ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রস্থলে কি সংকুচিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক পরিসর?
দেশের অন্যতম প্রাণবন্ত সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে শিল্পীরা নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা, দর্শন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ পান। থিয়েটার থেকে চারুকলা, আবৃত্তি থেকে সংগীত পরিবেশনা—বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাংস্কৃতিক পরিচয় তার অ্যাকাডেমিক পরিচয়ের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
তবে বর্তমানে সেই পরিচিত ধারায় কোথাও যেন একটা পরিবর্তন এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক নীরব কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্যে যে ক্যাম্পাস একসময় মুখর থাকত, সেটিকে এখন অনেকটাই ভিন্ন মনে হয়। অনেকের দাবি, বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন, সাংস্কৃতিক আড্ডা এবং ক্যাম্পাসের সেই সাংস্কৃতিক আবহ আগের মতো এখন আর দৃশ্যমান নয়। অনুষ্ঠান এখনও হচ্ছে, তবে তা ছোট পরিসরে এবং সেখানে অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনা অনেকটাই কম।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ, ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, এই পরিবর্তন ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় আসা বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তাদের দাবি, অনিশ্চয়তার পরিবেশ, আদর্শিক মেরুকরণ এবং জনরোষের আশঙ্কা ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ক্যাম্পাস এখন একটি অভিযোজন প্রক্রিয়ার ((অ্যাডজাস্টমেন্ট) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে না, বরং নতুন রূপ নিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠেনি, বরং প্রতিদিনের অসংখ্য অনানুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড ও আড্ডার মাধ্যমে প্রাণবন্ত থাকত ক্যাম্পাস। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), চারুকলা এবং অন্যান্য স্থানে অনানুষ্ঠানিক মহড়া, গানের আসর, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক আলোচনা চলত সবসময়। এই কর্মকাণ্ডগুলো সবার মধ্যে এক ধরনের একাত্মবোধ তৈরির মাধ্যমে সংস্কৃতিকে ক্যাম্পাস জীবনের একটি দৃশ্যমান ও অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল।
সাংস্কৃতিক কর্মী ও ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল হোসেন বলেন, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির আগে টিএসসিকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আবহ ছিল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি ছোট ছোট দল (বিভাগীয় কিংবা বাইরের) গান, আবৃত্তি বা নৃত্যচর্চা করত। সেসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দেখতেও বহু মানুষের সমাগম হতো।
তিনি আরও বলেন, সে সময় শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন ও আগ্রহী ছিল। ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক দলগুলোও পৃষ্ঠপোষক ও দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেত। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করত। বিভিন্ন বিভাগের অনুষ্ঠানেও স্থান পেত আদিবাসী ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপাদান। পহেলা বৈশাখসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে চারুকলা আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো নানা শ্রেণির বিপুল পরিমাণ দর্শক টানত।
তবে ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করেন রবিউল।
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আগে প্রধান উদ্বেগ ছিল কোনো অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যাচ্ছে কি না। এরপর ৫ আগস্টের পর ভেবেছিলাম সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো আরও সুষ্ঠুভাবে হবে, কিন্তু তা হয়নি। সবাইকে এক ধরনের “মব কালচারের” ভয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ঢাবিতে সরাসরি বড় ধরনের কোনো ঘটনা হয়তো ঘটেনি, তবে পরোক্ষভাবে আমাদের অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক সংস্কৃতিচর্চা নিয়েও এখন বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
গত বছর টিএসসিতে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই প্রদর্শনী থেকে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলে।
রবিউল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে অনেক অনুষ্ঠান হতো। তবে সেগুলো মূলত আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগকেন্দ্রিক ছিল, যেন মুক্তিযুদ্ধে কেবল তাদেরই অবদান ছিল। সে সময় আমরা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর সেই ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা সেটিও করতে পারিনি। এখন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। ফলে টিএসসিকেন্দ্রিক অনেক সংগঠনই “ট্যাগ” খাওয়ার ভয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক থিম নিয়ে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করছে।’
শামসুন নাহার হল সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর কয়েকজন সমন্বয়ক টিএসসির একটি নিবন্ধিত সংগঠন ‘স্লোগান ৭১’-এর কক্ষ দখল করে সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইনকিলাব ২৪’ রাখেন।
তবে টিএসসির পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, ইনকিলাব ২৪ নয়, ২০৭ নম্বর কক্ষটি বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি লিটারেচার সোসাইটি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব ব্যবহার করছে।
ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্ব না থাকার পর একটি নির্বাচিত ডাকসু প্যানেলের প্রত্যাবর্তনকে ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবীত করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু এখন কিছু শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীর অভিযোগ, ডাকসু সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং তারা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে।
যদিও অনেকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে ইঙ্গিতটি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকেই। জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমিতে ওই নির্বাচনের ফলও জাতিকে বিস্মিত করেছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া আব্দুল কাদের গত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তার দাবি, ছাত্র সংসদ ক্রমেই একটি নির্দিষ্ট ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়ে উঠছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মূলত ‘ইসলামী ভাবধারা’র অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন। বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ খুবই কম।
কাদের বলেন, ‘শিল্পীরা নিরাপদ ও উৎসাহিত বোধ করেন এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে ডাকসু এবং বর্তমান ছাত্র প্রতিনিধিরা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড একমুখী হয়ে গেছে। তাদের বুঝতে হবে যে তারা কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন।’
বর্তমান পরিস্থিতিকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাস হয়তো আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবমুক্ত হয়েছে, কিন্তু তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ‘আরেকটি রক্ষণশীল গোষ্ঠী’ ক্যাম্পাস জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে।
কাওয়ালি ও মিলাদ মাহফিলের উত্থান
২০২৪ সালের আগস্টের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। কাওয়ালি গানের অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিল এর মধ্যে অন্যতম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আতিকুর রহমান তোহা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দীর্ঘদিনের বাঙালি সংস্কৃতির ধারার বিপরীতে একটি বিকল্প সাংস্কৃতিক ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হতে পারে।’
তবে বর্তমানে এ ধরনের আয়োজন আগের মতো আর ততটা দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে তোহা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে কাওয়ালি সংস্কৃতিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও সফল হয়নি। এ কারণেই এই প্রবণতা ধীরে ধীরে গতি হারিয়েছে।’
তবে এ ধরনের চর্চাকে সম্পূর্ণ নতুন বলে মানতে নারাজ রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, ‘মিলাদ মাহফিল সবসময়ই ছিল, বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে। পার্থক্য হলো, তখন এগুলো সাধারণত মসজিদ ও ছোট পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত।’
তার মতে, মুসলিম শিক্ষার্থীদেরও বৈধ সাংস্কৃতিক পরিসর থাকা উচিত। বিগত বছরগুলোতে ইসলামি সংস্কৃতির প্রকাশকে অনেক সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সমস্যাজনক হিসেবে তকমা দেওয়া হতো।
একই সঙ্গে কিছু গোষ্ঠী ইসলামি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাও স্বীকার করেন রবিউল।
তিনি বলেন, ‘কাওয়ালি একটি সমৃদ্ধ ও মূল্যবান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এটি যখন রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন মানুষ এটিকে সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে দেখতে শুরু করে। সংস্কৃতির মতো আগস্ট-পরবর্তী কিছু উদ্যোগ রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল।’
অনিবার্য পতন, নাকি সাময়িক স্থবিরতা?
অনেকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার মূল কারণ ছিল এক ধরনের অজানা আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং ‘মব কালচারের’ ভয়। অন্যরা মনে করেন, ৫ আগস্টের পর নতুন কমিটি গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের কারণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমে গেলেও এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
রবিউল হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমরা যারা নিরপেক্ষ ছিলাম, তারা আশা করেছিলাম যে অবশেষে কোনো বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে সংস্কৃতিচর্চা করতে পারব। তবে “মব কালচারের” প্রভাবে তা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই মব কালচারের কারণে সবাই এক ধরনের ভয়ের সময় পার করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বড় কোনো ঘটনা না ঘটলেও আমাদের পরোক্ষভাবে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী ও ক্লাবকর্মী ছিলেন যাদের আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে পারিবারিক বা অন্য কোনোভাবে সম্পর্ক ছিল। তাদের অনেকেই কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা জনপরিসর থেকে সরে গেছেন। এই বড় অংশটি সরে যাওয়ার কারণে টিএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও সীমিত হয়ে পড়ে। এখন টিএসসির কার্যক্রমের জন্য সক্রিয় সদস্য খুঁজে পাওয়াটাই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অন্যদিকে, আতিকুর রহমান তোহা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন কিছুটা কমেছিল, তা সত্য; এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এখন আবার নিয়মিত অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং এসব কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সময় অনুষ্ঠান কমে যাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ ছিল। তখন ভয় ও অনিশ্চয়তার একটা পরিবেশ ছিল। অন্যদিকে, ক্লাবগুলোর নতুন কমিটি গঠন এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় সামলাতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে এই বিষয়গুলোর কারণে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’
অর্থাৎ, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সাংস্কৃতিক পরিসরও তাতে প্রভাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে মব কালচারের আতঙ্ক, রাজনৈতিক মেরুকরণ আর ইতিহাসের নতুন সমীকরণ ক্যাম্পাস জীবনের চেনা গতিপ্রকৃতিকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
একদিকে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতির ধারক সংগঠনগুলোর স্থবিরতা কাটানোর লড়াই, অন্যদিকে বিকল্প ধারার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্রয়াস—সব মিলিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস এখন বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বৈচিত্র্য ও সংকটের দোলাচলেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে—শতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তচিন্তা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের এই চেনা চত্বরটি শেষ পর্যন্ত কোন অভিমুখে যাত্রা করবে।
১৫ দিন আগে
ঢাবিতে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে মালির মৃত্যু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে নিচে পড়ে ছিয়াকুল (৩৯) নামে এক বাগান মালির মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ছিয়াকুলের বাড়ি নড়াইলের নড়াগাতী থানার দেবদূত এলাকায়। তার বাবার নাম রয়জুল। বর্তমানে তিনি ঢাবির রোকেয়া হলের বাগানের মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের সহকর্মী সুনীল জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রোকেয়া হলের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ছিলেন ছিয়াকুল। এ সময় অন্য আরেকটি কাঁঠাল তার মাথার ওপর পড়লে গাছ থেকে নিচে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
ঢাবির পরিসংখ্যান ৮৮ ব্যাচের উদ্যোগে কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির মাংস বিতরণ
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা চরের দরিদ্র মানুষের মাঝে কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরে আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রমে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নদীবেষ্টিত ও বিচ্ছিন্ন চরের মানুষের জন্য এমন সহায়তা ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, ইউপি সদস্য হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
৪১ দিন আগে
ঢাবি সাংবাদিকতা বিভাগ অ্যালামনাইয়ের নেতৃত্বে ইলিয়াস-রিনভী-মাসউদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (ডিইউএমসিজেএএ) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদে ইলিয়াস খান, সাধারণ সম্পাদক পদে শাহনাজ শারমিন রিনভী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র—টিএসসিতে ডিইউএমসিজেএএ’র বার্ষিক সাধারণ সভা ও দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ভোট গণনা শেষে এদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহফুজুর রহমান। এ সময় নির্বাচন কমিশনার জাহিদ নেওয়াজ খান, দৌলত আক্তার মালা, আবু সালেহ আকন এবং আঙ্গুর নাহার মন্টি উপস্থতি ছিলনে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে ইলিয়াস খান ২৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. এম কামাল উদ্দিন জসিম পেয়েছেন ১২৬ ভোট।
সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী ৫ জন হলেন— তারিকুল ইসলাম খান রবিন (৩৪০ ভোট), মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া (৩২২ ভোট), কবির আহমেদ খান (২৮৯ ভোট), শারমিন আক্তার (২৩৩ ভোট) এবং শাহেদ আলম (২০৯ ভোট)।
একক প্রার্থী হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন শাহনাজ শারমীন রিনভী।
এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শাকিল হাসান ৩২৫ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন। এই পদে অন্য দুই বিজয়ী হলেন— জেসমিন জাহান মুন (২৬৫ ভোট) এবং মো. মাজেদুল হাসান পায়েল (১৯৭ ভোট)।
অর্থ সম্পাদক পদে তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়াও সহ-অর্থ সম্পাদক পদে লিঙ্কন মো. লুৎফরজ্জামান সরকার (২৯২ ভোট) ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রফিকুল ইসলাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোস্তফা মোহাম্মদ তাহান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা), গবেষণা ও সেমিনার সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা), কল্যাণ সম্পাদক পদে তারেক হাসান নির্ঝর (৩৩২ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি (২৪৯ ভোট), যোগাযোগ সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তানিয়া সুলতানা (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা) এবং দপ্তর সম্পাদক পদে মো. রাফিজ খান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা) দায়িত্ব পেয়েছেন।
১০টি নির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন— আবুল কালাম আজাদ, হাসান উল্লাহ খান (রানা হাসান), মো. আনোয়ার হোসেন মজুমদার, শারমিন ইফফাত শামস তুলি, আলী আসিফ শাওন, ইশরাত জাহান শোভা, নাজমা বিনতে আলমগীর, শওকত এম ওবায়েদ হাসান রুকুন, মুহাম্মদ রেজাউল করিম শাম্মী এবং তৌফিক মাহমুদ।
এর আগে, গতকাল বিকেলে থেকে আয়োজিত ‘যোগাযোগ উৎসব’-এ প্রধান অতিথি ছিলেন ডিইউএমসিজেএএ’র অ্যালামনাই সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অ্যালামনাইয়ের সভাপতি মো. শামসুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। এ সময় বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক ড. গোলাম রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, অ্যালামনাইয়ের সাধারণ সম্পাদক মীর মাসরুরুজ্জামান রনি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাকিল হাসান।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত ‘যোগাযোগ উৎসব’ এদিন এক প্রাণবন্ত মিলন মেলায় পরিণত হয়। উৎসব ও নির্বাচন উপলক্ষে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। দীর্ঘদিন পর পুরনো সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হওয়া, স্মৃতিচারণ এবং আড্ডায় পুরো আয়োজনটি এক অন্যরকম উৎসবে রূপ নেয়।
৬১ দিন আগে
ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; চিরকুটে শিক্ষকের নাম, হেফাজতে ২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।
তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোছা. ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করি।
নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের মরদেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে ইউএনবিকে জানান, মিমোর মরদেহ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন।
ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।
৭৪ দিন আগে
ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু
দীর্ঘ ৬ বছরের অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ৩৮তম নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আটটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স খুলে সবাইকে দেখিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদের দুইটি বাক্স সিলগালা করে দেন।
আরও পড়ুন: রাত পেরোলে ডাকসু নির্বাচন, নতুন ভোরের অপেক্ষায় ক্যাম্পাস
এ সময় তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন ব্যালট বাক্স সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখে সিলগালা করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় বাক্সটি কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ছোটটি হল সংসদের জন্য। ভোট গ্রহণ শেষে যখন ভোট গণনা হবে, তখন সবাইকে নিয়ে বাক্সটি খোলা হবে।
৩০৩ দিন আগে
ধর্ষণের হুমকি দেওয়া আলী হুসেনকে ঢাবি থেকে বহিষ্কার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলী হুসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলী হুসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে 'গণধর্ষণের' হুমকির প্রতিবাদে জাবি ছাত্রদলের 'অবস্থান কর্মসূচি'
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলী হুসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত প্রক্টরিয়াল সত্যানুসন্ধান কমিটির সুপারিশের আলোকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এটি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডারে প্রদত্ত প্রক্টরের এখতিয়ারভুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আলী হুসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
৩০৯ দিন আগে
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে 'গণধর্ষণের' হুমকির প্রতিবাদে জাবি ছাত্রদলের 'অবস্থান কর্মসূচি'
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং সারা দেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে (ডেইরি গেইট) এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীরা ঢাবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকির নিন্দা জানান এবং দেশব্যাপী ছাত্রদলের নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেনস্তাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। যার কারণে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, সেসমস্ত শিক্ষার্থীদের উপরে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে আক্রমণ করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নিয়ে কথা হচ্ছে সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে। এর তীব্র ও নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।’
আরও পড়ুন: চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ
জাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, ‘যে নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল আজকে তাদেরকে সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’
এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান, জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী, এজিএস প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম ও আঞ্জুমান আরা ইকরাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
৩১০ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন: ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাবিতে সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের কারণে আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা বর্তমানে তাদের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে সেনা মোতেয়েন করা হবে না: আইএসপিআর
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ১৭ জন; কমন রুম, রিডিং রুম এবং ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ১১ জন; আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১৪ জন; সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১৯ জন; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ১২ জন; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৯ জন; ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১৩ জন; ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১২ জন; সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৭ জন; স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ১৫ জন; মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে ১১ জন এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবার নির্বাহী সদস্য পদের জন্য মোট ২১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
৩১৩ দিন আগে
ঢাবিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাস স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো ‘হাসির আড্ডা'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ক্যাম্পাস স্ট্যান্ডআপ কমেডি শো ‘হাসির আড্ডা'। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই শো-এর উদ্যোক্তা ছিলেন ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অনিদ হাসান। আসন্ন ডাকসু কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী তিনি।
অনুষ্ঠানে মোট ৮ জন স্ট্যান্ডআপ কমেডি আর্টিস্ট পারফর্ম করেন। তারা হলেন— অনিক দে অন্তু, পৌষী রাজ্জাক, তাসদিদ আশরার, মাখজুম খান শাদীদ, নীলিমা রাফি, আশরাফুল হক ইমু, শারার শায়র ও সায়েদ রিদওয়ান হোসেন বিপ্রো।
মূল পারফরম্যান্সের আগে ওপেন মাইকের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাইরের ৮ জন শিক্ষার্থী র্যান্ডম বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে প্রত্যেকে তিন মিনিট করে পারফর্ম করেন।
আয়োজক অনিদ হাসান জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যান্ডআপ কমেডি সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘শুরুটা আমরা করেছি। পরিকল্পনা আছে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার।’
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং চলে রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই শোতে পুরো অডিটোরিয়াম দর্শকে পূর্ণ ছিল, এমনকি অনেককে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দেখা গেছে।
৩২০ দিন আগে