জাতিসংঘ
যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল ও রুশ বাহিনী
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বাহিনী ও রুশ বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের যৌন সহিংসতা-বিষয়ক ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যানের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবং ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে দুই দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তৈরি জাতিসংঘের ৩৫ পৃষ্ঠার বার্ষিক এ প্রতিবেদনটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের মিশন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে জড়িত ১২টি দেশের ৭৭টি সরকারি ও বেসরকারি পক্ষকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৫ সালের এই তালিকায় রয়েছে ইসরায়েলের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর নাম। একইসঙ্গে এই তালিকায় হামাসের নামও রয়েছে । ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর হামাস আগে থেকেই কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগে এ বছর রাশিয়ার সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছিলেন, তাদের নামও এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
তালিকায় নাম আসার পর ইসরায়েল ও রাশিয়া—দুই দেশের রাষ্ট্রদূতই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘আমরা মহাসচিবকে চিঠি দেব। চিঠিতে জানানো হবে, প্রতিবেদনে আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আগের মতোই আবারও রাশিয়াকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করে রাশিয়াও একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ মহাসচিবের কর্মকাণ্ডে হতাশ। গুতেরেস ইসরায়েলকে হামাস, আইএস এবং বিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একই কালো তালিকায় রেখেছেন।’
ড্যানন আরও জানান, প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর জবাবে ইসরায়েল আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগামী ৩১ ডিসেম্বর মাসে গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার একটি ধারাবাহিক চিত্র নথিভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আটক ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের একাধিক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি গাজা ও পশ্চিম তীরের ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন ছেলে ও এক মেয়ে শিশুর ওপর সংঘাতকালে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালে। বাকি ১৮টি ঘটনা ঘটে ২০২৩ ও ২০২৪ সাল মিলিয়ে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আরও করা হয়েছে, এসব নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌনাঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে গুলি, স্তন ও যৌনাঙ্গ স্পর্শ, অযৌক্তিকভাবে পোশাক খুলে শরীর তল্লাশি এবং ধর্ষণের হুমকির মতো ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে অন্তত ৯ জন ভুক্তভোগীর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গাজার বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ একাধিকবার ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), ইসরায়েলের কারা বিভাগ, বিশেষ বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ওঠা সকল অভিযোগ তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, অভিযোগগুলো তারা পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করেছে। সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করল, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে।
এদিকে, প্রতিবেদনে হামাসের বিরুদ্ধে আবারও যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অভিযোগের অনেক তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার জাতিসংঘকে এখনও দিচ্ছে না ইসরায়েল সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। এরপরও রাশিয়া এবং রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১০টি ঘটনা যাচাই করতে পেরেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে ইউক্রেনের ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা যুদ্ধবন্দি ও আটক বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ২০২৫ সালের আগের সময়ের। তবে ইউক্রেনকে জাতিসংঘের কালো তালিকায় রাখা হয়নি।
১ দিন আগে
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জাতিসংঘের
ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান।
এ সপ্তাহের শেষদিকে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেন বিষয়ক এক বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুতেরেস সতর্ক করেন, এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি ভুল হিসাব-নিকাশ ও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতি হবে অজানা ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই সরাসরি বলতে চাই, বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে নয়। এই ধারা অবশ্যই বদলাতে হবে। এই মৃত্যুর খেলা থামাতেই হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে ১৫ হাজারও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক শিশুও রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিবেদনেও ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের তথ্য উঠে আসছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, সম্মুখ যুদ্ধরেখা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। বিশেষত জ্বালানি অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলো বিশাল মাত্রায় ধ্বংস হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে এখন যা দরকার তা হলো উত্তেজনা প্রশমনের টেকসই পন্থা অবলম্বন। এখন যা দরকার, তা হলো পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি, আরও কূটনীতি। দরকার এমন পরিবেশ তৈরি করা যা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তির পথ খুলে দেবে।’
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার’ প্রতিশোধ হিসেবে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
১ দিন আগে
দেশে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।
জবাবে আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
৯ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
১৫ দিন আগে
জাতিসংঘ ফোরামে তথ্যের অখণ্ডতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের
তথ্যের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা, ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তথ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভ্রান্ত তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে বিভাজন বৃদ্ধি করছে এবং সমাজে পারস্পরিক আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এ প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আন্তঃদেশীয় ও দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বিশেষত নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিরোধী অপপ্রচার প্রতিহত করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা জোরদারে সমন্বিত ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সঠিক তথ্য প্রচার এবং বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাতিসংঘের নীতিমালা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী।
৩২ দিন আগে
জাতিসংঘ ফোরামে ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ও টেকসই এলডিসি উত্তরণের আহ্বান বাংলাদেশের
বৈশ্বিক এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা এবং একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, ২০২৬-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঋণের ব্যয় হ্রাস, অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একইসঙ্গে একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচারকৃত সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
৩৬ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে ব্যয় করা মার্কিন অর্থে প্রাণ বাঁচত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।
ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।
মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।
ফ্লেচার বলেন, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।
ফ্লেচার বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’। এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।
ফ্লেচার বলেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।
বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম।
আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে।
বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।
তিনি বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার।
ফ্লোচার বলেন, আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।
৩৮ দিন আগে
ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ
গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান ডিজিটাল বিভাজন হ্রাসে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ঊনষাটতম অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান। উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, বিশ্বে এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় দেশটির সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৪৪ দিন আগে
জাতিসংঘ বৈঠক: বৈশ্বিক তেল সংকটের চ্যালেঞ্জ ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চ্যালেঞ্জ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মহাসচিব নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় সমসাময়িক বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সম্মুখীন চ্যালেঞ্জগুলো এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. রহমান মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৬৪ দিন আগে