ইউনিসেফ
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া-ইউনিসেফের ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সই করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এ সহযোগিতার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চুক্তি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ।
২০১৭ সাল থেকে এ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত মোট ১২৬ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা দিয়েছে।
নতুন এ ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করবে ইউনিসেফ।
২ দিন আগে
ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২.৭১ কোটি টাকার টিকা কিনবে বাংলাদেশ
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার টিকা ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি এই টিকা কেনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে কমিটির অনুমোদন চেয়েছে।
ক্রয় কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। মূলত টিকা সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রয় সংস্থা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়—এমন সব মারাত্মক রোগ থেকে শিশুদের পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এই ভ্যাকসিনগুলো ব্যবহার করা হবে।
এই ক্রয়ের ফলে পুরো অর্থবছরজুড়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
ইউনিসেফের সহায়তায় দেশে আসছে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালী করতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশে ১০ ধরনের সাড়ে ৯ কোটি (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।
বুধবার (৫ মে) দুপুর পৌনে বারোটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভ্যাকসিন গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সফল এই কর্মসূচির স্বীকৃতি হিসেবে গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, কারণ এটি সরাসরি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি জানান, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেটি বাতিল করা হয়েছিল। তবে আমরা সরকার গঠনের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সরকার দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ প্রদানের পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। এছাড়া ৬ মে ইউনিসেফ আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন (৯০ হাজার ভায়াল) সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১০ মে এর মধ্যে আরও প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে জানান মন্ত্রী। ইউনিসেফ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইপিআই কার্যক্রমের জন্য স্বল্প সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা এই সরকারের একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ।
যেহেতু ভ্যাকসিন ক্রয় একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদনকারী থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফ নিয়মিত কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোপ্ল্যানিং, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় ৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫টি শিশু টিকা পেয়েছে। আমরা ৯৩ শতাংশ ভ্যাকসিন প্রদান সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশ এখন ১০০ শতাংশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ সময় সকল অভিভাবক, কমিউনিটির নেতা, শিক্ষক এবং ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মারাত্মক ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারি।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্যাভি, ইউনিসেফ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (এডিবি) সকল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে এবং প্রতিটি শিশু হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
৫১ দিন আগে
তহবিল সংকটে শিক্ষার ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সোয়া ২ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
তহবিল সংকটের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুর শিক্ষা হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
রবিবার (২ জুন) দুপুরে কক্সবাজারে ইউনিসেফ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফ জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সব ধরনের সহায়তার সুযোগ ঝুঁকিতে পড়বে। এরমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে শিশুদের জন্য জরুরি মৌলিক শিক্ষা সুযোগ হারানোর আশঙ্কা করেছেন তারা।
ইউনিসেফ কক্সবাজার অফিসের প্রধান এঞ্জেলা কার্নে জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফ পরিচালিত কার্যক্রমের জন্য মানবিক সহায়তার তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইউনিসেফের সহায়তায় শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হওয়া স্কুলগামী শিশুদের ৮৩ শতাংশের শিক্ষার ওপর।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়, নতুন তহবিল গঠন এবং নতুন করে কার্যক্রম সাজানোর নিরলস প্রচেষ্টা চালানোর পরেও তহবিল সংকটের কারণে ইউনিসেফকে কিছু কষ্টদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর মধ্যে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা হোস্ট কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করার মতো বিষয় রয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মোট ১ হাজার ১৭৯জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের সঙ্গে ইউনিসেফের চুক্তি শেষ হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য।
আরও পড়ুন: বাকৃবি: মুরগির আইবিএইচ রোগের ভাইরাসের দুটি সেরোটাইপ শনাক্ত
তহবিল সংকটের কারণে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের মতো সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্পেও ইউনিসেফের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নতুন করে তহবিল পাওয়া গেলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
৩৮৯ দিন আগে
মৃত শিশুর জন্মহারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মৃত সন্তান প্রসবের হার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে চলতি বছর ‘ইউনাইটেড নেশনস ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের’ (ইউএন আইজিএমই) প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু ভূমিষ্ট হচ্ছে। এর মানে বছরে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশই মৃত জন্ম নিচ্ছে। মৃত সন্তান প্রসবের এই হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
ইউএন আইজিএমইয়ের আরেকটি প্রতিবেদন বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জন্মের পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মারা গেছে এসব শিশু, যাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে ২৮ দিন বয়সের আগে।
আরও পড়ুন: মনপুরায় হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
১৯৯০ সালের পর থেকে শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে অগ্রগতি অর্জন করলেও বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে মৃত সন্তান প্রসবের হার সর্বোচ্চ বলে চলতি বছরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মা ও নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশকে অবশ্যই প্রতি বছর অতিরিক্ত ২৮ হাজার নবজাতককের প্রাণ বাঁচাতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেছেন, প্রতিরোধযোগ্য কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর এক লাখের বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। অপরিণত জন্ম, সন্তান প্রসবকালে জটিলতা, সেপসিস ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের কারণে এসব মৃত্যু ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।
বেঁচে থাকা ও একটি উন্নত জীবন পাওয়া প্রতিটি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। অকালে কিংবা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই যে শিশুগুলো প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের এই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ফারুক আদ্রিয়ান।
শিশু ও মায়ের প্রাণ বাঁচাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফারুক বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও ধাত্রীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তাদের সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারলে প্রতিটি নবজাতক নিরাপদ হাতে জন্মগ্রহণ করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
আরও পড়ুন: চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ বলেন, ‘বিগত কয়েক দশকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তা সত্ত্বেও সময়মতো মানসম্মত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে, এটি অবশ্যই দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর পরিচর্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করা সম্ভব।’
প্রতিবেদনে নবজাতকের মৃত্যু ও মৃত সন্তান প্রসবের কারণ হিসেবে ৩০ শতাংশ শিশুর ঘরে জন্ম, আকারে ছোট ও অসুস্থ নবজাতকের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ না থাকার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া দক্ষ সেবাদাতা ও ধাত্রীর অভাব, উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মানসম্পন্ন সেবার ঘাটতির বিষয়গুলোকেও মৃত শিশু ও নবজাতকের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে।
আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, অসুস্থ ও কম ওজনের নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাব। বাংলাদেশ গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের ঘাটতি থাকায় নবজাতকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয় বলে উঠে এসেছে ইউএন আইজিএমইয়ের প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন: খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘দানব’ ধরিয়ে দিল শিশু
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক গর্ভবতী নারীই বাড়ির কাছে প্রসবের জন্য দক্ষ কোনো সেবাদাতা পান না, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াও অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবার ঘাটতি ও এ সংক্রান্ত জটিলতাগুলো প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশের হাতে মাত্র পাঁচ বছর বাকি থাকায় বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে দক্ষ ধাত্রীসহ প্রশিক্ষিত পেশাদারদের তত্ত্বাবধায়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান জন্মদানের হার বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য আরও বেশি সংখ্যক প্রশিক্ষিত নার্স ও ধাত্রী প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. জামশেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্থায়ী বিনিয়োগ করা উচিত সরকারের। একই সঙ্গে মা ও নবজাতকের সেবায় বিভিন্ন দেশে যে ধরনের সেবা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রয়েছে তা মেনে চলার মাধ্যমে দেশের এই মর্মান্তিক ক্ষতি প্রশমন সম্ভব।’ এতে প্রতিটি শিশুর জন্য একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।
মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জরুরি সংস্কারে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে ইউএন আইজিএমইয়ের প্রতিবেদনে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৪৪৮ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুমৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ, সুরক্ষা ও জবাবদিহি চায় ইউনিসেফ
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফ।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক অফিসের প্রতিবেদনটির বরাত দিয়ে তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে ১৫ই আগস্টের মধ্যে যে ১ হাজার ৪০০ ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শতাধিক শিশু ছিল। ইউনিসেফ এইসব মৃত্যুর অনেকের বিষয়ে ইতোমধ্যে রিপোর্ট করেছে এবং মোট কত শিশু নিহত বা আহত হয়েছে—তা স্পষ্ট করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের প্রত্যেকের জন্য শোক প্রকাশ করছি।
অভ্যুত্থানে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। তা ভাষ্যে, ‘এ সময় নারীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের হুমকিসহ নানাপ্রকার জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনার নথি পাওয়া গেছে।’
‘শিশুরাও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি; তাদের অনেককে হত্যা করা হয়, পঙ্গু করে দেওয়া হয়, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়, অমানবিক অবস্থায় আটক করে রাখা হয় এবং নির্যাতন করা হয়।’
বিবৃতিতে শিশুদের ওপর সহিংসতার তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন ফ্লাওয়ার্স। বলেছেন, ‘একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে ধানমণ্ডিতে, যেখানে ২০০টি ধাতব গুলি ছোড়ার কারণে ১২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায়। আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে নারায়ণগঞ্জে; সেখানে ছয় বছর বয়সী এক কন্যাশিশু তার বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে সংঘর্ষ প্রত্যক্ষ করার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। এই বিক্ষোভের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন ৫ আগস্ট পুলিশের গুলি চালানোর বর্ণনা দিয়ে আজমপুরের ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে বলে— সব জায়গায় বৃষ্টিপাতের মতো গুলি চলছিল। সে অন্তত এক ডজন মৃতদেহ দেখতে পেয়েছিল সেদিন।’
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো অবশ্যই আমাদের সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলছে।’
বাংলাদেশের শিশুদের সঙ্গে আর কখনোই যেন এমনটি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে দেশের সকল মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে ৩২ শিশু নিহতের বিষয়ে ইউনিসেফের বিবৃতির জবাব দিল সরকার
প্রাপ্ত এসব ফলাফলের আলোকে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনা-বিষয়ক ইউনিসেফের আগের বিবৃতিগুলোর জের ধরে বাংলাদেশের সমস্ত নীতিনির্ধারক, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের শিশু, যুবসমাজ ও পরিবারগুলোকে শারীরিক ও মানসিক ক্ষত সারিয়ে ওঠার পাশাপাশি আশা সঞ্চার করে তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
এজন্য তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রে জরুরিভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে জাতিসংঘের শিশু-বিষয়ক এই সংস্থাটি:
প্রথমত, যেসব শিশু প্রাণ হারিয়েছে, তাদের ও তাদের শোকাহত পরিবারের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, যারা এখনও আটক অবস্থায় আছে এবং যাদের জীবন কোনো না কোনোভাবে এই ঘটনাগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের সবার জন্য পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একজোট হওয়া।
তৃতীয়ত ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই সময়টাকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সার্বিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সব রাজনৈতিক নেতা, দল ও নীতিনির্ধারকদের পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একজোট হতে হবে, যাতে বাংলাদেশের কোনো শিশুকে আর কখনও এমন বিচার-বহির্ভূতভাবে ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাবে আটক থাকতে না হয়। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে গিয়ে, যা তাদের অধিকার, তাদের যেন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হতে না হয়। আর এভাবে বাংলাদেশের শিশুদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অধিকার সমুন্নত রাখা সম্ভব।
জবাবদিহি ও সংস্কারের এই আহ্বানে ইউনিসেফ যেসব কাজে সহায়তা দিতে চায় তার মধ্যে রয়েছে—
১. শিশুদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা।
২. বিচার খাতের সংস্কার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশু সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আদলে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোকে সাজিয়ে তোলা।
৩. ভবিষ্যতে শিশু অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধের জন্য স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও নীরিক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৪. আমরা সবাই শিশুদের উপযুক্ত এমন বিচার ব্যবস্থা চাই, যেটি শিশুদের অপরাধী হিসেবে দেখবে না, শিশুদের হুমকি হিসাবে বিবেচনার পরিবর্তে তাদের কথা ও ব্যাখ্যা বুঝবে; তাদের যত্ন, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সে মোতাবেক কাজ করবে।
আরও পড়ুন: জুলাই বিপ্লব চলাকালে পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে: জাতিসংঘ
৫. যেসব শিশু অপরাধ করেছে বলে আদালতে সাব্যস্ত হয়েছে, তাদের আটক করে না রেখে এর বিকল্প ব্যবস্থা বের করতে হবে। শাস্তি যা শিশুর স্থায়ী ক্ষতি করে, তার পরিবর্তে বিভিন্ন ডাইভারশন প্রোগ্রাম, প্রবেশন ও পুনর্বাসনমুখী বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
৬. শিশু-সংবেদনশীল আইনি প্রক্রিয়াগুলি নিশ্চিত করবে; যেখানে শিশুদের জন্য বিশেষ আদালত, আইনি সহায়তা এবং শিশু-সংবেদনশীল তদন্ত ব্যবস্থা থাকবে।
৭. শিশু ভুক্তভোগীদের রক্ষা করবে; ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুদের অধিকার এমন লঙ্ঘন না হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ এখন বড় এক পরিবর্তন, প্রত্যাশা ও রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে। সংস্কার কমিশনগুলো বর্তমানে পুলিশ, আদালত ও বিচার ব্যবস্থার পুনর্নির্মাণে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে যেভাবে কাজ করছে, তাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও আরও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরির সুযোগ রয়েছে।
৪৯৭ দিন আগে
সুদানে মহামারী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে ৩৪ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
সুদানে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ৩৪ লাখ শিশু মারাত্মক মহামারী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে কলেরা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, হাম ও রুবেলার মতো রোগ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্ত রাজ্য ও এর বাইরে শিশুদের অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। সুদানের অনেক শিশুর পুষ্টির অবস্থার অবনতি তাদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিসেফ গত ৯ সেপ্টেম্বর সুদানে ৪ লাখ ৪ হাজার ডোজ ওরাল কলেরা টিকা সরবরাহ করে। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সুদানে টিকা দেওয়া ৮৫ শতাংশ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
এতে বলা হয়, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি হাসপাতালেই কার্যকম বন্ধ রাখতে হয়েছে। কয়েক মাস ধরে বেতনও পাচ্ছেন না স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা।
আরও পড়ুন: বন্যায় বিপর্যস্ত সুদানের ৭ লাখ মানুষ
গত বছরের এপ্রিলে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে লড়াই শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬৫০ জন মারা গেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসময় কলেরা, ম্যালেরিয়া, হাম ও ডেঙ্গু জ্বরের মতো মহামারী রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যেসব রোগের কারণেও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট দেশটিতে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেন সুদানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইথাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কলেরা ছড়িয়ে পড়ার জন্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত অবস্থার অবনতি এবং অপরিষ্কার পানির ব্যবহারকে দায়ী করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৩২৮ জনের মৃত্যুসহ ১০ হাজার ২২ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুদানে কলেরার প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত সাড়ে ৯ হাজার, মৃত্যু ৩১৫
৬৪৬ দিন আগে
পরিকল্পনা উপদেষ্টার সঙ্গে ইউনিসেফ, ইউনেস্কো ও ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউনিসেফ, ইউনেস্কো ও ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি।
রবিবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিকালে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন
বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তবর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ’র এজেন্সি প্রধান ক্রিস্টিন ব্লখুস, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের ডেপুটি প্রতিনিধি এমা ব্রিগহাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিরা শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উদ্যোগসমূহকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন এবং তারা শিক্ষাখাতে যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানান। তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের উপর জোর দেন। বিশেষত শিক্ষানীতি ২০১০ হালনাগাদ করা দরকার বলে মতামত দেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি
পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে বলেন, ‘আমরা মানসম্মত শিক্ষার উপর জোর দিচ্ছি। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ এবং এর বিশেষায়িত সংস্থাসমূহের সবরকমের সহযোগিতাকে স্বাগত জানাই।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের জনসভা, সাক্ষাৎ করবেন আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গেও
৬৫৬ দিন আগে
বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যায় ঝুঁকিতে ২০ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ঘরবাড়ি, স্কুল ও গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ২০ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে গত ৩৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৬ লাখ মানুষ।
নজিরবিহীন মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি এলাকাগুলোকে প্লাবিত করে।
এতে ৫২ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
আটকা পড়া লাখ লাখ শিশু ও পরিবারে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সরকারি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার অভিযান চালালেও কিছু এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমের আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমা ব্রিগহাম বলেছেন, 'বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা শিশুদের ওপর চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা ও জলবায়ু সংকটের অব্যাহত প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বহু শিশু তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাদের বাড়িঘর, স্কুল ধ্বংস হয়েছে এবং তারা এখন পুরোপুরি নিঃস্ব।’
তিনি বলেন, ‘ইউনিসেফ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তবে এই শিশুদের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের ভবিষ্যতের ওপর আরও বিধ্বংসী প্রভাব রোধ করতে আরও তহবিলের প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন: ২০২১ সালে বিশ্বে বায়ু দূষণে ৮১ লাখ মৃত্যু: ইউনিসেফ
দুর্যোগের শুরু থেকেই ইউনিসেফ মাঠে রয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হাসান আরিফের সঙ্গে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন মিশনে যোগদানের করে। ইউনিসেফ তার অংশীদারদের সঙ্গে ১৩ লাখ শিশুসহ ৩ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষের কাছে ৩৬ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পানি সংরক্ষণের জন্য ২৫ হাজার জেরি-ক্যান এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট স্যাচেট পৌঁছিয়েছে।
কিন্তু আরও অনেক কিছু দরকার। মানুষ ও শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে নগদ অর্থ সহায়তা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, হাইজিন কিট, জরুরি ল্যাট্রিন, স্যানিটারি প্যাড, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট এবং জরুরি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ প্রয়োজন।
অসুস্থ নবজাতক ও শিশুদের চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবে সহায়তা করার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দ্রুতই চালু করতে হবে।
সাম্প্রতিক বন্যা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা এবং মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কাছাকাছি সময়ে আঘাত হানে।
সামষ্টিকভাবে তিনটি দুর্যোগে ৫০ লাখ শিশুসহ সারা বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই তিনটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফের জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, জীবন রক্ষাকারী এবং বহু-খাত সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত: ইউনিসেফ
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং অন্যান্য চরম দুর্যোগপূর্ণ ঘটনাগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি, তীব্রতা ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বাড়িয়ে তোলে। জলবায়ু সংকট মূলত শিশু অধিকারের সংকট।
ইউনিসেফের শিশুদের জলবায়ু ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের শিশুরা।
বিশ্বব্যাপী, ইউনিসেফ জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করে:
(ক) শিশুর জীবন, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা
(খ) প্রত্যেক শিশুকে পরিবেশের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে ক্ষমতায়ন করা; এবং
গ) নির্গমন ও পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস।
ব্রিগহাম আরও বলেন, 'বছরের পর বছর বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের লাখ লাখ শিশুর জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন স্পষ্টতই শিশুদের জীবন পরিবর্তন করছে।’
তিনি বলেন, 'শিশুদের জন্য বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে জরুরি ও জোরালো ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে আমরা বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে ৩২ শিশু নিহতের বিষয়ে ইউনিসেফের বিবৃতির জবাব দিল সরকার
৬৬৫ দিন আগে
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত: ইউনিসেফ
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।
এক বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ইউনিসেফ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আকস্মিক এই বন্যায় এরইমধ্যে ২০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি শিশু।’
ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আগামী ২৪ ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে: এফএফডব্লিউসি
শেলডন ইয়েট আরও বলেন, ‘বন্যার পানি বাড়তে থাকলে শিশুরা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। পানিতে ডুবে মৃত্যু, অপুষ্টির শিকার ও মারাত্মক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া, বাস্তুচ্যুতির আতঙ্ক এবং জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।’
শিশুদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল নিশ্চিত করা ইউনিসেফের অগ্রাধিকার বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকার এবং মাঠপর্যায়ের পার্টনারদের সঙ্গে সমন্বয় ও অংশীদারিত্বে গত ৫ দিনে প্রায় ১ লাখ বন্যাকবলিত মানুষের কাছে নিরাপদ পানি বিতরণ করেছে। পাশাপাশি ৩ হাজারেরও বেশি ১০ লিটারের পানির পাত্র দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে তা মোকাবিলায় বিভিন্ন গুদাম থেকে জরুরিভিত্তিতে অতিরিক্ত জরুরি সরঞ্জাম আনা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: বন্যার কারণে সিলেট বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
শেলডন ইয়েট বলেন, ‘সিলেট বিভাগে ৮১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া, ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও প্রায় ১৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
কঠিন এই সময়ে সম্ভাব্য সহিংসতা নিরসনে এবং ট্রমা বা আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে শিশুদের সহযোগিতা করতে শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীরা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
নদীগুলোর পানি বিপজ্জনক উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে উল্লেখ করে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।
আরও পড়ুন: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বেড়ে সোয়া ৮ লাখ
৭৩৫ দিন আগে