সুনামগঞ্জ
মাটি পরীক্ষার সুফল অধরা, কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাচ্ছেন না সুনামগঞ্জের কৃষকেরা
সুনামগঞ্জে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট হাওরের কৃষি উন্নয়নে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাচ্ছেন না। মাটি পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তা মানছেন না। তাছাড়া মাটি পরীক্ষা করে কৃষির উন্নয়নে কৃষকেরা উদ্যোগী হবেন—এই কার্যক্রমের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায়ও স্বাভাবিক গতি কমতে দেখা গেছে।
চাষবাসের উন্নয়নে ফসল ফলানোর লক্ষ্যে কোন মাটিতে কীভাবে পরিচর্যা করতে হয়, এ বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কথা রয়েছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের।
সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, হাওরের কৃষক ও অন্যান্য উপকারভোগীদের মাটি, পানি, উদ্ভিদ ও সার বিশ্লেষণ সেবা এবং মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণের ফলাফল অনুসারে স্থানভিত্তিক ফসল চাষের জন্য সার প্রয়োগের সুপারিশ করার কথা প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়া জেলার মাটির উর্বরতা এবং ভূমির উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে ফলাফলও যথাযথভাবে প্রয়োগ করার কথা।
মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফল, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফসল চাষে সার প্রয়োগের বিশেষ সুপারিশ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও মাটির উর্বরতা অবক্ষয় সমস্যা, ফসলের পুষ্টি উপাদানের সমস্যা, মৃত্তিকা রসের অভাব এবং ফসল উৎপাদনে বাধা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় পৌনে চার লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই হাওরের বোরো জমির ওপর নির্ভরশীল। সনাতন পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষবাস করে আসছেন। এখনো আধুনিক কৃষির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়নি। তাই কৃষির ফলনে তারা পিছিয়ে আছেন।
এদিকে ২০২১ সালে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে কার্যক্রম শুরুর পর সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষককে সার প্রয়োগের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। কখনো মাঠ থেকে, কখনো কৃষকরা মাটির নমুনা অফিসে নিয়ে এসে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করাচ্ছেন। এই পরীক্ষার আলোকে ফসল উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের সার প্রয়োগের সুপারিশ করছেন। এজন্য তাদের বিশেষ কার্ডও দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি অনলাইনেও কৃষকরা পূর্ণ ঠিকানা নিবন্ধন করলে অফিসের লোকজন মাঠে গিয়ে মাটির নমুনা এনে পরীক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও কৃষি অফিসের মাধ্যমে জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, জামালগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগারে প্রশিক্ষণ ও মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব উপজেলায় ৫০ জন করে কৃষককে গবেষণাগার পরিদর্শন করিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট সংশ্লিষ্টরা।
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কার্যক্রম চালুর পর ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষকদের সার সুপারিশ সেবার পরিসংখ্যান বেশি দেওয়া হলেও এখন এই গতি কমে এসেছে। চলতি বছর মাত্র ৪৬০ জন কৃষককে সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
তালিকা ধরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা উপজেলা কৃষি অফিসে মাটির নমুনা দিয়ে মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলেন, তারা কোনো পরামর্শ পাননি। তাই পরীক্ষার পর তাদের কী করতে হবে, এ বিষয়ে তারা ওয়াকিবহাল নন।
দিরাই উপজেলার শরিফপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, আমি বছরখানেক আগে দিরাই কৃষি অফিসে খেতের মাটি দিয়ে এসেছিলাম। তারপরও আমাকে তারা কিছুই জানায়নি। আমি আগে যেভাবে চাষ করতাম, এখনও একইভাবে চাষ করতেছি।
ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি দুই বছর আগে মাটি দিয়ে আসছিলাম। পরে আমাকে কিছু জানায়নি। আমি আমার মতো করে চাষ করি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, আমি মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলাম, কিন্তু তারা জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করার কথা বলেছে, তা দিলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
প্রতি শতাংশে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম সার প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের হিসাব মানলে প্রতি কেয়ারে (প্রতি ৩০ শতাংশে এক কেয়ার) ৪০ কেজির ওপর সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। তাই তাদের সুপারিশ না মেনে নিজের মতো করে চাষ করছি।
সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা সার প্রয়োগ সুপারিশ করে থাকি। এটা মানলে ফলন বেড়ে যাবে এবং রোগবালাইও প্রতিরোধ হবে। তবে কেউ না মানলে তো আমাদের কিছু করার নেই।
তবে পরীক্ষা করার পরও যারা সুপারিশ কার্ড পাননি, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
সুনামগঞ্জের শতবর্ষী হিজল বাগান দখলদারদের ইউএনওর হুঁশিয়ারি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান দখল ও ধ্বংসের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকীসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংচী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগান পরিদর্শন করেন ইউএনও।
অভিযানকালে বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন ও কৃষিকাজের প্রস্তুতির আলামত দেখতে পান তিনি। তারপর বনের ভেতরে জায়গা নির্ধারণ করে চাষাবাদের জন্য সমতল করা জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
একইসঙ্গে বাগানের ভেতরে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৃষিকাজ বা গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও বলেন, রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান শুধু একটি বন নয়; এটি এই এলাকার প্রাকৃতিক ঢাল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা, মাটি তোলা কিংবা চাষাবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই বাগান দখলের চেষ্টা করবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উজ্জ্বল রায় আরও জানান, হিজল বাগানটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বাগানটি ঘিরে সীমানা চিহ্নিতকরণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নতুন হিজল চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের দ্রত পদক্ষেপ না এলে ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগানটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেত। বাগানটি সংরক্ষণে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
২ দিন আগে
চাষের আওতায় আসছে হাওরের ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমি
সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় কৃষির উন্নয়নে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পতিত জমি চাষাবাদ, খাল-পাহাড়ি নালা খনন, হাওরের গোপাট পাকাকরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম শেষ হবে ২০২৯ সালে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমির সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে প্রায় ৫১ হাজার ৫৮ টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলা করে পানি সংরক্ষণ ও এর সঠিক ব্যবহার করে কীভাবে চাষাবাদ করতে হয়, তা শিখবেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে করে ধান এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বাড়বে। বাস্তবায়িত প্রকল্পে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাল ও পাহাড়ি নালা খননের ফলে মাছেরও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও পানির সঠিক ও টেকসই ব্যবহারও নিশ্চিত করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার ৩৩৯ হেক্টর ভূ-উপরিস্থ জমির পানি এবং ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর ভূগর্ভস্থ জমির পানিতে সেচ সরবরাহে জুন মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষক সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়াতে খাল খনন, রাবার ড্যাম, রেগুলেটর সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও কৃষক সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি গোপাট নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খুশি কৃষকরা। গোপাট নির্মিত হলে কৃষকরা সহজে বোরো মওসুমে নৌপথে ও গাড়িতে করে হাওর থেকে ধান বাড়িতে নিয়ে আসতে পারবেন। এতে তাদের সময় ও অর্থ অপচয় কম হবে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে খনন করা হবে ৭০ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ৩০টি পুরাতন স্কিম সংস্কার, ১৫টি কালভার্ট নির্মাণ, দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ, ৪টি গোপাট নির্মাণ এবং প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকল্পে চার জেলায় ২২১ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা খনন এবং ১০৫ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি ছড়া সংস্কার করা হবে। খননের ফলে খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সঞ্চিত পানি দিয়ে আমন ও রবি মৌসুমে সম্পূরক সেচের ব্যবহার করা হবে। এতে ২ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার হবে।
উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হাওর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা খাল, নালা, পাহাড়ি ছড়া পুনর্খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে আগাম বন্যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি রক্ষা পাবে এবং ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন নির্মাণের ফলে ১৬৭ হেক্টর জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে ৮ হাজার ৬৭ হেক্টর বোরো জমির প্রায় ২৪ হাজার ২০০ মে.টন ফসল সুরক্ষা পাবে।
এ ছাড়াও প্রকল্পে ১১০টি ৫-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ২-কিউসেক এলএলপি, ৮টি ১-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ১.৫-কিউসেক ফোর্সমোড পাম্প স্থাপনসহ ৩৬৭.৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ০.৫-কিউসেক উচ্চ হেডের পাম্পের সাহায্যে ২০টি স্প্রিঙ্কলার সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ, ৪০টি আর্টেশিয়ান নলকূপ স্থাপন এবং ৫টি ফোর্সমোড নলকূপ পুনর্বাসন করে ১০ হাজার ৩২ হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় চলে আসবে। প্রকল্পে ৮০টি ওয়াটার পাস, ক্যাটল ক্রসিং, ফুট ব্রিজ, পাইপ স্লুইসসহ ক্ষুদ্রাকার সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ১০টি রেগুলেটর, সাবমার্জড ওয়ার, ক্রস ড্যাম, সাইফন, কনডুইট নির্মাণের মাধ্যমে মধ্যমাকার সেচ অবকাঠামো করে প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন, চলাচলে ৯০টি অবকাঠামো ব্যবহার করে কৃষকরা সহজে হাওর থেকে ফসল পরিবহন করতে পারবেন।
কৃষকদের ফসল পরিবহনে অন্তত ১০ কিলোমিটার গোপাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে ৯শ মেকানিক, ম্যানেজার, অপারেটর, ফিল্ডসম্যান, কৃষক ও কৃষাণীকে সেচ ব্যবস্থাপনা, সেচযন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্যশস্য ও বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবজি উৎপাদন বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষিতে বিশেষ দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কঠোর নজরদারির দাবি হাওর আন্দোলনের
কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী এই পদক্ষেপকে হাওর আন্দোলনের নেতাসহ কৃষকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানিয়েছেন যে ড্রেন, কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণ এবং খাল খননে যেসব ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিম্নমানের কাজ করেন। খাল খনন না করেই বরাদ্দ লোপাট করার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। ড্রেন নির্মাণের পর ১ বছর না যেতেই ধসে পড়েছে। কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। তাই এসব কাজ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, বিএডিসি সরকারের কৃষি উন্নয়নের আদি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, তা যুগান্তকারী। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, নাহলে সরকারি বরাদ্দের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হবে এবং কৃষিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ও হাওরের গোপাট নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের গোপাট পাকা করা হলে কৃষক সহজে নৌপথে ও সড়কপথে ধান পরিবহন করতে পারবে। এতে খরচ ও সময় বাঁচবে। তবে প্রকল্পের খাল, পাহাড়ি নালা খনন ও সংস্কার, রেগুলেটর ও কালভার্ট নির্মাণে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব কাজে প্রচুর অনিয়ম হয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জসহ চার জেলায় কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে।
সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব বলেন, প্রায় ৫ বছরের চেষ্টার পর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। প্রকল্পে খাল-পাহাড়ি নালা খনন, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, গোপাট নির্মাণ, পুরাতন প্রকল্প সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে। প্রকল্পে যাতে কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা না হয়, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে ১২টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বিজিবি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা সীমান্ত এলাকা থেকে ১২টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোরে সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বাঁশতলা বিওপি এলাকায় দক্ষিণ কলোনি থেকে গরুগুলো জব্দ করে।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাঁশতলা সীমান্তে বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮-ব্যাটালিয়নের অভিযানে চোরাচালানের ভারতীয় অবৈধ ১২টি গরু জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দের ১২টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘বাঁশতলা সীমান্ত এলাকা থেকে ১২টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়েছে। গরুগুলো সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
১২৭ দিন আগে
চিকিৎসককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে সুনামগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সদস্যপদ স্থগিত
সুনামগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিকে ঢুকে গোলাম রব্বানী সোহাগ নামে এক চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর রায়হান নামের এক নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে আনিসা হেলথ কেয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ক্লিনিকের পরিচালক রুহুল আমিন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
অভিযুক্তরা হলেন— সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিন এবং ছাত্রদল নেতা শাহনেওয়াজ সৌরভ মুবিন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’
এদিকে ঘটনার পর রায়হানের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রায়হান উদ্দিন তার স্ত্রীকে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইউরিন টেস্টের জন্য ওই ক্লিনিকে নিয়ে যান। ক্লিনিকের আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা নিয়ে রায়হানের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহাগের কথাকাটাকাটি হয়।
সে সময় চিকিৎসক বলেন, ‘ভেতরে অন্য রোগীর পরীক্ষা চলছে, আপনি দরজা থেকে সরে দাঁড়ান। এ ঘটনায় তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। পরে ক্লিনিকের লোকজন রায়হান উদ্দিনকে শান্ত করেন।’
এদিকে, স্ত্রীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে রায়হান ও তার স্ত্রী বাসায় চলে যান। বাসায় যাওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা পর রায়হান আবারও ওই চিকিৎসকের চেম্বারে ফিরে আসেন। এবার তিনি আগের ঘটনার জন্য চিকিৎসককে ‘সরি’ বলতে বলেন। তিনি তা না বলায় রায়হান ও তার সহযোগী তাকে বেধড়ক মারধর করে মাটিতে ফেলে ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে ক্লিনিকের লোকজন সোহাগকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রায়হান উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন দ্রুত ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান।
আহত ডা. গোলাম রব্বানী সোহাগ বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান উদ্দিনের দাবি, আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমে চিকিৎসকের সঙ্গে ডায়াগনসিসের সিরিয়াল নম্বর নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় ওই চিকিৎসক তার স্ত্রীকে চেয়ার থেকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি তার স্ত্রী তাকে জানালে তিনি ভেতরে ঢুকে এর কারণ জানতে চান। তবে চিকিৎসক গোলাম রব্বানী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। চেম্বারের কলম দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করাও শুরু করেন। কলমের আঘাত প্রতিহত করার সময় তিনি (চিকিৎসক) আহত হন।
তিনি বলেন, ‘তাকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নির্দেশে দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সই করা চিঠিতে অভিযুক্তের সাংগঠনিক ও প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাসেবক দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান উদ্দিনের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কারও ব্যক্তিগত অন্যায় আচরণের দায় সংগঠন নেবে না। যে কেউ অন্যায় করলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
১৬১ দিন আগে
বর্ষাকালেও হাওরে পানি নেই, ঋণের টাকায় নৌকা বানিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
সুনামগঞ্জের হাওরের মানুষ এখনো বলে, ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও’, অর্থাৎ বর্ষাকালে নৌকা, শুকনোর সময় পা-ই ভরসা। কিন্তু এই বর্ষায় প্রবাদটির অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। কারণ, হাওরে এখনো বর্ষা-বর্ষা ভাবটাই যে আসেনি!
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে হাওরে এখনও আশানুরূপ পানি আসেনি। ফলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া নৌকার হাটে বর্ষাকালেও চলছে ক্রেতা-খরা।
প্রায় তিন যুগ পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট বসে প্রতি শুক্রবার। হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ, জীবিকা ও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে বজরা, হিল্লা, পাতামী ও বারকীসহ নানা ধরনের নৌকা কেনাবেচা হয় এখানে। অথচ এ বছর এখনও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শীত-গ্রীষ্মে শুকিয়ে যাওয়া নদী, খাল-বিল এখনও পানিশূন্যতায় ধুঁকছে। ফলে হাওর এলাকায় নৌকার প্রয়োজন এখনও সেভাবে না দেখা দেওয়ায় বাজারেও রয়েছে ক্রেতার অভাব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে ৩-৪ শ’ নৌকা সাজানো রয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই প্রতিবারের মতো নেই বেচাকেনার ধুম। ব্যবসায়ীরা দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু দাম ও পানির অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না।
জানা যায়, এ বছর নৌকা তৈরির উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঠের দাম বেড়ে গেছে আগের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। একেকটি লম্বা নৌকা বানাতে যেখানে আগে খরচ হতো ৯ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।ি
আরও পড়ুন: গড়াই-তীর দখল করে চলছে অবৈধ নির্মাণ, নীরব প্রশাসন
বর্তমানে বারকী নৌকা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়, পাতামী নৌকার দাম সেখানে ১৩ থেকে ১৫ হাজার, আর খিল্লা নৌকা পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। তবুও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলেও লাভ খুব বেশি হচ্ছে না। কারণ, উচ্চমূল্যে মানুষ নৌকা কিনছে না।
তাদের দাবি, ভরা মৌসুমে এই হাটে যেখানে গড়ে ১২০০ নৌকা বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০০টিতে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টি নৌকা, যা আগের তুলনায় অনেক কম। নৌকার পাশাপাশি বৈঠার বাজারেও লেগেছে ধাক্কা।
আজমিরীগঞ্জ থেকে আসা বাছির মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে একেক হাটে ১ হাজার থেকে ১২০০ বৈঠা বিক্রি করতাম, এখন তা কমে এসেছে ২ থেকে ৩ শ’তে।
৬ হাতের বৈঠা আগে যেখানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ছিল, এখন তা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নৌকা বাজার ঘিরে এই অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। কারিগর, কাঠ ব্যবসায়ী, বৈঠা বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক ও ইজারাদারসহ অনেকে এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আষাঢ় মাস শেষ হতে চললেও এখনো বৃষ্টির পানিতে সুনামগঞ্জের নদী, খাল-বিল ভরে ওঠেনি। এদিকে, কেউ কেউ এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা বানিয়ে থাকেন, নৌকার বাজারে জোয়ার না আসায় তারা এখন পড়েছেন আর্থিক চাপে।
শান্তিগঞ্জের রনশি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, ‘এ বছর পানি নেই, তাই ৭০টা নৌকা বানিয়েছি। অথচ, আগে বানাতাম দেড়শ-দুইশটা। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০টা নৌকা বিক্রি হয়েছে। সারা দিন বসে থেকেও আশানুরূপ বিক্রি হয় না। ব্যাংক থেকে ঋণ করে নৌকা বানিয়েছি, অথচ লাভ তো দূরে থাক, ঋণ পরিশোধ করাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন: সাঁকো ভেঙেছে এক মাস, সাঁতরে নদী পার হচ্ছে ৮ গ্রামের মানুষ
অন্যদিকে, ক্রেতাদের মনেও একই রকমের হতাশা বিরাজ করছে। হাটে আসা বরকাপন গ্রামের আজমান আলী ও রনশী গ্রামের আখলিস আলী বলেন, মাটি কাটা, মাছ মারা, ঘাস কাটা—সব কাজে নৌকা লাগে। কিন্তু পানি না থাকায় কাজও হচ্ছে না, তাই নৌকা কেনা হচ্ছে না। তার ওপর দাম বেশি, তাই হাত গুটিয়ে আছি।
বাজারের ইজারাদার মুরাদ চৌধুরী ও সামছুদ্দিন সুনু বলেন, সাধারণত এক মৌসুমে যদি অন্তত ৫টি শুক্রবার ভালো বেচাকেনা হয়, তাহলে আমাদের লাভ চলে আসে। সেখানে এ বছর মাত্র এক সপ্তাহে কিছুটা বেচাবিক্রি হয়েছে, বাকি প্রতিটি হাটেই আমাদের নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে সামনে পানি বাড়লে নৌকাও বিক্রি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, ‘আক্তাপাড়া নৌকার হাট এই উপজেলার ঐতিহ্য। এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সম্প্রসারণে কোনো সমস্যা হলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। বাজারে সোলার লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে; পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনাও আছে। কিন্তু বৃষ্টির ওপর তো আমাদের হাত নেই!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে কিছুদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে নৌকা বিক্রি বাড়বে। আর ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরবে।’
১৭৭ দিন আগে
জামালগঞ্জে পরিত্যক্ত সেতু দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল, দুর্ভোগে ৩৫ গ্রামের মানুষ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের দৌলতা নদীর উপর ৯৫ মিটার তেরানগর সেতুটি ৩৫ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। নির্মাণের সময়ে ত্রুটি থাকায় অল্প সময়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ঘোষণা করা হয়েছে পরিত্যক্ত। তবুও ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে অটোরিকশা সিএনজি, মোটরসাইকেল, ট্রলিসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, পুরোনো এই সেতুর নির্মাণকালেই ত্রুটি ছিল। এ কারণে ২২ বছরের মাথায় যানবাহনের ভার সইতে পারছে না সেতুটি। এদিকে নতুন সেতু নির্মাণে এলাকাবাসীকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেই। একারণে চলাচলকারী মানুষজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার চলাচলের ভরসার সেতুটি ৩৫ গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেমন্তে এটি ছাড়া ফেনারবাক ইউনিয়নের এসব গ্রামের সাথে যোগাযোগের আর কোন উপায় নেই। জানা যায়, তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত নজির হোসেন উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় জামালগঞ্জে চারটি সেতু নির্মাণ করেন। সাচনা বেহেলী রোডে চৌধুরী বাড়ির পাশে, সাচনা পলক গ্রামের পিয়াইন নদীতে, তেরানগর দৌলতা নদীর উপর তেরানগর সেতু, দৌলতপুর বীনাজুরার কানাইখালী নদীর উপর তেরানগর সেতু।
আরও পড়ুন: সুরমার ভাঙনের কবলে ছাতক-আন্ধারীগাঁও-সুনামগঞ্জ সড়ক
এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০০২ সালে শুরু হয়ে ২০০৪ সালে শেষ হয়। ওই সময়ে এই পথে সাইকেল, মোটরসাইকেল ছাড়া কোনো যানবাহন চলতো না। হেঁটে সেতু দিয়ে চলাচল করতেন ৩৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। গেল প্রায় ২০ বছর হয় জামালগঞ্জ হয়ে তেরানগর সেতু পার হয়ে ফেনারবাক ইউনিয়নের লক্ষীপুর বাজার, নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত পাকা সড়ক হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়কে শতশত মোটরসাইকেল অটোরিকশা, সিএনজি, মিনিট্রাক, ট্রলি চলাচল করে। একটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুইটি বাজার, একটি মাদরাসা এবং প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়ক যোগাযোগের পথ যুক্ত হয়েছে এই সেতুকে ঘিরে।
এছাড়াও মাতারগাঁও, রাজাপুর রসুলপুর লালপুর দৌলতপুর, উজান দৌলতপুর, রাজাবাজ, খোজারগাঁও, বীনাজুরা তেঘরিয়া গঙ্গাধরপুর, ছয়হারা, কামারগাঁও, ইনাতনগর, বিজয় নগর, কাশীপুর, উদয়পুর লক্ষীপুর ভেদারপুর ফেনারবাক, চাটনিপাড়া, নাজিমনগর হটামারা, উদয়পুর ছাড়াও দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ভাটিপাড়া, নূরনগর, আলীনগর, ইসলামপুর, সেচনী, রফীনগর ইউনিয়নের খাগাউরা, সেচনী, কিত্তাগাঁও, স্বজনপুরসহ ১২টি গ্রামের মানুষকে এই ব্রিজ পার হয়েই যাতায়াত করতে হয়।
গেল কয়েকবছর হয় ভারী যানবাহন সেতুর উপর উঠলে কাঁপতে থাকে এটি। প্রতি বছরেই উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে সংস্কার করে অর্থের অপচয় হয়। কিছু দিনের মধ্যেই আবার খানাখন্দসহ সেতুর রেলিং ও অ্যাপ্রোচ ভেঙে যায়। ২০১৪ সালে সেতুটি জামালগঞ্জ এলজিইডি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরিত্যক্ত লেখা সাইনবোর্ড টাঙানোর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট গর্ত এবং খানাখন্দে ভরা। মাঝে মাঝে কিছু গর্ত ইট বালু দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হলেও, বাকী গর্তগুলোর উপর দিয়ে প্রতিদিন চলছে শতশত যানবাহন।
আরও পড়ুন: ভাঙন-ঝুঁকিতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট
অটোরিকশা চালক নাসির বললেন, প্রতিদিন সেতুর গর্তে পড়ে কোনো না কোনো গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি উঠলেই সেতু কাঁপতে থাকে, মনে হয় হেলে পড়ে যাবে। সেতুর রেলিং গাড়ির ধাক্কায় ভেঙে আরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সংকীর্ণ এই সেতু দিয়ে দুইটি গাড়ি একসঙ্গে চলাচল করতে পারে না।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ২০১৪ সালে সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়, কিন্তু নতুন করে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই সেতু দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২ শতাধিক মানুষ। এছাড়াও ছাগল ভেড়া গবাদিপশু মারা গেছে অর্ধশত। প্রতিনিয়ত ভোগান্তি আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৩৫ গ্রামের মানুষ। বিগত দিনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা আশ্বাস দিলেও নতুন সেতুর বাস্তবায়ন হয়নি।
নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত চন্দ্র সরকার বললেন, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, কেউ খবর রাখছে না। সেতু ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে দায় কে বহন করবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত দৌলতা নদীর উপর সেতু নির্মাণের দাবি আমাদের সকলের।
ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার জানান, এই সেতু দিয়ে ৪০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। ২০১৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও প্রতিদিন শতশত যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন: উদ্বোধনের আগেই সমুদ্রে বিলীন কুয়াকাটার ‘মেরিন ড্রাইভ’
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, দৌলতা নদীর উপর তেরানগর সেতুটি ২০০২ সালে শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য করা হয়েছিল। তখন এই উপজেলার কোথাও গাড়ির যোগাযোগ ছিল না। এখন এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ি চলাচল করছে। সেতুটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ইতোপূর্বে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে প্রকল্পের আওতায় দৌলতা নদীর সেতুসহ এই সংস্থার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে আরও কয়েকটি সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশাকরি, আগামী অর্থ বছরে অর্থ বরাদ্দ হবে এবং এই এলাকার জনসাধারণের অতিগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নতুন করে করা যাবে।
২০৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত
সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ মে) ভোরে জেলার রাজাপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সামছু মিয়া (২৫) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রাজাপাড়া গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুরের রাজাপাড়া সীমান্ত পিলার ১২১১ নম্বর দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চোরাইপণ্য আনতে যান ৪-৫ জন চোরাকারবারী। এ সময় চিনাকান্দি বিজিবি ক্যাম্পের বিপরীতে ১৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রাজাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে শামসুল গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় দুই বিজিবি সদস্য আহত
পরে সহকর্মীরা উদ্ধার তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ২৮ বিজিবির অধিনায়ক একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত যুবক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পণ্য আনতে গিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
২২৭ দিন আগে
অর্ধযুগ পার, সুনামগঞ্জের মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে কবে
সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে ৪ ডিসেম্বর। তবে অর্ধযুগ পেরিয়ে ৭ বছরে পড়লেও সেতুটি যাদুকাটার দুপাড়ের বাসিন্দাদের মৈত্রীর বন্ধনে বাঁধতে সক্ষম হয়নি। নদীর মাঝে সেতুর কয়েকটি গার্ডার খাড়া হলেও সেতুটি পূর্ণতা পেতে এখনও অনেক কাজ বাকি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের গড়িমসির কারণে সেতুটি সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় সড়কপথের সুফল পাচ্ছে না সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। পাশাপাশি স্থানীয়দের দুর্ভোগ তো রয়েছেই। এ ছাড়াও জেলার দীর্ঘতম এই নির্মাণাধীন সেতুকে কেন্দ্র করে তিনটি শুল্ক বন্দর ও কয়েকটি পর্যটন স্পটে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ মিলছে না, যার নেতিবাচক প্রভাবের বলি হচ্ছে স্থানীয় কর্মক্ষম বেকার যুবসমাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাদুকাটা নদীর ওপর শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভু মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ ৩০ মাস, অর্থাৎ আড়াই বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা ছিল। গত ৭ বছরে সেখানে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে চারবার, তবুও কাজ শেষ হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি ও বিন্নাকুলী গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন স্পট, তিনটি শুল্ক বন্দরসহ চার উপজেলার যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অর্ধযুগ পরেও সাধারণ মানুষ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। এ নিয়ে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: অবৈধ দখল-দূষণের কবলে ফেনীর ২৪৪ নদী ও খাল
ভারতের মেঘালয় পাহাড় আর তাহিরপুরের অপরূপ সৌন্দর্যে্যর যাদুকাটা নদীকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্প। সেই শিল্পকে চাঙ্গা করা ছাড়াও সীমান্ত এলাকাও তিনটি শুল্ক বন্দর, সীমান্ত সড়ক হয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা-ঢাকার সড়ক যোগাযোগ এবং জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার লাখ লাখ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যমে পরিণত হবে এই সেতু। কিন্তু সেতুটির পূর্ব পাড়ের অংশে কাজ শেষ না করায় প্রান্তিক এই উপজেলার মানুষের স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে এসেও তা আলোর মুখ দেখছে না।
২০১৮ সালে ৪ ডিসেম্বর ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব। এরপর থেকে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটির ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৫৭টি এবং ১৫টি স্লাবের মধ্যে ১০টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ১৮টি গার্ডার ও পাঁচটি স্লাবের কাজ সাত বছর পরেও এখনও বাকি রয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিন্নাকুলী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলমসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। সে সময় তারা বলেন, সেতুটি সম্পন্ন হলে আমাদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়েও অনেকের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ হতো। কিন্তু তাস বছরেও সেতুটির নির্মাণকাজ যখন শেষ হয়নি, তখন তা কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা আর কোনো আশা রাখি না।
গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে যাদুকাটার ওপর সেতু না থাকায় যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সে কথাও বলেন তারা, নৌকা দিয়ে নদী পার হতে ৩০ মিনিট সময় লাগে আর বর্ষার সময় আরও বেশি সময় লাগে। নৌকা দিয়ে নদী পার হতে টাকাও খরচ হয়। নদী পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী কবির ভূইয়া বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে মালামাল কিনে সরাসরি বাজারগুলোতে নিয়ে আসতে পারছেন না শুধু সেতু না হওয়ার কারণে। এখন মালামাল পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত তিন বছর ধরে শেষ হবে বলে সময় পার করা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না।’
বাদাঘাট ইউনিয়নের সমাজসেবক আবুল হোসেন বলেন, ‘সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সেইসঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপায় হবে। অথচ সবকিছুই এখন আটকে রয়েছে।’
আরও পড়ুন: নিদ্রা সৈকত: অপার সম্ভাবনার এক নিসর্গ ভূমি
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সেতুর জন্য লাখ লাখ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গুরুত্ব দিয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। আর এই সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার মাইলফলক সৃষ্টি করবে।’
সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করতে কেন এত সময় লাগছে—জানতে চাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাসির বলেন, ‘বারবার বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কাজ শেষ করা যায়নি।’ তবে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে বলে জানান সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনও।
২৩৩ দিন আগে
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিসহ গ্রেপ্তার ৭
রাজধানীতে সাবেক এমপিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আরও সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ মে) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার আওয়ামীলীগ মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানম ওরফে শামীমা শাহরিয়ার (৪৫), দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান মতি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআর আই) পরিচালক ও শেখ হাসিনার সহকারী প্রেসসচিব আশরাফ সিদ্দিকী ওরফে বিটু (৪৪), কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার আহমেদ ওরফে নেছার উদ্দিন হাওলাদার (৩৫), দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম (৪০), নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন সরকার (৫৫) ও দক্ষিণ বাড্ডা বাজার ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বিপ্লব (৫৩)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টায় ধানমন্ডি এলাকা থেকে শামীমা আক্তার, আশরাফ সিদ্দিকী ওরফে বিটু, দারুসসালাম এলাকা থেকে দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে ইমরান মতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাভারের কুমকুমারি বাজার এলাকা থেকে ৫টা ৫ মিনিটে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এছাড়া লালবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাত পৌনে ১২টায় মোশারফ হোসেন সরকারকে, বাড্ডা থানার ১৮ নং সেক্টর থেকে মহিদুল ইসলাম বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগে উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
২৩৫ দিন আগে