সুনামগঞ্জ
হাওরে ফসলহানি: ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে পায়নি মানবিক সহায়তা, তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের ‘ঘনিষ্ঠজনেরা’
গেল মার্চের স্বস্তির বৃষ্টি অতিবৃষ্টিতে রূপ নিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গোটা হাওরাঞ্চল। দেড় মাসের টানা বৃষ্টিতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জের লক্ষাধিক কৃষক পরিবার। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে হাওরাঞ্চলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকই সরকারি মানবিক সহায়তার চাল ও নগদ অর্থ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কিংবা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৬৪ হাজার ৩৮৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৪ হাজার ৬৩০, বিশ্বম্ভরপুরে ২ হাজার ৪৬৬, জামালগঞ্জে ৫ হাজার ১০৩, শান্তিগঞ্জে ২ হাজার ৭০৩, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৫৯, ছাতকে ১ হাজার ৯৪, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬, জগন্নাথপুরে ৩ হাজার ৬০৩, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৪০, শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫, ধর্মপাশায় ৫ হাজার ৪৩৪ এবং মধ্যনগরে ৭ হাজার ২৭১টি পরিবার রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে বড় একটি অংশের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এলাকায় বসবাস করেন না, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং পছন্দের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়নে সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৮২ জনের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনকি জমিজমা নেই বা বোরো আবাদই করেননি—এমন ব্যক্তিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই একই ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে।
গোপালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কালীকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জমি করছিলাম ১৫ কিয়ার। আমার ৮ কিয়ারের ক্ষতি হইছে। এইডি এক্কেবারে তলাইয়া গেছে, কাটতে পারছি না। আমারে কিচ্ছু দিছে না, অথচ আমরার গ্রামের যারার ক্ষতি হইছে না, তারারে দিতাছে। আমরার ওয়ার্ডের মানিক মেম্বারে দেইখ্যা দেইখ্যা নাম দিছে। আমার নাম নাই।’
গত ২১ জুন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগ দেন। ১০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগে গ্রামের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ১২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়।
ওই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. তুরুক মিয়া বলেন, ‘যে সাহায্য আইছে, এইডা মনে করৌক্কা যেরা পাইতো এরা পাইছে না। যেরার খেত নাই, এরা পাইছে। এক বাড়িতে তিন-চাইট্টা নাম। কোনো জমিজমা করছে না। এরার হাবিগোষ্ঠী লন্ডন। কিন্তু ক্ষতি হইলেও আমরার নাম নাই।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল বোরো মৌসুমে জেলার ছোট-বড় ১৯৩টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ হলেও প্রায় ৪ লাখ কৃষক চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষকের ৪৩ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০১ টাকা। চালের হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭ টন।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব সহায়তায় প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয় না। এগুলো কৃষকের নাম ভাঙিয়ে ফাঁকিবাজি ছাড়া কিছুই না। এসব বাদ দিয়ে কৃষকদের ফসল বীমার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, ইউএনওর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগ মিলে মানবিক সহায়তার তালিকা করা হয়েছে। এককভাবে কেউ তালিকা করেনি। ভুলত্রুটি হলে উপজেলা কমিটি খতিয়ে দেখবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকে হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
১ দিন আগে
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তিন জেলায় বন্যার শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলাগুলোতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের খেত। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
১৮ দিন আগে
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল চালু, যথাযথ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে করে বর্তমানে কলেজটিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আজ (রবিবার) সকালে কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে তারা হাসপাতাল ভবনের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হন। এতে কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ, রাফাত রেজা আকাশ ও সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো তার হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (চর্চা)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। এর ফলে আমরা ব্যবহারিক জ্ঞান ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছি। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল শিক্ষা অন্ধের মতো। আমরা এভাবে অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হতে পারি না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে আন্দোলনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। উল্টো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বারবার আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দি হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এবং অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী পৃথ্বীরাজ চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম, প্রিয়াস চন্দ্র, ফারজানা আহমেদ মিম, সামচিয়া তাবাসসুম মাঈশা ও কেয়া গোস্বামী। এছাড়া চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহপরান, তামিমা রহমান ও জারিন তাসনিম অথৈ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল এবং মোহাম্মদ তানভীর হোসেন প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন, যতক্ষণ না হাসপাতাল চালুর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অ্যাকাডেমিক অব্যবস্থাপনা দূর করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে কান্তা বেগম ওরফে লেডি কান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার কান্তা বেগম (লেডি কান্তা), হাছননগর এলাকার সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ জানায়, অভিনব কৌশলে চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। বাসাবাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলে তারা আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।
তবে চুরির সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কারো কাছে ধরা পড়লে বা কেউ তাদের বাধা দিলে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। তখন তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যেত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। গতকাল (রবিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের লুকিয়ে রাখা ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডি কান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, জেলা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
৩৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কৃষি সহায়তায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ফসলহানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারঘোষিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কিছু জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজন, অকৃষক, প্রবাসী, এমনকি মৃত ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মধ্যে।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে তাদের পছন্দের ব্যক্তি ও স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায়ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এছাড়া কৃষি সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে প্রকাশিত ৪৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আত্মীয়স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় গ্রাম পুলিশ, প্রবাসী এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজমুল মিয়া ঢাকায় কর্মরত থাকলেও তাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের ছেলে মৃদুলের নামও তালিকায় রয়েছে, যদিও তাদের পরিবার হাওরে কোনো জমি চাষ করেনি। ইউপি সদস্য মাসুম আহমদের ভাই জাবেদ আলীর নামও তালিকায় রাখা হয়েছে, অথচ তাদের কোনো জমি তলিয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের অন্তত ২০-২৫টি নাম তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেকেই কৃষি পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।
স্থানীয় কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, আমার সাত কেয়ার জমি তলিয়ে গেছে, অথচ আমার নাম তালিকায় নেই। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম দিয়েছেন। যাদের জমিই তলিয়ে যায়নি, তারাও সহায়তা পাচ্ছেন।
এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সবুজ মিয়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছয়ফুজ্জামান ও মহিলা সদস্য আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৭ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ৪০ জন কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, শাল্লা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় দুই মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারা হলেন— বাহাড়া ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের রনু রঞ্জন সরকার ও সুধীন চন্দ্র দাস।
স্থানীয়রা জানান, রনু রঞ্জন সরকার গত বছর মারা গেছেন এবং সুধীন চন্দ্র দাস মারা গেছেন প্রায় ছয় মাস আগে, অথচ তাদের নামও সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী বলেন, আমার তালিকা অন্যরা করেছেন। তালিকায় কিছু মৃত ব্যক্তির নাম আসতে পারে। এগুলো বাদ দেওয়ার বিষয়ে পরিষদে আলোচনা হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, তালিকায় মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য কারও নাম পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, সুনামগঞ্জে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অকৃষকদের নাম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তা বাদ দেওয়া হবে।
৪৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
সুনামগঞ্জের ছাতকে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মতিউর রহমান মতিন, দিলদার হোসেন ও কামারগাঁও গ্রামের বিল্লাল হোসেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ভুক্তভোগীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর ভাই।
পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ (সোমবার) আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। রায়ে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালা দেওয়া হয়।
মামলার রায় শুনানীর সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শামসুর রহমান। তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৫২ দিন আগে
৪৭২ পদের মধ্যে ২১৭টিই শূন্য, ভুগছে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫৫ জন, অর্থাৎ ২১৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৭৪টি হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৮ জন। ফলে ৪৬টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। নার্সের ২৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯৯ জন, সেখানে শূন্য রয়েছে ৬৩টি পদ। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ১০টি পদের মধ্যে ৪টি পদই শূন্য রয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১২৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। এসব পদের ১০৪টিই শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী সোয়েব হাসান বলেন, অসুস্থ হয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স না থাকায় চিকিৎসা সেবায় প্রত্যাশার চেয়ে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এক রোগীর অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে বিভিন্ন রোগের ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই’ শুনতে হয়। এত বড় হাসপাতাল নির্মাণ হলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিলেটে চলে যান।
আরেক রোগীর অভিভাবক আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের দালালচক্র প্রতিরোধ করতে হবে। তারা সুবিধা না পেলে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। দালালদের দমন করা গেলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং হয়রানিও কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা হাসপাতালে এলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির খারাপ আচরণের কারণে একে একে চলে যান। ফলে চিকিৎসক সংকট এখানে কাটে না। এ বিষয়টি সমাধান করতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা সাজিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দেখলে বোঝাই যায় যে সেখানে কর্মচারীর সংকট রয়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশা করে, অথচ হাসপাতালের বিভিন্ন কোণায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বাড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন হলে আমাদের ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা সহজে মানসম্মত সেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, লোকবল সংকটের বিষয়টি আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৫২ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে হাওরের পানি, বাকি ধান ঘরে তোলা নিয়ে উৎকণ্ঠায় কৃষক
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। মাঠের অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে নদীপাড়ের গ্রামীণ জনপদে এখন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবো জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার জেলায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে গত তিন দিনেই জেলায় মোট ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ সময়ে সুরমা নদীর পানি নতুন করে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উল্লেখ্য, বর্ষার আগে এই অঞ্চলে সুরমা নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ৬ দশমিক ৫ মিটার।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে কৃষকের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আমরা করছি না।
হাওরাঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, চলতি বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই একের পর এক দুর্যোগ ও বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক-দুই দিন রোদ মিললেও পরদিনই আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কেটে রাখা ধান কোনোভাবেই শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক নিচু এলাকায় কাটা ধান এখনও পানির ওপর ক্ষেতেই ভেসে বা পড়ে রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন এ বছর কৃষকদের পিছুই ছাড়ছে না। এক দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে পরের দুই দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এবার মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। সরকারি হিসাব মতে, এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই কাটা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ধান। সেই হিসাবে মাঠ ও হাওরে এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের ১০ দিন আগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এরপর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর সরকারিভাবে হালনাগাদ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এই সরকারি খতিয়ানের চেয়ে আরও অনেক বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মাঠপর্যায়ে এখনও চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বাড়তে পারে।
৫৩ দিন আগে
এমপির ঝটিকা সফর: সুনামগঞ্জের ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেলেনি শিক্ষকের দেখা
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আকস্মিক পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা। মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি পাননি তিনি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন। পথিমধ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার পরিদর্শনে উঠে আসে হতাশাজনক চিত্র।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। পরে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে তিনি দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের ফটক খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে সংসদ সদস্য সকাল ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও কোনো শিক্ষক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
পরপর তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকদের এ ধরনের পলায়নপর মনোভাবকে তিনি শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘সরকার যখন প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের এই ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সকাল ১০টা বেজে গেলেও যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে না আসেন, তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এটি স্পষ্টত দায়িত্বহীনতা এবং জনস্বার্থপরিপন্থি।’
ঘটনার পরপরই তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। তিনি এই তিন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম এলাকায় তদারকি কম থাকায় শিক্ষকরা প্রায়ই এমন অনিয়ম করে থাকেন।
সংসদ সদস্যের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং সরাসরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়াকে তারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, এমন তদারকির ফলে শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
৫৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান
অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।
৬৫ দিন আগে