বান্দরবান
বান্দরবানের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, আটকে শতাধিক পর্যটক
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্রে এখনও আটকা রয়েছে শতাধিক পর্যটক। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। থানচি ও রুমা উপজেলার সঙ্গে নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ আছে। থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকার তিনটি পর্যটন কেন্দ্র শতাধিক পর্যটক এখনও আটকা রয়েছে।
সড়কের উপর পাহাড় ধ্বসে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি ও রুমা উপজেলায় যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া, ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
৮ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
২ ঘণ্টা আগে
বান্দরবান হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত
বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন—মো.সাকিব (২০) ও কামরুল হাসান (৩৫)। তারা ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন সাকিব ও কামরুল হাসান। কাজ করার একপর্যায়ে ভবনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তারের সঙ্গে একটি লোহার অ্যাঙ্গেলের সংস্পর্শ হলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং বিষয়টি পরিদর্শন করছি।
২৫ দিন আগে
বান্দরবানে বন্যহাতি ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল নারীর
বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণ ঠেকাতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে রুবি আক্তার (৩৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকার গিয়াস উদ্দিনের আমবাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবি আক্তার দক্ষিণ হায়দারনাশী গ্রামের আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় বন্যহাতির দল প্রায়ই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। এ সময় হাতির দল ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ফলজ বাগানে ঢুকে মৌসুমি ফল খেয়ে নষ্ট করে। এসব ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে বাগান মালিকরা বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন।
এ কারণে গিয়াস উদ্দিনের বাগানেও বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হয়েছিল। আজ (মঙ্গলবার) ভোর ৫টার দিকে ওই বাগানে যান রুবি আক্তার। সেখানে পাতা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৯ দিন আগে
বান্দরবানে আগুনে পুড়ল ৪৭ দোকানসহ বসতঘর
বান্দরবান সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর ভস্মীভূত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বান্দরবান স্টেশনের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান আনসারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) ভোরে হঠাৎ বাজারে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে অধিকাংশ দোকান ও বসতঘরে দাহ্যসামগ্রী থাকায় এবং পাশাপাশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের প্রায় ৪৭টি দোকান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তারা পুরো নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে ।
জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য সিং শৈ মারমা জানান, বাজারের পেছনের এক দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে এলাকাবাসী তাকে জানিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আগুনে বাঘমারা বাজারে ১৩টি দোকান ও ২টি বসতবাড়ি পুড়ে গিয়েছিল।
৫১ দিন আগে
ঈদের তৃতীয় দিনেও বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড়
ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশের টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নেমেছে পাহাড়ঘেরা এই জেলায়। রমজানজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর জেলার প্রায় সব স্পট। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর অধিকাংশই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
অসংখ্য পাহাড় ও এখানে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি ও দেবতাকুমসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড়। পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রোদুয়ান বলেন, ‘বান্দরবান খুবই সুন্দর পর্যটন জেলা। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানকার জনবৈচিত্র্য আলাদা। পাহাড়, নদী, ঝরণা, মেঘ—প্রকৃতির এমন সংমিশ্রণ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।’
মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক শিরীন আক্তার বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটি আমাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরছি। নিজের চোখে না দেখলে এ জেলার সৌন্দর্য বোঝা যায় না।’
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
১০৫ দিন আগে
বান্দরবানের পাহাড়ি খাদ থেকে মা মেয়ের লাশ উদ্ধার
বান্দরবানে পাহাড়ি খাদের ১৫০ ফুট গভীর থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের মেঘলা লালমোহন বাগান তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার গহীন এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— মা রমেসিং মার্মা (৩০) ও মেয়ে বৃষ্টি মার্মা (৪)। তাদের বাড়ী মেঘলার কানাপাড়া এলাকায়। তবে এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত থেকে রমেসিং মার্মা ও তার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। অনেক খোঁজাখুজির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে গহীন এলাকার দেড়শ ফুট পাহাড়ের নিচে মা-মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল মান্না দে বলেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, না কি খুন, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১০৯ দিন আগে
বান্দরবানে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ২
বান্দরবানের লামা উপজেলায় লাকড়িবোঝাই একটি ট্রাক পাহাড়ি খাদে পড়ে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী–লামা সড়কের ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ইয়াংছা কালিরঝিরি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাকচালক মো. আলমগীর (৩৫) এবং পোয়াংবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫)। এ ঘটনায় ঠান্ডাঝিরি এলাকার পুতিয়া নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর এলাকা থেকে লাকড়ি বোঝাই করে একটি ট্রাক ইয়াংছার দিকে যাচ্ছিল। পথে ট্রাকটি ইয়াংছা টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছালে চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি প্রায় ২০০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়।
এ সময় ট্রাকে থাকা চালক মো. আলমগীর ও আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক সুরতহাল শেষে শুক্রবার সকালে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৫ দিন আগে
বান্দরবানে বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণ গেল কৃষকের
বান্দরবান জেলার লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা (৬০) নামের এক আদিবাসী বৃদ্ধ কৃষক নিহত হয়েছেন।
উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ত্রিশডেবা ডলুঝিরি পাড়ায় মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ক্যচিং মং মার্মা বাচিং কারবারি পাড়ার বাসিন্দা বাচিং মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্যচিং মং মার্মা নিজ ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে যান। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও ক্যচিং মং মার্মা বাড়িতে না ফিরলে স্বজনেরা খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে ক্যচিং মং মার্মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ধানখেতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ক্যচিং মং মার্মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে উচিংহ্লা মার্মা জানান, ধানখেতে কীটনাশক ছিটাতে গেলে আমার বাবা বন্যহাতির কবলে পড়েন। ওই হাতির পায়ের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, হাতির আক্রমণে ক্যচিং মং মার্মা নিহতের ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
১৩২ দিন আগে
বান্দরবানে অপহরণের দুই দিন পর শিশুকে উদ্ধার
অপহরণের দুই দিন পর পুলিশি অভিযানে বান্দরবানে ৭ বছরের এক শিশু উদ্ধার হয়েছে।
গত বুধবার (৩০ জুলাই) মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ওই শিশুকে মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউছার জানান, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানাধীন বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি এলাকায় সৌদি প্রবাসি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহেদা বেগম তার ১১ বছর বয়সী কন্যা সন্তান এবং ৭ বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। গত ৩০ জুলাই দিবাগত রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন অপহরণকারী তার বাড়িতে গিয়ে ঢেউটিনের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর শাহেদা বেগমের ছেলেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরেরদিন অপহরণকারীরা মা শাহেদা বেগমের মোবাইলে ফোন করে ছেলেটিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় আসামি ধরতে গিয়ে র্যাবের ৭ সদস্য আহত, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
পুলিশ সুপার জানান, অপহরণের সংবাদ পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এবং কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক আভিযানিক দল ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় অপহরণকারী দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। অপহরণের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
৩৩৯ দিন আগে
বান্দরবানে বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনজনের মৃত্যু
বান্দরবানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার কারণে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের দুইজনসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে জেলার চিম্বুক সড়কের রাংলাই হেডম্যানপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—তুমলে ম্রো (১৭), তার মা উরকান ম্রো (৭১) এবং মেনরাও ম্রোর স্ত্রী রওলেং ম্রো (৩৬)। রাংলাই পাড়ার হেডম্যান রাংলাই ম্রো জানান, গতকাল (রবিবার) রাত ২টার দিকে পাড়াসংলগ্ন বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে গোলযোগ দেখা দিয়ে সেটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর ঘরের সঞ্চালন লাইনে আগুন ধরে গেলে তা নিভাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান রওলেং ম্রো।
রাংলাই ম্রো আরও জানান, কয়েকদিন ধরেই ওই ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য প্রকৌশলীদের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, ঘটনাস্থলে পুলিশও রওনা দিয়েছে।
৩৫৮ দিন আগে