যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শফি হত্যা মামলা: ২৭ বছর পর দুই পুলিশসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন
২৭ বছর আগে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে সংঘটিত জালাল আহমেদ শফি হত্যাকাণ্ডে হওয়া মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ গত বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় দেন। রবিবার (৩ মে) সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সায়েদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— হাবিলদার মো. বিল্লাল হোসেন, কনস্টেবল মো. আবদুর রউফ ও ডিবির ক্যান্টিনের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার জালাল আহমেদ শফি ডিবির সোর্স ছিলেন। ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কয়েকজন সদস্যের হাতে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়েই খুন হয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনার পর তার মরদেহ গুম করা হয়েছিল। তবে সেটি উদ্ধারের পর রমনা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আলী আজম সিদ্দিকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
এদিকে, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নিহত জালাল আহমেদ শফির ছেলে আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নিহত জালাল আহমেদ শফি ছিলেন মাইক্রোবাসচালক। প্রথমে নিজের মাইক্রোবাস চালাতেন। পরে সেটি বিক্রি করে ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাতেন। তবে ডিবি পুলিশ কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করলে সেই গাড়ি চালানোর জন্য জালালকে ডাকা হতো। এভাবেই ডিবি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
ডিবির পরিদর্শক জিয়াউল আহসান ও উপপরিদর্শক (এসআই) আরজু প্রায়ই তাকে ডেকে নিতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ২০ মার্চ মোহাম্মদপুর থানা এলাকার লালমাটিয়ার বাসা থেকে গাড়ির লাইসেন্স ও চেক বই নিয়ে রাত ৩টায় ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বের হন জালাল। এর কয়েকদিন পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের ধারণা ছিল তিনি ঢাকার বাইরে গেছেন।
পরবর্তীতে ৩১ মার্চ কয়েকজন লোক জালালের বাসায় গিয়ে তার ছবি দেখিয়ে পরিচয় জানতে চান। এরপর পরিবারের লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে জালালের মরদেহ শনাক্ত করেন।
২ দিন আগে
ময়মনসিংহে আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার দেওখালী গ্রামের নূর হোসেন (৫৭), নূর হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল (৩৭)। তাদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সোহরাব আলী (৬২), তার স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা প্রতিবেশী। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে আশ্রাব আলীর ওপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আসামি সোহরাব আলীর হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরের দিন নিহত আশ্রাব আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্ত, ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে নূর হোসেন, সহিদুল ও উজ্জল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এই রায়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলী, স্বরূপা খাতুন ও রেহানা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামালায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।
৮ দিন আগে
নাটোরে শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে ২ যুবকের যাবজ্জীবন
নাটোরের সিংড়ায় শিক্ষার্থী আব্দুল কাহার হত্যা মামলায় মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান নামে ২ যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সিংড়া উপজেলার বড়গ্রাম এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল কাহারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান জানান, প্রথমে এজাহারে কিছু আসামির নাম উল্লেখ করেছিলেন বাদী, যারা কাহারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পুলিশের তদন্তে প্রকৃত হত্যাকারীদের নাম বেরিয়ে আসে। সে অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রামণ শেষে বিচারক আজ এ রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীর পিতা আব্দুর রশিদ। তিনি রায় কার্যকর দেখতে চান বলে জানিয়েছেন।
৬৮ দিন আগে
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় কায়কোবাদ
যাবজ্জীবনের কারাদণ্ড পেরিয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছয়বারের এই সংসদ সদস্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় তার নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লা-৩ আসনসহ (মুরাদনগর) জেলাজুড়ে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পান কায়কোবাদ। সাজাভোগ এড়াতে এক যুগেরও বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি দেশে ফেরেন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।
তার ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কায়কোবাদ মুরাদনগরে মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি মুরাদনগরবাসীর নিকট ‘দাদা ভাই’ হিসেবে পরিচিত। তাকে ধর্মমন্ত্রী করায় উপজেলায় খুশির জোয়ার বইছে। সদর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলছে গণহারে মিষ্টি বিতরণ।
উল্লেখ্য, কায়কোবাদ ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। তিনি ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন কায়কোবাদ। ১৯৮৬ সালে সংসদে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার পেলেন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা।
৭৬ দিন আগে
নড়াইলে শিশুহত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় তিন বছরের শিশু নুসরাত জাহান রোজা হত্যার ঘটনায় সৎ মা জোবাইদা বেগমকে (২০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শারমিন নিগার এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জোবাইদা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জোবাইদা বেগম লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের সজীব কাজীর স্ত্রী।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মামলার বাদী আবুল খায়ের কাজীর ছেলে সজীব কাজীর সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রুপা খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর সজীবের দুই সন্তান; ৫ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন ও ৩ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান রোজা দাদার (আবুল খায়ের) সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। পরবর্তীতে সন্তানদের কথা চিন্তা করে সজীব কাজী দ্বিতীয় বিয়ে করেন জোবাইদা বেগমকে।
ঘটনার দিন ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নুসরাতকে তার বড় ভাই ইয়াসিন মারধর করলে সে কান্না শুরু করে। এরপর সৎ মা জোবাইদা বেগম তাকে ঘরের একটি কক্ষে নিয়ে যান। শিশুটি কান্না থামাচ্ছিল না দেখে একপর্যায়ে জোবাইদা তার মুখ চেপে ধরেন, যার ফলে শ্বাসরোধে নুসরাতের মৃত্যু হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে একটি কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে শ্বশুর মো. খায়ের কাজীর ঘরের বারান্দার খাটে রেখে দেন তিনি।
পরে দাদা খায়ের কাজী বাড়িতে ফিরে নুসরাতকে গোসল করাতে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে স্ত্রী পান্না বেগমকে বিষয়টি জানান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পান্না বেগম জোবাইদাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, নুসরাত বারান্দায় ঘুমাচ্ছে। সেখানে গিয়ে দাদী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া থানায় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওই দিনই সজীব কাজী ও জোবাইদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় সজীব কাজীকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত শিশুর দাদা মো. খায়ের কাজী লোহাগড়া থানায় জোবাইদা বেগমকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
২৭২ দিন আগে
সিলেটে স্কুলছাত্র হত্যা: সাইফুলসহ ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের বিশ্বনাথে চৈতন্নগর গ্রামে স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া (১৮) হত্যা মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও ১৭ জন আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে একজন এখনো পলাতক।
বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এ রায় ঘোষণা করেন। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলায় মোট ৩২ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলায় মোট ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল, সদরুল, সিরাজ, জামাল, শাহিন, আব্দুল জলিল ও আনোয়ার।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ইলিয়াছ, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আছকির, ফরিদ ও আকবর।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১ মে বিশ্বনাথ উপজেলার চৈতন্নগর গ্রামের নজির উদ্দিনের খেতের জমি থেকে জোর করে রাস্তায় মাটি তুলতে চান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম। এসময় তাকে বাধা দেন নজির উদ্দিন, চাচাতো ভাই মানিক মিয়া ও ভাতিজা ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া। এতে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাইফুল আলমের বন্দুকের গুলিতে ওইদিন সুমেল মিয়া নিহত হন। এ সময় সুমেলের বাবা ও চাচাসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে গণধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ঘটনার পর সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী সিজিল বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩ মে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন বিশ্বনাথ থানার ওসি তদন্ত কর্মকর্তা রমা প্রসাদ চক্রবর্তী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩২ জনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। মামলার প্রায় চার বছর পর আজ (বুধবার) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
এর আগে, গত ১৩ জুলাই মামলাটি যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। ওইদিন আদালত ৩০ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার ৩২ জন আসামির মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি মামুনুর রশীদ পলাতক এবং প্রধান আসামি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাইফুল আলম আটকের পর থেকে প্রায় পৌনে ৪ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।
২৭৯ দিন আগে
বেনাপোলের প্রিন্স হত্যা: আলোচিত উদ্ভাবক মিজানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
যশোরের বেনাপোলে ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যা মামলায় জেলার আলোচিত উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজানসহ চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যা মামলার ২১ বছর পর এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকালে এ রায় ঘোষণা করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়ন্তী রানী দাস।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ড পাওয়া মিজান শার্শা উপজেলার আমতলা গাতীপাড়া গ্রামের আক্কাস আলী মোড়লের ছেলে এবং নিহত প্রিন্সের ভগ্নিপতি। অন্য তিনজন হলেন— ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটাডাঙ্গা গ্রামের গোলাম মণ্ডলের ছেলে ইকবাল হোসেন, বেনাপোল কাগজপুকুর গ্রামের কালু ওরফে ঘাড়কাটা কালুর ছেলে সেকেন্দার ও একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে জসিম।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, প্রত্যেককে অর্থদণ্ড
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি মিজান ও সেকেন্দার। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট প্রিন্স মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ বাড়ি পোড়াবাড়ি নারায়ণপুর গ্রাম থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরদিন সকালে ছোট নিজামপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর প্রিন্সের মামা বকতিয়ার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রিন্সের মোটরসাইকেলের প্রতি তার দুলাভাই মিজানের আগ্রহ ছিল।
পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনতাই করতেই প্রিন্সকে হত্যা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফজাল হোসেন ওই চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর দীর্ঘ ২১ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান আধুনিকতার যুগে সামান্য মোটর মেকানিক থেকে একের পর এক যন্ত্র উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তার উদ্ভাবনী কাজের মধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স, স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র, জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব যন্ত্র, যা ‘মিজান ইঞ্জিন’ নামে পরিচিতি পায়।
মিজানুর রহমানের স্থানীয় বাজারে মোটর মেকানিকের কাজের পাশাপাশি একটি ‘ফ্রি খাবার বাড়ি’ ছিল। বাড়িটি শার্শার শ্যামলাগাছী এলাকায় অবস্থিত। সেখান থেকে তিনি ভবঘুরে, ভিক্ষুক, গরিব ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ করতেন।
২৮৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুটি ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন— আলমডাঙ্গা উপজেলার বারাদি গ্রামের নাজমুল হক (৩৩) ও জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর গ্রামের আব্দুল খালেক (৫৫)। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিতদের পুলিশ পাহারায় আদালত থেকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এমএম শাহাজাহান মুকুল বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে, এই রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।’
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক, কারাদণ্ড
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামি নাজমুল হক তার বন্ধুর ১৩ বছর বয়সী কিশোরী বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর আলমডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।
আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খসরু আলম তদন্ত শেষে আসামি নাজমুলের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এছাড়া, ২০১৫ সালের ৮ জুন আসিম আব্দুল খালেক তার ভায়রা ভাইয়ের ৬ বছর বয়সী মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করেন। ওই ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৯ জুন জীবননগর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হোসেন তদন্ত শেষে ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৩১৪ দিন আগে
নাটোরে হেরোইন পাচার মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নাটোরের বড়াইগ্রামে হেরোইন পাচার মামলার রায়ে জুয়েল আলী নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. মাইনুদ্দীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
অতিরিক্ত পিপি মিজানুর রহমান জানান, ২০২১ সালের ১৯ জুন রাতে নাটোরের বড়াইগ্রামে রয়না পাম্প এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪০০ গ্রাম হেরোইনসহ চালক জুয়েলকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা ও অভিযোগপত্র দাখিলের পর প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
রায়ে জুয়েলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে জেএমবির ২ সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
৬৭৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় মাদক মামলায় নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
গাইবান্ধায় মাদক মামলায় সীমা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি ময়নুল ইসলামকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার(২০ মে) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফিরোজ কবীর এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সীমা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চরমগাছা পার্বতীপুর গ্রামের খোকন মোল্লার স্ত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মায়ামনি হোটেলের সামনে থেকে ১০০ গ্রাম হিরোইন ও ৬ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী সিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুন্নাহার বেবি বলেন, মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের উপস্থিতিতে সোমবার আদালত এ রায় দেন। তিনি এই মামলার রায়ে সন্তুষ্ট।
তবে এসময় আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
৭১৫ দিন আগে