কোচ
সমালোচনার ঝড়ের পর চার ম্যাচ নিষিদ্ধ মরিনিয়ো
বারবার বিতর্কিত মন্তব্য করে ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া জোসে মরিনিয়োর জন্য নতুন কিছু নয়। তুরস্কে গিয়েও চলছে তার এমন কর্মকাণ্ড। তবে এবার দেশটির রেফারিদের সমালোচনা করে শাস্তি পেয়েছেন এই পর্তুগিজ কোচ।
তুর্কি সুপার লিগের রেফারিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তাকে চার ম্যাচের জন্য ডাগআউটে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ)। পাশাপাশি ১৬ লাখ ১৭ হাজার তুর্কি লিরা জরিমানাও গুণতে হচ্ছে ৬২ বছর বয়সী ফেনারবাচে ম্যানেজারকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন চিরপ্রতিন্দ্বী গালাতেসারাইয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তার দল।
বিতর্ক এড়াতে বিদেশি রেফারি দিয়ে ম্যাচটি পরিচালনা করতে দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। তাদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রেফারির প্রশংসা করে মরিনিয়ো বলেন, ‘ম্যাচটি দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি।’
‘ম্যাচ শেষে আমি রেফারিদের ড্রেসিং রুমে গিয়েছিলাম। চতুর্থ রেফারিও সেখানে ছিলেন, যিনি তুরস্কের রেফারি। প্রধান রেফারিকে (ভিনচিচ) আমি বলেছি, এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ। কারণ বড় একটি ম্যাচে আপনি এসেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন।’
‘এরপর চতুর্থ রেফারির দিকে ঘুরে বলেছি, এই ম্যাচে আপনি রেফারি থাকলে বিপর্যয় হয়ে যেত। তাকে যখন এটি বলেছি, আমি আসলে (তুরস্কের) সবাইকেই বুঝিয়েছি, এটিই তাদের সহজাত প্রবণতা।’
ম্যাচের শুরুর দিকে ফেনারবাচের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইউসুফ আকচিচেকের একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়ায়। গালাতাসারাইয়ের ডাগআউটের ফুটবলারদের তখন বেশ উত্তেজিত দেখা যায়। সেই ঘটনায় আকচিচেককে হলুদ কার্ড না দেখানোয় রেফারি ভিনচিচের প্রশংসা করেন মরিনিয়ো।
‘তুর্কি রেফারি হলে অমন বড় ডাইভ দেওয়ার পর নিশ্চিত সেখানে হলুদ কার্ড দিতেন। ওদের (গালাতেসারাই) বেঞ্চের ফুটবলাররা বাচ্চা ছেলেটির (আকচিচেক) ওপর যেভাবে বানরের মতো লাফালাফি করছিল… এসব দেখেই রেফারি কার্ড দিতেন এবং পাঁচ মিনিট পর আমাকে তার বদলি কাউকে নামানো লাগত।’
মরিনিয়োর এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় গালাতেসারাই।
‘তুরস্কে কোচের দায়িত্ব পালনের এই সময়কালে ফেনারবাচে কোচ জোসে মরিনিয়ো তুরস্কের মানুষদের নিয়ে ক্রমাগত অপমানজনক কথা বলে যাচ্ছেন। আজকে তার মন্তব্য অনৈতিক মন্তব্যের সীমানা ছাড়িয়ে নিশ্চিতভাবেই নিষ্ঠুর অলঙ্করণে পৌঁছে গেছে।’
‘আমরা এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি যে, জোসে মরিনিয়োর বর্ণবাদী বিবৃতি নিয়ে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করব। একই সঙ্গে উয়েফা ও ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযাগ জানাব। পাশাপাশি কোচের প্রদর্শিত নিন্দনীয় এই আচরণ নিয়ে ফেনারবাচের অবস্থান আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব।’
এ ঘটনার পর মরিনিয়ো ‘বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনের বিভিন্নজন তার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেন। অবশেষে টিএফএফ থেকে তার বিরুদ্ধে এলো এই শাস্তির ঘোষণা।
তবে মরিনিয়োর পক্ষ নিয়ে তার ক্লাব ফেনারবাচে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অন্য প্রসঙ্গে করা বক্তব্য এখানে টানা হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এমনকি মরিনিয়োর ওপর দেওয়া শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলও করেছিল ক্লাবটি। তবে তা খারিজ করে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা বহাল রেখেছে ফেডারেশন।
তুরস্কের রেফারিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার ঘটনা এই প্রথম নয় ‘স্পেশাল ওয়ানের’। এই ধরনের মন্তব্যের দায়ে আগেও এক দফায় জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যামের সাবেক এই কোচকে।
২৬ দিন আগে
সিটিই শেষ ক্লাব, জানিয়ে দিলেন গার্দিওলা
কোচিং ক্যারিয়ারে ম্যানচেস্টার সিটিই শেষ ক্লাব বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলা। পাশাপাশি ক্লাব ফুটবল ছাড়লেও আন্তর্জাতিক ফুটবল কোচিংয়ে নাম লেখানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি।
গার্দিওলার অধীনে গত আট বছরে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্যা শিরোপা জিতেছে সিটি। তবে সম্প্রতি কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন সিটিকে টানা চারটি প্রিমিয়ার লিগ জেতানো এই কোচ। সাত ম্যাচ টানা জয়বঞ্চিত থাকার পর গত সপ্তাহে জিতেছে তার দল।
অবশ্য দলের এমন পারফরম্যান্সে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার সম্পর্কের ঘাটতি হয়নি। সম্প্রতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত সিটির সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী পেপ। এই মেয়াদ পূর্ণ করলে ক্লাবটিতে দশ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত করবেন তিনি।
আরও পড়ুন: সিটি সমর্থকদের সুখবর দিলেন গার্দিওলা
সম্প্রতি স্প্যানিশ শেফ দানি গার্সিয়াকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গার্দিওলা। সেখানে কোচিংয়ে নিজের ভবিষ্যৎসহ বেশ কিছু বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
গার্সিয়ার ইউটিউব চ্যানেল দেসমন্তাদিতোয় প্রকাশিত ভিডিওতে গার্দিওলাকে বলতে শোনা যায়, ‘(সিটি ছাড়ার পর) আমি আর কোনো ক্লাবের কোচিং করাব না। সুদূর ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে এটুকু বলতে পারি যে সিটি ছেড়ে অন্য কোনো দেশে গিয়ে ফের একই কাজ করা- এসব আর করছি না।’
‘আসলে ওই পরিমাণ প্রাণশক্তি আর আমার নেই।… না না আর নয়!’
ক্লাব ফুটবল ছাড়লেও জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়টিও তার বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচ হয়তো হতে পারি, সেটা আলাদা বিষয়।’
‘আমি সত্যি সত্যিই এসব ছাড়তে চাই। সব ছেড়েছুড়ে গলফ খেলতে চাই, কিন্তু পারি না। তবে যখন মনে হবে যে যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়, তখন অবশ্যই আমি থেমে যাব।’
আরও পড়ুন: ৫-০ গোলে জয়ের রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড ভাঙল সিটি
১০৬ দিন আগে
ফিফা বর্ষসেরার তালিকায় মেসি
কোপা আমেরিকা জয় এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে দারুণ সময় কাটালেও এ বছরের ব্যালন দ’রের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন না লিওনেল মেসি। তবে বছরজুড়ে মেসির কাজের স্বীকৃতি দিতে ভোলেনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৪ সালে ফুটবলের বর্ষসেরার পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট’-এর তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শুক্রবার ফিফার ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের দ্য বেস্টের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১১ জনের ওই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে মেসির নাম।
মেসি ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন এবারের ব্যালন দ’র জয়ী রদ্রি। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের ৬ খেলোয়াড় রয়েছেন এই তালিকায়- ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম, দানি কারভাহাল, ফেদেরিকো ভালভার্দে, টনি ক্রুস ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ ছাড়াও ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড, বায়ের লেভারকুজেনের ফ্লোরিয়ান ভিয়ার্টস ও বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালও জায়গা করে নিয়েছেন এই তালিকায়।
এ নিয়ে ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ প্রচলনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৯ বারই মনোনয়ন পেলেন মেসি। এর মধ্যে তিনি পুস্কারটি জিতেছেন তিনবার (২০১৯, ২০২২ ও ২০২৩ সালে)।
‘দ্য বেস্ট’ পুরুষ ফুটবলারের পাশাপাশি আরও ১০টি পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। এর মধ্যে রয়েছে বর্ষসেরা নারী ফুটবলার, বর্ষসেরা কোচ, বর্ষসেরা গোলরক্ষক, বর্ষসেরা একাদশ ও বর্ষসেরা গোলের পুরস্কার। এছাড়া দেওয়া হবে ফিফা ফ্যান অ্যাওয়ার্ড।
পুরস্কারগুলোর প্রত্যেকটির জন্য ভোট দিতে পারেন ভক্ত-সমর্থকরা। সেরা খেলোয়াড়, সেরা কোচ ও সেরা গোলরক্ষক নির্বাচনে মোট ভোটের এক চতুর্থাংশ রাখা হয়েছে দর্শকদের জন্য, বাকি তিন ভাগ দেন ফিফার সদস্যদেশগুলোর অধিনায়ক, কোচ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। সেরা গোল ও একাদশ নির্বাচনে ভক্তদের ভোটের হার অর্ধেক। ফিফার ওয়েবসাইটে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে।
২০২৩ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি বিভাগের সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। ‘দ্য বেস্ট’-এর ১১ জনের মধ্যে ইউরোপেরে বাইরে থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শুধু মেসিই।
আরও পড়ুন: হ্যাটট্রিক করে রোনালদোকে ছুঁলেন মেসি
তাকে মনোয়ন দেওয়ার ব্যাখ্যায় ফিফা বলেছে, বয়স ৩৭ হয়ে গেলেও ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা দলে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন মেসি। তার অনুপ্রেরণামূলক পারফরম্যান্সে ২০২৩ লিগস কাপের পর রেকর্ড সংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করে ২০২৪ সালের সাপোর্টার্স শিল্ড জিতেছে মায়ামি। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে তার নেতৃত্বে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এমনকি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে জয় দিয়ে বছর শেষ করা আর্জেন্টিনা রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায়, আর সর্বোচ্চ ৬ গোল নিয়ে সবার উপরে মেসি।
এক নজরে ‘দ্য বেস্ট’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকা
সেরা পুরুষ ফুটবলার: জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড/রিয়াল মাদ্রিদ), দানিয়েল কারভাহাল (স্পেন/রিয়াল মাদ্রিদ), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে/ম্যানচেস্টার সিটি), টনি ক্রুস (জার্মানি/রিয়াল মাদ্রিদ), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স/রিয়াল মাদ্রিদ), লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা/ইন্টার মায়ামি), রদ্রিগো এরনান্দেস (স্পেন/ম্যানচেস্টার সিটি), ফেদেরিকো ভালভার্দে (উরুগুয়ে/রিয়াল মাদ্রিদ), ভিনিসিউস জুনিয়র (ব্রাজিল/রিয়াল মাদ্রিদ), ফ্লোরিয়ান ভিয়ার্টস (জার্মানি/বায়ের লেভারকুজেন), লামিন ইয়ামাল (স্পেন/বার্সেলোনা)।
সেরা কোচ: শাবি আলোনসো (বায়ের লেভারকুজেন), কার্লো আনচেলত্তি (রিয়াল মাদ্রিদ), লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন), পেপ গার্দিওলা (ম্যানচেস্টার সিটি), লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা)।
সেরা গোলরক্ষক: জানলুইজি দোন্নারুম্মা (ইতালি/পিএসজি), এদেরসন মোরায়েস (ব্রাজিল/ম্যানচেস্টার সিটি), আন্দ্রিই লুনিন (ইউক্রেন/রিয়াল মাদ্রিদ), মাইক মাইনিয়ঁ (ফ্রান্স/এসি মিলান), এমিলিয়ানো মার্তিনেস (আর্জেন্টিনা/অ্যাস্টন ভিলা), দাভিদ রায়া (স্পেন/আর্সেনাল), উনাই সিমোন (স্পেন/আথলেতিক বিলবাও)।
১১৭ দিন আগে
দায়িত্ব নিয়েই ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর প্রত্যয় টুখেলের
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েই বড় প্রাপ্তির প্রত্যয় ঝরেছে টমাস টুখেলের কণ্ঠে। ইংলিশদের ৫৮ বছরের বিশ্বকাপ খরা ঘোচানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (১৬ অক্টোবর) অন্তর্বতীকালীন কোচ লি কার্সলির জায়গায় টুখেলকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
আগামী বছরের প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করবেন ৫১ বছর বয়সী এই কোচ। এর ফলে মাত্র তৃতীয় কোচ হিসেবে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেবেন তিনি।
বুধবার নতুন দায়িত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন টুখেল। এ সময় ইংল্যান্ডের মতো দলের মাধ্যমে জাতীয় দলে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারায় সম্মানিত বোধ করার কথা জানান তিনি।
‘আমি যা করছি, তা করতে ভালোবাসি। তাছাড়া ফুটবলের প্রতি আমার আলাদা টান রয়েছে।’
‘(ইংল্যান্ডের কোচের) ভূমিকাটি আমাকে নিজের তরুণ বয়সের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় যেমন নতুন পেলেই উৎসাহী হয়ে উঠতাম, এখন তেমনই অনুভূত হচ্ছে। ফলে নিজের আবেগ দিয়ে যে শতভাগ চেষ্টা করব, এ বিষয়ে সবাইকে এখনই আশ্বস্ত করতে পারি।’
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের কোচ হলেন টুখেল
স্বদেশি কোচকে দায়িত্ব না দিয়ে একজন জার্মানের ওপর আস্থা রাখায় ইংল্যান্ডজুড়ে এফএর সমালোচনাও কম হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়েও কথা বলেন টুখেল।
‘আশা করছি, আগামী ১৮ মাসে কাজ দিয়ে তাদের নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। তাদের (সমালোচকদের) দেখিয়ে দিতে পারব যে, ইংলিশ ফুটবল ও এই দায়িত্ব নিয়ে আমি কতটা গর্বিত।’
এই সময়ের মধ্যে নিজের সর্বোচ্চ লক্ষ্য যে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়, সেটিও এক ফাঁকে বলে দিলেন এই কোচ।
‘(ইংল্যান্ডের) জার্সিতে আমি দ্বিতীয় তারকা যুক্ত করতে চাই। ফুটবলের সর্বোচ্চ লক্ষ্য অর্জনে আমরা কঠোর পরিশ্রম করব। ২০২৬ বিশ্বকাপেই যেন আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়, তার জন্য চেষ্টার কমতি থাকবে না।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ইউরোর ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ইংল্যান্ডের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গ্যারেথ সাউথগেট। তারপর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল তারা। এই সময়ে অন্তর্বতীকালীন কোচ হিসেবে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ডকে দিশা দেখাচ্ছেন লি কার্সলি।
তবে চুক্তি নবায়ন প্রশ্নে আরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ভার বইতে তিনি রাজি হননি। ফলে টুখেলকে বেছে নিয়েছে এফএ।
কার্সলির অধীনে এ পর্যন্ত উয়েফা নেশন্স লিগে চারটি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। এর তিনটিতে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ লিগের ২ নম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। গ্রুপের বাকি দুই রাউন্ডে আগামী মাসে গ্রিস ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। ওই দুই ম্যাচেও ডাগআউটে থাকবেন কার্সলি। এরপরই নতুন বছরে নতুন যাত্রা শুরু করবেন টুখেল।
১৬১ দিন আগে
ইংল্যান্ডের কোচ হলেন টুখেল
গ্যারেথ সাউথগেট দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে একের পর এক কোচের ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার গুঞ্জন চলছিল। এসবের মধ্যে থেকে টমাস টুখেলের ওপরই আস্থা রাখল ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন (এফএ)।
বুধবার (১৬ অক্টাবর) নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে টুখেলকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানায় এফএ।
২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেড় বছরের চুক্তিতে ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব নিয়েছেন ৫১ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন তিনি।
এদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, বছরে ৫০ লাখ পাউন্ড (৫ মিলিয়ন) পারিশ্রমিকে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের ইউরোর ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ইংল্যান্ডের কোচের পথ থেকে সরে দাাঁড়ান গ্যারেথ সাউথগেট। তার পর থেকেই নতুন কোচের সন্ধানে ছিল দলটি। এই সময়ে অন্তর্বতীকালীন কোচ হিসেবে উয়েফা নেশন্স লিগে ইংল্যান্ডকে দিশা দেখাচ্ছেন লি কার্সলি। তবে চলতি সপ্তাহে তিনিও জানান, ইংল্যান্ডের জন্য এমন একজন কোচ দরকার যার বড় শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে।
গত কয়েকদিন ধরে থ্রি লায়ন্সদের দায়িত্ব নিতে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন চলছিল। এর মাঝে টুখেলের নামটি উঠে আসে হঠাৎ করে। তবে গুঞ্জন সত্যি করে তিনিই বসছেন ইংল্যান্ডের ডাগআউটে।
ইংল্যান্ডের তৃতীয় বিদেশি কোচ হচ্ছেন টুখেল। তার আগে ইংল্যান্ডের বাইরে থেকে দলটির দায়িত্ব সামলেছেন মাত্র দুজন- সদ্য প্রয়াত সুইডিশ কোচ সভেন-গোরান এরিকসন ও ইতালির ফাবিও কাপেলো।
তবে ১৭ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন টুখেল। ৬ বছরের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ২০০৭ সালে ৩৪ বছর বয়সেই কোচিংয়ে নাম লেখান তিনি। এরপর বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, পিএসজি, চেলসি ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর ম্যানেজার ছিলেন তিনি।
চেলসির দায়িত্ব নিয়ে ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এই জার্মান। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়ে ওই মৌসুমেই চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ এনে দিয়ে তাক লাগিয়ে দেন টুখেল। তবে বেশিদিন দীর্ঘায়িত হয়নি তার চেলসি ক্যারিয়ার। পরের বছরই চেলসির দায়িত্ব ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি দেন তিনি।
বায়ার্নের কোচ হয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর মৌসুমেই বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হয় তার দল। তবে তার পরের বছর এক যুগের মধ্যে প্রথমবার বুন্দেসলিগা শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয় বায়ার্ন। পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থেকে লিগ শেষ করে টুখেলের দল। ফলে বায়ার্ন মিউনিখ থেকেও ছাঁটাই করা হয় তাকে। এরপর থেকে অবসরেই ছিলেন এই কোচ।
এবার জাতীয় দলের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে তার নতুন পথচলা। তবে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিয়ে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাকে।
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো বড় শিরোপা জেতেনি ইংল্যান্ড। সাউথগেটের অধীনে পরপর দুবার ইউরোর ফাইনালে উঠেও হারতে হয়েছে তাদের। ফলে দারুণ সব প্রতভাধর ফুটবলারে ঠাসা দলটিকে কীভাবে তিনি পরিচালনা করেন, তা-ই দেখার অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল বিশ্ব।
১৬১ দিন আগে
নিজের ‘এক্সপায়ার ডেট’ দেখতে পাচ্ছেন না আনচেলত্তি
বয়স ছাড়িয়েছে ৬৫ বছর, এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক সফলতা পেয়ে চলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বয়স বাড়লেও কোচিং থেকে এখনই অবসরে যাওয়ার কথা ভাবছেন না এই ইতালিয়ান।
মঙ্গবার রাতে লা লিগায় সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে আলাভেসকে আতিথ্য দেবে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটির মাধ্যমে ক্যারিয়ারের ৩০০তম ম্যাচ কোচিংয়ের মাইলফলক স্পর্শ করবেন আনচেলত্তি।
এই ম্যাচের আগে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেন রিয়াল মাদ্রিদ বস। সেখানে সাংবাদিকরা তার অবসরে যাওয়ার প্রসঙ্গটি তুললে বিষটি স্পষ্ট করেন তিনি। অবসরের প্রশ্নে মাদ্রিদে আরও অনেক বছর থেকে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান আনচেলত্তি।
আরও পড়ুন: ভালো খেলার চেয়ে ম্যাচ জেতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ: আনচেলত্তি
তার ভাষ্য, ‘এই কাজটি আমি ভালোবাসি, তাই (নিজের) ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ভাবতে চাই না। ক্যারিয়ারে বেশকিছু বড় বড় ক্লাবের কোচ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। বিশ্বের সেরা ক্লাবে (রিয়াল মাদ্রিদ) আমি ৩০০তম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছি। এই ডাগআউটে বসে এমন অর্জন সত্যিই বিশেষ কিছু, অলৌকিক বিষয়ের চেয়ে এটি কম কিছু নয়।’
‘খেলোয়াড়দের ক্লান্তির সঙ্গে আমার ক্লান্তির তুলনা করবেন না। হ্যাঁ, প্রেসার (চাপ) আছে সত্যি, তবে আমি তা উপভোগ করি। এই মুহূর্তে আমি নিজের কোনো এক্সপায়ার ডেট (কোচ হিসেবে) দেখছি না। আসন্ন আরও অনেক বছর আমি এখানেই থাকতে চাই।’
কার্লো আনচেলত্তির তত্ত্বাবধায়নে গত মৌসুমে লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে রিয়াল মাদ্রিদ। ওই মৌসুম থেকে এখন পর্যন্ত লা লিগায় টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত মাদ্রিদ জায়ান্টরা।
গত মৌসুমে মাত্র দুটি ম্যাচ হেরেছিল রিয়াল, দুটিই তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। ৩-১ ব্যবধানে প্রথমবার তারা হারে লা লিগায় গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি কোপা দেল রের শেষ ষোলোর ম্যাচে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি রিয়াল মাদ্রিদ হেরেছিল ৪-২ ব্যবধানে।
আরও পড়ুন: আক্রমণভাগে পরিবর্তন আসায় দলে ভারসাম্যের অভাব দেখছেন আনচেলত্তি
টানা ৩৮ ম্যাচ জিতে লা লিগায় টানা সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তের রয়েছে আনচেলত্তির শিষ্যরা। ৪৩ ম্যাচ জিতে এই রেকর্ড এখন বার্সেলোনার। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে পরের বছরের মে মাসের মধ্যে কোচ লুইস এনরিকে ও এর্নেস্তো ভালভার্দের তত্ত্বাবধায়নে ওই রেকর্ড গড়ে কাতালান জায়ান্টরা।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, আগামী ২৭ অক্টোবর বার্সেলোনার বিপক্ষেই ওই রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের। এরপর ৩ নভেম্বর ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটি জিতলে রেকর্ডটি নিজেদের করে নেবে তারা।
অবশ্য এই গৌরব অর্জনে তার আগে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে আনচেলত্তির শিষ্যদের। আলাভেস ম্যাচের পর আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ সেই আতলেতিকো মাদ্রিদ। শুধু তা-ই নয়, চলতি মৌসুমের মাদ্রিদ ডার্বিটি আবার অনুষ্ঠিত হবে আতলেতিকোর সিভিতাস মেত্রোপলিতানোয়। ফলে সেখানে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই উৎরাতে হবে ভিনিসিউস-এমবাপ্পেদের।
আরও পড়ুন: আনচেলত্তির ‘কৌতুকে’ ভড়কে গিয়েছিলেন বেলিংহ্যাম
তার পরের দুই প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল ও সেল্তা ভিগো। নতুন কোচ মার্সেলিনোর কোচিংয়ে এ মৌসুমের শুরুটা বেশ ভালো করেছে ভিয়ারিয়াল। তাদের খেলায়ও এসেছে যথেষ্ট ধার, গত কয়েক ম্যাচেই তা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া, গত কয়েক মৌসুম ধরে ভুগতে থাকা সেল্তা ভিগোও এবার দারুণ ছন্দে রয়েছে। ছয় ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম স্থানে রয়েছে ক্লাউদিও গিরালদেসের শিষ্যরা। ভিয়ারিয়াল, বার্সেলোনার মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হারলেও ম্যাচজুড়ে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই সব বাধা অতিক্রম করে রিয়াল মাদ্রিদ শেষ পর্যন্ত রেকর্ডটি নিজেদের করে নিতে পারে কিনা, তা দেখতে উন্মুখ হয়ে রয়েছে ক্লাবটির সমর্থকরা।
১৮৩ দিন আগে
হেরে ব্রাজিল কোচ বললেন, আরও সময় প্রয়োজন
উরুগুয়ের কাছে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র দলের আরও উন্নতি করার জায়গা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এখন বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তার দল পূর্ণ মনোযোগ দেবে জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন দিকে উন্নতি করার কাজ চলছে।
শনিবার সকালে শেষের ২০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও ব্রাজিলকে আটকে রাখে উরুগুয়ে। এরপর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ম্যাচটি জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যরা।
শুধু এই ম্যাচটি নয়, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিজেদের জাত চেনাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বে শুধু প্যারাগুয়েকে পরাজিত করে তারা। এছাড়া বাকি দুই ম্যাচ ড্র করে নকআউট পর্বে উঠলেও উরুগুয়ের বিপক্ষেও নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা।
আরও পড়ুন: টাইব্রেকারে হেরে ব্রাজিলের বিদায়, সেমিফাইনালে উরুগুয়ে
দলের এই বাজে পারফরম্যান্সের পুরোটা দায় নিজের কাঁধে নিয়ে দরিভাল বলেন, ‘বর্তমানে আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ সংষ্কার ও পুনর্নিমাণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এই দলটিকে আমি মাত্র আট ম্যাচে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছি। আর এই (সংস্কার) প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই আমাদের এখন যেতে হবে।’
‘আমাদের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা সচেতন। তবে (নকআউট পর্বে) হারের বিষয়টি অপ্রত্যাশিত ছিল। আমরা যেভাবে আশা করেছিলাম, সেভাবে হয়নি।’
‘কিন্তু আমি আবারও বলছি, আমাদের উন্নতি করার অনেক জায়গা রয়েছে, আর এগুলো ভেতর দিয়ে চলেই আমাদের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা (কনমেবল বাছাইয়ে) ষষ্ঠ অবস্থানে, এ নিয়ে আমরা মোটেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না।’
আরও পড়ুন: পেনাল্টিতে সাফল্যের রহস্য জানালেন দিবু মার্তিনেস
এসময় উরুগুয়ে কোচের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তিনি (বিয়েলসা) যেভাবে নিজের দর্শন দিয়ে দলটিকে প্রভাবিত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার।’
‘আমি মনে করি, এই উরুগুয়ে দলের একটি নির্দিষ্ট (খেলার) প্যাটার্ন আছে, খুব দারুণ একটি প্যাটার্ন। তারা বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। শুরুতে তাদেরও কিছু সমস্যা ছিল, তবে সেগুলো তারা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। এখন তারা দারুণ ফল অর্জন করছে।’
‘আমরাও এ ধরনের অর্জন করব, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে নিজেদের (ভুলগুলো) শুধরে নিতে আমাদের কিছুটা সময় দরকার।’
তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। তবে আমি মনে করি, আমরা প্রচুর ভুল সংশোধনও করেছি। তবে যেটুকু সময় আমরা পেয়েছি, তার মধ্যে এত দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন। তবে ভবিষ্যতে আশা করি, আরও সময় পাব।’
২৬২ দিন আগে
তৃতীয় ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচের শাস্তি
দল নিয়ে বারবার দেরি করে মাঠে আসায় শাস্তি পেয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। এর ফলে রবিবার সকালে পেরুর বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যাবে না তাকে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে কনবেমবল জানিয়েছে, কোপা আমেরিকার প্রথম দুই ম্যাচেই বিরতির পর দেরি করে দল নিয়ে (মাঠে) ফেরার কারণে লিওনেল স্কালোনিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এমনকি, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত হতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।
চিলির কোচ রিকার্দো গারেসাও একই কারণে শাস্তি পেয়েছেন। একই দিন ও সময়ে কানাডার বিপক্ষে কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে চিলি।
আরও পড়ুন: ইনজুরিতে মেসি, পেরুর বিপক্ষে বিশ্রাম
এ বিষয়ে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ওয়াল্টার স্যামুয়েল বলেন, ‘এ বিষয়ে কোচ স্কালোনি কিছুটা হতাশ। গত ছয় বছরে এ ধরনের শাস্তির মুখে আমরা কখনোই পড়িনি। তিনি (স্কালোনি) দলের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, বিষয়টি খানিকটা অস্বাভাবিক।’
কোপা আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের বিরতির পর সঠিক সময়ে অবশ্যই মাঠে থাকতে হবে। একবার এ ভুল ক্ষমা করা হলেও দ্বিতীয়বার এর জন্য শাস্তির বিধান রেখেছে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল।
গত ২১ জুন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারের পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলে কানাডা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও একই ভুল করে বসে আর্জেন্টিনা।
কোপা আমেরিকায় প্রথম দুই ম্যাচ জিতে শেষ আট নিশ্চিত করলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে তৃতীয় ম্যাচে জয় প্রয়োজন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থাকা পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কালোনির শিষ্যরা। একই সময় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে চিলি ও কানাডা।
আরও পড়ুন: প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে শঙ্কা কাটাল ব্রাজিল
দুই ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে কানাডা। অন্যদিকে, এক ড্রয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে চিলি। ফলে ড্র করতে পারলেও কোয়ার্টারের টিকিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ হবে কানাডার জন্য। আর শেষ আট নিশ্চিত করতে জয়ের বিকল্প নেই চিলির।
শেষ আটে খেলার স্বপ্ন অবশ্য শেষ হয়ে যায়নি পেরুরও। আর্জেন্টিনাকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে নকআউট পর্বে উঠে যেতে পারে তারাও।
২৭০ দিন আগে
‘অভিজ্ঞ’ চন্ডিকার লক্ষ্য খেলার নিজস্ব পরিকল্পনা করা
দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়া চন্ডিকা হাথুরাসিংহে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশ দলের জন্য আরও ভালো খেলার পরিকল্পনা করার দিকে বেশি মনোযোগ দেবেন।
বুধবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রথম আলাপচারিতায় এ কথা বলেন।
চন্ডিকা তার আগের কাজের তুলনায় নিজেকে বেশি অভিজ্ঞ বিচার করেছেন, সামনের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য তার উত্তেজনা এবং অনুপ্রেরণার কথা বলেছেন।
চন্ডিকা বলেছেন, বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তার নতুন পদে তিনি টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের খেলার পরিকল্পনা তৈরির দিকে বেশি মনোযোগী।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট খুবই প্রতিযোগিতামূলক। টি-টোয়েন্টি এখন বেশি জনপ্রিয়। তাই সেই অনুযায়ী আমাদের নিজেদের খেলার পরিকল্পনা বের করতে হবে। জাতি হিসেবে
আমরা জানি কিভাবে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে হয়। আমাদের অন্যান্য ফরম্যাটেও ভালো করতে হবে।’
চন্ডিকা ২০১৭ সালে টাইগারদের প্রধান কোচ হিসেবে চার বছরের মেয়াদ শেষ করে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দিকে সব সময় নজর রাখতেন তিনি।
চন্ডিকা বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি আমার সবসময়ই একটা সফট কর্ণার ছিল। আমি একদিন বাংলাদেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলাম।’
বাংলাদেশ দলে পুনরায় যোগ দেয়ার অনুপ্রেরণা ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে অনেক খেলোয়াড়ই ভালো খেলেছে। তরুণ খেলোয়াড়রাও উঠে এসেছে এবং ভালো করছে। তাই সেই দলের সঙ্গে থাকা সবসময়ই দুর্দান্ত।’
চন্ডিকা আসন্ন সিরিজে খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছেন এবং দল সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পেতে অন্যান্য সদস্যদের মতামতের ওপর নির্ভর করছেন। তিনি এই বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপসহ আসন্ন আইসিসি ইভেন্টগুলোতে দলের জন্য একটি ভাল সমন্বয় তৈরি করার দিকে মনোনিবেশ করছেন।
সিনিয়র খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের হয়ে ভালো পারফর্ম করছে।
আরও পড়ুন: বিপিএল ২০২৩ ফাইনাল: ৭ উইকেটে স্ট্রাইকার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
চন্ডিকা বলেছেন, তিনি তার নতুন মেয়াদে তাদের ভূমিকা খুব বেশি পরিবর্তন করতে দেখছেন না। তিনি বিশ্বাস করেন তার বর্ধিত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে ভালো বোঝার পাশাপাশি স্থানীয় কোচদের সহায়তায় তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
তিনি এবার কোচ হিসাবে পরিবর্তন করতে চলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মজা করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের কোচ হিসাবে আগের সময়ের তুলনায় এবার একটু বেশি বয়সী।
৫৪ বছর বয়সী এই কোচ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে স্নেহের সঙ্গে কথা বলেছেন যা মূলত শ্রীলঙ্কার কোচ থাকাকালীন উদ্ভূত হয়েছিল।
২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাড়ার পরপরই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছিলেন যে চন্ডিকা দলের জন্য সাকিব আল হাসানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু এখন চন্ডিকাকে সাকিবের সঙ্গেই কাজ করতে হবে, যিনি ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক। যখন তাকে একই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, চন্ডিকা নিরাপদে খেলা বেছে নিয়ে বলেছিলেন যে তিনি বিসিবি সভাপতির মন্তব্য সম্পর্কে অবগত নন।
বাংলাদেশ দল এখন ১ মার্চ থেকে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে
৭৬৩ দিন আগে
ডোমিঙ্গো নয়, এশিয়া কাপে কোচ হচ্ছেন শ্রীধরন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, আসন্ন এশিয়া কাপে শ্রীধরন শ্রীরাম বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শ্রীরামকে সম্প্রতি দলের টেকনিকাল পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া এশিয়া কাপে দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকবেন রাসেল ডোমিঙ্গো।
গত সপ্তাহে বিসিবি শ্রীধরনের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শ্রীধরন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক একজন খেলোয়াড় এবং আইপিএলে তিনি বেশ কয়েকটি দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জয় ভারতের
সোমবার নাজমুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপের জন্য আমাদের কোনো প্রধান কোচ ছিল না। ডোমিঙ্গো টেস্ট ও ওডিআই দলের প্রধান কোচ হিসেবে থাকবেন। আমাদের একজন ফিল্ডিং ও ব্যাটিং কোচসহ আরও জনবল রয়েছে। টি২০-তে ভালো করার জন্য শ্রীধরন আমাদের পরামর্শ দেবেন।’
নাজমুল আরও বলেন, ‘ভিন্ন ফরম্যাটের খেলার জন্য যেমন ভিন্ন দলের প্রয়োজন হয়, একইভাবে প্রয়োজন হয় ভিন্ন কোচিং প্যানেলেরও। যদিও আমাদের সব আছে, কিন্তু আমরা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নই।’
আগামী ২৩ আগস্ট এশিয়া কাপে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দিবে।
এ আসরে মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করবে। ২৯ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে।
আরও পড়ুন: সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীরামকে টি-টোয়েন্টি দলের পরামর্শক নিয়োগ
৯৪৭ দিন আগে