তিস্তা নদী
কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় অবস্থিত চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীটির পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার এবং তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম পাউবো।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া জানান, এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
১ দিন আগে
পানি নামতেই ভয়াল তিস্তা, এক সপ্তাহে বিলীন ৪০ ঘরবাড়ি
কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ার পর বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা যেন হয়ে উঠেছে আরও হিংস্র।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চর ঢুষমারা এলাকায় গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। প্রতিদিনই ভাঙন এগিয়ে আসছে মানুষের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার দিকে।
চর ঢুষমারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল সারি সারি বসতবাড়ি, উঠান আর ফসলের জমি, সেখানে এখন শুধু তিস্তার উত্তাল স্রোত। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ-খুটি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউবা চেষ্টা করছেন শেষ মুহূর্তে সংসারের সামান্য জিনিসপত্র বাঁচানোর।
স্থানীয়দের ভাষায়, বন্যার পানি কমার পর থেকেই ভাঙনের গতি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো বাস করছে খোলা স্থানে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার চেষ্টা করছেন।
শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর ঢুষমারা জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার ঘর। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্থাপনাও বিলীন হতে পারে নদীতে।
চর ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বললেন, ‘তিস্তার ভাঙন আগেও দেখেছি আমরা, কিন্তু এবার যেভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে এত মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেল, এমন দৃশ্য দেখিনি আগে।’
বসতভিটা হারানো বাদশা মিয়ার কণ্ঠে হতাশা, ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে পুরো চর ঢুষমারা।’
‘আমরা ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া শেষ হবে না এই দুর্ভোগের’, বলছিলেন জয়নাল আবেদীন। একই দাবি জানিয়ে আবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। প্রতি বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমরা ক্লান্ত।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান জানিয়েছেন, পরিদর্শন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।
চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামও। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমে বাড়ছে ভাঙন, পানিবন্দি অন্তত ২০ হাজার পরিবার
তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি দুর্ভোগ। নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
গত দুদিনে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬৫টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। চরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশারায় পড়েছে নদী পারের মানুষ। বিপৎসীমার উপরে বইছে দুধকুমারও।
চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ ও ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
উত্তরের ৫ জেলায় পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে ৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙছে তিস্তার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অংশেও। ৫ জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
৮ দিন আগে
আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কায় বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা
ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফের বাড়ছে তিস্তার পানি। আজ রবিবার সকাল থেকেই পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে ফসল ও মাছ চাষ নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
রবিবার (২৮ জুন) বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে।
এর ফলে বন্যায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
তিস্তাপারের কৃষক সোলাইমান গনি বলেন, তিস্তার পানি বাড়ছে, আমরা আতঙ্কে আছি। পানি বাড়লে আমাদের আমন ধানের বীজতলার চারাগুলোর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
১১ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৬ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উত্তরের চার জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের ৬ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
১৬ দিন আগে
ফুঁসছে তিস্তা, উত্তরাঞ্চলের কৃষকের মনে ফের বন্যা আতঙ্ক
উত্তরাঞ্চলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ডালিয়া পয়েন্টে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়বে। এতে লালমনিরহাটসহ রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২৯৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তায় গোসল করতে নেমে কলেজছাত্র নিখোঁজ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে মেহেদি হাসান মুহিদ নামে এক কলেজছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের আউলিয়ার হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ কলেজছাত্র মুহিদ উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার এনামুল হক এনাম মাষ্টারের ছেলে। তিনি সম্প্রতি চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে চার বন্ধুসহ তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামেন মুহিদ। এক পর্যায়ে স্রোতের তোড়ে মুহিদ নদীর গভীরে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা তিন বন্ধু নদী থেকে উঠতে পারলেও মুহিদ নিখোঁজ হন। এরপর খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বিকাল ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার শরিফুল ইসলাম জানান, রংপুর থেকে ডুবুরি দল নেওয়া হয়েছে। তারা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তার সন্ধান মেলেনি।
৩১০ দিন আগে
বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে তিস্তার পানি, উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার আশঙ্কা
উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা— রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আজ (শনিবার) সকাল ৯টার দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। বিশেষত, তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিস্তার পানি ফের বিপৎসীমার ওপরে, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উত্তরের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
দুই সপ্তাহ আগে উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদী বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়েছিল। এর ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার ৩৪টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। একইভাবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর কিছু এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছিল।
তিস্তার নদীর নিম্নাঞ্চলে রোপা আমন ও সবজি খেত পানিতে ডুবে যায়। মৎস্যচাষিদের পুকুর থেকে মাছ ভেসে গিয়েছিল। এ ছাড়াও, নদীর পানি বাড়ায় গঙ্গাচড়া সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশের ব্লক ধসে যায়। এতে করে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছিল সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়ক।
বর্তমানে নদীর তীরবর্তী এলাকায় আমন আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। আবার বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: রংপুরে তিস্তা বাঁধে ধস, শঙ্কায় হাজারো পরিবার
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিনে তা বাড়তে পারে। এ ছাড়া গঙ্গা নদীর পানি আগামী পাঁচদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরের দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, আজ সকাল ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ৫২ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। ফলে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার।
৩১৩ দিন আগে
ডিমলায় নদীভাঙনে ঘরহারা শতাধিক পরিবার
তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নীলফামারীর ডিমলায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে উপজেলার খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই, বাইশপুকুর ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
রবিবার (১৭ আগস্ট) ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিমলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ১৫ আগস্ট থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও শুরু হয়।
ভাঙনের শিকার জয়নাল, কোরবান আলী, মজিবর রহমান, আবুল কাসেম, রায়হান, দুদু মন্ডল, আব্দুল কাদের, সিরাজুল, জাহিদুলসহ অনেকে জানান, গত দু’দিনে তাদের মতো অনেকের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে সবাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গ্রোয়েন ও স্পার বাঁধসহ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইয়ে পদ্মার পানি সরলেও দুর্ভোগ কমেনি
খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে।’
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘ভাঙন কবলিতদের তালিকা করা হচ্ছে। যে কোনো সরকারি সহায়তা পেলে তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগীয় প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও যদি কোথাও তীব্র ভাঙন দেখা দেয়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
৩২৬ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয়দের
লালমনিরহাটে উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে টানা চার দিন ধরে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে করে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে আজ সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমেনি।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯২ মিটার, যা বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচে।
তিস্তাপাড়ের মানুষ ও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমবার (১১ আগস্ট) রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে তা টানা তিন দিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়ার ফলে লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যার কবলে পড়েছে। নদীর দুই পাড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নতুন নতুন এলাকা ডুবে গেছে; পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
এর মধ্যে পাটগ্রামের দহগ্রাম; হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্দ্ধন, বাহাদুরপাড়া; সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ
টানা চার দিনের বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলো আগে থেকেই রয়েছে চরম দুর্ভোগের মধ্যে। এখন পানি কমতে থাকলেও শুরু হয়েছে নতুন উপদ্রব। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ হানা দিচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকায়।
৩২৮ দিন আগে