কলকাতা
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
ভারতের কলকাতায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর শহরটিতে ভ্রমণরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপ-হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট কলকাতায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ভ্রমণকারী নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় কলকাতায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে জেনে ভ্রমণ করতে বলা হয়েছে।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় যাওয়া রোগীর সফরসঙ্গীদেরও (অ্যাটেনডেন্ট) যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে উপ-হাইকমিশন। একই সঙ্গে হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তাবিধি ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কলকাতায় গিয়ে আবাসনসংকটে পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে উপ-হাইকমিশন।
২ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাজুর মরদেহ বাড়ি ফিরলেও রেবতি সরকারের মরদেহ দাহ হয়েছে ভারতে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুইজেনর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ (৪৫) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে। তবে নিহত রেবতি সরকারের মরদেহ ভারতে সৎকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গেল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন সাজু। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। এছাড়া একই ঘটনায় তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকারও (৩৭) নিহত হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা উভয়ই চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। রাতে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি ৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন সাতক্ষীরার। দুইদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয়। এর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
রেবতি সরকারের দেবর সঞ্জয় সরকার জানান, তার ছেলেমেয়ে ভারতে অবস্থান করায় সেখানেই তার মরদেহ সৎকার করা হয়েছে।
ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আজ (শনিবার) দুপুর ১২টার পর সাজুর মরদেহ তারা গ্রহণ করেছেন। মাজুর বাড়িতে জানাজা এবং দাফনের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন নিহতের পরিবার।
১৪ দিন আগে
কলকাতায় নিহত ৫ জনের মরদেহ বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর বিকেলে
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হবে। উভয় দেশের দুতাবাসের সহযোগিতায় আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান।
বেনাপোল দিয়ে যাদের হস্তান্তর করা হবে, তারা হলেন: দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ও মোহিনী মিল এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী ও ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুইজন ভারতীয় নাগরিক।
ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও ভারতের স্থানীয় প্রশাসন। আজ শনিবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাঁচজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মরদেহ দেশে আসার খবরে নিহতদের স্বজনরা গতকাল শুক্রবার থেকে বেনাপোলে অবস্থান করছেন।
১৪ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার ২ জন নিহত, এলাকায় শোকের মাতম
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুইজন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর দুটি পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতরা হলেন: বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে আলিমুজ্জামান সাজু ও তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেষ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকার।
নিহত সাজুর আপন ভাই জানান, কোমরে ব্যাথার চিকিৎসার জন্য ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যান। গতকাল (বুধবার) তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাজু মারা গেছেন। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন বলে তার ভাই জানান।
অপরদিকে, নিহত রেবতী সরকার ৩ মাস আগে ভারতে থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে আসেন। তার ফলো আপ দেখানোর জন্য দ্বিতীয়বার গিয়ে হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হন তিনি।
তবে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরত আনার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া, নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা সেল ফোনে জানান, কলকাতায় নিহতদের মধ্যে দুই জন কালিগঞ্জ উপজেলার জেনেছি। তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরতের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
১৬ দিন আগে
কলকাতায় নিহতদের একজন সাভারের বাবু, বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ৯ জন নিহতের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সেই ৫ জনের একজন ঢাকা শহরের সাভারের আহম্মেদ বাবু।
ঢাকা শহরের উত্তর প্রবেশদ্বার সাভারের আমিন বাজার। আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড-সংলগ্ন বেগুনবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন আহম্মেদ বাবু (৩৮)। তিনি ছিলেন একজন প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের বাবা আহম্মেদ বাবু গত রবিবার বেড়াতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। আগামী শুক্রবার রাতেই তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ দিন তিনি কলকাতায় বেড়াবেন। কলকাতায় যাওয়ার সময় মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়েছেন যেন সুন্দরভাবে তিনি ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু এ যে তার শেষ যাত্রা ছিল তা কেউই জানতেন না। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সঙ্গে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন এবং স্ত্রী সন্তান ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য কী কী আনবেন, সেসব নিয়ে তিনি ফোনকলে গল্প করেছেন।
আজ (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে খবর আসে আহম্মেদ বাবু কলকাতায় হোটেলে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ খবর শোনার পর থেকে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
তার মা সাবেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলের মরদেহটি যেন সরকার দেশে এনে দেয়। ছেলের কথা বলতে বলতে কান্নায় তার গলার স্বর ভেঙে গেছে।
প্রতিবেশীরা এ সময় বাবুর স্ত্রী বুবলী ও সন্তানদের শান্তনা দিচ্ছিলেন। তারা জানান, আহম্মেদ বাবুর স্ত্রী বুবলী স্বামীর এমন মৃত্যু খবরে কাঁদতে কাঁদতে বেশ কয়েকবার মুর্ছা গেছেন। ৫ বছরের ছেলে সোয়াদ যেন কিছুই জানে না। সে বাসার বিভিন্ন কক্ষে ছুটাছুটি করছিল।
বড় ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বাবু ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। অনেক আদরের ছিলেন। ফুটবল খেলা খুব পছন্দ করতেন। ছিলেন আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক। তাদের বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন, কিন্তু ভাইয়ের সব আবদার তারা পূরণ করেছেন। এমন অসময়ে তিনি চলে যাবেন, তা ছিল কল্পনার বাহিরে।
গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-সংলগ্ন হওয়ায় ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুরসহ পুড়ে মরলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিকসহ তার পরিবারের চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)।
দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তার শ্বশুরবাড়ি থানাপাড়া এলাকায়।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবাশীষ দত্ত ওই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিহতদের পরিবার জানায়, গত ৩ আগস্ট অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ দত্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। দেবাশীষের আট বছর বয়সী অপর একটি কন্যাসন্তান ও বাবা-মা রয়েছেন।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত ফেরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শামা ওবায়েদ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত জানা গেছে, ওই হোটেলে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশ তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টির খোঁজখবর রাখছেন। তিনি ঘটনাস্থলের হোটেল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কলকাতায় বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে যোগাযোগ করেছে। নিহতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কলকাতার মিশন কাজ করছে।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতরা শ্রমিক বা প্রবাসী কল্যাণের আওতাভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থা হয়তো এখানে সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে নিহতদের পরিবার যদি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করতে না পারে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি দেখবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
১৭ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ৬ জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপর নিহতদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে হোটেলের কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আটকা পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই তাদের অগ্রাধিকার ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কলকাতার এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ওই আগুন লাগে। পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই ঘটনায় নিহত হন। তারা হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে নামার পথে আগুনের মুখে পড়েন তারা।
১৭ দিন আগে
কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের নতুন প্রেস সচিব উম্মে মারুফা
বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মে মারুফাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
তাকে নিয়োগ দিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তারিক চয়নকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বতী সরকার।
এরপর তার দায়িত্বের মেয়াদ আরও এক বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে গত বুধবার (২২ জুলাই) পদত্যাগ করেন তারিক চয়ন।
৪০ দিন আগে