যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নুসরাত হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দশ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
অন্যদিকে, মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে আজও আমি পাগলের বেশে আছি। নিম্ন আদালতে বিচার চেয়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখনও আমার ৩ ছেলেকে নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছি। পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছেও প্রত্যাশা ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আশা করি, উচ্চ আদালতেও আমারা ন্যায় বিচার পাবো।’
নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে আমার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আছেন। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর থেকেই তাদের বাড়িতে পরিবারের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি দল নিয়োজিত ছিল। হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে আরও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার সব নথি হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক (সব নথি) ছাপানোর কাজ শেষ করা হয়। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেছেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আক্তার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কয়েকজন ক্যাডার জনমত গঠন করে অধ্যক্ষ সিরাজকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে।
৩ এপ্রিল খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। পরে ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ওই বছরের ৮ এপ্রিল মামলা করেন। মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ফেনী। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
কালীগঞ্জে নায়েব আলী হত্যা মামলা: যুবকের মৃত্যুদণ্ড, বাবার যাবজ্জীবন
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নায়েব আলী হত্যা মামলার আসামি আলামিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা ইউনুস আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মো. মাসুদ আলী আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলে কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াটি গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান এবং সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম।
অন্যদিকে, আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ মে মালিয়াটি গ্রামের আবদুল মোল্লার ছেলে নায়েব আলী নিজের জমিতে কৃষিকাজ শেষে স্থানীয় জামিরুলের দোকানে পানি পান করতে আসেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং পিটিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার দিন নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত আলামিনকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরবর্তী সময়ে মামলার মাত্র তিন মাস পর, গত বছরের ১৮ আগস্ট কালীগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম আক্তার অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে দায়ী করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়েন রাশিদা বেগম নামে এক নারী।
দীর্ঘ শুনানি ও মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) এই রায় দেন।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যারে দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিক (২১) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধরকে (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বাসিন্দা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর সারপাড় এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার রবি ভক্তের ছেলে ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা যোগসাজশে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
ওই রাতেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কেউ হত্যা করেছে—এমন সংবাদ তার বাবার কাছে পৌঁছান। পরে রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ির অদূরে (প্রায় ৮০ গজ) দাস বাড়ির উঠানে গিয়ে ওমর সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি ও জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস অনিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় আসামিপক্ষে সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
১০ দিন আগে
রাজধানীতে ছিনতাই ও হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের পর হত্যার দায়ে মাসুম নামের এক ছিনতাইকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ রায় দেন।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউসুফ নামের অপর এক আসামিকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, কামরাঙ্গীরচরের মুদি দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাত করেন এবং তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন ওই দিনই বংশাল থানায় এই হত্যা মামলাটি করেন। তারপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর ওই দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কমকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
১২ দিন আগে
নবাবগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৪ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন
ঢাকার নবাবগঞ্জে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি ২০০২ সালে ঘটলেও দীর্ঘ ২৪ বছর পর মামলার রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন— মো. সুজন, মো. জুলহাস ও মোহাম্মদ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পিপি আরও জানান, আসামিদের মধ্যে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সুজন ও মোহাম্মদ জামিনে ছিলেন; তারা আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর ৮ বছর বয়সী ফুফাতো বোন টয়লেটে যেতে চায়। তাকে বাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান ওই তরুণী। শিশুটিকে টয়লেটে বসিয়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছানোমাত্র সুজন পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যান। সেখানে জুলহাস ও মোহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিলেন। আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।
এরপর আসামিদের বিরুদ্ধের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি বিচার চলাকালে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
৩৩ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন
গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলে আলীম কাজীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এ রায় দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ মে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ কাজীর বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে মাদকসেবী আলীম কাজী তার বাবা ইসমাইল কাজীকে গালিগালাজ করেন। এ সময় ইসলাইল কাজী ছেলেকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে, ক্ষিপ্ত হয়ে বঁটি দিয়ে বাবার গলায় কোপ দেন আলীম। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল কাজীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ সাজা দেন। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় আসামিকে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
৪১ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
যৌতুকের দাবিতে নিজের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রায় দুই বছর ১১ মাস পর স্বামী মো. লালন মোল্লাকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারের একটি ছেলে থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন তিনি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম সেদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
৪১ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলার রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে (৩২) অপরাধের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা জুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মনির হোসেন বাকলিয়া এলাকার একটি ডেকোরেটর দোকানের কর্মী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। আদালত তাকে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৩ দিনে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিচার শেষ হলো, যা বিচারিক কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত। গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন আসামি মনির।
রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে সকালে পুলিশ প্রহরায় আসামি মনির হোসেনকে হাজির করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে।
ট্রায়াল গঠনের ৭ম কার্যদিবসের মধ্যে এ রায় ঘোষণা করা হয়। দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামির ফাঁসি না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুব-উল আলম চৌধুরী বলেন, মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার মাত্র ১৪ দিনের মাথায়, গত ৪ জুন পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আজ রায়ে একমাত্র আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন জানান, রায়ে আমরা আসামির ফাঁসি দাবি করেছিলাম কিন্তু তার যাবজ্জীবন রায় হয়েছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
এ ঘটনায় ৪ জুন আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) আদালত রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশকে ঘেরাও করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামি মনিরকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষোব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
৬৭ দিন আগে
গাজীপুরে দুই দশক আগে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই দশক আগের এক হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান আসামি আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামি আহাদকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবুলকে এক বছরের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ায় বাকি আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলে। তিনজনকে দণ্ডিত করা হলেও অন্য সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন।
মামলার বাদী কামরুল হাসান জানান, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মানিক মন্ডলকে। এ ঘটনায় বাদীসহ আরও পাঁচজন আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাদীপক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
১০২ দিন আগে