জাতিসংঘ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে শামা ওবায়েদ ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
৯ ঘণ্টা আগে
সশস্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভেতরে ও বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অতীতের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কমান্ড চেইন বজায় রেখে বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং দেশে-বিদেশে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য মূল বার্তা হলো—পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। এ সময় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাই এই সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য।’
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনী যে ‘বড় ধাক্কা’ খেয়েছিল, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পরিণতি দেশবাসীর ভালো করেই জানা আছে।
তিনি বলেন, কেবল অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পূর্ণ সততার সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা সশস্ত্র বাহিনী, সরকার বা জনপ্রশাসনে কাজ করছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই কাজ করি না কেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সঠিকভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দ্রুত প্রযুক্তির উন্নতির কারণে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গণমাধ্যম প্রচারণা এবং জলবায়ু-জনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক শান্তির জন্য নতুন বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক হতে হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিদেশে দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে বেড়ায়।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, হাইতিতে একটি নতুন মিশনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানেরও প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য, যারা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
৯ দিন আগে
জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।
নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত শান্তিরক্ষীরা হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম
সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ফোর্স কমান্ডার হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা নিয়ে আলোচনা হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে মিনহাজুল আলম অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে সাতজন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা আটটি ভিন্ন দেশে সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (মরহুম) আনিসুর রহমান। পরের বছর একই মিশনে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম। এছাড়া মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায় এবং মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে পশ্চিম সাহারায় ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই সময়ে জাতিসংঘের দুটি পৃথক মিশনে বাংলাদেশি দুই সেনা কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মিনহাজুল আলমের এ নিয়োগ সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন।
সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধে এ মিশন গঠন করা হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন বা ‘গ্রিন লাইন’ বজায় রাখা এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা।
মিশনটির জন্য অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা ১ হাজার ৯০। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৭২৭ জন সামরিক সদস্য, ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ জন বেসামরিক কর্মী কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের সামরিক সদস্য এ মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী মিনহাজুল আলম ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। সর্বোত্তম সার্বিক পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এ নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া মধ্য আফ্রিকায় জাতিসংঘ মিশনের সেক্টর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ও কমান্ড্যান্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী এই সেনা কর্মকর্তা জাতিসংঘের ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি কক্সবাজারভিত্তিক দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বও পালন করেন।
১৬ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী পান ৯১ ভোট।
এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখছে ঢাকা।
এটি শুধু একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বটে।
এই অর্জনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, স্বল্প সময়ে পরিচালিত সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্বাচনের জন্য মাত্র তিন মাসের মতো সময় অবশিষ্ট ছিল। এই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়টি স্মরণ করেন। সে সময় শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জাপানকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের সীমাবদ্ধতা। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচনে কয়েক বছরব্যাপী প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালানো হলেও বাংলাদেশকে মাত্র তিন মাসের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কার্যত পাঁচ বছরের সমপরিমাণ কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পন্ন করেছে।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনজিএ সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ড. খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকেই শুরু হয় পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচারণা। সীমিত সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়।
১৬ দিন আগে
যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল ও রুশ বাহিনী
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বাহিনী ও রুশ বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের যৌন সহিংসতা-বিষয়ক ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যানের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তৈরি জাতিসংঘের ৩৫ পৃষ্ঠার বার্ষিক এ প্রতিবেদনটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের মিশন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত ১২টি দেশের ৭৭টি সরকারি ও বেসরকারি পক্ষকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৫ সালের এই তালিকায় রয়েছে ইসরায়েলের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নাম। একইসঙ্গে এই তালিকায় হামাসের নামও রয়েছে । ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর হামাস আগে থেকেই কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগে এ বছর রাশিয়ার সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের নামও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
তালিকায় নাম আসার পর ইসরায়েল ও রাশিয়া—দুই দেশের রাষ্ট্রদূতই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘আমরা মহাসচিবকে চিঠি দেব। চিঠিতে জানানো হবে, প্রতিবেদনে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আগের মতোই আবারও রাশিয়াকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করে রাশিয়াও একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মকাণ্ডে হতাশ। গুতেরেস ইসরায়েলকে হামাস, আইএস এবং বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একই কালো তালিকায় রেখেছেন।’
ড্যানন আরও জানান, প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর জবাবে ইসরায়েল আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ ডিসেম্বর মাসে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার একটি ধারাবাহিক চিত্র নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি গাজা ও পশ্চিম তীরের ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন ছেলে ও এক মেয়ে শিশুর ওপর সংঘাতকালে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালে। বাকি ১৮টি ঘটনা ঘটে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আরও করা হয়েছে, এসব নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌনাঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি, স্তন ও যৌনাঙ্গ স্পর্শ, অযৌক্তিকভাবে পোশাক খুলে শরীর তল্লাশি এবং ধর্ষণের হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে অন্তত ৯ জন ভুক্তভোগীর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গাজার বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ একাধিকবার ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েলের কারা বিভাগ, বিশেষ বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ওঠা সকল অভিযোগ তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অভিযোগগুলো তারা পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করেছে। সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনে হামাসের বিরুদ্ধে আবারও যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অভিযোগের অনেক তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার জাতিসংঘকে এখনও দিচ্ছে না ইসরায়েল সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এরপরও রাশিয়া এবং রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১০টি ঘটনা যাচাই করতে পেরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ২০২৫ সালের আগের সময়ের। তবে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় রাখা হয়নি।
২১ দিন আগে
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জাতিসংঘের
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।
এ সপ্তাহের শেষদিকে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন বিষয়ক এক বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুতেরেস সতর্ক করেন, এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি ভুল হিসাব-নিকাশ ও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতি হবে অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই সরাসরি বলতে চাই, বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে নয়। এই ধারা অবশ্যই বদলাতে হবে। এই মৃত্যুর খেলা থামাতেই হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৫ হাজারও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক শিশুও রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিবেদনেও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের তথ্য উঠে আসছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, সম্মুখ যুদ্ধরেখা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষত জ্বালানি অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলো বিশাল মাত্রায় ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে এখন যা দরকার তা হলো উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বন। এখন যা দরকার, তা হলো পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি, আরও কূটনীতি। দরকার এমন পরিবেশ তৈরি করা যা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তির পথ খুলে দেবে।’
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার’ প্রতিশোধ হিসেবে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
২১ দিন আগে
দেশে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।
জবাবে আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
২৯ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৩৫ দিন আগে