বান্দরবান
লামায় সড়ক ও সেতু নির্মাণে অনিয়ম-ধীরগতির অভিযোগ, দুর্ভোগে ৬ গ্রামের মানুষ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারী-চাককাটা সড়কের উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে না পারায় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি দিয়ে কাজ করা এবং ঠিকাদারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কুমারী-চাককাটা সড়কের দুই কিলোমিটার কার্পেটিং নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে চুয়াডাঙ্গার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ কন্সট্রাকশন কাজটি পেলেও বাস্তবে কাজটি করছেন বান্দরবানের ঠিকাদার মেহেদী হাসান। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বর্তমানে কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরুতেই সড়কের স্কুলপাড়া এলাকার সচল ও ব্যবহৃত পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেতুর রড, ইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে রাখায় বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢল ও পানির তোড়ে ওই অংশ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী নড়বড়ে সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কাজ শেষ না করেই সচল পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার প্রয়োজন কী ছিল?
১১ দিন আগে
বন্যার আগেই বান্দরবানে আগাম নগদ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু ডব্লিউএফপির
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য আগাম সহায়তা এবং দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
রবিবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগাম সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও চালু করেছে সংস্থাটি। এর আওতায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে জরুরি নগদ সহায়তা (টপ-আপ) প্রদান করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপির সহযোগী সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ যৌথ উদ্যোগে বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলায় ১৫ হাজার ৬০০টির বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ নগদ সহায়তা পেয়েছেন।
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে। তাই দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ার আগেই সহযোগিতা পৌঁছে দিয়ে আমরা পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করছি। একই সঙ্গে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সংকটের সময় ব্যাপক পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। ঘন ঘন ও তীব্র বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও মানুষের জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
ডব্লিউএফপি জানায়, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন অংশীদারের সহায়তায় দেশে আগাম সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে তারা। ডব্লিউএফপি ও এর অংশীদারদের গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম সহায়তায় প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রচলিত জরুরি সহায়তার তুলনায় সর্বোচ্চ সাত ডলারের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত সুফল অর্জন করা সম্ভব।
একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএফপি।
সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যাতে তারা আরও গভীর সংকটে পতিত না হয়।
১৪ দিন আগে
১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত সকল পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, উক্ত সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, গত চার দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল এবং নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১০০ জন দূর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পৌরসভা, সেনাবাহিনী এবং বিজেবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তাসহ শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
লামায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান এবং অপর পরিবারের মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)।
অন্যদিকে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড় ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়াও, টানা ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ে, সড়ক ধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়।
মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবির প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবি মানুষগুলো।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহপালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা।
এদিকে, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্যোগকবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর নাগাদ মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়।
টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড় ধসে আরও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় আজ ভোর ৪টার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের ওপর পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য নিহত হন।
এর আগে, রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মতো ঘরবাড়ি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার পরিবার।
ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক।
এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড় ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড় ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদের যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড় ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫ জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রসহ বন্যাকবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে তছনছ হওয়ার কারণে আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।
১৮ দিন আগে
বান্দরবানের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, আটকে শতাধিক পর্যটক
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্রে এখনও আটকা রয়েছে শতাধিক পর্যটক। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থানচি ও রুমা উপজেলার সঙ্গে নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ আছে। থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্র শতাধিক পর্যটক এখনও আটকা রয়েছে।
সড়কের উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি ও রুমা উপজেলায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া, ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
৮ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
২০ দিন আগে
বান্দরবান হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত
বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন—মো.সাকিব (২০) ও কামরুল হাসান (৩৫)। তারা ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন সাকিব ও কামরুল হাসান। কাজ করার একপর্যায়ে ভবনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তারের সঙ্গে একটি লোহার অ্যাঙ্গেলের সংস্পর্শ হলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং বিষয়টি পরিদর্শন করছি।
৪৬ দিন আগে
বান্দরবানে বন্যহাতি ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল নারীর
বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণ ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে রুবি আক্তার (৩৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকার গিয়াস উদ্দিনের আমবাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবি আক্তার দক্ষিণ হায়দারনাশী গ্রামের আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় বন্যহাতির দল প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। এ সময় হাতির দল ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ফলজ বাগানে ঢুকে মৌসুমি ফল খেয়ে নষ্ট করে। এসব ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে বাগান মালিকরা বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন।
এ কারণে গিয়াস উদ্দিনের বাগানেও বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হয়েছিল। আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৫টার দিকে ওই বাগানে যান রুবি আক্তার। সেখানে পাতা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৯ দিন আগে
বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৪৭ দোকানসহ বসতঘর
বান্দরবান সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বান্দরবান স্টেশনের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান আনসারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) ভোরে হঠাৎ বাজারে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অধিকাংশ দোকান ও বসতঘরে দাহ্যসামগ্রী থাকায় এবং পাশাপাশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা পুরো নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ।
জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য সিং শৈ মারমা জানান, বাজারের পেছনের এক দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে এলাকাবাসী তাকে জানিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আগুনে বাঘমারা বাজারে ১৩টি দোকান ও ২টি বসতবাড়ি পুড়ে গিয়েছিল।
৭১ দিন আগে
ঈদের তৃতীয় দিনেও বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড়
ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশের টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নেমেছে পাহাড়ঘেরা এই জেলায়। রমজানজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর জেলার প্রায় সব স্পট। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর অধিকাংশই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
অসংখ্য পাহাড় ও এখানে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি ও দেবতাকুমসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড়। পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রোদুয়ান বলেন, ‘বান্দরবান খুবই সুন্দর পর্যটন জেলা। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানকার জনবৈচিত্র্য আলাদা। পাহাড়, নদী, ঝরণা, মেঘ—প্রকৃতির এমন সংমিশ্রণ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।’
মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক শিরীন আক্তার বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটি আমাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরছি। নিজের চোখে না দেখলে এ জেলার সৌন্দর্য বোঝা যায় না।’
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
১২৬ দিন আগে
বান্দরবানের পাহাড়ি খাদ থেকে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার
বান্দরবানে পাহাড়ি খাদের ১৫০ ফুট গভীর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের মেঘলা লালমোহন বাগান তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার গহীন এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— মা রমেসিং মার্মা (৩০) ও মেয়ে বৃষ্টি মার্মা (৪)। তাদের বাড়ী মেঘলার কানাপাড়া এলাকায়। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত থেকে রমেসিং মার্মা ও তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। অনেক খোঁজাখুজির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে গহীন এলাকার দেড়শ ফুট পাহাড়ের নিচে মা-মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল মান্না দে বলেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১২৯ দিন আগে