুলোতে) বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, সেখানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। শেওড়াপাড়া থেকে শাহবাগ পর্যন্ত কোনো একটি জায়গায় এই সমস্যাটি হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সমস্যটি নিরুপণ করে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
শিগগিরই সমস্যার সমাধান করে ফের মেট্রোট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে এর আগেও কয়েকবার ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে নগরবাসীর। গত বছরের ২৫ মে-ও এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন পরিষেবা চালু করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ।
৩৩৪ দিন আগে