জলাবদ্ধতা
এক মাসের ব্যবধানে ফের পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা
চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে ফের জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। নিচতলার বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
আজ (সোমবার) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। সমুদ্রে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরও দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে জলবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। কোথাও হাঁটুসমান বা কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও অলিগলি।
গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার পর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আজ সকালে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, দক্ষিণ হালিশহর, পাঠানটুলী ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মূল সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত পানি উঠে যাওয়ায় অনেক বাসাবাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়েছে।
আজ সকালে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পথচারীদের সেই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচলও ছিল প্রায় বন্ধ।
আগ্রাবাদের মুহুরিপাড়া এলাকার চিত্রও ছিল একই। সড়কে কোমরসমান পানি জমে থাকায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নগরীর বাসিন্দাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। গণপরিবহন ও রিকশা না পেয়ে অনেককে বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কোথাও রিকশা পাওয়া গেলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।
আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার চাকরিজীবী তৌহিদুল সালাম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই এলাকার অনেক সড়কে পানি জমে যায়। তবে গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সড়কে যানবাহন না থাকায় এবং কিছু রিকশাচালক তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে অফিসে গেছেন।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মহানগরের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ও আশপাশের সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। পরিবহনসংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আজ স্কুলে যেতে পারেনি। কোথাও কোথাও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সাগরে লঘু চাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও সামান্য সময়ের ব্যবধানে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।
তাদের প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় এবং একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও কেন বৃষ্টিতে বারবার একই এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে?
নগরবাসীর দাবি, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা, খাল-নালা ও ড্রেনের সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে। না হলে বড় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
৯ দিন আগে
জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, ডুবছে ভবদহ
খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ভবদহ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বরং অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটার নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ রুদ্ধ করে খননকাজ পরিচালনা করায় খর্ণিয়া থেকে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি সাগরে পৌঁছাতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রীনদীর প্রায় সাড়ে ৮১ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, খর্ণিয়া সেতুসংলগ্ন এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খনন করায় জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা বিপুল পলি নদীর তলদেশে জমতে থাকে। এতে খর্ণিয়া থেকে তেলিগাতি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে নদীর গভীরতা এক বছর আগেও প্রায় ৩০ ফুট ছিল, বর্তমানে তার অনেকাংশই প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে খর্ণিয়ার বিল, বিল সিঙ্গা, ডোমবার বিল, বিল তাওয়ালিয়া, আগরঘাটি, ভায়না, বরুনা, সালাতিয়া, দহকুলা, নাদিয়া, জোয়ারেরডাঙ্গা, বামুন্দিয়া, গোনালীসহ যশোর ও খুলনা অঞ্চলের অন্তত ৩০টি বিল ও অর্ধশতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক ওহিদ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী খননের নামে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অন্য কোনো দুর্যোগেও হতো না। ‘জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে নদী খননের এমন উদাহরণ আগে দেখিনি। এর মাশুল এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।’
১৪ দিন আগে
বছরের ৮ মাসই জলাবদ্ধতা, ব্রিটিশ আমলের টানেলে জনদুর্ভোগ চরমে
ঘটনা ছোট, কিন্তু সমস্যা পাহাড়সম। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক, অথচ বছরের ৮ থেকে ১০ মাস সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকার এই চিত্র যেন উন্নয়নের মাঝে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি। ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত টানেলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। যুগ যুগ ধরে টানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
১৭ দিন আগে
নড়াইলে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নড়াইলে অবিরাম বর্ষণ আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিস্তীর্ণ মাঠের আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বিলের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আটকে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
আবাদের এমন আকস্মিক বিনাশে শত শত কৃষক চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, এই ফসলহানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদার বিল, আন্ধারকোটা বিল ও কুচিয়াবাড়ির বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বুকসমান পানিতে তলিয়ে আছে। যেখানে এখন সোনালী ধানের সমারোহ থাকার কথা, সেখানে শোভা পাচ্ছে শাপলা, শালুক আর জলজ আগাছা। ফসলশূন্য খেতে এখন চরে বেড়াচ্ছে পাতিহাঁসের দল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, নিচু অঞ্চলের এসব জমি অধিক পানি সহনশীল স্থানীয় জাতের ‘রাতুল আউশ’ ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ জাতের ধানের গাছ দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। বিগত বছরগুলোতে সহনীয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাতুল ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবারও চাষিরা ব্যাপক উৎসাহে আবাদ করেছিলেন। লক্ষ্মীপাশা ছাড়াও জেলার বাঁশগ্রাম, নলদি, কোটাকোল, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনা, পহরডাঙ্গা, খাশিয়াল, মাইজপাড়া ও সেখহাটীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বিলে এই ধানের চাষ হয়েছিল।
তবে এবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিগুলো হঠাৎ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি সরার পথ অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করে অবরুদ্ধ খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগকারী খালগুলো পুনঃখনন করা জরুরি।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলে দাবি করা হলেও কৃষকেরা তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলের উপরিভাগের কিছু ধান রক্ষা পেলেও নিচু এলাকার সিংহভাগ ফসলই পচে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, নিচু বিল অঞ্চলের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা বর্তমান চাষাবাদের জন্য একটি বড় হুমকি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কৃষি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে ভরাট ও হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ করছে।
১৮ দিন আগে
শিলাইদহে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে থৈ থৈ করছে পানি
পদ্মার তীর থেকে প্রায় ৮০০ মিটার পশ্চিমে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। এখানে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন অসংখ্য গান, কবিতা, নাটক আর ছোটগল্প। যে গীতাঞ্জলি রচনার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিলেন, তার অধিকাংশ কবিতাও এখানে বসেই লেখা। এক কথায়, বাংলা সাহিত্যের অনেক অমর সৃষ্টির জন্ম এই কুঠিবাড়িতে।
প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো রবীন্দ্রভক্ত ছুটে আসেন বিশ্বকবির স্মৃতিবিজড়িত এই রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি দেখতে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে সেই ঐতিহ্যের তীর্থভূমির চিত্রই যেন পাল্টে গেছে। কুঠিবাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, মুক্তমঞ্চ, ম্যুরালের সামনে, জাদুঘরের আঙিনা, এমনকি ফুল ও ফলের বাগান—সবখানেই এখন থৈ থৈ করছে পানি। কুঠিবাড়িজুড়ে জলমগ্নতার এই চিত্র শুধু এ বছরই নয়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এমন চিত্র চোখে পড়ে।
১৮ দিন আগে
রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অর্থের অপচয়ের ফল: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকায় সাম্প্রতিক পানি জমে থাকার ঘটনাকে বন্যা নয়, বরং জলাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অকার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থের অপচয়ের ফল। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান তথ্য অফিসের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকায় যা হয়েছে তা বন্যা নয়, জলাবদ্ধতা। রাজধানীতে অল্প সময়ের জন্যও পানি জমে থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, অতীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, ‘অনেক প্রকল্পই অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ব্যয় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ কার্যকরভাবে কাজে লেগেছে। বর্তমান সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।’
এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেবে। তবে তিনি জানান, যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, সেখানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতে সমস্যা তুলনামূলক সীমিত ছিল।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ঘটনার ব্যাপক প্রচারের কারণে সংকটটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় বলে মনে হতে পারে। তবে সরকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে দীর্ঘসূত্রতা, ভুল তথ্য এবং অতিরিক্ত ভোগান্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনিও এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে এনআইডিতে ভুল তথ্য এলে তা সংশোধনের জন্য কেন নাগরিককে ফি দিতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি ভুলটি সত্যিই সরকারের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া যৌক্তিক নয়। বরং সরকারকেই দায় স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, জরিমানা বা ফি সাধারণত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়। কিন্তু যেখানে ভুল সরকারি প্রতিষ্ঠানের, সেখানে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
এ সময় একজন সাংবাদিক নিজের পরিচিত এক ব্যক্তির এনআইডিতে জন্মস্থান ভুল থাকার উদাহরণ তুলে ধরলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের তথ্যই প্রকৃত সাংবাদিকতার অংশ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, নাগরিকদের হয়রানি কমাতে এবং এনআইডি-সংক্রান্ত সেবায় গতি আনতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
৪৩ দিন আগে
জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
৪৫ দিন আগে
জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনাবাসী, ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়
আকাশ থেকে ভারী বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলছে না খুলনা নগরবাসীর। খুলনায় ভারী বৃষ্টির কারণে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোথাও তারও বেশি।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কর্মব্যস্ত নগরবাসী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন— ‘এই জলাবদ্ধতা হতে তারা স্থায়ী সমাধান পাবেন কবে?’
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ৫১ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৪ মিলিমিটার। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, এ সময় স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাত হয়। সারা দেশের মতো খুলনায়ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। তবে সচেতন মহল বলছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু পরিকল্পিত ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে খুলনায় সামান্য বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে সাতটি খাল খনন ও দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার করা হলেও মিলছে না সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরীর সামগ্রিক জলপ্রবাহ, খালের ধারণক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্থানে বড় প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
খুলনা নগরীর মুজগুন্নি এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এছাড়া রয়্যাল মোড়, টুটপাড়া, জিন্নাহনগর, দৌলতপুর, আটরা, গিলাতলা, দিলখোলা, বানরগাতি ও শেখপাড়া এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। অনেকের ঘরেও ঢুকেছে পানি।
মুজগুন্নি এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এই মোড়টিতে হাঁটুজল জমে। জলাবদ্ধতায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটুজল জমেছে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কেসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পাবলা কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হামিম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যতবার বৃষ্টি হচ্ছে, ততবারই আমাদের বাড়ির নিচতলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আগেও বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়তাম, কিন্তু এক দিনে পানি সরে যেত; এখন বিপদ হয়েছে অন্য রকম, আমাদের এলাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে কবীর বটতলা থেকে কারিগরপাড়া পর্যন্ত আমাদের এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাড়িঘর থেকে ওই ড্রেনে বৃষ্টির পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির উঠান ও নিচতলা পানিতে তলিয়ে যায়।
পাবলা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুপ কুমার জানান, খুলনার জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়, এটি একটি পরিকল্পনাগত সংকট। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে। একই সঙ্গে নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করে টাকার অপচয় করলে হবে না, প্রাকৃতিক খালের ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু ও নদী-খালের সঙ্গে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে খুলনার জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না।
বাস্তহারা এলাকার বাসিন্দা রাজীব জানান, আকাশ থেকে সামান্য পানি পড়লেই আমাদের এলাকায় হাঁটুজল পানি জমে। গত দুদিনের বর্ষায় গোটা এলাকা তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। আমরা এই জলাবদ্ধতার একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
ইজিবাইকচালক হাফিজ জানান, দুদিন ধরে বর্ষা। ঘরে বসে থাকলে তো আর পেটে ভাত যাবে না। মুজগুন্নি রাস্তায় হাঁটুপানি। অনেকে রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি জমে।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা-ড্রেন বানাচ্ছে, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ কমছে কই?’
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র অনুসারে, নগরীতে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছে।
এই প্রকল্পের পরিচালক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসার্ধের ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬৯টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঢাকনাযুক্ত ড্রেন।
কেসিসির প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমরা আপাতত এই কাজ বন্ধ রেখেছি। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন নির্মিত ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষায়িত মেশিন সিটি করপোরেশনের কাছে নেই। ফলে শ্রমিকরা ভারী স্ল্যাব একটা একটা করে খুলে পরিষ্কার করেন। এটা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। অনেক স্থানে আবর্জনা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে চলমান প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ময়লা পরিষ্কার করার যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা রাখা আছে। যন্ত্র এলে পরিষ্কার করার কাজটা আরও সহজ হবে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মূলত শহরের পানি রূপসা নদীতে নামত, এখন সেটি নামছে না। বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা, রূপসার পাম্প হাউজ বন্ধ ও স্লুইস গেটগুলো অকেজো থাকায় নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জোয়ারের সময় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাগুলো ডুবে যাচ্ছে। ড্রেন আগে যেভাবে ছিল, সেভাবে নেই। ড্রেনগুলোর বেড উঁচু করে ফেলায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ও বাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করছে এবং মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মাত্র তিন মাস দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা দিন-রাত এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের বাধা দূর করছি, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সব চেষ্টা করছি এবং সমাধানের পথ খুঁজছি।
এ সময় নগরবাসীকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানের ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
৪৬ দিন আগে
জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সংকটে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শারীরিক-মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। কিন্তু পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে সেই পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শুধু ভবনের ঝুঁকিই নয়, নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পাঁচটি ভবন থাকলেও এগুলোর অধিকাংশই বহু বছর আগে নির্মিত। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ২৯ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং বারান্দার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। অনেক সময় সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য বিষধর প্রাণীর আতঙ্কও তৈরি হয়।
৪৮ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে সড়ক, জনজীবনে দুর্ভোগ
খাগড়াছড়িতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈরি আবহাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর পানি কিছুটা কমায় আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও মাইনী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জেলার চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি কিছুটা কমে এসেছে। তবে মহালছড়ির নিম্নাঞ্চল এবং জেলা সদরের লার্মাপাড়া, পেরাছড়া, দ্রোণাচার্যপাড়া ও ভাইবোনছড়ার কিছু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা আছে।
অন্যদিকে, দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাজেকের কবাখালী ও লংগদু সড়ক এবং বড় মেরুং এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাজেক ও লংগদু সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বাঘাইহাট এলাকা নিচু হওয়ায় সেখানে পানি উঠেছে। ফলে এ রুটে আপাতত যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, পাহাড়ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
৪৯ দিন আগে