সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের হাওরে চলছে না হারভেস্টার, ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষক ও মেশিনমালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনে ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের জটিল প্রক্রিয়াও সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় ধান কাটা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজারো কৃষকের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন সচল না থাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ফসল কাটার অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় ধান কাটা থেমে গেছে বা ধীরগতিতে চলছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৯০ কেয়ার (৩০ একর) জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত দুই দিনে কষ্ট করে কিছু ধান কাটতে পেরেছি। এখনও অনেক জমি বাকি। ধান পাকলেও কীভাবে কাটব চিন্তায় আছি।
একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল আহমদ বললেন, হারভেস্টার মেশিনের মালিক-চালকরা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনেকেই তেল নিতে এসে না পেয়ে ঘুরে গেছেন। পাম্পের লোকজন বলে দিয়েছে কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যয়ন আনতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আবদুল হক পাম্পে বিকেলে তেল নিতে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, বুধবার থেকে করচার হাওরে ধান কাটা শুরু করেছি। মেশিনে তেল ছিল। প্রথম দিন কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) ১৯০০ টাকা হিসাবে কাজ করেছি, দুই কেয়ার ধান কাটতে পেরেছি। বৃহস্পতিবার চার–পাঁচ কেয়ার কাটা হয়েছে। শুক্রবার আর মেশিনে তেল থাকবে না।
তিনি বলেন, তেল কিনতে পাম্পে গেলে তারা জানায় কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত স্লিপ লাগবে। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটা থেকে এক ঘণ্টায় প্রথমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার শনাক্তকরণ স্লিপ, পরে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন নিয়ে ২০০ লিটার তেলের অনুমতি পাই। এরপর শহরের ওয়েজখালির পাম্পে গেলে তারা জানায় ১০০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাবে না। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে তেল না পেয়ে ২১ কিলোমিটার দূরের দিরাই সড়কমোড়ের পাম্পে গিয়ে তেল নিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে ঘুরে ঘুরে তেল নিলে কীভাবে মেশিন চালাব, আর কীভাবে ধান কাটব।
শুধু আবদুল হক নন, বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তেলের স্লিপ নেওয়া আটজন হারভেস্টার মালিককেই একইভাবে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিক ও কৃষকরা জানান, এভাবে অফিস থেকে স্লিপ সংগ্রহের ঝামেলার কারণে অনেকেই আর তেল নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না, ফলে ধান কাটায় বিলম্ব হচ্ছে এবং কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে পাম্প বা ডিলার পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, তিনি দুটি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটার কাজ করেন, যা থেকেই তার জীবিকা নির্বাহ হয় এবং অনেক কৃষকও নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে তীব্র ডিজেল সংকটে তার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একটি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কৃষকরাও সময়মতো ধান কাটতে না পারায় উদ্বেগে রয়েছেন।
জামাল বলেন, আমার দুটি হারভেস্টার আছে। ডিজেলের কারণে একটি বন্ধ, আরেকটি সচল থাকলেও পুরো দিন চালাতে পারছি না। যা পাওয়া যায় তা অপ্রতুল। খোলা বাজারে ডিজেল পাওয়া যায় না, লুকিয়ে বিক্রি হলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বালিজুরি বাজারের ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয় তেল নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য বাজার থেকে বেশি দামে তেল আনতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকের ধান কাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
একই এলাকার হারভেস্টার মালিক মো. রফিক উদ্দিন বলেন, এবার মেশিন নিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি।
এদিকে দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক ও যন্ত্র দুটোই সংকটে পড়ায় ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জের হারভেস্টার মালিক আবিদুর রহমান টিপু বলেন, আমাদের চারটি মেশিন আছে। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেগুলো ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন রয়েছে। তবে জ্বালানি সমস্যার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি বিতরণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পুরো জেলায় ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে এক দিনে ৪ কৃষক নিহত
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমে পৃথক তিনটি বজ্রপাতের ঘটনায় চার কৃষক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) এবং ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪৫)। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পরপরই বজ্রপাত শুরু হয়। এর মধ্যে হাওরে কর্মরত কৃষকরা আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় তার সহকর্মী নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান এবং তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাবিবুর রহমান।
আহত তোফাজ্জল হোসেন ও নূর মোহাম্মদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো কৃষকদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। উন্মুক্ত হাওরে আশ্রয়ের অভাব এবং ধান কাটার তাগিদে কৃষকদের মাঠে অবস্থান করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
১ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১০ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের জন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্ব দিকের মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়িতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।
এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।
স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ৩৯ নম্বর পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারি যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দূর পথের যাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন, কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙে শেষ করে দিয়েছেন।
গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মাণ করা অতি জরুরি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মমিন বলেন, যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনিটি সরকারিভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা সেটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ভূমি কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬ দিন আগে
সড়ক সংস্কারের বলি সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মূল্যবান গাছ
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫টি লটে নানা প্রজাতির ৬ হাজার ৪০৯টি মূল্যবান কাঠ গাছ পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কারের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা হচ্ছে।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন দর ধরলেও এই গাছের মূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হবে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মূল্যবান এসব গাছ মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এখন গাছের বড় বড় ফালিগুলো রাতের আঁধারে কার্গো ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেহগনি, আকাশমনি, জারুল, কড়াই, রেইনট্রিসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছিল। এ গাছগুলোর বয়স প্রায় ১৫-৩৫ বছর পর্যন্ত। তাই বয়স অনুপাতে প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও মূল্যবান কাঠের উপযোগী। বর্তমান বাজার দরে প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ হাজার থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা হবে। তবে গড়ে প্রতিটি গাছের মূল্য কম করে হলেও ৪০ হাজার টাকা হবে বলে জানিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট-পাগলা-আউশকান্দি সড়ক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও পাগলা-আউশকান্দি সড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। রাস্তা প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে সরকার এসব সড়কের গাছ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
বন বিভাগ জরিপ করে ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে ১১টি লটে নিলাম দরপত্র পায় টাঙ্গাইল নতুন বাজার এলাকার মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টু এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বড়গাছ এলাকার বাসিন্দা মোসাইদ আলী পান চারটি লটের গাছ।
মোসাইদ আলীকে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টুকে ১১টি লটের নিলামে গাছের মূল্য বাবদ ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ১৫টি লটে নিলামকৃত এই মূল্যবান কাঠগাছের দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ২টি লটে ৬৮০টি গাছ, টুকের বাজার থেকে নিয়ামতপুর পর্যন্ত ৫টি লটে ১ হাজার ৯২৩টি গাছ, শান্তিগঞ্জ থেকে সুলতানপুর-উজানীগাঁও পর্যন্ত ১টি লটে ৩২২টি গাছ, জগন্নাথপুর-মমিনপুর-মজিদপুর পর্যন্ত ১টি লটে ৭২০টি গাছ, একই সড়কের হাবিবনগর থেকে ৭ নম্বর সেতু পর্যন্ত ১টি লটে ২২৮টি গাছ, জগন্নাথপুরের ইছগাঁও রাণীগঞ্জ থেকে ১টি লটে ১ হাজার ২৫২টি গাছ, কুশিয়ারা সেতু থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত ১টি লটে ৪০০টি গাছ, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া রোডে তিনটি লটে আরও ৮৮৪টি গাছ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গাছগুলো ১৯৯৩ সাল থেকে এবং পাগলা আউশকান্দি সড়কে গাছগুলো ২০০৯ সালে লাগানো হয়। পরিবেশবিদরা জানান, বর্তমানে তিনটি সড়কের প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও কাঠের জন্য মহামূল্যবান।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, ১০-১৫ বছর বয়সী একটি মেহগনি গাছের গড় বাজারদর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫-৩০ বছর বয়সী গাছগুলো মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে। সরকারি মূল্য তালিকার দোহাই দিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে মনগড়া জরিপ করে মাত্র ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা ঘনফুট দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুল এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৩৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের প্রতিটি মাত্র ১ হাজার ৩৯১ টাকা দরে কিনে নেয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই সড়কের গাছগুলো বড় ও বেড়ও বেশি। সড়কের প্রতিটি গাছের দাম ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে বলে জানিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু বনবিভাগ ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে মাত্র ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয়। এভাবে পানির দামে গাছগুলোকে নিলামে বিক্রি করে দিয়ে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলীও প্রায় ১৫ বছর বয়সী পরিণত দেড় হাজারেরও অধিক কাঠগাছ মাত্র ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনে নেন। হাজারেরও নিচে পড়েছে প্রতিটি গাছের মূল্য। এভাবে সরকারের কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই ৮০ ভাগের বেশি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। তাছাড়া বন বিভাগ প্রচলিত বাজারদর অনুসরণ না করে, গাছগুলোর বেড় যথাযথভাবে না মেপে জরিপ করে ঠিকাদারদের স্বার্থ দেখে প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। অথচ এই গাছের টাকা দিয়েই সরকার পুরো সড়কটির উন্নয়নকাজ করে দিতে পারত।
সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, পাগলা-আউশকান্দি, সুনামগঞ্জ-নিয়ামতপুর সড়কে গাছের নিলামের নামে দুর্নীতি হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটি টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বন বিভাগ ও ঠিকাদারের যোগসাজশ রয়েছে। ইউনূস সরকারের সময়ের এই ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স’মিল মালিক বলেন, প্রতিটি গাছের গড় মূল্য অন্তত ৪০ হাজার টাকা হবে। লাকড়িও হবে কোটি টাকার। কিন্তু বনবিভাগ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে।
মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আব্দুর রহিম মিন্টুর প্রতিনিধি শামীম আহমদ বলেন, নিলাম হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে দরপত্র পেয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। সরকারি দর অনুযায়ীই আমরা নিলাম পেয়েছি।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। নিলাম প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ, ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান কোনো কাজেই আমি যুক্ত ছিলাম না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। তবে যা কিছু হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি তা ধরেননি।
১৯ দিন আগে
ভূমধ্যসাগরে ঝরেছে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের প্রাণ, বাড়িতে শোকের মাতম
উন্নত জীবনের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের নীল জলেই নিভে গেছে সুনামগঞ্জের ১২টি তাজা প্রাণ। লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার পথে তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে অসুস্থ হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌযানে থাকা মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি আর নিহতদের ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন— দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮) ও শাহান মিয়া (২৫); রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া; জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান (৩৫), রানিগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৭) ও টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েখ আহমদ (২২), চিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়নের নাইম আহমদ (২৫), চিলাউরা মাঝপাড়া গ্রামের ইজাজুল হক সজীব (২৭) এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম মুন্না (২২)।
এ সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, পাচারকারীরা একটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ছোট নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে তাদের সমুদ্রযাত্রায় পাঠায়। দীর্ঘ এ পথে তাদের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত খাবার বা বিশুদ্ধ পানি। সাগরের মাঝখানে তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে, একের পর এক যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সেই উত্তাল সাগরেই ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দেশ ছাড়েন। দালালরা তাদের নিরাপদ ও বড় জাহাজে করে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকূপ সমতুল্য একটি ছোট নৌকায় তুলে দেন। ১২ লাখ টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এ স্বপ্নচারী তরুণদের। শোকাতুর পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের প্রিয়জনের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন।
স্বজনদের দাবি, সরকার যেন এ মর্মান্তিক ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত মানবপাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনে। সম্ভব হলে নিহতদের মরদেহ বা অন্তত তাদের কোনো চিহ্ন উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো যুবক দালালের খপ্পরে পড়ে এভাবে প্রাণ না হারায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি যেন বাড়ানো হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কর্মসংস্থানের অভাব এবং উন্নত জীবনের হাতছানি এই যুবকদের মরণফাঁদে পা দিতে বাধ্য করছে। তবে অবৈধ পথে এভাবে বিদেশ যাত্রা রোধে জনসচেতনতা এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
এদিকে, আজ (রবিবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন—উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
২১ দিন আগে
সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থি ২৭ আইনজীবীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ২
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে মিছিল, স্লোগানসহ ফুল দেওয়ার ঘটনায় সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীপন্থি ২৭ জন আইনজীবীর নামে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জন আসামি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মণীষ কান্তি দে (মিন্টু) ও অ্যাডভোকেট এম জিয়াউর রহমান শামীম। মণীষ কান্তি দে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি)। জিয়াউর রহমান শামীম জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।
মামলার এজহার থেকে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের করা মামলার বাদী সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনুরুল হক। এজহারে আসামি হিসেবে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই আইনজীবী এবং বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে শহরের স্মৃতিসৌধে মিছিল, স্লোগানসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তারা মিছিল নিয়ে জেলা কালেক্টরেট এলাকায় স্মৃতিফলকে যান। সেখানে স্লোগান দিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মিছিলে ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
এ সময় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘স্বাধীনতার এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ শেখ শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে ওই স্লোগানের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওসি রতন শেখ বলেন, যারা স্মৃতিফলকে মিছিল করেছেন ও স্লোগান দিয়েছেন, মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, এই সংগঠনের কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তারা মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন; মিছিলের ছবি, ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে প্রচারও করেছেন। এটি তারা করতে পারেন না।
২২ দিন আগে
সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, হাওরে আশঙ্কায় কৃষক
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
এ অবস্থায় ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া পিআইসি সদস্যরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় ৯টি হাওরের বাঁধের কাজ সোমবার পর্যন্ত গড়ে ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া—এই ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এসব হাওরে ধর্মপাশায় ৯৩টি এবং মধ্যনগরে ৪১টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিরা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল এবং মধ্যনগরের ঘোড়াডোবা, গুরমা ও কাইলানী হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ চলমান, আবার কয়েকটি বাঁধ নিম্নমানেরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর উপজেলার কাইলানী হাওরের ১৩ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাঁধটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৯৫ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ভেকু মেশিন নষ্ট থাকার কারণে ও টাকার অভাবে কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধারদেনা করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন লাগবে।’
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৩৯ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকাই পেয়েছি। ধারদেনা করে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছি। এখন পাওনাদারদের টাকা দিতে না পারায় বাঁধে যেতে পারছি না, নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়মতো কাজ শেষ না হলে এবার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সদর ইউনিয়ন সভাপতি বিপ্লব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন না। অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং ঘাস লাগানো হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অংশ ধসে পড়ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘অর্থের অভাবে অনেক পিআইসি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’
৩১ দিন আগে